অনুসন্ধান:
cannot see bangla? সাধারণ প্রশ্ন উত্তর বাংলা লেখা শিখুন আপনার সমস্যা জানান ব্লগ ব্যাবহারের শর্তাবলী
এখন যদি, মোবাইলে বা কম্পিউটারে ঘড়ি দেখে, যদি দেখি, যদি সময়টা দেখে ফেলি আর তারপরেও দেখি সময়টা স্থির, স্থিরের মত...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার প্রিয় পোস্ট

যখন বিকাল হতে থাকে, হতে হতে সূর্যটা ঢলে পড়ে, পড়তে থাকে

শোকের রাজনীতি পার্ট টু

২৯ শে মার্চ, ২০১০ বিকাল ৪:১৮ |

শেয়ারঃ
3 0

মৃত্যু শোক উদযাপন নাকি পালন করা হয় সেটা পৃথক করা যায় পালনের মধ্যে আড়ম্বর ও অনাড়ম্বর প্রজ্ঞাপন ঠুকে দিয়ে। শতাব্দীর শেষ দশকগুলোতে শোক একধরনের শক্তিতে পরিণত হয়েছে - পালন বা উদযাপন সংক্রান্তিযোগে।

আমাদের আদিবাসী পূর্বসূরিদের শোক মন্থন একধরনের দহন উৎপন্ন করতো, সংস্কৃতিতে তেমন রেশ এখনও দেখা যায় পাহাড়িদের মাঝে। তবে বাঙালি সংস্কৃতিতে শোক একধরনের নির্লিপ্ত-মুহ্যমান চর্চা আবহমানকাল থেকেই। পশ্চিমে শোকাবহ তৈরীর জন্য কৃষ্ণবর্ণ আর ভারতে শুভ্র পরিধেয় খুব বেশী পুরানো আমলের সূচনা নয়। তবে বাঙালির আবেগ-উচ্ছ্বাসের সাথে শোক সবসময় একধরনের ম্লান-বিধুর গ্রন্থনা।

সাহিত্য ও দর্শনে শোকের রূপকীয় ও যৌক্তিক বিশ্লেষণ রয়েছে, আর প্রকাশ্যে আছে সরব আহাজারি, মূলত যা মধ্য ও নিম্নবিত্তদের মধ্যে দৃশ্যমান। তবে উচ্চমধ্যবিত্ত বাঙালীর বিকাশমান ধারায় মৃত্যুশোক সর্বদাই নীরব প্রার্থনায় অবগাহন করেছে।

তবে বিদেহী লেখক বা কীর্তিমাদের জন্য গোষ্ঠীবদ্ধ শোক পালন একটা নৈয়মিক স্মরণ - এবং ব্যক্তিক ও অব্যক্তিক সম্পর্কহেতু শ্রদ্ধা প্রদর্শন। আনুষ্ঠানিক তবে মূলত মূল্যায়ন একটা উদ্দেশ্য থাকে এমন চর্চায়। কখনও সংস্কৃতির এক নতুন উদযাপন-বোধের সংযোগ ঘটিয়ে উৎসব হিসাবেও ব্যাপকভাবে প্রচারিত, পারস্পরিক যোগাযোগ বিনির্মাণের ক্রিয়াশীল অবলম্বন। একজন লেখকের সাথে রক্তমাংস-আত্মীয়তার বাইরে সম্পৃক্তজনরা লেখকের সৃষ্টিজগতের কল্পলোক ও বাস্তবতার চরিত্রগুলো নিয়ে উপস্থিত হয়। ক্রমশ শোক উদযাপনে শক্তিমত্তা ও আধিপত্য প্রদর্শনীর নানা অনুষঙ্গ বর্ণীল হয়ে ওঠে। একধরনের আচার-আচরণও বিকশিত ও অলঙ্ঘনীয় হয়ে ওঠে এবং এর অন্যথাকারীদের জন্য সম্মিলিত অসদাচারও প্রকাশ পায় - যাকে কোনভাবেই শোকের রাজনীতিগ্রস্থতা ছাড়া অন্যকিছু ভাবা যায় না।

গোষ্ঠীবদ্ধ শোক উদযাপনে রক্তমাংশচ্ছেদ্য উত্তরসূরিদের স্মৃতিসৌধের মত অঞ্জলী অর্পণের আতিশয্য থাকতে পারে, কিন্তু তার লেখায় নিবিষ্ট পাঠক বিষয়-বিস্তার ও বিশ্লেষণে - বিদেহী লেখকের চিন্তার নতুন দেশ আবিষ্কারে সক্ষম হন। যারা লিখে যান এবং নির্মাণে অভিনবত্বের মশলা যোগান দিয়ে বিমুগ্ধতার উপাদান রেখে যান তাদের স্মরণ করে যায় নতুন নতুন পাঠককুল ধারাবাহিকভাবে, স্বতস্ফূর্ত ক্রান্তিকাল পর্যন্ত। লেখক পরিচিত হয়ে উঠতে পারেন অসামান্য উজ্জ্বলতায়।

সুমন রহমান তুলে ধরেছিলেন বিদেহী ব্লগার জুবায়ের ভাইয়ের মৃত্যুশোককে কেন্দ্র করে নির্মীয়মাণ সংস্কৃতির স্বরূপ, ভাবনার জগতে নতুন প্রসঙ্গটি নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তখন শোকের রাজনীতি কিভাবে হাত পা ছড়িয়ে বসে সেটা স্পষ্টভাবে প্রকাশ্য হয়নি। শোক ক্ষমতায় কেন্দ্রীভূত হয়ে গোষ্ঠীর প্রবর্তিত আচার-আচরণের ভিন্নতাকারীদের বিরুদ্ধে কেমন নির্মম হয়ে ওঠে সেটা বোঝা না গেলেও এখন বোঝা যায়। সুমন রহমান শোকপালনে রাজনীতির যে অন্তর্ভুক্তি চিহ্নিত করেছিলেন তার মধ্যে জুবায়ের ভাই কোন লক্ষ্য বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়নের (আদৌ যদি থেকে থাকতো!) অংশ ছিলেন না, বেশ ভালোভাবেই বোঝা যায়। বরঞ্চ তা ছিল এক সামগ্রিক শোক-চিত্রের উৎস, অবস্থান ও বিরাজিত পরিস্থিতির দলিল। কিন্তু শোকের রাজনীতি যে ভয়ালভাবে বিস্তার করেছে এর মধ্যে প্রমাণ মেলে দেড় বছর পরে একদল শোক-সংস্কৃতিসেবী যখন সুমন রহমানকে নির্মমভাবে আক্রমণ করলো। সুমন রহমানকে ব্যবচ্ছেদের মাঝে শোকের প্রকরণ আর খুঁজে পাওয়া যায় না – কেবল শোকের রাজনীতিই চোখে পড়ে, যা সুমন বেশ আগেই শনাক্ত করেছিলেন।

 

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১০:৩২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 


২৮টি মন্তব্য

১. ২৯ শে মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:২৫

সুমন রহমান বলেছেন: আয়রনি হল, কৌশিক, শোকের প্রকরণও শোকের রাজনীতির অংশ। "রাজনীতি" শব্দের সবচে বাজে যে মানে হওয়া সম্ভব, সেটাই করেছে সচলায়তন। আর সবকিছু "দে গরুর গা ধুইয়ে" স্টাইলে, এস এম মাহবুব মুর্শেদের বিশ্ববিখ্যাত "পাল্টা রিভিউ"টার মত! মুর্খতার এরকম সেলিব্রেশন নিকট অতীতে আর কোথাও দেখেছি মনে পড়ে না।

৩০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১০:০৬

লেখক বলেছেন: রেজওয়ান ভাইয়ের মন্তব্য থেকে মব মেন্টালিটি ধার করে নিলাম। এটা একটা মব মানসিকতা বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাই।

২. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১২:০৯

রেজওয়ান বলেছেন: "সুমন রহমান শোকপালনে রাজনীতির যে অন্তর্ভুক্তি চিহ্নিত করেছিলেন তার মধ্যে জুবায়ের ভাই কোন লক্ষ্য বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়নের (আদৌ যদি থেকে থাকতো!) অংশ ছিলেন না, বেশ ভালোভাবেই বোঝা যায়।"

এটি কিন্তু ঠিক নয় যা জুবায়ের ভাইয়ের স্ত্রী যুক্তি দিয়ে দেখিয়েছেন।

http://www.sachalayatan.com/mehbuba/31098

সুমন রহমান যখন একজন মৃত মানুষকে নিয়ে লিখতে পারে, তখন এস এম মাহবুব মুর্শেদও কোন এক ছবি না দেখে করা রিভিউ এর লেখক সম্পর্কে লিখতেই পারে।

ব্লগ পত্রিকার মত একপেশে ব্যাপার নয় যে আমি যা বলব তাই সঠিক কেউ দ্বিমত প্রকাশ করবেন না। এখানে মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিমন্তব্য আসবে - আসবে নানা দৃষ্টিভঙ্গি। প্রকাশের ভঙ্গি কারও বাজে হতে পারে - কিন্তু সেটা তার ব্যাক্তিগত সমস্যা। মব মেন্টালিটিও সামাজিক বাস্তবতা। তার জন্যে গোটা সমাজকে স্টেরিওটাইপ করা ভুল। আমরা কি বলতে পারি - প্রতিটি বাসযাত্রী পকেটমারকে গণপিটুনীর দায়ে দুষ্ট?

শোকের রাজনীতি করে বলে কোন সমাজকে স্টেরিওটাইপ করার চেষ্টাও একই দোষে দুষ্ট।

৩০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১০:১২

লেখক বলেছেন: আপনার সাথে একমত, বৃহত্তর সমাজকে স্টেরিওটাইপ করা যায় না। তবে ক্ষুদ্র একটা সমাজ স্টেরিওটাইপ হয়ে উঠতে পারে, মূলত যাদের চিন্তা-চেতনায় রক্ষণশীলতার (অস্পৃশ্যতার) একটা আরোপিত বাউন্ডারী থাকে।

৩. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ৯:৫০

নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: সুমন রহমানের যেমন অধিকার আছে সচলায়তন /সচল ব্লগার বিষয়ে তার মতামত /চিন্তা (সমালোচনা ) প্রকাশের তেমনি সচল ব্লগারদেরও অধিকার আছে তাদের পাঠ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার । ব্লগাস্ফিয়ারে কারো মতামত/চিন্তার সাথে একমত বা দ্বিমত হওয়া কি শুধু সচলায়্তনেই আছে , সামুতে নেই ? এখানে যে প্লাস /মাইনাস চর্চা চলে সেটা কি প্রকান্তরে একমত বা দ্বিমত প্রকাশক নয় ? ফিফার উদাহরণে সিরাত আছে । সিরাত শিবিরের ফেভারে সচলে ব্লগ লিখেছিল । সেই একই লেখা যদি এই সামুতেও (যেখানে ছাগুর সংখ্যা অগনিত ) তবে কি শুধু প্লাস আসত ? আপনি কৌশিকই কি সিরাতের সাথে দ্বিমত করতেন না । ফিফার একটা উদাহরন নিয়ে বললাম । সে আরো কয়েকটি হাতেগোনা উদাহরণ দিয়েছেন । সামুতে এমন উদাহরণ শত শত দেয়া যায় । যেমন ফকির ইলিয়াসের ব্লগ নিয়ে দুয়েকটি মন্তব্যে সচলদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে । ফকির ইলিয়াস সচলদের নাবালক /টিকটিকি বলা সত্ত্বেও সচলরা কে নিয়ে তাকে নিয়ে আলাদা ব্লগ লিখে তার চরিত্রহনন করেছে ? জবাব হল -না । কিন্তু সামুতে এ যাবত অসংখ্য ব্লগ লেখা হয়েছে ফকির ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ।
সচলায়তন আর সামুর তুলনামুলক আলোচনার জন্য আমি এসব বলছি না । নীতিতে , আদর্শে, চরিত্রে, বৈশিষ্টে দুটো পুরোপুরি স্বতন্ত্র প্লাটফর্ম । আমার কথা হল-একটি ব্লগ প্লাটফর্মের কারো চিন্তার প্রকাশে বা মন্তব্যে যদি আরো অনেক ব্লগার ঐকমত প্রকাশ করে সেজন্য ঐ প্লাটফর্মকে একটি চিহ্ন বা ট্যাগ দেয়া যায় না । আরেকটা কথা , সচল ব্লগাররা নিজেদের একটা পরিবারের অংশ মনে করে যে পরিবার গড়ে উঠেছে পারস্পরিক ভালবাসা , স্নেহ আর শ্রদ্ধার ভিত্তিতে । সচলে যে সব প্রতিক্রিয়ার প্রকাশে আজ তর্ক হচ্ছে সেটাও তাদের ভালবাসা বা আবগেরই প্রকাশ । তারা তো আর ফুল্পকপি নয় যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবে না ( সার্ত ) । তাই এতে বিস্মিত হবার কিছু নেই ।

৩০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১০:২৮

লেখক বলেছেন: পাঠ-প্রতিক্রিয়াকে আবশ্যিকভাবে মৌলিক হতে হয় না। একটা লেখা যা তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরিতে সক্ষম সে লেখার মধ্যে বিশেষ কিছু উপাদান রয়েছে যা আলাদাভাবে শনাক্ত করা সম্ভব। পাঠ-প্রতিক্রিয়ায় সেসবের বিস্তার ও বিশ্লেষণ বা প্রতিবাদ বা প্রতিযুক্তি থাকে মাত্র। কিন্তু এর ভেতরে অসংলগ্ন কিছু উপাদানও প্রবেশ করে যা ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়ার উদ্ভব ঘটায়, নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে কেবল পাঠ-প্রতিক্রিয়া হিসাবে যাকে অভিহিত করা যায় না। বরঞ্চ স্পষ্ট করে ভিন্ন কিছুর সম্পৃক্ততা বা উদ্দেশ্যমূলক প্রণোদনা হিসাবে।

এমন প্রতিক্রিয়া সংগঠনে গোষ্ঠীবদ্ধ শক্তি প্রদর্শনী অশুভ ও ক্ষতিকর। বিচ্ছিন্ন ও প্রান্তিকও বটে।

৪. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১০:৫৮

সুমন রহমান বলেছেন: "সুমন রহমানের যেমন অধিকার আছে সচলায়তন /সচল ব্লগার বিষয়ে তার মতামত /চিন্তা (সমালোচনা ) প্রকাশের তেমনি সচল ব্লগারদেরও অধিকার আছে তাদের পাঠ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার ।"

--- @নুরুজ্জামান মানিক, একজন সচল-সদস্য হিসেবে এই মতামত কিন্তু আপনার সচল-স্পিরিটের সাথে যায় না! আপনাদের সচল আমার লেখার অধিকারকে খর্ব করতে চায়। আর আপনি যাকে "পাঠ-প্রতিক্রিয়া" বলতেছেন, সেইটা মূলত সুমন রহমানের লেখার অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং গীবতবিদ্ধ করবার প্রয়াস ছিল। মেহবুবার লেখা থেকে ধরে দেখবেন অনেকেই বলছে, আমি "কেন" ওটা লিখেছি? আবার অনেকেই বলছে আমার লেখালেখি বন্ধ করা উচিৎ। এইটাই আউটরাইট ফ্যাসিবাদ। যারা "পারিবারিক বন্ধন" "গোষ্ঠীপ্রীতি" ইত্যাদি ট্যাগে এর সমর্থন জোগায় তারাই এই ফ্যাসিবাদের সবচে বড় ইডিওলগ। মনে রাখতে হবে, এসব নানাকিসিমের বন্ধনকে প্রমোট করার মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদ সারভাইভ করে।

৫. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:১৭

সেনিন শাহ বলেছেন: মহামান্য রেজওয়ান ভাই লিখেছেন: সুমন রহমান যখন একজন মৃত মানুষকে নিয়ে লিখতে পারে, তখন এস এম মাহবুব মুর্শেদও কোন এক ছবি না দেখে করা রিভিউ এর লেখক সম্পর্কে লিখতেই পারে।


--- সে কি গো? মৃত মানুষকে নিয়ে লেখা সচল শাস্ত্রে হারাম নাকি গো? আপনাদের হারামের তালিকাটা সাইটে ঝোলান, জাতি জানুক।

৬. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:২৭

নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: "সুমন রহমান বলেছেন: একজন সচল-সদস্য হিসেবে এই মতামত কিন্তু আপনার সচল-স্পিরিটের সাথে যায় না! "

প্রথমতঃ আমি সচলায়তনের জন্মের আগে থেকে লেখালেখিতে যুক্ত (পত্রিকায় লিখছি '৮৯ সাল থেকে ) , দ্বিতীয়তঃ সচল, সামু, আমু, আলু , এবি, মুক্তমনা ইত্যাদিতে আমার ব্লগিং চলে , তৃতীয়তঃ এখানে আমি সচল প্রতিনিধি বা সুমনের প্রতিনিধি হিসেবে নয় বরং আমার নিজস্ব ভাবনা /চিন্তা শেয়ার করছি এবং আমার এই মতামত কোনো স্পিরিট (আপনার ভাষায় ) এর সাথে মিলল কি না মিলল সেই আগাম দুঃশ্চিন্তা দ্বারা আমি তাড়িত নই ।

মোদ্দাকথা , আমি সচল আর আপনি সাবেক এই পরিচয় দ্বারা পূ্র্বানুমান বা বায়াসড না হয়ে আমরা আলাপ চালাতে পারি কিনা ?

সুমন রহমানের সাথে যে কোনো ইস্যুতে আমি আলোচনায় রাজি কিন্তু "আপনিও তো সচল " আপনার সাথে আর কি কথা বলব , এমতাবস্থায় আলাপ মুশকিল ।


৭. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৪৯

রেজওয়ান বলেছেন: সেনিন শাহ - আপনার আমার সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই আর নাক বাড়িয়ে ঝগড়া করতে আসছেন। অনেক ব্লগের মত সচলেও লিখি বলে দাসখত দিয়েছি নাকি সেখানে?

এখানে মৃত মানুষকে শ্রদ্ধা করা বোঝানো হচ্ছে - আমার ওপরের মন্তব্যে তার স্ত্রীর প্রতিক্রিয়ার লিন্কটি দেখুন। বুঝি আপনার মানুষকে শ্রদ্ধা করতে বাধে। তাহলে সমালোচনাটুকু শুনতে গা পোড়ে কেন?

কোন সমালোচনায় কারও লেখার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় এই কথাটা প্রথম শুনলাম। এটাতো মানুষের বাক স্বাধীনতায় লঙ্ঘণ! ভাল লাগলে ভাল বলবে লোকে খারাপ লাগলে খারাপ। কারও নিজের কাছে কোন কিছু খারাপ না মনে হলে এটাকি ধরে নেয়া যুক্তিযুক্ত যে জগৎের সবার কাছে একইরকম লাগতে হবে।

৮. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৫৪

সুমন রহমান বলেছেন: @নুরুজ্জামান মানিক, আপনার মন্তব্যে সচলায়তনীয় ফ্যাসিজমের গন্ধ পাওয়া গেছে বলেই আপনাকে "সচল-সদস্য" বলেছি। ট্যাগিত না হয়ে আলাপ চালাতে চাইলে এই স্টেটমেন্টগুলোর রেসপন্স করতে হবে:

১. "পাঠ-প্রতিক্রিয়া" বলতে আপনি যা বোঝেন তারই প্রকাশ ঘটেছে মেহবুবার পোস্টে (সত্য/মিথ্যা)
২. মুহম্মদ জুবায়েরকে নিয়ে আমার লেখাটি কোথায় এই প্রয়াত লেখক/ব্লগারকে অসম্মান করল?
৩. সচলায়তন যেভাবে আমার লেখার অধিকার হরণ করতে চায়, তাকে আপনি সমর্থন করেন কিনা?

৯. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:০২

সুমন রহমান বলেছেন: @রেজওয়ান, আমি জীবিত মৃত সব মানুষকেই শ্রদ্ধা করি। কোনো তরফেই লালসালু পেঁচানো আমার উদ্দেশ্য নয়। আপনি জুবায়ের-পত্নী মেহবুবার লেখার লিঙ্ক নির্দেশ করছেন। এবার কষ্ট করে আপনিই বলুন না কোন জায়গায় আমার লেখা মুহম্মদ জুবায়েরকে "অশ্রদ্ধা" করেছে। আমি তো এখনো কিছু খুঁজে পাচ্ছি না।

একটা দৃষ্টান্ত দিন, যেটা দিয়ে সচলায়তনীয় ফ্যাসিবাদী ঘৃণা-উৎসবকে জাস্টিফাই করা সম্ভব। আপনার মন্তব্যও সেখানে দেখেছিলাম মনে পড়ে।

১০. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:৩৩

রেজওয়ান বলেছেন: আপনার লেখা পড়ে একজন স্বজন এই পরিমাণ উত্তেজিত হয়েছিলেন যে তার ব্লাড প্রেসার বেড়ে গিয়েছিল - পরিস্থিতি খারাপও হতে পারত - আর আপনি বলছেন তা কেন মানুষকে আবেগতাড়িত করবে না?

আপনার খোঁচাগুলো সম্পর্কে মাত্র গুটি কয়েকই বলব:

* এমনকি সচলায়তন বিষয়ে প্রথম আলো-তে লেখা আমার নিবন্ধের গীবতেও সামিল হয়েছিলেন তিনি।

প্রথম আলোতে আপনার সেই লেখা আমারও ভাল লাগে নি। সেজন্যে সমালোচনা হতেই পারে। - একজন মৃত মানুষকে আপনি এখানে কলুষিত করেছেন "গীবত বলে" তার বাক স্বাধীনতাকে কাচ কলা দেখিয়ে।

* শোকের অক্ষর উপচে পড়ছে সচলায়তনে, অন্যান্য ব্লগেও। ভাবি, এই শোকটি কেমন?

মানুষ শোক প্রকাশ করলে আপনার সমস্যা কোথায়। এ নিয়ে শোকের রাজনীতি খোঁজার কোন কারণ আমি দেখি না।

ব্লগ এমন একটি মাধ্যম যেখানে প্রতিটি লেখারই ফিডব্যাক আছে।

আপনি যেমন জুবায়ের ভাইয়ের মৃত্যুকে বলেছেন টেক্সচুয়াল মরণ - সেরকম এইসব প্রতিক্রিয়াও হচ্ছে টেক্সচুয়াল। এটাতে আপনার লেখার অধিকার হরণ করা যাবে বা কেউ করতে পারবে সে সম্পর্কে আপনার ধারণা কেন আপনার হল আমি বুঝতে পারছি না। ইন্টারনেট অনেক বিস্তৃত জায়গা। কমিউনিটি ব্লগের বাইরেও জগৎ আছে।

আপনার একটি ব্লগস্পট ব্লগ ছিল। সেটাতে ইদানিং লিখেন না দেখছি।

১১. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ১:০৭

নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: @সুমন রহমান
আমার মন্তব্যে যেহেতু ইতিমধ্যে "সচলায়তনীয় ফ্যাসিজমের গন্ধ" পেয়ে গেছেন তাই নতুন করে আর গন্ধ ছড়ালাম না । ভাল থাকুন ।

১২. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ১:৫৮

সুমন রহমান বলেছেন: @রেজওয়ান, প্রথম আলো-তে আমার সচলায়তন বিষয়ক লেখার সমালোচনার নামে সচলায়তনে যে গীবত অনুষ্ঠিত হয়, প্রয়াত মুহম্মদ জুবায়ের সেটাতে অংশ নিয়েছিলেন। লেখার সমালোচনার নামে যখন ব্যক্তিচরিত্রে কালি লেপা হয় সেটাকে আমি গীবত বলছি। এটুকুই বললাম কিন্তু, কোনো ভ্যালু জাজমেন্ট করি নি। যা ঘটেছিল সেটাই বলা। কোথাও কি বলেছি যে, জুবায়েরের এটা করা উচিৎ হয় নি? তাইলে তার বাক স্বাধীনতাকে "কাচকলা" দেখানো হল কি করে? বাক স্বাধীনতা জিনিসটা কি, রেজওয়ান? বরং আপনিই দেখুন:

"শোকের অক্ষর উপচে পড়ছে সচলায়তনে, অন্যান্য ব্লগেও। ভাবি, এই শোকটি কেমন?"

মানুষ শোক প্রকাশ করলে আপনার সমস্যা কোথায়। এ নিয়ে শোকের রাজনীতি খোঁজার কোন কারণ আমি দেখি না।


উদ্ধৃতিচিহ্নে আমার লেখার অংশ, আর ইটালিকে আপনার বক্তব্য। বলুন তো, উপরোক্ত বাক্যে আমি সচলায়তনে শোক প্রকাশের ক্ষেত্রে আমার কোনো সমস্যা আছে কি না সেটা বুঝাচ্ছি কিভাবে? বরং আপনিই যে বললেন, আমার সমস্যা কি... এটা হল বাক স্বাধীনতা হরণের আলামত। সচলায়তন একটা ওপেন ফোরাম (আমপাঠকের কাছে উন্মুক্ত এই অর্থে), সেখানে প্রকাশিত যেকোনো বিষয় সম্পর্কে আমি আমার মতামত ব্যক্ত করতে পারি।

বলছিলেন, আমার ব্লগস্পটের কথা। জ্বি জনাব, জুবায়ের সম্পর্কিত লেখাটা সেখানেই লিখেছিলাম। ওটাকে কম্যুনিটি ফোরামে টেনে আনার কৃতিত্ব হিমু গংএর। আপনি আগে এক জায়গায় বলছেন যে, কোথাও দাসখত দেননি। তাহলে বলুন না কোন্ প্রেক্ষিতে এই লেখার পুনরুত্থান ঘটল সচলায়তনে?

"রাজনীতি" "টেক্সচুয়াল" এসব শব্দের স্পেসিফিক মিনিং আছে পলিটিক্যাল ইকনমি/সোশিওলজি আর সেমিওলজিতে। রেফারেন্সের জন্য দুয়েকটা বই ঘেঁটে দেখতে পারেন।

আমার অশ্রদ্ধার আরো কিছু রেফারেন্স দিন। জুবায়ের-পত্নী একখান দিয়েছিলেন মনে করিয়ে দিই: আমি বলেছিলাম জুবায়েরের সাথে আমার প্রথম দেখা কবিসভায়। তিনি সেটা উদ্ধৃত করে বললেন, জুবায়েরের সাথে দেখা হওয়ার সৌভাগ্য আমার কখনই হয় নি। ফলে "মিথ্যে কথা" লিখে তাকে অশ্রদ্ধা করেছি। আপনি কি একমত?

১৩. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:২৯

রেজওয়ান বলেছেন: "লেখার সমালোচনার নামে যখন ব্যক্তিচরিত্রে কালি লেপা হয় সেটাকে আমি গীবত বলছি।"

আপনি কি মু. জুবায়েরের ব্যক্তি চরিত্র নিয়ে বিশ্লেষণ করেন নি আপনার লেখায়? একজন মৃত মানুষকে নিয়ে আপনি অনেকটা আপনার সেই মাই নেম ইজ খানের রিভিউর মত (সেটির অনেকগুলো ভুল আমি ধরিয়ে দিতে পারব - সেই প্রসঙ্গে যাচ্ছি না) ভেবে নিলেন অনেক কিছু - তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে - তার মেয়ের লেখা সম্পর্কে - কতটুকু সততা আছে আপনার এই ধারণা সহযোগে লেখায়? ব্যক্তিচরিত্র নিয়ে অনুমিত মিথ্যাচারগুলো গীবতের আওতায় পড়ে না?

"ওটাকে কম্যুনিটি ফোরামে টেনে আনার কৃতিত্ব হিমু গংএর।" - মানে কি? কমিউনিটি ফোরামে সেটা নিয়ে কথা বলা যাবে না? বিশ্বের বিভিন্ন কমিউনিটি নানা জায়গার লেখা নিয়েই আলাপ হয়। আপনার হয়ত কারও কারও সাথে ব্যাক্তি আক্রোশ আছে সেটার জের সকল পাঠকদের কাছে না টানাই উচিৎ।

বাক স্বাধীনতার ব্যাপারে আপনি আমার কথা ভুল বুঝছেন। আপনার যেমন লেখার স্বাধীনতা আছে - সমালোচনা করারও স্বাধীনতা আছে পাঠকদের। আপনি দেখেন কতজন আপনার লেখার সমালোচনা করেছে। হয়ত আপনার লেখায় কোন উপকরণ আছে বা কমতি আছে যা হয়ত আপনি বুঝতে পারছেন না। অথচ আপনি একগুঁয়ের মত "তাল গাছটি আমার (অশ্রদ্ধা করছি কোথায়)" বলে রয়েছেন।

আমি আগে মন্তব্য করেছিলাম:

"কারও নিজের কাছে কোন কিছু খারাপ না মনে হলে এটা কি ধরে নেয়া যুক্তিযুক্ত যে জগৎের সবার কাছে একইরকম লাগতে হবে।"

জিফরান খালেদের মন্তব্যই ধরেন:

"এই লেখাতে জুবায়ের ভাই সম্পর্কে অনেক ভাল কথা লিখা আছে, কিন্তু, সেগুলোর মধ্যেও যে তির্যকতা আছে, যে বক্রতা, সেটা অসহনীয়। জুবায়ের ভাইকে নিয়ে লিখতে গেলে ভাল কিছু ছাড়া অন্য কিছু লিখাই অসম্ভব। কিন্তু, এ লেখাটির বেশ কিছু জায়গায় এই অসম্ভবকে সম্ভব করবার একটা কদর্য চেষ্টা ছিলো। "

আপনার অধিকার আছে যেমন যে কোন বিষয় সম্পর্কে লেখায় - কিন্তু সেই লেখার সততা সম্পর্কে প্রশ্ন করা - সেটা বিশ্লেষণের অধিকারও রাখে যে কেউ। সমালোচনা হবেই - সেরকম আপনারও অধিকার আছে পাল্টা সমালোচনা করার। পাবলিকের মুখ তো আপনি থামাতে পারেন না।

পলিটিক্যাল ইকনমি/সোশিওলজি ইত্যাদির রেফারেন্স দিয়েন না। আমি সুশীল নই -একজন সাধারণ পাঠক মাত্র - সাধারণ যুক্তিতে বিচার করি।

কবিসভার উদাহরণটি দিলেন - আমি এবার একটা নির্বোধ পাঠকের মত প্রশ্ন করি - কবিসভা কি? এখানে কি কবিরা সামনা সামনি বসে সভা করে? আপনি এ নিয়ে কি ভাবছেন আর ভাবী এ নিয়ে কি ভাবছে - সেটি না বিশ্লেষণ করলে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেই কি করে।

১৪. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:৪৭

কৌশিক বলেছেন: 'কবিসভা' নামে কবিদের একটা ভার্চুয়াল সংঘ ছিল/আছে যার মডারেটর বা পরিচালক হিসাবে ছিলেন/আছেন ব্রাত্য রাইসু। কাব্যরসিকদের সবচেয়ে আদি জমজমাট একটা আসর যা মূলত ইমেইল-বেইজড এবং পরবর্তীতে ইয়াহু গ্রুপ নির্ভর। এখানে একসময় বাংলা সাহিত্য জগতে নাম শোনা যায় এমন বেশীরভাগই ব্যক্তিবর্গই সম্পৃক্ত ছিলেন। একটা ভার্চুয়াল কক্ষে একে অপরের সাথে দেখাসাক্ষাত হতো।

১৫. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:৫৭

নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: সুমন রহমান বলেছেন: আর সবকিছু "দে গরুর গা ধুইয়ে" স্টাইলে, এস এম মাহবুব মুর্শেদের বিশ্ববিখ্যাত "পাল্টা রিভিউ"টার মত! মুর্খতার এরকম সেলিব্রেশন নিকট অতীতে আর কোথাও দেখেছি মনে পড়ে না।

আপনার লেখার সমালোচনা করলেই সে মূ্র্খ ! :#

১৬. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৯

সুমন রহমান বলেছেন: @রেজওয়ান, (১) ব্যক্তিচরিত্র বিশ্লেষণ আর ব্যক্তিচরিত্রে কালি লেপা এক জিনিস নাকি? আমি প্রয়াত মুহম্মদ জুবায়েরের ব্যক্তিচরিত্র বিশ্লেষণ করেছি বটে, এবার বলেন কালি লেপলাম কোথায়? লেখাটা দয়া করে পড়ে জানিয়েন। এমনকি মেহবুবা যেসব রেফারেন্স ব্যবহার করছেন সেগুলো ধরে ধরেও আমাকে দেখিয়ে দিতে পারেন। সচলায়তন বিষয়ক কলামের পর যখন ঐ ফোরামে আমার সম্পর্কে গীবতের ঢল নেমেছিল সেই ঢলে মুহম্মদ জুবায়েরকেও দেখেছিলাম। এটুকু বলেছি। এটা সত্য তাই। উনি মৃত বলে কি সেটা গোপন করে তাকে অতিমানব বানিয়ে দেয়া উচিৎ ছিল?

(২) জুবায়ের সম্পর্কে আরো যা যা লিখেছি সেটা তার কন্যার একটা ব্লগপোস্ট পড়ে জেনেছি। সেখানে "মিথ্যাচার" করে আমি তাকে খাটো করেছি কোথায় দেখান? আন্দাজনির্ভর অভিযোগ করবেন না। তিনি ধূমপান করতেন, তার কন্যাটি সেটা চাইতেন না। এটা লিখেছিলাম। এটাও গীবত হয়ে গেছে, তাই না?

(৩) মুহম্মদ জুবায়ের আমার ব্যক্তিচরিত্রের নিন্দা করেছিলেন সচলায়তনে। আমার গোটা লেখায় সে বিষয়ে এক লাইন লিখেছি। এবং কোনো জাজমেন্ট ছাড়া। বাদবাকি সমস্ত কথা তার যেসব ইতিবাচক দিক আমি জানি সেসব নিয়ে। তিনি লেখক ছিলেন, খুব বড় লেখক ছিলেন না আমার বিচারে। কিন্তু সবসময় ভাল লিখতে চাইতেন। এটা লিখেছি। উচিৎ হয় নি? মরে গেছেন অতএব তাকে বড় লেখক বলে উল্লেখ করা উচিৎ ছিল? করি নি, তাই গীবত হয়ে গেছে, নাকি?

(৪) জিফরানের উদ্ধৃতি এতদূর পর্যন্ত বয়ে আনলেন, ভাল লাগল। সামহোয়ারে কৌশিক কি লিখেছেন সেটাও পড়ে দেখুন:

জুবায়ের ভাই প্রথম ব্লগার যিনি আমাদের মধ্যে থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছেন। সুমন রহমান যে লেখাটা লিখেছিলেন তাকে উৎসর্গ করে এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোন শ্রদ্ধাঞ্জলি আমার চোখে পড়েনি। ভার্চুয়াল অঙ্গনে শোকের আন্তরিকতা ও ভিন্নতার এক অনুসন্ধান ছিলো সুমন রহমানের পোস্টে একই সাথে। সেই লেখায় অসম্মানের বস্তু আবিষ্কার করার মত গাড়ল পৃথিবীতে কিছু থাকতে পারে...তবে তাদের জন্য অচল কোনো প্রান্তরই নির্বাসনের উপযুক্ত, তারা সে হার্ড টু রিচ প্রান্তেই থাকুক....খর্বকায়


এখন কি বলবেন? কোন মন্তব্যের দায়দায়িত্ব আমি নেব?


(৫) মাই নেম ইজ খানের উপর লেখায় (ওটা মুভি রিভিউ নয় ভাইয়া, পপুলার কালচার স্টাডিজ) "ভুল" পেয়েছেন জানালেন। "নির্ভুল" লিখে ফেলেছি এই দাবি কখনই করি নি। সোশ্যাল সায়েন্স সবসময় ফিডব্যাকে বিকশিত হয়। আমি একটা ডায়ালগ ওপেন করেছি মাত্র। সেখানে কিছু তথ্যগত ভুল ছিল, একজন শুধরে দিয়েছিলেন, তার রেফারেন্স দিয়েই শোধরানো ভার্সন ফেসবুক আর সামহোয়ারে আপলোড করেছি। এখন সেখানে আপনি কি "ভুল" পেলেন জানালে উপকৃত হই। শোধরাতে আমার কোনো ক্লান্তি নেই, এমনকি সেটা কেউ অবজ্ঞা থেকে করে দিলেও। আর যেভাবে "ভুল" বলছেন তাতে কৌতুহল হচ্ছে বটে!

ক্লান্তিকর, তবু আপনার প্রশ্নের জবাবে চুপ থাকা গেল না। জানি এটা অহেতুক, তবু!


১৭. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০১

সুমন রহমান বলেছেন: @নুরুজ্জামান মানিক, সাহসী হয়ে উঠছেন দেখে ভাল লাগছে। কচু কাটতে কাটতেই ডাকাত হয়ে যাবেন একদিন।

১৮. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ রাত ৮:১১

রেজওয়ান বলেছেন: ক্লান্তিকর। অবশ্যই।

লেখা সেই ভাল ও খারাপ , সচল ও অচল এই সীমারেখার প্রেক্ষাপটে রচিত সেটা থেকে ভাল কিছু আশা করা যায় না।

"উনি মৃত বলে কি সেটা গোপন করে তাকে অতিমানব বানিয়ে দেয়া উচিৎ ছিল?" - সেটা যেমন কাম্য নয় - তেমনি কোন সময়ে কি কথা বলতে হবে সেটা সম্পর্কে লক্ষ্য রাখাও লেখকের কর্তব্য। আপনার কাছে অনেক সময় তো ছিল উনি কেন গীবত গেয়েছেন - সে সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করার - মরার পরপরই সময়টি কেন বেছে নিতে হল? সচলায়তনকে হেয় করার জন্যে?

এটা পরিষ্কার আপনি আপনার সব লেখার জন্যে এই ধরণের প্রসংসাই আশা করেন:

"সুমন রহমান যে লেখাটা লিখেছিলেন তাকে উৎসর্গ করে এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোন শ্রদ্ধাঞ্জলি আমার চোখে পড়েনি।"

কাজেই আপনার মনে কখনও প্রশ্ন উঁকি দেয় না আপনার লেখার প্রতিক্রিয়ায় একজন আহত স্ত্রীকে কেন অনেক কথা লিখে (উপরের লিন্ক দ্রষ্টব্য) উচ্চ রক্তচাপে ভুগতে হয়। একজন ভাই কেন লিখে এই কথাগুলো:

"আমার মনে হয়, সুমন রহমানকে (কে এই লোকটা?) বেশি পাত্তা দেয়া হয়ে যাচ্ছে। তার লেখায় সবচেয়ে বেশি মূর্ত হয়ে উঠেছে তার ভণ্ডামি। ভাইয়ের কোনো ক্ষতি হয়নি তাতে। কীভাবে হবে? পুরো লেখাটা জুড়েই তো রয়েছে তথাকথিত উত্তরাধুনিকতার পূতিগন্ধময় অহম আর বিষাক্ত নিঃশ্বাস। আর রয়েছে মুহম্মদ জুবায়েরকে আঁকড়ে ধরে নজরে আসার প্রয়াস।"

আপনি তবুও বুঝতে পারেন না কিভাবে আপনার লেখার বিরুদ্ধে সমালোচনা ঘৃণা-উৎসবের মত লাগে।

এটাকে আমি লেখকের ব্যর্থতা বলব - একজন মৃত সম্পর্কে এমন লেখাই লিখলেন যে পাঠক ও স্বজনরা আহত হলেন। এখানে লেখক যতই প্রজ্ঞাবান হোক, যতই পারদর্শী হোন উনি কিন্তু ব্যর্থ। যেখানে পাঠকরা নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলো করে:

* লেখক কি জন্যে লেখাটি লিখলেন?

* এই লেখার পেছনের গল্পটি কি যা আমরা বুঝতে পারছি না।

* লেখক আসলে কি বলতে চাইছেন?

* লেখক আসলে কাকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলছেন?

পাঠকদের এইসব প্রশ্নগুলো করার উদ্দেশ্য হল আমি পাঠকদের প্রতি বিশ্বস্ত ছিলাম না, আমার সততায় ঘাটতি আছে। এটি হচ্ছে একপেশে লেখা যা পাঠকদের আমলে নেয় না। তখন লেখাটি হয়ে যায় ব্যক্তি কেন্দ্রিক, ক্ষীণদৃষ্টি সম্পন্ন, কাউকে ছোঁয় না।

কোন ধরণের মন্তব্যের দায় দায়িত্ব আপনি নেবেন সেটা ভার আপনার উপরেই। তবে পাঠকদের জড় পদার্থ না ভাবলে আপনারই মঙ্গল হবে। আপনার প্রথম আলোর আর্টিকেলটিকে আপনি রিভিউ নয় পপুলার কালচার স্টাডিজ বলছেন - সে সম্পর্কে কিন্তু পাঠকদের কোন ইঙ্গিত দেন নি লেখায়। কাজেই পাঠক যদি উপরের প্রশ্নগুলো করে সেই দায় আপনাকে নিতেই হবে। উক্ত লেখাটি সম্পর্কে মন্তব্য নীচে করছি।

১৯. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ রাত ৯:২৪

রেজওয়ান বলেছেন: আপনার মাই নেম ইজ খানের লেখাটির সম্পর্কে যে মন্তব্যগুলো করছি - সেটা সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব (আমি ছবিটি দেখেছি)- এটাকে কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠীর সাথে জড়ানোর চেষ্টা অবান্তর।

* "সম্প্রতি বলিউড মুভি মাই নেম ইজ খান পশ্চিমা দেশে ছড়িয়ে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম প্রবাসীকুলের জন্য ‘ভালো’ এবং ‘খারাপ’ মুসলমানের ক্যাটাগরিটাকে খুব মনোগ্রাহীভাবে হজম করে দেখাল।"

আপনার লেখার শিরোনাম - ‘ভালো’ এবং ‘খারাপ’ মুসলমান - আপনার এই স্টাডিটির জন্যে এই ছবিটির রেফারেন্স টানতে পারতেন কিন্তু সম্পূর্ণ এই ছবিটির উপরে ভিত্তি করে লেখাটি দাড় করানোতে একটা বড় ভুল আছে। কারন ছবিটি শুধু মাত্র 'ভালো' এবং 'খারাপ' মুসলমান নিয়ে নয়। এটি ৯/১১ এর পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর উপর সব ধরণের অবিশ্বাস ও বর্ণবাদকে এড্রেস করে।

রিজভান (ছবিতে বানান Rizvan) ছোটকালে এক হিন্দু -মুসলমান দাঙ্গার পর বাসায় এসে তার প্রতি দেয়া সব হিংস্র গালিগুলো আওরাতে থাকে। তখন তার মা তাকে বোঝায় সেইসব হুমকিগুলিকে আমলে না নিতে - তাকে বোঝানো হয় - দুনিয়াতে দুই ধরনের মানুষ আছে - 'ভালো' এবং 'খারাপ' যেটি সে চিরদিন মনে রাখে। এখানে দ্রষ্টব্য তার মা কিন্তু বলে নাই ভালো মুসলমান আর খারাপ মুসলমানের কথা।

দ্বিতীয়ত: ছবিটিতে 'ভালো মুসলমান' কে প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা ছিল সেটি কখনই আমার মনে হয় নি। এখানে দ্রষ্টব্য ছবির পরিচালক এবং নির্মাতারা কেউই মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করে না (শাহরুখ ছাড়া - কিন্তু সে তো অভিনেতা মাত্র)। এই ছবিতে শিখ বিবিসির সাংবাদিকটি যখন রিজভানের খবরটি ছাপাতে অস্বীকার করে তখন ভারতীয় সাংবাদিকটি (কোন ধর্মের - তা স্পষ্ট নয়) তাকে বলে একটি ছবি দেখিয়ে যে ৯/১১ শিখ সর্দারের দাড়ি পাগড়ি উপড়িয়ে নতুন জীবন যাপনে বাধ্য করেছে - তাও রিজভানের গল্পটি গুরুত্বপূর্ণ নয়? তখন শিখ সাংবাদিকটি রিজভানের খবর প্রচার করে - এবং শেষে বলে মাই নেম ইজ (নিজের নাম) এন্ড আই এম নট এ টেররিস্ট। যখন জীতেশ নামক মোটেল মালিকটি বর্ণবাদের শিকার হয় - তখন রিজভান সেখানে ছিল। পরবর্তীতে রিজভানের পরিচিতি বাড়লে - সে তার হোটেলে রুম ভাড়া দেয় এই বলে যে রিজভান সেখানে ছিল - এবং সদর্পে বুকে বাধা লেখা দেখায় - মাই নেম ইজ জীতেশ - আই এম নট এ টেররিস্ট। রিজভানের সেই অগ্রযাত্রা আরেক টুপি পড়া সাউথ এশীয়ানকে তার উপর বর্ণবাদী হামলার শিকারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়।

কাজেই আমার কাছে মনে হয়েছে রিজভান অনেকটা মানবতাকে প্রতিষ্ঠা করেছে - নাম আর ধর্ম একজন মানুষকে ডিফাইন করে না সেটি বোঝাতে চেয়েছে। কাজেই আপনার ব্যাখ্যা -

"ফলে যারা নিজেদের ‘ভালো’ এবং সেক্যুলার ভাবেন, ঘটনাচক্রে মুসলমান এবং নিজেদের নয়-এগারো-পূর্ব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে বহাল থাকতে চান, তাঁরা অতি দ্রুত ‘ভালো’ এবং ‘খারাপ’ মুসলমানের এই ক্যাটাগরিতে নিজেদের পরিচয়কে ঝালিয়ে নিচ্ছেন।"

এটি অন্য পরিপ্রেক্ষিতে হয়ত যুক্তিযুক্ত কিন্তু এই ছবির পরিপ্রেক্ষিতে না। কারন ছবিটি শুধু ‘ভালো’ এবং ‘খারাপ’ মুসলমানের কথা বলে নি।

* মন্দিরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী, নিয়মিত পূজা-অর্চনা করেন। আবার রিজওয়ানও একই ঘরে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। যে সেক্যুলারিজম অর্ধশতাব্দীকাল ধরে প্রযুক্ত থাকার পরও সংবিধান থেকে ভারতীয় নাগরিকদের প্রাত্যহিক জীবনে সফলভাবে অবতরণ করেনি। " - অতি সরলীকরণ - আমার নিজের দেখা বেশ কয়েকটি পরিবার আছে এমন বাংলাদেশে - ভারতেও তাই। সংবিধান থেকে নেই বলে কি ব্যক্তি পর্যায়ে থাকতে পারে না?

আর ছবিটিতে কিন্তু আরেকটি দম্পতিকেও দেখানো হয়েছে - মনে আছে সেই বাসের সহযাত্রী দুটি - যাদের খাবার রিজভান খেয়েছিল। স্বামী রাম এবং স্ত্রী হিজাব পড়া মুসলমান। রিজভানের পরিবারই ছবিতে একমাত্র উদাহরণ নয়।

* আপনার প্রথম আলোতে তথ্যগত অনেক ভুল আছে - এটিতো আপনি স্বীকার করেছেনই - ফলে আপনার খেলো যুক্তিগুলো - জর্জ বুশ জুনিয়রের পলিসিতে এটুকু শোনাই স্বাভাবিক এবং আরও স্বাভাবিক হলো এরপর রিজওয়ানের গ্রেপ্তার হওয়া - এগুলো ধোপে টেকে না।

* "মন্দিরার আগের তরফের স্কুলগামী সন্তানটি, যে তার নতুন পিতা (রিজওয়ান)র উপাধি নিজের নামের সাথে ব্যবহার করছিল, তাকে তার অমুসলিম সতীর্থরা খুন করে। সেই খুনটিও যথাসম্ভব কম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: কিছু মারধর করাই হয়ত উদ্দেশ্য ছিল এদের এমন একটা ইঙ্গিত আছে হালকাভাবে।"

- বোঝা যাচ্ছে আপনি ছবিটি দেখেননি। এখানে মন্দিরার ছেলেটির ধর্ম কি হবে? ছবিতে দেখা যায় মন্দিরা পুজো করে তাকে প্রসাদ দিয়ে যায় এবং রিজভান দোয়া করে তাকে ফু দেয়। কিন্তু যেহেতু তার নতুন পারিবারিক পদবী খান - তার ক্লজেটে ওসামার ছবি দেয়া হয়। তার বেস্ট ফ্রেন্ডের বাবা যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করলে সে তার প্রতি বিরূপ ভাব পোষণ করে - কিন্তু সে মুখ ফুটে বলে না। তার বিরুদ্ধে আক্রমণটির বিরুদ্ধে ঘৃণাই (হেইট ক্রাইম) কারণ। এমন কোন ইঙ্গিত ছিল না যে কিছু মারধোর করা উদ্দেশ্য। এটি একটি বর্ণবাদী আক্রমণ যা চুড়ান্ত পরিণতি নেয়।

* রিজওয়ান খান তার স্ত্রী মন্দিরাকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মার্কিন রাষ্ট্রপতির পিছু ধাওয়া করেন এই কথা বলার জন্য যে, তার নাম খান এবং (কিন্তু/তবু) তিনি “টেররিস্ট” নন।

এটি কিন্তু খুব সহজ কথা নয়। - মন্দিরার প্রশ্ন ছিল সে এবং তার ছেলে কি দোষ করেছে যে তাদের পদবী খান হওয়ায় - তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে এবং তার ছেলে মারা গেছে। সে তখন রিজভানকে বলে চলে যেতে। এবং যখন সে জিজ্ঞেস করে কখন ফিরবে - তখন মন্দিরা তাকে দুরে সরাতেই বরে যখন সে প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়ে উপরোক্ত কথা গুলো বলতে পারবে তখন।

* "বেচারা রিজওয়ান অবশেষে তার “আল-কায়েদা” কানেকশন আবিষ্কৃত না হওয়ায় মুক্তি পান।" - আপনার এই কথাটি ভুল - কারন তার মুক্তির জন্যে কাজ করেছে সেই ভারতীয় রিপোর্টাররা - যারা অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে তার মুক্তির পথ সুগম করে দেয়।

* "তার উদ্যোগেই গ্রামটিতে সাহায্য পৌঁছায় এবং বহু গ্রামবাসীর জীবন রক্ষা পায়। "সংবাদমাধ্যমগুলো তখন রিজওয়ান খানের মধ্যে সেই “ভাল” মুসলিমটিকে খুঁজে পায় যে কিনা মানবতাবাদী!"

সংবাদ মাধ্যমগুলোই তাকে খুঁজে বের করে সেই ঘুর্ণিঝড় বিদ্ধস্ত এলাকায় এবং সেখান থেকে রিপোর্ট প্রকাশের পর লোকজন জানতে পারে যে এই সেই রিজভান যাকে আল কায়দা সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

* যে কিনা মসজিদে সন্ত্রাসী পরিকল্পনা করতে থাকা “খারাপ” মুসলমানের একটি দলকে মার্কিন পুলিশ বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেয়। ততদিনে মার্কিন রাষ্ট্র বুঝে যায় যে, এই হল “ভাল” মুসলিম।

এখানে মানবতার জয় দেখানো হয়েছে - কারন সব ধর্মের ও বর্ণের মানুষ সেই গ্রামকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিল। এবং তখন একটি নিউজ রিপোর্ট দেখানো হয় যে যে কাজটি আমেরিকান সেনাবাহিনী করতে পারেন নি - সেটি করে দেখাচ্ছে সাধারণ জনগণ। এখানে রিপোর্টে কিন্তু রিজভান - 'ভাল মুসলমান' 'খারাপ মুসলমান' এই খেলাটি চলছিল না।

* ছবিতে আফগানিস্তান এবং ইরাকের প্রসঙ্গ এসেছে, কিন্তু অদ্ভূতভাবে রিজওয়ানের মনে আফগানিস্তানে বা ইরাকে মার্কিন ভূমিকা নিয়ে কোনো ক্ষোভ বা প্রশ্ন তৈরি হয় না।

এটি আপনার বক্তব্য - কিন্তু আমার মনে হয় কোন ছবিরই দায় পরে না সব বিষয় ছুঁয়ে যাবার । উপরের বিষয় নিয়ে আলাদা ছবি হতে পারে।

* রিজওয়ান খান হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা স্বচ্ছল মার্কিন-প্রবাসীদের আত্মপরিচয়ের রাজনীতিকে প্রতিনিধিত্ব করেন। আর সেটা ৯/১১ পরবর্তী প্রেক্ষাপটে।

সুধু স্বচ্ছল কেন - অসচ্ছল নয় কেন?

* পশ্চিম-উদ্ভাবিত “ভাল” মুসলিমের ক্যাটাগরিতে এই শ্রেণীটি কতখানি উদগ্রীব এবং অসহায়ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছে, মাই নেম ইজ খান তারই ইশারা।

আমার মনে হয়েছে এটি অতি মাত্রায় সরলীকরণ।

আপনার বিশ্লেষণটি অন্য যায়গাগুলো সম্পর্কে আমার কিছু বলার নেই। আমার মনে হয় অন্য উদাহরণ দিয়েও করা যেত কিন্তু "মাই নেম ইজ খান" না দেখে সেখান থেকে যুক্তিগুলো দাড় করানোর চেষ্টা একটি অসততা আমার মনে হয়েছে। যারা ছবিটি দেখেছেন তারা এই লেখাটি পড়ে নানা রকম প্রশ্ন করবেন - ফলে আপনার মূল বক্তব্যটি দুর্বল হয়ে যায়।

আশা করব আমার কোন মন্তব্যকে ব্যক্তি আক্রমণ হিসেবে দেখবেন না। আপনি আমার কাছে ভুলগুলো জানতে চেয়েছেন বলেই আমি আমার ব্যক্তিগত মন্তব্যগুলো করালাম। এগুলো আপনার কাছে ভুল নাও মনে হতে পারে - কিন্তু এবার ক্ষ্যান্ত দিন। শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আমার বিন্দু মাত্র আগ্রহ নেই। তালগাছটিও আমার দরকার নেই - আমি সাধারণ পাঠক মাত্র। আপনি ভাল থাকুন।

২০. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১০:৫৫

সুমন রহমান বলেছেন: রেজওয়ান (রিজভান নয়) আপনাকে ধন্যবাদ। ক্ষান্ত দিচ্ছি, তবে আপনার কনক্লুসিভ অবস্থানের জায়গা থেকে নয়। নিশ্চিত থাকেন আপনার সাথে "শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই"তে আমারও আগ্রহ নেই এবং প্রয়োজনে তালগাছটি আপনার বাড়ির উঠানে নিজহাতে রোপন করে আসতেও আমার সমস্যা নেই।

প্রথম প্রসঙ্গটি ধরে কিছু কথা:

"লেখকের ব্যর্থতা" বলে কোন পাঠকগোষ্ঠীকে ইঙ্গিত করলেন? সচলায়তন পাঠক ফোরাম? মাফ করবেন, আমি ইন্টারেস্টেড না। সুমেরু যথার্থই বলেছেন "আধফুটি ব্লগার"! আমার পাঠকগোষ্ঠী যদি সচলায়তনই হত তাহলে আমি নিশ্চিত আত্মহত্যা করতাম! ইন ফ্যাক্ট এদের পাঠে এবং পাঠ প্রতিক্রিয়ায় আমার একেবারেই আগ্রহ নেই।

"পাঠক" বলতে আমি হয়ত সচলায়তনকেই বুঝে থাকতে পারেন, কিন্তু আমার ম্যাপিং এ সেটা অতি ক্ষুদ্র অংশ। ক্ষুদ্র, তবে জঙ্গী অংশ। সে কারণেই এত কথা। আপনি যেমন প্রয়াত মুহম্মদ জুবায়ের এর পত্নী এবং ভ্রাতৃকূলের নিন্দা ঘৃণা দেখে আমার লেখার সাফল্য অসাফল্য নিরূপণ করতে চান, আমিও তেমনি কৌশিকসহ আরো যারা যারা এই লেখার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন তাদের মাপকাঠিতে আমার সাফল্য-অসাফল্য দেখতে চাই। সমস্যা কি? আপনি তো একটাও অশ্রদ্ধামূলক উক্তি ঐ লেখা থেকে বের করে দেখাতে পারলেন না! মব নিন্দা করলেই আমি হাতপা ছড়িয়ে কানতে বসে যাবো?

আপনি বলছেন যে লেখাটি আমি আরো পরেও লিখতে পারতাম। সেটা আপনার মত। আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিই যে এই লেখার দুবছর পরে সচলায়তন ঘৃণা-উৎসব করল। কত বছর পরে লিখলে সেটা আমি এড়াতে পারতাম রেজওয়ান?

লেখকের ব্যর্থতা সাফল্য ইত্যাদি বোঝার জন্য আপনি কিছু প্রশ্ন রেখেছেন পাঠকের তরফে। উদ্ধৃত করি:


* লেখক কি জন্যে লেখাটি লিখলেন?

* এই লেখার পেছনের গল্পটি কি যা আমরা বুঝতে পারছি না।

* লেখক আসলে কি বলতে চাইছেন?

* লেখক আসলে কাকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলছেন?


এই তথাকথিত পাঠকের চক্কর বোঝার জন্য লেখকের তরফ থেকেও জিজ্ঞাস্য আছে জনাব:

১. কোন্ প্রেক্ষিতে এই লেখার পুনরুজ্জীবন ঘটল সচলায়তনে?

২. লেখায় মৃতব্যক্তির প্রতি গীবত বা অশ্রদ্ধামূলক কি জিনিস ছিল?

৩. ক্ষুব্ধ পাঠক (যে কারণেই হোক) লেখকের কাছ থেকে কি প্রত্যাশা করছে?

উত্তরগুলো অবহিতমহলমাত্রই জানেন (ফেসবুকে ইমরুল হাসান এবং সামহোয়ারে ফিউশন ফাইভের পোস্ট দ্রষ্টব্য)। আপনি না জানলে জানার চেষ্টা করতে পারেন। আমি আপনার সদিচ্ছার উপর বিশ্বাস রেখে দিচ্ছি।

যিনি খোলামন নিয়ে পড়বেন, লিখবেন, তর্ক করবেন, বাতিল বা গ্রহণ করবেন তাকে প্রণাম জানাতে আমার দ্বিধা নেই। কিন্তু পাঠকের পোশাক পরে "আধফুটি হিংস্র ব্লগার"এর ফ্যাসিস্ট আশা-আকাঙক্ষাকে আমলে নেয়ার টাইম আমার নাই। সত্যিই নাই। করুণা করতে পারি বড়জোর। নাথিং পার্সোনাল, এগেইন।



২১. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১১:০৫

সুমন রহমান বলেছেন: "মাই নেম ইজ খান" বিষয়ে আপনার অবজার্ভেশন নিয়ে খুব সামান্য কিছু বলে শেষ করছি। যেটা ভেবেছিলাম: আপনি আমার "ভুল" নয় আপনার নিজস্ব অবজার্ভেশন বা ভিন্নমতকেই হাজির করেছেন। এই ছবিটাকে আমি ভাল এবং খারাপ মুসলমান তৈরির ডিসকার্সিভ রাজনীতির জায়গা থেকে দেখছি, আপনি দেখছেন মানবতাবাদের জায়গা থেকে। ঠিক আছে। আপনার মতামত। তাতে আমার লেখা "ভুল" হয়ে যাবে কেন? আপনার জায়গা থেকেও দেখা যায়, এর অর্থ এই নয় যে আমার জায়গা থেকে সেটা দেখা যাবে না।

এখন আপনি যদি আপনার দৃষ্টিভঙ্গিটার সমালোচনা আমাকে হাজির করতে বলেন, আমি বলব আপনি হচ্ছেন এই ছবিনির্মাতার উদ্দিষ্ট দর্শক। এই ম্যাসেজটাই এই ছবি তার বহিরঙ্গে ছড়িয়ে রেখেছে যা আপনি আপহোল্ড করেছেন। আপনাকে "ভুল" বলা যাবে না। সামাজিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের জন্য "ভুল" বা "ঠিক" লাগসই তকমা নয়। আমি বলতে পারি কোনটা নাইভ কোনটা ইনট্রোস্পেক্টিভ। বর্তমান প্রেক্ষিতে সেটা প্রমাণ করে তালগাছ নিয়ে কামড়াকামড়ি করতে চাইছি না। আমার যা লেখার লিখেছি সেখানে।

ভালো থাকুন।

২২. ৩১ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:২৩

সেনিন শাহ বলেছেন: রেজওয়ান ভাইয়ের মন্তব্য চোখে পড়ল। আপনি বলছেন - আপনার সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই আমার - তাইনা? আপনি তো সেই রেজওয়ান যে সচলায়তন খঁোয়াড়ে সুমন রহমান প্রসঙ্গে "নর্দমার কীট" লিখেছে! চিনব না কেন ভাই? ওখানে গনধোলাইয়ে হাত লাগাচ্ছেন - আবার এখানে এসে সুমনের সাথে সুশীল বাতচিৎ চালাচ্ছেন! আবার আমাকে বলছেন - দাসখত দেননি! আপনাকে চিনে নাই সুমন রহমান - তাই আপনার পন্ডিতী আলাপে জবাব দিয়ে যাচ্ছেন। আমি বলব সুমন মেষ শাবকের মত আচরণ করছেন। আলাপ শুরু করার আগে আপনাকে তার জিজ্ঞাসা করা উচিৎ ছিল ঐ ফালতু মন্তব্যের জন্য আপনি লজ্জিত কিনা!


২৩. ৩১ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:২৭

নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: সুমন রহমান বলেছেন: @নুরুজ্জামান মানিক, সাহসী হয়ে উঠছেন দেখে ভাল লাগছে। কচু কাটতে কাটতেই ডাকাত হয়ে যাবেন একদিন।



উপরের মন্তব্য ইগনোর করছি কারণ আমার আগ্রহ আলাপে , কঁচু কেটে ডাকাত হওয়া নয় । আপনার রিভিউ ( যাকে আপনি বলছেন পপুলার কালচার স্টাডিজ ) পড়ে যে কোন পাঠক সমালোচনা করার অধিকার রাখে এবং এ এস এম মাহবুব মুর্শেদও রাখেন এবং তিনি তাই করেছেন । এ জন্য তাকে মূর্খ বলা কি ঠিক ? আপনার লেখার স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হচ্ছে এই অভিযোগ আপনি তুলছেন কিন্তু ঐ একই স্বাধীনতা মুর্শেদকে দিতে আপনার আপত্তি কেন ?

যে কোন text (মুভিও এখানে আসতে পারে ) নানা ভাবে পাঠ হতে পারে এবং সেই পাঠ মূ্লানুগ না হবার সম্ভাবনা আছে আর সেজন্য পাঠও সৃষ্টিশীল কর্ম । একই মুভি নিয়ে আমরা দেখছি মুর্শেদ, সুমন আর রেজওয়ানের ভিন্ন পাঠ -এটাই কি স্বাভাবিক নয় ?

যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা ?

সচলরা তো আপনার ভাষায় "আধফুটি হিংস্র ব্লগার" কিন্তু আপনিও তাদের মত আধফুটি (ঠিক কইলাম কি ?) তা না হলে আপনি কেন মুর্শেদের লেখাটিকে মুর্খতার সেলিব্রেশন বলছেন ?

আপনার পপুলার কালচার পাঠকে (আপনার কথায় ) মুর্শেদ রিভিউ (আরো অনেকেই এমন মনে করেছে ) মনে করা তার সমালোচনা হাজির করেছে -এখানেই কি মুর্শেদের মূর্খতার পরিচয় ?

২৪. ৩১ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৪৩

সুমন রহমান বলেছেন: যে কোন text (মুভিও এখানে আসতে পারে ) নানা ভাবে পাঠ হতে পারে এবং সেই পাঠ মূ্লানুগ না হবার সম্ভাবনা আছে আর সেজন্য পাঠও সৃষ্টিশীল কর্ম । একই মুভি নিয়ে আমরা দেখছি মুর্শেদ, সুমন আর রেজওয়ানের ভিন্ন পাঠ -এটাই কি স্বাভাবিক নয় ?


-- জ্বি জনাব, এটাই স্বাভাবিক। যার যার গজফিতা দিয়ে সবাই মাপতেছে। "মূলানূগ" বৈলা কোনো জিনিস নাই অত্র অঞ্চলে থুক্কু জ্ঞানকান্ডে। এইটাতে কোনো দোষ নাই, তুমি এইভাবে দেখো আমি ঐভাবে দেখি। কিন্তু আমি এইভাবে দেখি বৈলা তোমার দেখা "ভুল" তুমি "আঁতলামি" করছ, তোমার মুখোশ উন্মোচিত হৈয়া গেছে... এইসব বলাই হৈল "মুর্খতার সেলিব্রেশন"। মাহবুব মুর্শেদের রিভিউ লৈয়া আমি তো কোনো কথা বলি নাই, বলা যাইত যে তা না কিন্তু আমার ভাষা বোঝার আশা উনারা জলাঞ্জলি দিয়াছেন বিধায় চুপ থাকছি। কিন্তু উনার উত্তেজনা লৈয়া আর "পাল্টা রিভিউ" নামক জিনিসটা লৈয়া ঐখানে যে ফালাফালি হৈছিল সেইটারে মুর্খতার সেলিব্রেশন কৈছি। সোশ্যাল সাইন্সে বা টেক্সুয়াল এনালিসিসে কেউ কাউরে "ভুল" প্রমাণ করতে পারে না। যে এইটা ভাবে সেইই মুর্খ।

২৫. ২৬ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:১২

তীব্র রঙিন বলেছেন: সোশ্যাল সাইন্সে বা টেক্সুয়াল এনালিসিসে কেউ কাউরে "ভুল" প্রমাণ করতে পারে না। যে এইটা ভাবে সেইই মুর্খ।


জি, জনাব। একটা পাঠ্যবই লিখুন না কেনে! আমরা ছোটখাট মানুষেরা উপকৃত হৈ।

মানে, প্লেটোও ঠিক, শঙ্করও ঠিক। কান্টও ঠিক, হেগেলও ঠিক। আমি যদি লিখি আপনি ভুল, তাইলেও ঠিক। আবার আপনি যদি কন, আমি ভুল, তাইলেও ঠিক।

মূর্খত্বের সওদাগরি করেই চলেন, করেই চলেন।

...ইয়ে, 'মূর্খ' বানান ভুল কৈরেসেন।

 

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফমর্। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

 

© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি | বিজ্ঞাপন