somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একবছর চশমা ছাড়া পৃথিবী দেখতে পেরেছিলাম!

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এটা ভালো করে বুঝতে পারছি আমার পেইন কেউ বুঝবে না। আমারই বুঝতে হবে। চশমা পরিহিত প্রথম সকালে আমার যে কষ্ট তার পরিমাণ কোনো হিসাবে রাখা সম্ভব না। চশমা পরিহিত বলাও ঠিক হচ্ছে না, এটাকে বলা উচিত আবার চশমা শৃঙ্খলিত জীবন অতিবাহিত করতে বাধ্য হওয়া। পরিহিত হলে যেকোনো সময় খুলে রাখা যেতো, কিন্তু এটা পরতে হবে সারাক্ষণ। দূরভিশনে, নিকটভিশনে। কি পেইন! কি অসহ্য পেইন! পেইনের চেইনে আমার দৃষ্টি ঘোলা, দৃষ্টি ছেদিয়া অশ্রু প্লাবিত।

এইচএসসিতে উঠে প্রথম চশমা পরেছিলাম - মাইনাসে পয়েন্ট পঞ্চাশের। উত্তেজনা ছিলো, ভালোলাগা ছিলো। চশমা কেউ পরতো না বলে ডিফারেন্ট লুকের আকাঙ্ক্ষা ছিলো। ফলে চশমার সাথে মিলেমিশে ছিলো রোমাঞ্চ - পরার সাথে ছিলো ভালোলাগা। চশমা ছাড়াও দেখতে অসুবিধা ছিলো না তখন, কিন্তু সারাক্ষণ পরে থাকার জন্য বাহানা তৈরি করতাম। চশমা ছাড়া একটুও আমি দেখতে পারি না কৌশলে বলে বেড়াতাম বান্ধবীদের সাথে। পাওয়ারফুল চশমা পরিহিত শুভ্রের মত হওয়ার চেষ্টা করতাম - যার চারপাশে হুমায়ুন আহমেদ সিডাকটিভ রোমাঞ্চের গল্প লিখে রাখতো। হয়তো তেমন গল্প আমার পাশেও ঘুরছে- চশমায় আটকা পড়বে সহসাই।

তারপরে এক দশকের মধ্যে পয়েন্ট পঞ্চাশ থেকে দুই পর্যন্ত যখন পাওয়ার পৌছুলো রোমাঞ্চের বদলে সেটা পেইন হয়ে উঠলো। চশমা ছাড়া তখন সত্যি সত্যি দূরের কিছু দেখি না। শুভ্র হওয়া বেশী এক্সপেন্সিভ হয়ে গেলো। রীতিমত পেইন। কবে চশমা ছুড়ে এই বন্দীদশা থেকে মুক্তি পাবো তার জন্য অস্থির হয়ে থাকতাম। রোমাঞ্চিত চশমার কারণে আমার খেলাধুলা হারিয়ে গেছিলো। আউটডোর ছেড়ে টেবিল-ফিক্সড দাবা-কার্ড-কম্পিউটার গেমসে আটকে গেলাম। অ্যাথলেট হবার বদলে কম্পিউটার গেমার হওয়াই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে গেলো।

ঐ পেইন থেকে মাত্র এক বছর আগে মুক্তি পেয়েছিলাম কাকতালীয়ভাবে। গত পাঁচবছর যাবতই চশমার পাওয়ার কমাতে হচ্ছিলো। দুই থেকে দেড় তারপর এক হয়ে পয়েন্ট পঁচাত্তরে উঠে এসেছিলো। তারপরে একদিন চশমা ছাড়া ভালো দেখা শুরু করতে শুরু করলাম। আনন্দে আমি সানগ্লাস কিনে ফেললাম গোটা দুই। জীবনে সানগ্লাস পরতে পারি নাই। অসংখ্য এমন পেইন থেকে মুক্তির আনন্দ যদিও কারো সাথে শেয়ার করা হয়নি তবে আই ফেল্ট দ্যাট প্রতিটা মুহূর্তে। জগতে কে চশমা পরলো আর না পরলো তাতে কিছু কারো যায় আসে না। চশমা বিষয়ক কোনো সাহিত্য-অসাহিত্য নাই। অথচ আমার জন্য চশমা একটা বিশাল ইস্যু। মহামারীর মত ইস্যু। কৈশোরের চশমা রোমাঞ্চ তৈরির পেছনে হুমায়ুন আহমেদ একা দায়ী নয়, তার একজন পাঠিকাও দায়ী ছিলো। অমন চশমা পরা চোখ আমার জীবনে দেখা হয়নি আর, ভোলাও যায়নি। আনন্দের - কষ্টের - বাস্তবতার এক দীর্ঘ অবসেশন জেনো চশমা অপসারণে মুক্তি পেলো।

কিন্তু সুখ আমার সইলো না। জগতের সকল অস্থায়ী সুখের মত একবছর টিকলো মাত্র। এবার শুধু মাইনাস না, সাথে প্লাস-পাওয়ারও। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গত একবছর চশমা না পরায় মাইনাস কমার বদলে বেড়ে গেছে। এখন প্লাস আর মাইনাসের সংমিশ্রণে বিদঘুটে একটা চশমা পরে জীবনের সকল আনন্দ শেষ হয়ে গেছে মনে হচ্ছে। চোখে সেটা থাকা বিরক্তিকর চশমীয় আচরণে আমি ক্লান্ত, অসহায় এবং হতাশ। ক্রমশ বুঝতে পারছি আবার আমি চিরতরে শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়েছি। কোনো মুক্তি নাই। হাঁটতে, দেখতে - সর্বত্র আমাকে কম্প্রোমাইজ করে চলতে হচ্ছে। জীবনের একটা চিরস্থায়ী বিকলাঙ্গতাকে মেনে নিতে হবে।

শুধু সান্ত্বনা একবছর চশমা ছাড়া পৃথিবী দেখতে পেরেছিলাম!
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অধিকার ক্ষত কবিতা খুঁজে নেবে মহিমা (অনুকাব্য)

লিখেছেন নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন, ২৫ শে জুন, ২০১৭ রাত ১:৩৩

অধিকার



মিষ্টি কথার ভাষণ চাই না---
চাই, সাধারণ মানুষের অধিকার;
খাদ্য শিক্ষা চিকিৎসা বাসস্থান
আইনের সু-শাসন, প্রতিটা নাগরিক
যে অধিকারের দাবীদার।।

কোনো প্রয়োজন দেখিনা ওয়াদা
প্রাপ্ত দায়িত্বই পালন কর তোমার;
প্রাণে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাদাখ ভ্রমনঃ(বিশেষ পর্ব) – সবাই যা জানতে চায় (খরচাপাতি এবং ......)

লিখেছেন রুবাইয়াত শোভন, ২৫ শে জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:৫২

তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ২৫ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:৩৬

দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আসে পবিত্র ঈদ আল ফিতর। মন গেয়ে ওঠে আপন মনেই -

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
তুই আপনাকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাকাত থেকে বিলিওনিয়ার হওয়ার বিবিধ উপায়

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৫ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:৫৩



বাংলাদেশে কমপক্ষে ১০ লাখ কোটীপতি আছে, যারা বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক, সোনালী, অগ্রনী, রূপালী, এক্সিম ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর ফেরত দেয়নি; অনেকে সেই টাকা ফেরত দেয়ার জন্য এখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইদ মোবারক ইদ

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ২৫ শে জুন, ২০১৭ রাত ৯:৪০



কাছে কিংবা দূরে
যে যেখানে থাকো;
মহান আল্লাহকে
প্রাণ খোলে ডাকো।

সফলতা, সমৃদ্ধি .
ধরা দিক সবার করে;
যুলুম অত্যাচার
বন্ধ হোক ধরণীর পরে।
পবিত্র ইদের রাতে
এই হোক সবার কামনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×