somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুর'আন কিভাবে পড়বো ও বুঝবো - ৩

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১১ রাত ৯:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[এই পর্বের আগের লেখা দু'টো রয়েছে এখানে:

www.somewhereinblog.net/blog/mariner77/29306343
www.somewhereinblog.net/blog/mariner77/29307677]

..............পূর্বে প্রকাশিত লেখার ধারাবাহিকতায়:

[মূল লেখা: Jamaal al-Din M. Zarabozo-র]


এই সিরিজের আলোচ্য বিষয়াবলী


পবিত্র কুর’আনে আল্লাহ্ বলেন:

يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِمَّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ (15) يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ

“হে আহলে কিতাব! তোমাদের কাছে আমাদের রাসূল এসেছেন, তোমরা কিতাবের যা কিছু লুকিয়ে রাখতে তা প্রকাশ করতে এবং যা কিছু অপ্রয়োজনীয় তা বাদ দিতে। আল্লাহর কাছ থেকে তোমাদের কাছে এক (নতুন) আলো এবং হেদায়েত দানকারী গ্রন্থ এসেছে। যা দিয়ে আল্লাহ্ তাদের সকলকে পথ নিদের্শনা দেন, যারা শান্তি ও নিরাপত্তার পথে তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে এবং তাদের, তাঁর ইচ্ছামত অন্ধকার থেকে সেই আলোতে বের করে নিয়ে এসে সেই পথে পরিচালিত করেন - যা সরল।”
(সূরা মায়িদা, ৫:১৫-১৬)

الر كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ
“আলিফ-লাম-রা, একখানি কিতাব, যা আমরা তোমার কাছে নাযিল করেছি, যাতে তুমি মানবজাতিকে তাদের প্রতিপালকের নির্দেশক্রমে অন্ধকার থেকে আলোতে বের করে নিয়ে আসতে পারো - তাঁর পথে যিনি পরাক্রমশালী, সকল প্রশংসার দাবীদার।”
(সূরা ইব্রাহিম, ১৪:১)


আল্লাহ্ আরো বলেন,

إِنَّ هَذَا الْقُرْآَنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا
“নিশ্চয়ই এই কুর’আন যা সবচেয়ে সঠিক তার দিকেই পরিচালিত করে......”
(সূরা ইসরা, ১৭:৯)

কুর’আনের এই বাণীগুলো পড়ে যখন কোন অবিশ্বাসী কাফির বা সন্দেহবাদী আজকের পৃথিবীর মুসলিমদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক অবস্থার দিকে তাকিয়ে দেখবে, তখন সে প্রশ্ন করতে পারে :কুর’আনের এই কথাগুলো কি বাস্তবিকই সত্যি? যারা কুর’আনের এই কথাগুলোকে বিশ্বাস করে বলে ও জীবনে প্রয়োগ করে বলে দাবী করে, তাদের জীবনে এসবের প্রভাব ও প্রতিফলন কোথায়? কেউ কি মুসলিমদের সত্যি আলোর জগতে বসবাস করতে দেখে, নাকি স্বভাবতই তাদের এক অন্ধকার জগতের বাসিন্দা বলে মনে হয়?

স্পষ্টতই, কুর’আনে লিপিবদ্ধ আল্লাহর এই কথাগুলো সত্য। এ কথাগুলোর ব্যাপারে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। আসলে কেউ যখন কুর’আনের ইতিহাস পড়ে দেখবেন এবং অতীতে যারা কুর’আন বিশ্বাস করেছিলেন, তাদের উপর কুর’আনের কি প্রভাব পড়েছিল সে সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করবেন - তখন যে কেউ অনুধাবন করবেন যে, কুর’আনের উপরোক্ত আয়াতগুলোতে বর্ণিত কথাগুলো তাঁদের জীবনে বাস্তবায়িত হয়েছিল।

এটা অত্যন্ত দুঃখজনক এক বাস্তবতা যে, মুসলিমরা দিকনির্দেশনা সম্বলিত এই মহান কিতাবখানির অধিকারী হলেও, বর্তমানে তাদের জীবনে এর শিক্ষার আশীর্বাদ বা দিকনির্দেশনার কোন প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় না। এই বাস্তবতা কারো কারো কাছে বিস্ময়কর মনে হতে পারে। মুসলিমরা বর্তমানে যে অবস্থায় পতিত হয়েছে - কি করে সেই পরিণতিতে তারা পৌঁছতে পারে - কারো জন্য তা অনুধাবন করা কষ্টকর হতে পারে। মুসলিমরা কিভাবে কুর’আনকে গ্রহণ করছে এবং আত্মস্থ করছে - এর মাঝেই সম্ভবত এই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে। সম্ভবত, কুর’আনের প্রতি তাদের আচরণে কোথাও কোন সমস্যা রয়েছে। এ থেকে এমন একটা অবস্থার উদ্ভব হয় যে, কোন একটা বিষয়ে কুর’আনে দিকনির্দেশনা রয়েছে ঠিকই, কিন্তু মানবতার উপর তার যে প্রভাব প্রতিফলিত হবার কথা ছিল - তা হচ্ছে না।

আমাদের এই প্রচেষ্টায় আমরা তাই, আজকের দিনের অনেক মুসলিম কুর’আনের সাথে কি ধরনের আচরণ করছেন - সেদিকে আলোকপাত করব। তারপর আমরা চেষ্টা করবো, সঠিক আচরণটা কি - তা ভেবে দেখতে। সবশেষে পবিত্র কুর’আনকে সঠিক ভাবে বোঝার ও ব্যাখ্যা করার পন্থা কি হতে পারে, তা নিয়েও আমরা আলোচনা করব ইনশা’আল্লাহ্!

কুর’আন তার অনুসারীদের জন্য কি ধরনের জীবনযাত্রা প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং বাস্তবে আজকের মুসলিমদের জীবনযাত্রার শোচনীয় অবস্থার মাঝে যে দুস্তর ব্যবধান, তার কারণসমূহ বুঝবার এই প্রচেষ্টায় আমরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে আলোচনা করবো ইনশা'আল্লাহ্:

১. আলোচ্য বিষয়াবলী
২. কুর’আনের বৈশিষ্ট্য এবং এর প্রতি আমাদের কর্তব্য
৩. কুর’আনিক প্রজন্ম
৪. কুর’আনের প্রতি সমকালীন মুসলিমদের আচরণ
৫. কুর’আনের মুখ্য উদ্দেশ্য
৬. কুর’আনের নিকটবর্তী হবার পন্থা ও করণীয়
৭. কুর’আন ব্যাখ্যার (তাফসীরের) সঠিক পন্থা
৮. কুর’আনের কাছে প্রত্যাবর্তনের আবশ্যকতা
৯. উপসংহার বা শেষ কথা।


আমরা আশা করছি যে, আমাদের এই প্রচেষ্টায় সংযোজিত বা আলোচিত বিষয়াবলী বিচার-বিশ্লেষণের পরে, কুর’আন বোঝার ব্যাপারে আমাদের দুর্বলতা ও দীনতা অনেকাংশেই দূর হবে ইনশা’আল্লাহ্। আমাদের এই প্রচেষ্টার মূলে রয়েছে এই অপূর্ব সুন্দর ও অলৌকিক কুর’আন থেকে বাংলাভাষী মুসলিমরা যাতে যথাসম্ভব বেশি উপকৃত হতে পারেন, সে ব্যাপারে তাদের সহায়তা করা। যেভাবে কুর’আনের নিকটবর্তী হওয়া উচিত, সেভাবে কুর’আনের কাছে যেতে পারলেই তাদের উপর কুর’আনের সেই কাঙ্খিত প্রভাব অনুভূত ও প্রতিফলিত হবে। তখন, কুর’আন মুসলিমদের আল্লাহর আরো কাছাকাছি নিয়ে যাবে, এবং ইসলাম সম্বন্ধে তাদের জ্ঞানকে আরো পরিপূর্ণ করে দেবে। তারা তখন এই পৃথিবীতে তাদের সত্যিকার ভূমিকা ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারবেন। সবশেষে আমরা আশা করবো, কুর’আনের সঠিক জ্ঞান আখিরাতে তাদের জান্নাতের পথে নিয়ে যাবে - কুর’আনের সঠিক জ্ঞান ও প্রয়োগ আখিরাতে তাদের পক্ষে এক প্রমাণ ও মধ্যস্থতাকারী স্বরূপ কাজ করবে - আর আল্লাহ্ তাদের উপর সন্তুষ্ট থাকবেন, ইনশা'আল্লাহ্!।


(চলবে ......ইনশা'আল্লাহ!)
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×