ভুল করেও যদি মনে পড়ে...ভুলে যাওয়া কোন স্মৃতি.. ঘুমহারা রাতে..নীরবে তুমি কেঁদে নিও কিছুক্ষণ...একদিন মুছে যাবে সব আয়োজন...

পরীক্ষার হলে একদম শুরুতেই অন্যের খাতা থেকে টুকলিফাই করা বিপদজনক
- একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।
১৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৪০
(এটি মোটেও নকলকে উৎসাহিত করার জন্য কোন লেখা নয়। ব্যক্তিগত একটি ঘটনার নৈর্ব্যক্তিক বর্ণনা মাত্র) ........
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেয়ার আমার কোন আগ্রহ ছিল না। উহু- ভুল বুঝবেন না। আগ্রহ এই কারণে ছিল না, যে, যে-ই সাবজেক্টেই চান্স পাই না কেন, ঐখানে আমার পড়া হবে না।
কেন?
আমার পিতা-মাতা সেখানে পড়তে দেবেন না। কারণ, ততদিনে মেডিক্যালের রেজাল্ট হয়ে গেছে। এবং বিস্ময়করভাবে আমি ঢাকা মেডিক্যালেও চান্স পেয়ে গেছি। বংশের এই কূলের আর ঐ কূলের (অর্থাৎ কিনা দাদা ও নানাবাড়ি) বিগত কয়েক পুরুষে (ও নারীতে) 'চিকিৎসক' পরিচয়ধারী হওয়ার সৌভাগ্য কারো হয় নাই। অতএব, 'আমাদের অমুক ডাক্তার', এই বলতে পারার গর্বেই হোক অথবা অথবা অন্য কোন কারণেই হোক, পিতা-মাতাসহ দুকূলের প্রায় সবার সিদ্ধান্ত, আমার মত মেধাবী (!) ছাত্রের চিকিৎসা পেশাই বেছে নেয়া উচিত। ![]()
তাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফর্ম ছাড়া হলেও আমার কোন বিকার হয় না। আমি পড়াশোনাহীন আনন্দের জীবন যাপন করি। এই সময় আমার এক সহপাঠী (নাম ধরে নেই, মনির) এসে আবদার করে, তার জন্য আমাকে পরীক্ষা দিতে হবে। বুয়েট-মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার কোচিং-এর সময় তার সাথে আমার পরিচয় এবং সেই সূত্রে ঘনিষ্ঠতা। প্রথমত প্রস্তাব শুনে আমি আঁতকে উঠি! 'আরে নাহ! - ধরা খাইলে আমার মেডিক্যাল ভর্তিও ক্যানসেল হয়ে যাবে।'
কিন্তু সে আমাকে আশ্বস্ত করে। ওর জায়গায় আমার পরীক্ষা দিতে হবে - ব্যাপারটি তেমন না। আমি ওর পাশে বসবো। আমার পরীক্ষা আমি দিব, সে করবে টুকলিফাই। আমি অবশ্য একা নই- তাকে সাহায্য করার জন্য অপরপাশে বসবে আমাদের আরেক সহপাঠী। আমার উপর লোড (!) কমানোর জন্যই তাকেও হায়ার করা আর কি! আমার উপর দায়িত্ব (!) অংক আর ফিজিক্স-এর। অপর বন্ধুটির (ধরি, তার নাম অনিক) উপর দায়িত্ব কেমিস্ট্রি আর বায়োলজির। আমাকে মনির আরো আশ্বস্ত করে, আমাকে এজন্য বেশী পড়াশোনা করতে হবে না, যা পারি তাতেই চলবে,আমি যেন শুধু পরীক্ষাটা দেই।
আমি প্রথমে গাঁই-গুঁই করি। পরে অনুরোধ-উপরোধে আমার নৈতিকতা ডুব মারে সাগরের অথৈ তলে। (এখানে উল্লেখ্য, এর সাথে ক্যাশ-মানির কোন ব্যাপার ছিল না। ঐ সময় পাশ করিয়ে দেয়ার বা পরীক্ষায় সহায়তা করার বিনিময়ে নগদের লেনদেনের বেশ প্রচলন ছিল। কিন্তু আমি কি বন্ধুর কাছ থেকে টাকা নিতে পারি! বন্ধুত্বের একটা দাবী আছে না! তাই বিনা পয়সায় আমি তাকে সাহায্য করতে রাজী হই। যদিও সে আমি চাইলে কিছু নগদ নারায়ণ নিতে পারি বলে আভাস দিয়েছিল।) ফর্ম কেনা থেকে জমা দেয়া পর্যন্ত পুরো কাজ ও-ই করে। এমনকি ফরম পূরণ পর্যন্ত। আমি শুধু কষ্ট করে আমার সিগনেচারটা করি আর পাসপোর্ট সাইজের ছবি মনিরকে দেই। পড়াশোনা তেমন করি না। বিনা পয়সার কাজ (!), এতে কি আর অত খাটনির আগ্রহ থাকে কারো! ![]()
আমার মনে একটুখানি আশংকা ছিল, আমাদের সীট কি আদৌ পাশাপাশি পড়বে? মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় একসাথে ফরম জমা দিলেও শাফল হওয়ার কারণে মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়নি অনেকেরই। কিন্তু নির্ধারিত দিনে গিয়ে দেখি, আমাদের তিনজনের সীট পাশাপাশি। একদম ভালো পাশাপাশি। মাঝখানে মনির, তার বাম পাশে আমি, ডানপাশে অনিক। আমি মনিরের ভাগ্য দেখে বিস্মিত হই। তবে, কিছুক্ষণ পর মনিরের কথায় সে-ই পুরনো বহুল প্রচলিত কথাটিই মনে পড়ে- 'মানুষ নিজ হাতে তার ভাগ্য গড়ে।'
সীট এক রুমে পড়লেও পাশাপাশি আসলে পড়েনি। কিন্তু আগে এসে (ঐদিনই বা আগের সন্ধ্যায়, এখন মনে নেই) ও নিজের ইচ্ছামত সীটের অ্যারেঞ্জমেন্ট করে যায়। অর্থাৎ কিনা নিজের ভাগ্য নিজেই ফেরায়। কিভাবে করে তার ডিটেইলস অবশ্য আর বলে না - সিক্রেট।
যা-ই হোক, সময়মত পরীক্ষা শুরু হয়। আমি প্রথমেই ফিজিক্স শুরু করি। সহজ সহজ অংকই মনে হয়। ধীরে-সুস্থে, আরামসে একটা একটা অংক করি। মনির প্রথম মিনিট থেকেই আমার উত্তরপত্রের দিকে নজর দেয়। আমি তাকে আশ্বস্ত করি, বলি, এত তাড়াহুড়োর দরকার নাই। আমি আগে অংকগুলো করা শেষ করি, তারপর একসাথে তু্ই দেখে গোলগুলি (উত্তরপত্রে গোল পূরণের সিস্টেম ছিল তখন) পূরণ করিস। ৫ মিনিটও লাগবে না, আধঘন্টা পরে দেখ। এখন নিজে কিছু ট্রাই কর।
কিন্তু আমার পরামর্শ তার মনে ধরে না। সে আমারটা দেখে একটা ফিজিক্স পূরণ করে, পর মুহূর্তেই অনিকেরটা দেখে একটা কেমিস্ট্রি বা বায়োলজি পূরণ করে।
ফলাফল পাওয়া যায় নগদ নগদ-ই। আট মিনিটের মাথায় হল-পরিদর্শক স্যার আসেন আমাদের সামনে। কোন ওয়ার্নিং না, বকাটকা না, এমনকি সে নকল করছে এ রকম কোন অভিযোগও না। শান্তভাবে মনিরকে বলেন, 'এই ছেলে, তুমি এসে এখানটায় বসো।'
'এখানটায়' মানে একদম সামনের একটা চেয়ারে। ঐ চেয়ারের সামনে বা দুই পাশে কোন চেয়ার নেই। সামনে আর বাম পাশে দেয়াল, ডান পাশে শিক্ষকদের বসার টেবিল। পিছনে যে চেয়ার তার দূরত্ব, রুমের অন্যান্য চেয়ারদের নিজেদের মধ্যকার দূরত্বের তিনগুণ। সুতরাং, তার টুকলিফাইয়ের কিচ্ছা ওইখানেই খতম। ![]()
খতম আমাদের দুজনের দায়িত্বেরও। বাকী সময় আর কি করবো? আমি ফিজিক্সটা কমপ্লিট করে বায়োলজি আর কেমিস্ট্রি আস্তে ধীরে পূরণ করি। অংকও ৭-৮ টা পূরণ করি। এরপর অংকগুলো করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলি। কয়েকটা কারণ- এখন অংক করলেই কি না করলেই কি, অংকগুলো করতেও বেশ মাথা খাটাতে হচ্ছিল, আর বাকীগুলো আস্তে-ধীরে পূরণ করার কারণে হাতে সময়ও ছিল না। কিন্তু উত্তরপত্রের এতগুলো অংশ ফাঁকা রেখে যেতেও মন চায় না। তাই বাকী উত্তরগুলোর অর্ধেক 'এ' আর অর্ধেক 'ডি' পূরণ করে আসি প্রশ্ন না দেখেই।
বিঃ দ্রঃ মনির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়নি।
.......................................................................................................
আরো কয়েকটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার লিংক-
মোবাইল বন্ধ রাখলে ক্ষতি নিজেরই,
আবেদনপত্র পূরণ করার আগে ফটোকপি রাখুন,
হোস্টেল থেকে উৎখাত,
রাতের রাস্তায় করমর্দন
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৮:০৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
নিবিড় বলেছেন:
আপনে পাইসিলেন?
লেখক বলেছেন: হু। বিস্ময়করভাবে।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ। অনেকেরই এই ধরণের অভিজ্ঞতা আছে।
ধন্যবাদ।
আরিফ থেকে আনা বলেছেন:
অনেক মজা লাগ্ল।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ওয়াআলাইকুম আস সালাম।
লিপিকার বলেছেন:
এই অভিজ্ঞতা মনে হয় অনেকেরই আছে....যাদের আছে তাদের বেশিরভাগই মনে হয় ধরা খেয়েছে.....
লেখক বলেছেন: অনেকেরই আছে। তবে আমারতো মনে হয়, বেশীরভাগই পার পায়া গেছে। না টিকলেও বেশীরভাগই অধরা।
সাদা মন বলেছেন:
আহহারে...
লেখক বলেছেন: হুম।
মেঘাচ্ছন্ন বলেছেন:
আহহা.....
লেখক বলেছেন: হুম।
কাঙাল মামা বলেছেন:
ভালো
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: 'কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে!!!'.........
সিরিয়াল ছিল ২৪।
লেখক বলেছেন: পুরা পোস্ট দেন।
লেখক বলেছেন: ব্যাপকস ধইন্যবাদ।
নির্বাসন বলেছেন:
এই অভিজ্ঞতা আমার ও আছে...
লেখক বলেছেন: পুরা পোস্ট দেন।
আসিফ আহমেদ বলেছেন:
আহারে...........
লেখক বলেছেন: উহুরে!!
তপন চৌধুরি বলেছেন:
দারুন হয়েছে৷ আমি জীবনে নকল করি নাই তবে আমার স্ত্রী একবার নাকি সময়ের অভাবে পুরা বই নিয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল৷
লেখক বলেছেন: আরে জট্টিলস!! পুরা সময় ঐ বই লুকাইয়া রাখলো কেমনে?
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















