somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালবাসার উজান স্রোতে............ (শেষ)

০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link


উজান চলে গেল ৩০ তারিখ রাতে। ২৯ তারিখ সারারাত জেগে ছিলাম দুজন। রাতভরে কত কথা, কত হাসি-কান্না তার শেষ নেই! বারান্দার মেঝে তে বসেছিলাম। ভরা চাঁদ ছিল আকাশে। শুক্লপক্ষেরই চাঁদ হবে বোধ হয়! রূপালী একটা মাদকতা চারদিকে। দুটি শরীর তারই আভায় জড়িয়ে ছিল দুজনকে। কিছুক্ষন পর পর উজান আমাকে ওর বুকের মধ্যে চেপে ধরছিল। ওর হৃদপিন্ডের উন্মাতাল কাঁপনের শব্দ পাচ্ছিলাম আমি।

ধ্বক, ধ্বক......................................ধ্বক, ধ্বক..............................

মাঝখানে মাত্র ২ টি দিন হল, এরই মাঝে এত মায়া যে কোথা হতে এল কে জানে!! দুটি হৃদয় নিঃশব্দে বিধাতার কাছে আকুতি জানিয়ে যাচ্ছে "আলাদা করোনা বিধি, সবে তো শুরু করেছি, আর ক'টা দিন থাকি এমনি করে বুকে জড়িয়ে!!!" কিন্তু হায় রে দুনিয়া!! জিবীকার তাগিদে জীবনকে হাত পা গুটিয়ে নির্লিপ্ত হতেই হয়!!! মাঝে মাঝে উজান নিজের গালটা আমার মাথায় কাৎ করে ঠেকিয়ে চুপচাপ বসে থাকছিল। খুব মায়া লাগছিল আমার! দম ফুটে কান্না পাচ্ছিল! কাঁদতেও পারছিলাম না, পাছে ও মনোবল হারিয়ে ফেলে!

পাশে অনেক দিনের অবহেলায় পড়ে থাকা আমার ডায়রীটা হঠাৎ হাতে নিল ও। ঝপ করে একটা শুকনো লাল গোলাপ পড়লো ডায়রীটার পাতার ভাজ থেকে। ও কুড়িয়ে নিয়ে বললো "কার স্মৃতি যত্ন করে তুলে রেখেছ সুর?'। আমি বললাম "যত্ন করেই রেখেছিলাম, কিন্তু নিজের দোষেই অবহেলায় পড়ে আছে" একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললাম "শাওন দিয়েছিল, আমার গত জন্মদিনে! ২৩ টি গোলাপ! ওর মাঝের একটি ডায়রীর ভাজে ছিল!!" উজান বললো "আচ্ছা সুর, শাওন তো জানতো তুমি বিধবা, সব জেনেই যদি এল তবে এভাবে ঠকালো কেন?" আমি ও চাই এই কথা গুলো উজান জানুক। তাতে ওর মনের অনেক দ্বিধা কেটে যাবে। যদিও আদৌ কোন দ্বিধা আছে কিনা সে নিয়েই আমার সন্দেহ আছে!!!

আমি বললাম " উজান, শাওন সবই জানতো। কয়েকদিন আগে শুনলাম ওর প্রথম প্রেমিকা, সোনা, রুপা না হীরা কি যেন নাম ছিল , এমনই কোন এক ধাতুর নামে নাম, সে নাকি ওর কাছে ওর পুরা জগৎ ছিল!!! তখনই মনে হল তবে আমি কি ছিলাম? আমাকে নিয়ে তবে কি সে এক্সপেরিমেন্ট করেছে? নিজে নিজেই খুঁজে পেলাম জবাব ' ভর দুপূরে অনাসৃষ্ট দূষ্টামিতে মত্ত বাচ্চা ছেলে মায়ের বকুনি খেয়ে যখন গাল ফুলিয়ে অভিমান করে একাই কাঠ ফাঁটা রোদে বাশের কঞ্চি কুড়িয়ে বনপথে হাঁটতে হাঁটতে খুজে পায় একটা মাটির পুতুল, খেলতে থাকে আপন মনে, তারপর মায়ের উপর অভিমান কেটে গেলে পুতুলটা ছুড়ে ফেলে বাড়ি ফিরে যায় একসময়, কেউ এসে জিজ্ঞেস করে "ছুড়ে ফেলে পুতুলটার হাত ভাঙলে কেন? সে জবাব দেয় ও পুতুলের নাক বোঁচা, রং ভালনা ও আমার ভাল লাগেনি তাই ফেলে দিয়েছি!!! এমনই করেছিল শাওন আমার সাথে!!!

উজান বিস্ফোরিত চোখে চেয়ে থাকলো আমার দিকে। আমি আবার বললাম " জানো উজান, তারপরও ক্ষমা করেছিলাম। ভুল টুকুও স্বীকার করেনি সে। দশজনের কাছে বলে বেড়িয়েছে আমি এমন, আমি অমন!! সেই দশজনের ভিড়ে দাঁড়িয়ে আমারও মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করতে মন চাইতো ' সবাই মন্দ, আর তুমি বুঝি ভীষ্মদেব????" কিন্তু ওকে এ প্রশ্ন করাও বৃথা। যাদের দম্ভ দেখানোর অনেক কিছু থাকে তারা দম্ভ দেখায় না, যাদের কিছুই নেই তারাই দম্ভটাকে যথাসর্বস্ব করে বাঁচতে চায়!! যে ওকে বারবার লাথি দিয়েছে তার পায়ে গিয়েই লুটিয়েছে বারবার, অথচ যে আমি বুকে তুলে নিতে চেয়েছি তাকেই দেখিয়েছে ওর অন্ধ আত্মসন্মান। যা আসলে আত্মসন্মান নয়, অহং!! ওর উপর রাগ করারও প্রবৃত্তি হয়না আমার! ও রাগেরও যোগ্য না। আসলে মনটা যার আবর্জনায় ভরে যায় সেখানে তুমি পদ্ম ফুল ফেল আর বেলী, গন্ধ ছড়াবে ঐ আবর্জনারই!! এট কথা আজ একারনে বললাম যাতে তুমি জানতে পার ওর জন্য কোন কিছুই অবশিষ্ট নেই আমার।"" তারপর চুপ করে থাকলাম। খুব হালকা লাগছে!

উজান বললো " তোমার মত বোধ বুদ্ধি আমার নেই, এটুকু জানি তোমাকে পেয়েছি। আর কিছু জানবার আমার দরকার নেই!!" এই বলে দু'হাতে আমার মুখটা তুলে ধরলো। আমি চোখ বুজলাম। একটা কাঁপা ঠোট চেপে ধরলো আমার দুটো ঠোঁট! সেখানে কামুক বাসনা নেই, আছে শুধু অতৃপ্ত আত্মার তৃষ্ণা মেটানোর দূর্বার চেষ্টা!! যে চার অক্ষরের শব্দটি শোনবার জন্য চার চারটি বছর অপেক্ষা করেছে ও সেই কথাটি বললাম আজ "ভালবাসি"। আনন্দ বিস্ময়ে আমার প্রতি ইঞ্চিতে ওর প্রাপ্তির সিলমোহর এটে দিতে লাগলো ও একটি একটি করে!! আজ যেন মনের ক্ষুধার কাছে দৈহিক ক্ষুধা হার মেনেছে!! এভাবেই ভালবাসার দেনা পাওনায় কাটলো সারারাত।

সেদিন সারাদিনটা কাটলো কেমন একটা অস্থিরতা দিয়ে। যেন সময় বড় দ্রূত যাচ্ছে, আরেকটু ধীরে যাক। বিদায় নেবার সময় আমি ওর শার্টের নীচটা খামচে ধরে রেখেছিলাম। মা জোর করে ছাড়িয়ে নিয়েছিল হাতটা। "আসি" এই কথাটাও ও বলেনি আমাকে। পাছে ভেঙ্গে পড়ি!! ও যখন চলে যাচ্ছিল কাঁচের দেয়ালের এপাশে দাঁড়িয়ে আমি নিজেকে জোর করে বেঁধে রাখছিলাম। এক সময় দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল। তখন সাড়ে ন'টা বাজে বোধ হয়! তারপরও অনেকক্ষন লাউঞ্জে বসে ছিলাম!

চারদিন হল চলে গেছে সে। আমি দিন গুনছি, কবে যাবো ওর কাছে!!! এ অপেক্ষায়ও সুখ আছে। সমস্ত সত্তা জুড়ে একটা অনুরনন আছে "আমি তার, সে আমার"। আছে ভীষন ভাললাগার কিছু স্পর্শ, কিছু গন্ধ!!! চোখ বুজলে এখন আর জগৎ সংসার টা অন্ধকার হয়ে আসেনা আমার কাছে। চোখ বুজলেই একটি সৌম্য মূর্তি ভাসে চোখের ভেতর! সে আমার উজানের মুখ!! শারীরিক দূরত্ব আমাদের আত্মার নৈকট্যকে এতটুকু কমাতে পারেনি। এখানে শুধুই সুখ। এ জীবনে আর কোন দুঃখের প্রবেশাধিকার নেই!!!



আছে শুধু জীবনের আনাগোনা !! সুখের অনাহূত স্মৃতির অশরীরি অবস্থান!!!!!!!!!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৩৬
৪৭টি মন্তব্য ৪৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×