somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালবাসার উজান স্রোতে............ ৩

২৭ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সারাদিনে অনেক ধকল গেল। সেজে গুজে সকালে ঠায় বসে থাকলাম, আর সবাই মিলে আমার নাক, মুখ ,চোখ, হাতে হলুদ মাখালো, হলুদ তো না উপটান। উহ!!! কি যে যন্ত্রনা!!! দুপুরের পর বাসার সব মেয়েগুলো উজানকে সং সাজাতে গেল! মায়ের অনেক কাজ, দম নেবার সময় নেই। সাথে বড় খালা আর ন'খালা। বাবা এক কোণে বসে "এটা ওভাবে, ওটা ওভাবে" হুকুম করে যাচ্ছে! আর আমি ঘরে বসে একা বিরক্ত হচ্ছি আর সবার বংশ বিলোপের কামনা করছি!!! মাঝে মাঝে ভাবছি কাল দুপূরের পরেই আমি আর একা নই, আমার নামের সাথে কারও নাম, আমার সাথে কারও অদৃশ্য বন্ধন!

সন্ধ্যার পর পরই সবাই ফিরে এলো। সবাই কত্ত খুশি! কে উজানের কোথায় হলুদ মাখিয়েছে, কে উজানের পাশে বসে পাণ্জাবীর সাথে বিছানার চাদরের পিন আটকেছে, উজান কত খানি বেশরম এই সব আলোচনা! বিয়ের শাড়ি গহনা আর অন্যান্য সব ওরা আজকেই পাঠিয়ে দিয়েছে। শাড়িটা আমি পছন্দ করেই কিনেছিলাম। ধানমন্ডি লেকের অপর পাশে বিলবোর্ডে ফারজানা শাকিলের অফ হোয়াইট জমীনে সোনালী কাজের জামদানীটা সাথে মেরুন দোপাট্টায় অনেক দিন আমার নজর আটকেছে, ওটাই খুঁজে গেথে কিনেছিলাম। আর সব ওর দুই বোন আর ও মিলে কিনেছে।

শাড়ির সাথে ম্যাচিং নেকলেস, নীচে মুক্তা বসানো, সীতা হার টা বেশ,হাতের মানতাসা গুলোও চমৎকার, পছন্দ আছে বৈ কি! সোনার টিপটির মাঝখানে ছোট্ট একটা রুবি। বাকী সবও সুন্দর! কিন্তু এসবের চেয়ে সবচেয়ে দামী যে জিনিসটা তা হল সোনা বাঁধানো শাখা জোড়া!! শাখাকে যারা হিন্দুয়ানী জ্ঞান করেন আমি তাদের দলে নই। ও বস্তুটি আমার খুব ভাল্লাগে। ইস!! উজান আমার সব পছন্দ অপছন্দ গুলো কত্ত মনে রাখে!!!

খুব কথা বলতে ইচ্ছে করছে ওর সাথে! সুযোগই পাচ্ছিনা এত ভীড়ে ফোন করার! মাথা ব্যাথার বাহানায় ঘরে দরজা দিয়ে বিশ্রাম নেবার একটা সুযোগ পেলাম!!

:আজ সূর্য কোন দিক দিয়ে উঠেছিল? উমমমমম মনে পড়ছেনা, খেয়াল করিনি বোধ হয়!!!
: কেন? একথা কেন বললে?
: না তুমি নিজে থেকে কখনও আমাকে ফোন করনা তো তাই!!!
: তাহলে ঠিক আছে রেখে দিলাম!!]
: আরে না না, লক্ষীসোনা রাগ কর কেন? এমনি বললাম। আচ্ছা বল এবার সব পছন্দ হয়েছে?
: সব কিছুর কথা জানিনা, তবে শাখা দুটো অসাধারন!! তুমি মনে রেখেছ আমি যে ওটা ভালবসি?
: কেন রাখবো না?
: হুমমমম
: তারপর বল?
: কি বলবো? ভাবছি কাল থেকে দূজন আর আলাদা দুটি সত্তা থাকবোনা!!!
: হ্যা গো, কত প্রতীক্ষায় তোমাকে পেলাম! এত সাধনায় তো দেবতার বর পাওয়া যায় গো!! তোমার মন পেতেই আমাকে ৪ টি বছর অপেক্ষা করতে হল। তাও আবার নিষ্কণ্টক প্রতীক্ষা নয়, রিতীমত দু, দু জন অসুরের সাথে জীবনপণ লড়াই করে তারপর!!!! আমি হাসিতে ফেটে পড়লাম। কি মজা করে যে কথা বলে পাগলটা!! আবার বললো: কাল কিন্তু পরীর মত সাজবে। গতকাল যেমন শেওড়া গাছের পেতনী সেজেছিলে ওরকম সেজোনা কিন্তু!!!
: ধ্যাৎ কি যে বল তুমি!!!
: আগামী কাল রাতে মুখ দেখাই তে কি চাও তুমি সুর? বিয়ের প্রথম রাতে বউকে কিছু দিতে হয়!! আমি তো মস্ত গাধা, কি যে দিব বুঝতে পারছিনা!
: যা দরকার আমি চেয়ে নেব, তোমার ও নিয়ে এত ভাবতে হবে না।
: বাঃ, আগে থেকে না বললে ম্যানেজ কোরবো কিভাবে?
: ও যখন চাওয়া হয় তখনই পাওয়া যায়!!!

ও যে কি বুঝলো আর কি বুঝলো না সে আমার বোঝার বাইরে। আরও কিছুক্ষন কথা বলে ফোন রাখলাম। মা খেতে ডাকছে, আমার ক্ষুধা নাই। কিংবা হয়ত আছে আমি বুঝতে পারছিনা। গলার কাছে কি যেন পাকিয়ে উঠছে। সকাল হবার অপেক্ষা করছি নাকি সকাল দেরীতে হবার দোয়া করছি সেও বুঝতে পারছিনা। কানের একশ জন মানুষের মিলিত চিৎকার শুনছি যেন "উজান, উজান, উজান"!!!

নীচে ভাইবোন গুলো সাউন্ড বক্সে গান বাজানো শুরু করেছে, একটা গানের সুর ভেসে আসছে। এত মিষ্টি লাগছে সুর টা!! মিষ্টতা কি গানের সুরে নাকি আমার হৃদয় বীনায় বেজে ওঠা সুখানিভূতির নরম সুরে, কে জানে!!!!!!!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৩৬
৩৩টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×