........................
শ্রাবণী বিশ্বাস করতে পারছেনা সে নিজের চোখে এটা কি দেখছে। শ্রাবণী নিজের হাতে চিমটি কেটে দেখলো, এটা সপ্ন নয়। ও দ্রুত পায়ে কোলাপসিবল গেটের কাছে এগিয়ে গিয়ে হ্যাঁচকা টানে হাত ধরে টান দিলো। হ্যাঁ এটা তো দীপুই।
দীপু, তুমি? তুমি এলে কোথা থেকে? এটা কিভাবে সম্ভব?
----শ্রাবণী, তুমি এখানে কি করো?
হ্যাঁ আমি তো চিটাগং-এ থাকি আমার শ্বশুড়বাড়ী। আমার বিয়ে হয়ে গেছে সাত মাস হলো। আমি তাহলে এতদিন এগুলো কি জেনে আসলাম। তুমি নাকি বিদেশ চলে গিয়েছিলে? কিভাবে পারলে আমাকে এভাবে একা রেখে তুমি বিদেশ চলে যেতে?
এক নিঃশ্বাসে শ্রাবণী এই কথাগুলো জিজ্ঞেস করে ফেলল। ওকে পাগলের মত লাগছে। চারিদিকে লোক জড়ো হয়ে গেছে। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। শ্রাবণী কাঁদছে। ঘেন্না হচ্ছে নিজের উপরে। কিভাবে ও দীপুকে ভুলে ছিল এতদিন? সেটা কিসের মোহ?
-----শ্রাবণী, আমি যাই। আর কখনও যাতে তোমার সাথে আমার দেখা না হয়। কেন যে তোমার সাথে আমার দেখা হলো? এটা কি আমারই ভুল?
না, তুমি যাবে না। কোথায় যাবে? আমাকে এভাবে কষ্ট দিয়ে তুমি আর চলে যেও না প্লিজ। অন্যকোথাও চলো এখানে বেশীক্ষণ থাকা যাবে না। দেখ, কেমন সবাই তাকিয়ে আছে।
---- না, না, কোথাও যাবো না। তুমি চলে যাও শ্রাবণী।
এভাবে বেশ কিছুক্ষণ দীপু চাইছে শ্রাবণীর কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে। কিন্তু পারছেনা। প্রায় সন্ধ্যাও হয়ে এসেছে। অবশেষে ওরা নিরিবিলির সামনে হেলভেশিয়াতে বসলো। শ্রাবণী পাগলের মত আচরন করছে। অন্যদিকে দীপু এখন অনেক সুসৃংঙ্খল। খুব আত্মবিশ্বাসী আর নিয়মতান্ত্রিক। ওর মনের যে অবস্থা, সেটা ওর চেহারাতে মোটেও ফুটিয়ে তুলছেনা। খুব স্বাভাবিক ভাবে ও স্যান্ডউইচ আর কোক নিয়ে আসলো কাউন্টার থেকে। অন্যদিকে শ্রাবণী কাঁদো কাঁদো অবস্থা। সে এখন অনুশোচনায় ভুগছে কেন তার জীবনে এমন হয়ে গেল। শ্রাবণীর পার্সের মধ্যে ওর মোবাইলটা বেজেই চলছে। রিসিভ করছে না। দীপু বলার পরে মোবাইলটা বের করে ও দেখলো ওটা ওর শ্বাশুড়ীর ফোন। রিসিভ করে বলল, ও একটা বান্ধবীর সাথে কথা বলছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসায় যাবে। চিন্তা করতে নিষেধ করলো।
এভাবে প্রায়ই দীপুর সাথে শ্রাবণী জোড় করে দেখা করে। দীপু চট্টগ্রামে বন্ধুর সাথে একটা ব্যাবসা শুরু করেছে। ভালই ব্যাবসা। ছন্নছাড়া দীপু এখন নিজেকে অনেক গুছিয়ে নিয়েছে। প্রায়ই দীপুকে মোবাইলে ফোন করে শ্রাবণী। দীপু এটা চায় না। তার মতে আসলে অতীত অতীতই। আর তাছাড়া শ্রাবণীর বিয়ে হয়ে গেছে। সুতরাং দীপুর নরম হওয়া মানেই শ্রাবণীর সংসার নষ্ট। আর অন্যকিছু চাইলেও দীপু এটা কখনই চায় না। সে এখন শ্রাবণীকে সত্যিই সুখী দেখতে চায় দুর থেকে। শ্রাবণী মাঝে মাঝে অবাধ্য হয়ে উঠে। দীপুকে ভয় দেখায়। ওর সাথে যোগাযোগ না রাখলে ও নিজেকে শেষ করে দিবে। দীপু পড়েছে উভয় সংকটে। নিজের মন থেকে কখনই এভাবে যোগাযোগ রাখাটা সায় দেয় না।
একদিকে দীপুর পুরোনো লুকানো ভালবাসা আর অন্যদিকে শ্রাবণীর বর্তমান সংসার তার সাথে তার উজ্জল ভবিষ্যত। কোনভাবে কয়েকটা দিন পার করে দিতেই পারলে তো শ্রাবণী কানাডা চলে যাবে। সে কয়েকটি দিন যদি বুঝিয়ে শ্রাবণীকে কোন বিপদের হাত থেকে রক্ষা করা যায়, তবে সেটাই দীপুর জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে করে সে।
মোবাইলের স্ক্রীণে শ্রাবণীর নাম্বার উঠেছে। আরো কয়েকবার এভোয়েড করেছে কিন্তু শেষে না পেরেই ধরলো।
কি ব্যাপার কখন থেকে রিং করছি, ফোন রিসিভ করছো না কেন?
---- না, মানে একটা মিটিং ছিলাম, কি বলবে বলো?
তোমাকে আজ বলতেই হবে কেন তুমি এভাবে নিজেকে লুকালে? আমার জীবন থেকে তুমি কেন সরে গেলে? আর কেন আমাকে অন্যের ঘরে যেতে হলো?
---- প্লিজ, শ্রাবণী, মাথাখারাপ করো না, এগুলো এখন শুনে কোন লাভ নেই। যা হবার তা তো হয়েই গেছে।
না, তোমাকে আজকে বলতেই হবে। প্রতিদিন তুমি এড়িয়ে যাও। যদি না বলো তাহলে আমি এখনি তোমার অফিসে চলে আসবো।
---- ঠিক আছে, তবে শোন..............
চলবে............
১ম পর্ব । ২য় পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



