গল্পের বই পড়ার ইতিহাসটা খুব একটা মজার না। আব্বা-আম্মা পছন্দ করতেন না গল্পের বই পড়াটা, তার পরেও লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তাম। কখনও কিনে কখনও অন্যে কাছ থেকে ধার করে এনে। এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী সাহায্য পেয়েছি আগের বাসার বাড়ীওয়ালার মেয়ে, তআসনুভা আপুর কাছ থেকে। আপু অনেক তিনগোয়েন্দা পড়তো। প্রথমে ভাইয়া ওর কাছ থেকে নিয়ে পড়তো। পরে নিজেই কেনা শুরু করে। ভাইয়া অবশ্য কয়েকটা কিনেই তিনগোয়েন্দার উপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ততদিনে সেই নেশা পেয়ে বসে আমাকে। মাদ্রাসায় যাওয়ার সময় যেটাকা দিতেন তা থেকে জমিয়ে বই কিনতাম। এছাড়াও প্রত্যেক মেয়েদী পরীক্ষার শেষ পরীক্ষার দিন ত কিনতাম ই। পাশাপাশি অন্যান্য বই ও পড়তাম।
দাখিল পর্যন্ত এই নেশা অব্যাহত থাকলেও আলিমে উঠে কিছুটা অনিয়মিত হয়ে যায়। এর মাঝে টুকটাক মাসুদ রানা পড়লেও চরম ভাবে পেয়ে বসে ওয়েস্টার্নের ভুতে। দারুন লাগে ওয়েস্টার্ন পড়তে। এর মাঝে বেশি ভাল লাগে এরফান ও ওসমানের গুলো।
কি জীবন সেখানে! মুখের একটা কথার এতই দাম যে তার চেয়ে বরং একটা বুলেট খরচ করে। পিস্তলের নল কথা বলে! সব সময় প্রতিকুল পরিবেশে টিকে থাকার লড়াই করে যায়। পড়ার সময় মনে হয় আমি হারিয়ে যাই সেই পশ্চিমে......স্বপ্ন দেখি.....
একটা র্যান্ঞ আছে যেখানে গরু ছাড়াও শাক সবজী, মুরগী পালন হয়। মাখন বানানো, ডিম সংগ্রহ ছাড়াও র্যান্ঞের বিভিন্ন কাজে সারাদিন ব্যাস্ত থাকতে হয়। সারাদিন এই কাজ সেই কাজের পরে সেও ফেরে বাড়ীতে। সন্ধ্যার পরে ডিনার করে দু'কাপ কড়া কফি নিয়ে টেবিলে বসেই গল্প জুড়ে দিলাম। কি করে খামারের গরু আরো বাড়ানো যায়, আরো বেশী দামে বেচা যায়....আজও খামারের পশ্চিম দিকের বেড়া ভেংগে প্রতিবেশী র্যান্ঞের গরু ঢুকে গিয়েছে। কাল সকালে তার সাথে কথা বলতে হবে। পুরো বাথানের সবচেয়ে ভাল জায়গা, যেখানে প্রয়োজনীয় পানির নালা রয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমানে ঘাস জন্মে। জায়গাটা দখল করে রেজিস্ট্রি করতে হবে। যদিও বেশ ঝামেলা হবে। তবে দখলে নিতে পারলে বেশ লাভ হবে........
এক পর্যায়ে রাত গভীর হলে শোবার ঘরে চলে যাওয়া। পরদিনের জন্যে আবার প্রস্তুতি নিতে হবে.....
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




