somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গ্রামীণ ব্যাংকে কি দুর্নীতি হয়েছিল? [ পর্ব ৪ ]

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





এই লেখার আগের পর্বগুলো
পর্ব - ০১ এইখানে Click This Link
পর্ব - ০২ এইখানে Click This Link
পর্ব - ০৩ এইখানে Click This Link






‘ডাল মে’ কি সত্যি সত্যি ‘কালা’ কিছু ছিল নাকি?

যে অর্থ নিয়ে এতো কথাবার্তা, তা কিন্তু বাংলাদেশ ও নরওয়ের আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের আওতায় গ্রামীণ ব্যাংককে সহায়তা হিসাবে দেওয়া হয়েছিল। তাই বিষয়টি নিয়ে দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে। এ ব্যাপারে ১৯৯৮ সালের ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, তহবিলের মালিকানা গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নরওয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত পোষণ করে ইআরডি প্রতিনিধি।

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা নিজেরাই বিষয়টি গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে তুলে ধরে। এরপর তারা দূতাবাসকে জানায়, বিষয়টি নিয়ে নরওয়ে সরাসরি গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করলেই সবচেয়ে ভালো হয়।
এরপর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে দূতাবাস। ওই পরামর্শ মূল্যায়নের পর দেখা গেছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তৃতীয় পর্যায়ের তহবিল ফিরে পাওয়ার দাবি করার ক্ষেত্রে দূতাবাসের আইনগত ভিত্তি দুর্বল।

তার মানে নোরাডের পক্ষে মেয়াদ-উত্তীর্ন এ টাকার ব্যাপারে জোরালো দাবী আর টিকে না। কিন্তু ‘চোরের মন তো পুলিশ পুলিশ’ হয়ে থাকে, তাই এ পর্যায়ে গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ কল্যাণ দূতাবাসের কাছে প্রস্তাব দেয়, ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত চতুর্থ পর্যায়ের প্রায় ১০৬ মিলিয়ন নরওয়েজিয়ান ক্রোনার ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য দূতাবাসকে দায়িত্ব দেয় নোরাড। যার উদ্দেশ্য ছিল পুরো তহবিল ফিরে পাওয়া, যা তৃতীয় পর্যায়ের অংশটি নিশ্চিত করবে। গ্রামীণ ব্যাংক, গ্রামীণ কল্যাণ ও দূতাবাসের মধ্যে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় যে, তৃতীয় পর্যায়ের তহবিলসহ ঘূর্ণমান তহবিলের পুরো অর্থই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

এর মানে, ১৭ কোটি নরওয়েজিয়ান ক্রোনার ফেরত দেওয়া হবে। ফলে নোরাড ও দূতাবাসের দাবি শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়। গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৯৮ সালের ২৬ মে আপসরফার জন্য আলোচনার প্রস্তাব দিলে দূতাবাসের চিঠিতে ‘আপসরফা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। আলোচনা শেষে নোরাড ও দূতাবাসের সবগুলো দাবি পূরণ হয়। গ্রামীণ ব্যাংককে চতুর্থ পর্যায়ের তহবিল ছাড় ১৯৯৭ সালে শেষ হয়। ১৯৯৮-৯৯ সালে গ্রহণ করা হয় ওই প্রকল্পের মূল্যায়নের প্রক্রিয়া। এ ব্যাপারে ২০০১ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংক থেকে প্রতিবেদন পেতে থাকে। ২০০৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংকে নোরাডের অর্থায়ন চুক্তি শেষ হয়।

এর মানে বোঝা গেল যে যে চুন খেয়ে নোরাডের মুখ পুড়েছিল, সেই চুন খেতে নোরাড আর রাজি ছিল না। তাই গত সাত বছর ধরে আর কোন নরওয়েজিয়ান ক্রোনার দঃখজনক হলেও সত্যি যে গ্রামীন ব্যাংকের তহবিলে প্রবিষ্ঠ হয় নাই। এতে বাংলাদেশে মান বা নাম কিছু অবশিষ্ট আছে?

আজকে ড. ইউনুস বলছেন যে গ্রামীন ব্যাংকের সমালোচনা করে আমরা দেশের বদনামের পরিমাণই বাড়াচ্ছি খালি। তা হলে তিনি যখন এমন একটা দুর্নীতির মত কাজে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন, সে সময়ে দেশের বদনামের কথা তার মাথায় ছিল না? প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা গেল যে মূল একটা তহবিল স্থানান্তরের ভেতরে যে দুর্নীতির আভাস ছিল, তাকে সামাল দিতে নরওয়ের সরকার সচেষ্ট ছিল। সে কারনে একটা আপসরফা করে বিষয়টা মিমাংসা করতে হয়।

এখন আপনারাই বলুন, দুর্নীতি কি হয়েছিল না হয় নাই?
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×