এই লেখার আগের পর্বগুলো
পর্ব - ০১ এইখানে Click This Link
পর্ব - ০২ এইখানে Click This Link
পর্ব - ০৩ এইখানে Click This Link
‘ডাল মে’ কি সত্যি সত্যি ‘কালা’ কিছু ছিল নাকি?
যে অর্থ নিয়ে এতো কথাবার্তা, তা কিন্তু বাংলাদেশ ও নরওয়ের আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের আওতায় গ্রামীণ ব্যাংককে সহায়তা হিসাবে দেওয়া হয়েছিল। তাই বিষয়টি নিয়ে দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে। এ ব্যাপারে ১৯৯৮ সালের ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, তহবিলের মালিকানা গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নরওয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত পোষণ করে ইআরডি প্রতিনিধি।
বাংলাদেশের কর্মকর্তারা নিজেরাই বিষয়টি গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে তুলে ধরে। এরপর তারা দূতাবাসকে জানায়, বিষয়টি নিয়ে নরওয়ে সরাসরি গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করলেই সবচেয়ে ভালো হয়।
এরপর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে দূতাবাস। ওই পরামর্শ মূল্যায়নের পর দেখা গেছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তৃতীয় পর্যায়ের তহবিল ফিরে পাওয়ার দাবি করার ক্ষেত্রে দূতাবাসের আইনগত ভিত্তি দুর্বল।
তার মানে নোরাডের পক্ষে মেয়াদ-উত্তীর্ন এ টাকার ব্যাপারে জোরালো দাবী আর টিকে না। কিন্তু ‘চোরের মন তো পুলিশ পুলিশ’ হয়ে থাকে, তাই এ পর্যায়ে গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ কল্যাণ দূতাবাসের কাছে প্রস্তাব দেয়, ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত চতুর্থ পর্যায়ের প্রায় ১০৬ মিলিয়ন নরওয়েজিয়ান ক্রোনার ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য দূতাবাসকে দায়িত্ব দেয় নোরাড। যার উদ্দেশ্য ছিল পুরো তহবিল ফিরে পাওয়া, যা তৃতীয় পর্যায়ের অংশটি নিশ্চিত করবে। গ্রামীণ ব্যাংক, গ্রামীণ কল্যাণ ও দূতাবাসের মধ্যে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় যে, তৃতীয় পর্যায়ের তহবিলসহ ঘূর্ণমান তহবিলের পুরো অর্থই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
এর মানে, ১৭ কোটি নরওয়েজিয়ান ক্রোনার ফেরত দেওয়া হবে। ফলে নোরাড ও দূতাবাসের দাবি শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়। গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৯৮ সালের ২৬ মে আপসরফার জন্য আলোচনার প্রস্তাব দিলে দূতাবাসের চিঠিতে ‘আপসরফা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। আলোচনা শেষে নোরাড ও দূতাবাসের সবগুলো দাবি পূরণ হয়। গ্রামীণ ব্যাংককে চতুর্থ পর্যায়ের তহবিল ছাড় ১৯৯৭ সালে শেষ হয়। ১৯৯৮-৯৯ সালে গ্রহণ করা হয় ওই প্রকল্পের মূল্যায়নের প্রক্রিয়া। এ ব্যাপারে ২০০১ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংক থেকে প্রতিবেদন পেতে থাকে। ২০০৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংকে নোরাডের অর্থায়ন চুক্তি শেষ হয়।
এর মানে বোঝা গেল যে যে চুন খেয়ে নোরাডের মুখ পুড়েছিল, সেই চুন খেতে নোরাড আর রাজি ছিল না। তাই গত সাত বছর ধরে আর কোন নরওয়েজিয়ান ক্রোনার দঃখজনক হলেও সত্যি যে গ্রামীন ব্যাংকের তহবিলে প্রবিষ্ঠ হয় নাই। এতে বাংলাদেশে মান বা নাম কিছু অবশিষ্ট আছে?
আজকে ড. ইউনুস বলছেন যে গ্রামীন ব্যাংকের সমালোচনা করে আমরা দেশের বদনামের পরিমাণই বাড়াচ্ছি খালি। তা হলে তিনি যখন এমন একটা দুর্নীতির মত কাজে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন, সে সময়ে দেশের বদনামের কথা তার মাথায় ছিল না? প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা গেল যে মূল একটা তহবিল স্থানান্তরের ভেতরে যে দুর্নীতির আভাস ছিল, তাকে সামাল দিতে নরওয়ের সরকার সচেষ্ট ছিল। সে কারনে একটা আপসরফা করে বিষয়টা মিমাংসা করতে হয়।
এখন আপনারাই বলুন, দুর্নীতি কি হয়েছিল না হয় নাই?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

