প্রথম আলো-র কূটনৈতিক প্রতিবেদক গত ৯ ডিসেম্বর তারিখে “গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল স্থানান্তরে দুর্নীতি হয়নি: নরওয়ে” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছেপেছিলেন। প্রতিবেদনটি প্রকারান্তরে বলতে চাইছিল যে গ্রামীন ব্যাংক কোন দুর্নীতি করে নাই। আর পুরো রিপোর্টের প্রচ্ছন্ন ভাবটা ছিল আমন যে, এত পুরানো কথা টেনে এনে এখন বিবাদ করাটা ঠিক হবে না গোছের।
প্রতিবেদনের শুরুতেই প্রতিবেদক বলে বসলেন যে, “গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল সরানোর অভিযোগ তদন্তে দেখা গেছে, কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে কিংবা দুর্নীতি বা তহবিল আত্মসাতের জন্য ক্ষুদ্রঋণে জড়িত প্রতিষ্ঠানটি ওই কাজ করেনি। তা ছাড়া, ১৯৯৮ সালের মে মাসে মূল তহবিলে অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নরওয়ে সরকারের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছিল, ঘটনাটি তখনই মিটে গেছে”। জানা গেল, নরওয়ের পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী এরিক সোলেইম প্রতিবেদন প্রকাশের আগের দিন অর্থাৎ ৮ ডিসেম্বর এই মন্তব্য করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, উল্লেখ করা যায় যে, নরওয়ে সম্প্রচার কর্তৃপক্ষের (এনআরকে) টেলিভিশনে একটি প্রামাণ্যচিত্রে [ ‘ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে’ (কট ইন মাইক্রো ডেট) ] দেখানো হয় যে, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস দারিদ্র্য দূর করতে দাতাদের দেওয়া গ্রামীণ ব্যাংকের ১০ কোটি ডলার (বর্তমান বাজারমূল্যে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা) গ্রামীণ কল্যাণ নামের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নিয়েছেন।
ঘটোনাটি ঘটেছিল আজ থেকে প্রায় ১৪ বছর আগে। এর সাথে জড়িত ছিল নরওয়ের দাতা প্রতিষ্ঠান নোরাড এবং বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীন বাংক। পরে গন্ডোগোল শুরু হলে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্টতা দেখা দেয়।
নোরাডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণে মোট ৬০ কোটি ৮৫ লাখ নরওয়েজিয়ান ক্রোনার স্থানান্তর করে। এতে নরওয়ের অর্থ ছিল ১৭ কোটি ক্রোনার। ১৯৯৭ সালে ঘটনাটি জানার পর ঢাকার নরওয়ের দূতাবাস তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়। দূতাবাসের দৃষ্টিতে, এ স্থানান্তর নরওয়ের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের চুক্তি অনুযায়ী হয়নি।
তখন বিষয়টি গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে জানতে চাওয়া হয়। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পর ১৯৯৮ সালের মে মাসে ঠিক করা হয়, ১৭ কোটি ক্রোনার গ্রামীণ কল্যাণ থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিলে স্থানান্তর করা হবে।
প্রশ্ন হচ্ছে, গ্রামীণ বাংক ঋণ বা অন্য কোন উপায়ে টাকা ধার দিতে পারে। তহবিল স্থানান্তর [ fund transfer ] কিন্তু অন্য ব্যাপার বোঝায়। পরবর্তিকালে ড. ইউনুস ঠিকই বলেছেন। তিনি ওই বাংকের প্রধান হিসাবে প্রতিষ্ঠানের লাভের জন্য – যার সহজ অর্থ হচ্ছে সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার জন্য – এমন স্থানান্তর করেছিলেন, বা স্থানান্তরের আদেশ দিয়েছিলেন। এখন ট্যাক্স না-দেওয়া থেকে যে টাকাটা বেঁচে গিয়েছিল, সে টাকাটা পরে কোথায় ব্যবহার হয়েছে, তা জানা দরকার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

