somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ধর্মবিশ্বাস ...আমার বিশ্বাস...(শেষ পর্ব)

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার ধর্মবিশ্বাস ...আমার বিশ্বাস (১)
Click This Link
আমার ধর্মবিশ্বাস ...আমার বিশ্বাস (২)
Click This Link

যাই হোক,আবার আমার বাবার প্রসঙ্গে ফিরে আসি। উনি অনেক আগে থেকেই ঠাকুর অনুকুল চন্দ্রের ভক্ত ছিলেন, দীক্ষাও নিয়েছেন। উনি আর যাই করতেন দিনে একবার প্রেয়ার টা কখন ও বাদ দিতেন না। আমি যখন কলেজে পড়ি তখন উনি আমাদের তিন ভাইকেই দীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে বলেন। আমরা কেউ নিইনি। এটা নিয়ে হয়ত উনার মনে কোন ক্ষোভ থাকতে পারে, কিন্তু প্রকাশ্যে কখন সেই ক্ষোভ এর প্রকাশ করেন নি। আমার যুক্তি ছিল ক্লিয়ার, আমি যা মনে প্রানে করতে পারব না, বিশ্বাস করতে পারি না, তা করা আমার জন্যে কঠিন। হয়ত করতে পারতাম, আর যদি কখনও তা করতাম তাহলে সেটা শুধু আমার বাবার জন্যেই করা হতো, ধর্মের প্রতি আগ্রহী হয়ে না।

এই বয়সে এসে ধর্মের জিনিষগুলোকে কেমন জানি অবাস্তব মনে হয়। এই দেশের মানুষ এত ধর্ম পরায়ন, সারাদিনে বাংলাদেশের মানুষের থেকে যত প্রেয়ার ঈশ্বরের কাছে পৌছায় পশ্চিমা দেশ থেকেও তো এত পৌছায় না। তাহলে বাংলাদেশের মানুষের, বাংলাদেশের এই অবস্থা কেন? আর পশ্চিমা দেশগুলোই বা এত উন্নত কেন? ধর্মই যদি সবকিছুর মুলে হয় তাহলে আমাকে স্বীকার করে নিতেই হবে যে, অন্য সব ধর্মের ঈশ্বরের এর চেয়ে যীশু খ্রিষ্ট বেশী শক্তিশালী। তা নাহলে পশ্চিমা বিশ্বের উন্নতির আর কোন ব্যাখা নেই।

এই জিনিষটাও একজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, সে উত্তরে আমাকে বলেছিল,”এখন কে কি অবস্থায় আছে সেইটা মুখ্য না, মুখ্য হল মরার পর কার কি হয় ?” পুনরায় আমার প্রশ্ন, “মৃত্যর পরে ওদের কি হবে সেটা আপনি জানবেন কিভাবে?” এইবার সে যথেষ্ট বিরক্ত হয়ে বলল,”বিধর্মীদের সবার অবস্থা খুব খারাপ হবে ...”, এইটা বলে সে আমার দিকে খুব করুনার দৃষ্টিতে তাকাল। আমি আর কিছু না বলে মনে মনে ভাবলাম, একজন শিক্ষিত , আধুনিক মনস্ক মানুষ যদি এমন ভাবে ব্রেইন ওয়াশড হতে পারে তাহলে আর সাধারন লোকদের কি দোষ। আমি জানি সেও আমার দিকে তাকিয়ে এটাই ভাবছিল যে আমি এরকম শিক্ষিত মানুষ হয়ে কেন এমন অর্বাচীন এর মত প্রশ্ন করলাম ।

আবার অনেক সময় চিন্তা করি, এই যে মানুষ বলে কপালে নাকি আগে থেকেই লেখা থাকে মানুষের জীবনী। ভালো হোক আর খারাপ হোক সবাই এটা বলতেই পছন্দ করে যে, ভাগ্যে যা আছে তাই হবে, হয়েছে, এখানে আমার তো কিছু করার নেই। এই কথাটা আমার কাছে চরম হাস্যকর একটা কথা মনে হয়। ওই সময়ে যদি ওই ঘটনা না ঘটে উলটা ঘটনাও ঘটত তাও মানুষ একই কথা বলত। হায়রে মানুষ জীবন, সবসময় শুধু সুপেরিয়র দ্বারা ডমিনেট হতে চায়।

তাহলে এই যে পৃথিবীতে এত এত মানুষ ধর্মের বিশ্বাস কে পুজি করে চলছে তারা কি ভুল? আমি কি ঠিক? নিশ্চই ধর্মের বিশ্বাস এর মধ্যে এমন কিছু আছে যে কারনে মানুষ আগ্রহী হয়, কি সেটা? এসব চিন্তা করতে যেয়ে একটা কথাই ঘুরে ফিরে বার বার মনে আসে, যারা এই ধর্ম গুলো প্রচার করেছেন তারা ছিলেন অসম্ভব প্রতিভাবান ব্যক্তি, অসম্ভব ক্ষমতা সম্পন্ন একেকজন নেতা। একটা মতবাদ দিয়ে হাজার হাজার বছর পরে কাউকে প্রভাবিত করা অথবা সেই মতবাদে ধরে রাখা মোটেই সহজ কথা না, খুব সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর অন্যতম।

কিন্তু সমস্যায় পরে যাই তখনই যখন দেখি এই মত বাদ গুলো মডারেট হয়ে ব্যবহার হয়। অবশ্য মডারেট হবে এটাই স্বাভাবিক। হাজার হাজার বছর আগের মতবাদ এখনকার পরিবেশে মানানসই হবে না এটাও স্বাভাবিক, কিন্তু সেই মতবাদগুলো এখনকার পরিবেশে মানানসই করতে যেয়ে একেকজন ধর্ম গুরু একেকভাবে মডারেট করেন। আর আমরা সাধারন লোকজন সেই মডারেট মতবাদ গুলোকে আবার আমাদের নিজেদের মত করে মডারেট করি। এত মডারেশনের পাল্লায় পরে আসল মতবাদগুলোই হয়ত হারিয়ে যায়। আমরা একবার ও ভেবে দেখিনা কেন এই মতবাদ গুলো দেয়া হলো, বর্তমান পরিবেশে এগুলোর আসলেই কোন প্রয়োজন আছে কিনা।

যারা বর্তমান পরিবেশে এগুলোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন তাদেরকেই হয়ত আমরা প্রচলিত ভাষায় নাস্তিক বলি, ধর্ম বিরোধী বলি। মতবাদ গুলো কোন পরিস্থিতি তে দেয়া হয়েছে, কি এগুলোর প্রয়োজনীয়তা, আমি আসলে সেটা চিন্তা করতেই বেশী পছন্দ করি। এজন্যে যদি কেউ আমাকে নাস্তিক বলে, ধর্মবিরোধী বলে, আমার মেনে নিতে কোন আপত্তি নেই ...

যাই হোক, এই পোষ্ট এর শুরু হয়েছিল আমার ধর্ম বিস্বাস কি সেটা জানানোর জন্যে। আমি সত্যি সত্যি কি ভাবি, কি চিন্তা করি সেটাই বলতে চেষ্টা করলাম, হয়ত খুব খাপছাড়া হয়েছে । তবুও বলতে চেষ্টা করেছি। কাউকে কষ্ট দিতে চাইনি, এই পোষ্ট এর কারনে কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে আমি দুঃখিত ...
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:০২
৫৯টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×