somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস: দ্রুত সকল বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ করুন।

০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস মানে রাষ্ট্র দ্বারা সংঘটিত সন্ত্রাস। অন্যান্য দেশের মত আমাদের দেশেও রাষ্ট্র তার নিজের স্বার্থে তার সেবাদাসী বাহিনী দ্বারা(যাদেরকে বলা হয় জনগণের সেবক!) জনগণকেই হত্যা করছে। এর বিরুদ্ধে আগেও কথা হয়েছে দেশজুড়ে। তারপরও এ ঘটনা থামে নি। এখন আবার নতুন উদ্যোমে শুরু হয়েছে। আগের সরকারের আমলে ক্রসফায়ার ছিল, এখন এটার নাম হয়েছে বন্ধুকযুদ্ধ! একই কাহিনী..ঠিক বাংলা সিনেমার মত!
আমরা জানি এই সরকারের এজেন্ডার মধ্যে ‘ক্রসফায়ার বন্ধও’ একটা গুরুত্বপূর্ণ এজেন্টা ছিল। কিন্তু এখন সরকারের মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এর উল্টো কথা বলছে। বলবেই, কারণ তাদের উপর তাদের সাম্রাজ্যবাদী প্রভুরা যে রয়েছেন। যদি তাদের কথামত না চলে একটু এদিক সেদিক করেন তবেই তাদের গদি টলে যাবে এটা তারা ভালই জানেন। এটা সব সরকারের বেলাই এক! কারণ চোরে চোরে মাসতুত ভাই এটা আমরা ভালই জানি। এতে করে দু’একজন জনগণ মরলে তাদের যায় আসে না। কারণ এসব সরকার তো মেহনতি-দরিদ্র মানুয়ের সরকার না এরা সবসময় তাদের সাম্রাজ্যবাদী প্রভু এবং এদেশীয় ধনী শাসক শ্রেণীরই স্বার্থ রক্ষা করে এ কথা সবাই জানে।
অনেকেই বলেন বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণী(যারা দু নৌকায় পা দিয়া চলেন)যে, ক্রসফায়ার খারাপ কি! এতে করে দু’একটা সন্ত্রাসী কমতেছে ! ভালই! কিন্তু তারা এটা ভুলে যাচ্ছেন বা তাদের ঘটে ধরছে না যে কতদিন পরে তাদেরও অনেকে এই ক্রসফায়ারের তালিকায় ঢুকে যেতে পারেন।কারণ এতে খালি সন্ত্রাসী হওয়ার দরকার পরে না।
আমি ভাই জ্ঞানী না, বেশী কিছু বুঝি না। তবে একটা কথা না বলে পারছি না যে, যদি এই নাটক করে মারবেন তবে আপনাদের বুর্জোয়াদেরই বানানো জেল-আদালত-এর দরকার কি! এগুলো উঠিয়ে দিন না! সরকারি খরচ কিছুটা কমবে আর কিছটা আপনাদের পকেটেও নিতে পারবেন।
কাউকে হেলমেট পরিয়ে জেলে নিবেন আবার কাউকে হাতকড়া খুলে দৌড় দিতে বলে গুলি করে মারবেন তা কেমনে হয় রে ভাই। সে সন্ত্রাসী হোক আর ভাল মানুষ হোক আর রাজনৈতিক কর্মীই হোক তাকে তো আইনের আওতায় আনতে হবে। না হলে আপনাদের বানানো গণতন্ত্রও রইলো কই!
আর কিছু না লিখে কিছু ডাটা ও লিংক দিচ্ছি-
র‌্যাব ও পুলিশের ক্রসফায়ার সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটাচ্ছে (সূত্র: সমকাল,২৯ সেপ্টেম্বর’০৯)
এভাবেই নিভে গেল একটা জীবন প্রদীপ
আসক(আইন ও সালিশ কেন্দ্র)-এর ২০০৮ এর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক হত্যাকান্ডের রিপোর্ট
অধিকারের আগস্ট’০৯ এর রিপোর্ট
অধিকারের মানবাদীকার বিষয়ক বিভিন্ন রিপোর্ট
ক্রসফায়ার সমাচার
"চরমপন্থিদের ধরতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী (র‌্যাব-পুলিশ) কি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গুলি খাবে?"

মন্তব্য নিশ্প্রয়োজন!!!


(যে সব ব্লগার ক্রসফায়ার নিয়ে লিখেছেন তাদের লিংক যদি দেন তাহলে ভাল হয়। সেগুলো যোগ করে আপডেট করা হবে)
*এছাড়া ক্রসফায়ার ছাড়াও অন্যভাবে(রহস্যজনক বটে!, সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে সবগুলোই হার্টএটাক-এ মারা গিয়েছে;আসলে কি তাই!)বিডিআর বিদ্রোহের পর এ পর্যন্ত ৪৭ বিডিআর সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। প্রতি মাসে গড়ে ৭ বিডিআর-এর মৃত্যু।(সূত্র: সমকাল,২৯ সেপ্টেম্বর’০৯)
নির্যাতনের কারনে দুই বিডিআর সদস্য মারা যান, নিশ্চিত পুলিশ
এভাবে ক্রসফায়ার/বন্দুকযুদ্ধের নামে মানুষ হত্যা করতে থাকলে রাজনৈতিক সহ সব ধরনের হত্যাকান্ড বেশি হবে বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ ক্রসফায়ার এর প্রথম থেকেই দেখা যাচ্ছে দু-একজন সন্ত্রাসী মারার সাথে সাথে রাজনৈতিক বিশেষ করে বাম রাজনীতিবিদদের হত্যা করা হচ্ছে।
এটা যে রাষ্ট্রের একটা ফ্যাসীবাদী চরিত্র তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:১৬
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×