somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ ডানাওয়ালা বেড়াল, চার বর্ষাহত তরুণ এবং মৃত সেসোস্ট্রিস

০৩ রা জুন, ২০১০ বিকাল ৫:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অন্ধকারের আড়ালে ঘাপটি মেরে বসে থাকা একটা ছায়া অস্পষ্ট নিপুণ শব্দে চমকে দিলো আমাদের। এতে আমার হাত থেকে খসে পড়ল হলদে আলো ছড়াতে থাকা মোবাইল ফোনটা, মুখ গুঁজে দিলো ঘাসে; আর তাই ভোঁতা শোনাতে লাগলো ওটায় বাজতে থাকা গানটা।

"কিসের আওয়াজ?" ভুরু কুঁচকে কয়েক হাত দূরে ঝোপটার দিকে তাকিয়ে বললাম আমি।
"রাতের মফস্বলের অসংখ্য বেনামী, অচেনা, গন্ধহীন শব্দগুলোর কোনো একটা হবে হয়ত......।" দাড়ি চুলকে বলে উঠল আমাদের মাঝে চশমা পরা একজন, তাকে আমরা কবি বলে ডাকি।
"হুমম্‌......তাহলে; আমাদের সামনে সেটা নদী দেখছিস সেটা আসলে নদী নয়।" এটা বলল আমাদের মধ্যে যে ভবঘুরে এবং খেয়ালী, সে। কিন্তু পরমুহূর্তেই ব্যঙ্গ ঝরে পড়ল তার কথায়...
"নদী নয়, ওটা আসলে একটা পুরনো রাস্তা।" শুনে হেসে উঠলাম আমরা বাকি দু'জন।

"ওটা একটা বেড়াল।" ঝনঝন শব্দে ভেঙ্গে পড়ল আমাদের কথোপক্থনে শার্সির কাঁচ; আমরা তিনজন ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালাম আমাদের চতুর্থ বন্ধুটির দিকে, যে কিনা সুদর্শন এবং নির্বোধ। ওর বাঁ হাতে একটা নরম পাথর; দু'হাতে বারকয়েক লুফোলুফি করল সেটাকে।
"আওয়াজটা একটা বেড়ালে করেছিল।" বলল আবার।
"তুই মারা যা।" হাত নেড়ে বলল ভবঘুরে।

দীর্ধশ্বাস ফেলে আঙ্গুল চালালাম ভেজা চুলে। আমাদের কাপড়চোপড় এখনও শুকোয় নি। আজ সারাদিনে যে কয়বার বৃষ্টি হয়েছে তার সব'কটাতে আমরা প্রবল উৎসাহে ভিজেছি। এই মফস্বলে বর্ষা বরাবরই অকৃপণ; তাই চারজন সারাটা দুপুর এবং বিকেল শহরের নির্জন রাস্তাগুলোতে হেঁটে গিয়েছি সারবেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোষ্টগুলোকে গালি দিতে দিতে। বৃষ্টি যখন পড়েছে ছোট ছোট ফোঁটায় ঝিরঝিরিয়ে, আমরা দুকান ঝুলে পড়া দুখী কুকুরছানাদের মতো আকাশের দিকে চেয়েছি চোখ পিটপিট করে; বৃষ্টি নেমেছে মুষলধারে। আমরা উল্লাসে চেঁচিয়েছি আর মাঝেমধ্যে দু'এক ফালি রোদ খুঁজে পেলে সযত্নে মাটিতে পুঁতে ফেলেছি তাদের। আকাশ মাঝেমধ্যে দুঃখ ভুলে গেলে আমরা আশ্রয় নিয়েছি কোন পরিত্যক্ত শেড কিংবা মরচে পড়া চায়ের দোকানে।
অবশেষে আকাশ থেমেছে। সন্ধ্যে থেকে একবারও সে ফোঁপায় নি, গুমরে কেঁদেও উঠেনি; থমথমে মুখে ধমকে উঠেছে কয়েকবার শুধু। ওতে কোন সমস্যা নেই আমাদের কারোও এখন। আমাদের চিত্ত বৃষ্টিতে ভিজে ফুলে ফেঁপে উঠেছে; মগজের কোণায় কোণায় পানিভর্তি বেলুন আর হাতের তালুতে কাঠগোলাপ। আমরা হৃষ্টচিত্তে অসে আছি নদীর ধারে।

"দ্যাখ! দ্যাখ!!" উত্তেজিত গলায় বলে উঠল কবি, আঙুল তুলে দেখাল আকাশের দিকে।
একটা কালো বেড়াল, উজ্জ্বল শাদা ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছে চাঁদের দিকে। লোমশ লেজ থেকে ফোটায় ফোটায় ঝরে পড়ছে টুকরো আলোর গল্প। তা দেখে আমরা সবাই বেশ আনন্দিত হলাম, কেবলমাত্র নির্বোধ ছাড়া। সে কেন জানি কোনরকমের ডানাওয়ালা বেড়াল দেখতে পাচ্ছিল না।
"কি মনে হয়? চাঁদ পর্যন্ত যেতে পারবে সে!" একরাশ উদ্বেগ নিয়ে বলি আমি। ভবঘুরে খানিক চিন্তা ভাবনা করে বলল,
"তা পারবে মনে হয়। তবে গ্র্যাভিটি ছিন্ন করাটা নিয়ে খানিক দুশ্চিন্তা আছে আমার ......"
"কেন? পাখা দুইটা দেখেছিস! যাদু আছে যখন... ঠিকঠাক পার হয়ে যাবে।" কবির বাঁ হাতে ধরা সিগারেটটা শেষ হয়ে এসেছে অনেক আগেই; আমার মনে হল দু'আঙুলের ফাঁকে এখন সেটা পাঁয়তারা কষছে একটা দাবানল দেবার।

আমরা কথা বলতে বলতে বেড়ালটা আরো উপরে উঠে গেছে, ওটাকে দেখাচ্ছে ছোট্ট একটা আলোর গোলার মত। আমরাও চেয়ে আছি, শেষটুকুও দেখতে হবেই যেন। আর ঠিক তখনই ঘটে গেলো কয়েকটা অঘটন......
হঠাৎ কোত্থেকে একঝাঁক কাক এসে হাজির হল মাঝ আকাশে; অন্ধকার নীলের মাঝে গাঢ় ছায়াগুলো কর্কশ আওয়াজে তেড়ে গেলো দূরে ঐ বেড়ালটার দিকে।
কবির দু'আঙুলের ফাঁকে মৃতপ্রায় সিগারেটের টুকরোটা সহসা জ্বলে উঠল মশালের মত।
এতক্ষণ মাটিতে অবহেলায় পড়ে থাকা মোবাইল ফোনটায় নতুন একটা গান বাজতে শুরু করল কর্কশ ধাতব আওয়াজে। সেই শব্দে আমাদের কানা তালা লেগে গেল প্রায়; দুটো নির্বিবাদী ল্যাম্পপোষ্টের গায়ে ধরল চিড়।
এসব হুলুস্থুলের চোটে আমরা কয়জন আছড়ে পড়লাম মাটিতে। কেউ এতক্ষণ খেয়াল করিনি যে আমরা ঘটনা দেখতে দেখতে কয়েকহাত শূন্যে ভেসে উঠেছিলাম।

সবার আগে সামলে উঠল নির্বোধ। প্যান্টের কাদা ঝাড়তে ঝাড়তে নির্মোহ সুরে বলল,
"উঁহু...ডানাওয়ালা কোন বেড়াল নয়, একটা শঙ্খচিল উড়ে গিয়েছিল।"
কবি তার বাঁ হাতে ধরে যাওয়া আগুন এক ফুঁয়ে নিভিয়ে দিয়ে বলে উঠল,
"তাই নাকি! তা শঙ্খচিল "ম্যাও" ডাক দেয়া শুরু করল কবে থেকে শুনি?"
"জীবনানন্দ যেদিন ট্রামচাপা পড়লেন সেদিন থেকে।" বাঁকা চশমা সোজা করতে করতে বলল ভবঘুরে। ও হ্যাঁ, সেও চশমা পরে।
"তোদের মাথাগুলোয় কি সব ধোঁয়াভর্তি বেলুন নাকি! বেড়াল কবে আবার ওড়ে?" গোঁয়ার নির্বোধ তবুও হাল ছাড়ে না। আমি মহা বিরক্ত হয়ে আঙুল তুলে বললাম,
"ওই, এত ত্যক্ত করিস ক্যান? যা, শৈশবে ফিরে যা...........নাহলে দশের ঘরের নামতা বলতে থাক।"
নির্বোধ গভীর অভিমানে উল্টো ঘুরে বসল। এরপর আমাদের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে শুরু করল প্যানপ্যানানি...
"অ-তে, অজগরটি আসছে তেড়ে;
আ-তে, আমটি আমি খাব পেড়ে;
ই-তে.................."

আমরা তিনজন তাচ্ছিল্যে হাত নেড়ে ঘাড় উঁচিয়ে খুঁজতে লাগলাম ছোট্ট বেড়ালটাকে। "ঐ যে!" আবছা দেখতে পেলাম সেই ছোট্ট বেড়াল, এখন আলোর বিন্দুর সমান দেখাচ্ছে। কান পেতে শুনলাম ওকে ঘিরে আক্রমণরত ছায়া কাকগুলোর ডানা ঝাপ্টানি। একটা যুদ্ধ বেধে গেছে। কাকগুলো যেন বেড়ালটাকে কালো নখে আঁচড়ে দিতে চায়। আর বেড়ালটাও প্রত্যুত্তরে শ্বদন্ত আর থাবার নখে যেন শাসাচ্ছে ওদের।

আমরা গভীর উত্তেজনায় শুনতে লাগলাম সেই অসম যুদ্ধের শব্দ। কুৎসিত কাকেরা উড়তে দেবে না সেই আলোকিত বেড়ালকে। কিন্তু ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল শব্দগুলো আরো দূরে, আলোর বিন্দু হারিয়ে গেল অন্য আকাশে, তার পিছু নিল ছায়া কাকেরা। আমরা শব্দগুলো হারিয়ে হতাশায় মাথা নুইয়ে দিচ্ছি, ঠিক তখনই......

পেছনে গলা খাকারি দিল কেউ। আমরা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালাম।
"একটু সময় হবে?" আমরা তাকিয়ে রইলাম অদ্ভুত আগন্তুকের দিকে। কমসে কম আট ফুট লম্বা হবে। দীর্ঘ শুভ্র দাড়ি এবং ধূসর আলখেল্লায় তাকে দেখাচ্ছিল প্রাচীন উপকথার কোন যাদুকরের মত। এবং আমরা টের পেলাম এই অনাহূত প্রানীটি আর যাই হোক, মনুষ্যপ্রজাতির নয়। আমাদের চিন্তাগুলো মনে হয় ধরে ফেলল আগন্তুক। কারণ সে কয়েক কদম এগিয়ে এসে বাও করে বলল,

"আমার নাম সেসোস্ট্রিস।"
অদম্য কৌতূহল যথাসম্ভব চেপে বললাম আমি,
"কিছু মনে করবেন না দয়া করে, আপনি আসলে কে?"
"কিংবা আপনি এখানে কেন?" বলল কবি। হাত বাড়িয়ে তুলে নিল ফোনটা ঘাসের উপর থেকে।
মুচকি হাসল সেসোস্ট্রিস,
"আমি হলাম.........সহজ ভাষায় বলতে পারো, শহুরে জ্বীন।"
আমরা দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়লাম। সেসোস্ট্রিস পাগল নয় কিন্তু সে কীভাবে একজন জ্বীন হতে তা পারে আমরা বুঝতে পারলাম না। সত্যি বলতে আমরা অলৌকিক কিছু দেখবার প্রত্যাশা করছিলাম তার কাছ থেকে। ভবঘুরে বলে উঠল,

"তা শহুরে জ্বীন, আপনি কোন চেরাগ বা কুপি কিংবা বোতল থেকে এসেছেন?"
"বোতল ভূত! বোতল ভূত!!" হাততালি দিল তিক্ত নির্বোধ। ব্যাপারটা পছন্দ করল না আগন্তুক।

"ছেলেমানুষী! ছেলেমানুষী......নাহ্‌, এই প্রজন্মের কল্পনা শক্তি দেখি খুব সীমিত। আমি বাস করি ল্যাম্পপোষ্টগুলোর সোডিয়াম আলোয়।" আমরা মুখ চাওয়া চাওয়ি করলাম। হাত নেড়ে বলল শহুরে জ্বীন,
"দেখো, আমার হাতে এই মুহূর্তে একটা বিশাল লিষ্ট। তাই তোমাদের ইচ্ছে কয়টা দ্রুত পূরণ করে অন্য কাজে ফরতে চাই আমি।"
"ইচ্ছে পূরণ! কয়টা ইচ্ছে পূরণ করতে দেবেন?" ক্ষ্যাপা গলায় বলল কবি। সে এই ঘটনায় মোটেও সন্তুষ্ট নয়।
"এক বা একাধিক......দাঁড়াও এক কাজ করি। বরং তোমাদের কয়েকটা ইচ্ছে দেখাই আমি, সবকিছু সহজ হয়ে যাবে।" ঠিক তখনই সেসোস্ট্রিসে দুহাতে আধ ডজন ডিম্বাকৃতির আয়না উদয় হল ভোজবাজির মত; একেকটাতে একেক দৃশ্য। আমরা গভীর বিস্ময়ে দেখতে লাগলাম আয়নার ছবিগুলো......জনাকীর্ণ শহুরে রাজপথ, সুদৃশ্য অট্টালিকা, রাশি রাশি কাগুজে নোট, ভারি নিতম্ব, মোড়কের শরীর, গোছানো একটা অফিস, বেনসনের প্যাকেট......আরো কত!!

"চোখ বন্ধ কর, বেছে নাও।" পাকা জুয়াড়ীর কন্ঠে বলল জ্বীন। আমরা স্বপ্নালু চোখে তাকালাম তার দিকে। কেবলমাত্র নির্বোধ অবিচল থেকে বলল,
"কেন?"
"কেন কি!"
"ইচ্ছেপূরণ কেন? কেন আমরা চারজন?" নির্বোধ ছেলেভোলানো কথায় মানবে না।

দীর্ঘশ্বাস ফেলল সেসোস্ট্রিস। এরপর যেন নিতান্ত অনিচ্ছায় বলে গেল,
"উজ্জ্বল চাঁদের সম্ভাবনার রাতে চার বর্ষাহত তরুণ নদীর তীরে বসে আছো। জেগে উঠবে না? সময়ের তাগিদে আমি এসেছি তোমাদের ঘোর ভাঙ্গিয়ে দিতে।"
এ কথা শুনে আমরা সচেতন হয়ে উঠলাম দ্রুত। আমি অনিশ্চিত গলায় বললাম,
"আমরা যদি এসব না চাই! আমরা এই অসম্ভব নদী থেকে সরে যেতে না চাই! তাহলে কি হবে??"
তুমুল আত্মবিশ্বাসে মাথা দুলিয়ে বলে উঠল সেই জ্বীন,

"কোথায় যাবে তোমরা! ঘোর কেটে যাবেই......আমি বরং তোমাদের রঙিন মোড়কে দেখাচ্ছি সত্যগুলো। চুপচাপ লক্ষী ছেলেদের মত নিজ নিজ গল্প বেছে নাও।" এ কথা শুনে আমরা শীতল ক্রোধে তাকালাম তার দিকে। কারণ আমরা নদী, বৃষ্টি এবং সন্ধ্যে খুব ভালোবাসি। উটকো সময়কে তা ছিনিয়ে নিতে দেব ক্যানো? সেসোস্ট্রিস আমাদের ক্ষোভ খেয়ালই করল না,

"বেছে নাও, বেছে নাও..." একঘেয়ে গলায় বলে যেতে লাগল সে। আমরা একে অন্যের চিন্তাগুলো পড়ে নিলাম খুব দ্রুত। চারজনই জানি সময়ের হাত থেকে নিস্তার নেই। এরপর......

নির্বোধ বাদে বাকি তিনজন প্রবল ক্রোধে ঝাঁপিয়ে পড়লাম শহুরে জ্বীনের উপর। সর্বশক্তিতে আমি দুহাতে গলা চেপে ধরলাম তার; কবি পুড়ে যাওয়া পাঁচ আঙুল ডুবিয়ে দিলো আটফুট দানবের বুকের গভীরে, হৃৎপিন্ড ছিঁড়ে আনবার প্রতিজ্ঞায়। ভবঘুরে দুই বৃদ্ধাঙ্গুলির চাপে রক্তাক্ত করে দিলো সেসোস্ট্রিসের দুচোখ। আমাদের সম্মিলিত আক্রমণে সশব্দে মাটিতে আছড়ে পড়ল সে। আমরা মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত করে দিলাম তাকে, অন্ধ করে দিলাম, ছিঁড়ে ফেললাম তার শ্বাসনালী, কালো হাতে আঁকড়ে ধরলাম হৃৎপিন্ড; তবুও মরল না সেই শীতল আগুনের শরীর। হাসির দমকে কেঁপে কেঁপে উঠল বারবার। "অর্থহীন, অর্থহীন......"
সেই সময় এগিয়ে এল নির্বোধ, তার দুহাতে সেই নরম পাথর এখন এক ভারী ওজনের বিকট নির্দয় শরীর। মাথার উপর তুলে ধরল সে সেই পাথর, নিস্কম্প নৈপুণ্যে নামিয়ে আনল সেটা সেসোস্ট্রিসের ওপরে। কালো রক্ত ছিটে গেলো চারপাশে, আমাদের ছাড়িয়ে উঁচু দেয়ালের শরীরে। থেঁতলে যাওয়ার শব্দ এক মুহূর্তের জন্য দূষিত করে তুলল চারপাশ। এরপরই সব চুপচাপ; সুন্দর-সহজ-দ্রুত একটা মৃত্যু।

লাশটা আমরা চারজন টেনে হিঁচড়ে এনে ছেড়ে দিলাম রাস্তায় জমে থাকা একটুকরো পানির মাঝে। নিঃশব্দে গোপনে সেই অগভীর পানিতে তলিয়ে গেলো সেসোস্ট্রিসের দেহ। হারিয়ে যাক, ডুবে যাক সে; অন্তত কয়েকটা দিন আমরা লুকিয়ে রাখতে পারব সময়ের কাছ থেকে।


আমরা চার বর্ষাহত খুনি তরুণ জড়ো হলাম রাস্তাটার মাঝখানে। কপালের ঘাম মুছে নিলাম। আমি প্যান্টের পকেট থেকে গোল্ডলীফের দোমড়ানো প্যাকেটটা বের করে বাড়িয়ে ধরলাম। কবি, আমি আর ভবঘুরে, এই তিনজনে আগুন জ্বেলে সিগারেটের কটুগন্ধী তেতো নীলচে ধোঁয়া টেনে নিলাম ফুসফুসের গভীরে নিয়মিত অনুরাগে। নির্বোধ মুখে পুরল একটা চুইংগাম। এরপর সেই নির্জন রাস্তা ধরে চুপচাপ হেঁটে গেলাম আমরা।


সময় ঠেলে ঘড়ির কাঁটা এগোলে,
থিতিয়ে এল রাত।
টুপটাপ ঝরে পড়ল কয়েকটা পানির ফোঁটা ইঁটের শরীরে।
পাশ কাটিয়ে দ্রুত হারিয়ে গেল কোন হেডলাইট।
ডানা ঝাপ্টে থিতু হল কতগুলো ফিরে আসা ক্লান্ত ছায়া।
সমস্ত শহর ঘাড় গুঁজে দিল অলস নিদ্রায়।
বেনামী চাঁদের নরম আলোয় মিশে এল একটা আদুরে আওয়াজ, অনেক দূর থেকে।
হাতের নুড়ি পাথরটা নির্বোধ ছুঁড়ে মারল একটা ল্যাম্পপোষ্টের গায়ে;
টং করে শব্দটা আমাদের দৃষ্টি টেনে আনল তার মুখের উপর......

"ওটা মনে হয় বেড়ালই ছিলো" মৃদুগলায় বলল সে।


সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৯:২২
৩৯টি মন্তব্য ৩৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×