আমার প্রিয় পোস্ট

গেরিলা কথাবার্তা

সামহোয়ারইনের মডারেশন নীতিমালা: একটি ভিন্ন পর্যবেক্ষণ

১০ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৪১

শেয়ারঃ
0 1 0

সামহোয়ারইনের মডারেশন এবং এর স্বচ্ছতা নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলেছে এই কদিন। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্ব-উদ্যোগেই একটি আলাপ পোষ্ট দেয়া হয়েছে কদিন আগে, নিজস্ব ব্যস্ততার কারণে আমি সেই আলাপচারিতায় তখনই অংশগ্রহণ করতে পারি নাই। আর যখন অংশগ্রহণ করার ইচ্ছায় লগ-ইন করলাম, দেখি, আলোচনার পথ রুদ্ধ। মন্তব্যের ঘরে সাইনবোর্ড ঝুলছে, 'লেখক এই পোস্টে কোন মন্তব্য গ্রহণ করবেন না '। এটি হল এই পোষ্টের শানে নুজুল। এই শানে নুজুল পড়ার পর আশা করি কর্তৃপক্ষ লেখাটিরে ফ্রণ্ট পেইজ থেকে মুছে দেবেন না, প্রথম পাতার বৈচিত্রহানির অজুহাত তুলে। আর আম ব্লগারগণও আমাকে ক্ষমা করবেন, বিলম্বিত অত্যাচারের জন্য।

মডারেশন নীতিমালা

ব্লগের লিখিয়েরা এবং এর কর্তৃপক্ষীয় রাজনীতি নিয়ে আমার আগের লেখাগুলোর বরাত এই পোষ্টে আর টানবো না, সেটি বড়ো লম্বা আলোচনা হয়ে যাবে। লেখার শেষে বরং ঐ আলোচনাগুলো এবং এ বিষয়ক অন্যদের আরো কিছু আলোচনার লিঙ্ক দিয়ে দিলাম, যেগুলোকে আমার জরুরী মনে হয়েছে। এটি বরং ভিন্ন জায়গা থেকে শুরু করি, যেখানে এই ব্লগের নীতিমালা একটি নির্দিষ্ট নীতির ঘোষণা দিয়ে শুরু হয়েছে, এবং এর ভিত্তিতে পরবর্তী কিছু ক্লজ এবং বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়গুলোতে কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত তফসীর তথা ব্যাখ্যা আমার কাছে অস্পষ্ট, চাপিয়ে দেওয়া, এবং কখনো কখনো পরষ্পর বিরোধী বলেই মনে হয়েছে। এটি মডারেশন নীতিমালা সংক্রান্ত আলোচনা, কিন্তু এর স্বচ্ছতা এবং প্রায়োগিক সমস্যা হিশেবে ব্লগারদের মধ্যে যে পপুলার বিতর্ক আছে, তার সামান্যই এটিরে স্পর্শ করে। বাংলা ভাষায় প্রথম দিককার উদ্যোগ হিশেবে এবং ব্লগারদের জন্য এর ব্যবহারের নিয়ম বেশ সহজ হবার কারণে সামহোয়ারইন ব্লগ যেমন ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা এবং সবচেয়ে বেশী সংখ্যক ব্লগার পেয়েছে, তেমনি এই ব্লগের মডারেশন এবং এর স্বচ্ছতা নিয়ে ততোধিক অসন্তোষও দেখা গেছে। মডারেশনের স্বচ্ছতা বিষয়ক এই বিতর্কে আমার পূর্বের লেখাগুলোতে যা বলেছি তার পরে নতুন করে বলার কিছু নেই। যাবতীয় কর্তৃপক্ষীয় আকাঙ্ক্ষা আর রাজনীতির আলোচনার বাইরেও, এটি একটি ব্লগের এডমিনিস্ট্রেশনের যোগ্যতার বিষয় যে, তার মডারেশনে কতটা স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা সে দেখাতে পারছে। স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এইসব বিষয় ব্লগ এডমিনিস্ট্রেশনের যোগ্যতা এবং প্রফেশনালিজমের মাত্রা নির্ণয় করে। অনুরূপভাবেই মনে রাখতে হবে যে, দেশকালের আকাঙ্খা এবং সমাজের রাজনৈতিক সত্ত্বার মাত্রাটাই একটি নির্দিষ্ট স্থানের গণমাধ্যমের সংস্কৃতি ও প্রাকটিসের মূল নির্ধারক। ফলে বাইরের কোন স্বার্থ-উদ্যোগ এবং ক্ষমতা সম্পর্ক বরং এটির প্রাতিষ্ঠানিক স্পিরিটকেও ক্ষতিগ্রস্হ করবে। প্রতিষ্ঠান হিশেবে নিজের সত্ত্বা সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠার কালে এবং অস্তিত্বের প্রতিযোগিতায় সামহোয়ারকে টিকে থাকতে হলে তাকে এই বিষয়গুলোর কথা ভাবতেই হবে। অন্য বিষয়গুলি আরো বিস্তর পরের কেচ্ছা।

ব্লগ এর ধারণা

এবার আসি ব্লগ বিষয়ে। ব্লগকে আমি দেখি সহজ কথায় একটি ইন্টারএকটিভ গণমাধ্যম হিশেবে, যা টিভি বা প্রিণ্ট মিডিয়া তথা অন্যান্য বাণিজ্যিক গণমাধ্যমসমূহ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং ওগুলোর মত একমুখি প্রচার মাধ্যম নয়। এখানকার লেখালেখি এবং তর্ক-বিতর্কগুলি টিভি বা প্রিণ্ট মিডিয়ার মতো প্রযোজক এবং সম্পাদকদের দ্বারা সেন্সরড নয়। 'ফলে বিদ্যমান সমাজে যেসব ইস্যুতে ট্যাবু বা সামাজিক সাংস্কৃতিক বাধা আছে তা কোন ধরণের বাধা এড়িয়ে, কোন ধরণের অহেতুক সামাজিক ঝড় না তুলে আলোচনার বিষয় বানানো এখানে সহজ'। এটি হল একটি বিষয়কে ব্লগারদের ইন্টারএকটিভ তর্ক-বিতর্ক এবং আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জায়গা।

সামহোয়ারইনের শুরুর ঘোষণা এবং কিছু খটকা

তারপরে দেখি ব্লগ হিশেবে সামহোয়ারইন আমার কথাগুলোকে কতটুকু সমর্থন করে। সামহোয়ারইন নিজের সম্পর্কে কী বলছে। তার এক নম্বর নীতিমালার ঘোষণায় সামহোয়ারইন বলছে: সামহোয়্যার ইন ব্লগের যাত্রা শুরু হয়েছিলো সাধারণ মানুষের কথা বলার একটি স্বাধীন মঞ্চ হিসাবে, যেখানে সবাই তাদের চিন্তা, মতামত, সৃজনশীলতা বিনিময় করতে পারবে। চিন্তাধারা যতই চরম-পন্থী(radical) কিংবা রক্ষণশীল(conservative) হোক না কেন, তার স্বাধীন মত প্রকাশকে আমরা সমর্থন করি, যতক্ষণ না তা রাষ্টীয় আইন বা অন্যের ব্যাক্তি স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে।..(১ক. বাক স্বাধীনতা প্রসঙ্গ)

উপরের ক্লজটি পড়ে বুঝা যায়, 'রাষ্টীয় আইন' এবং 'অন্যের ব্যক্তি স্বাধীনতা লঙ্ঘন' এই দুটি প্রতিবন্ধকতা ছাড়া আর সব বিষয়েই সামহোয়ারইন আমার সাথে মোটামোটি একমত হতে পেরেছে। অন্তত একমত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে মনে হয়েছে আমার। বলেছে, চিন্তাধারা যতই চরম-পন্থী(radical) কিংবা রক্ষণশীল(conservative) হোক না কেন, তার স্বাধীন মত প্রকাশকে আমরা সমর্থন করি, যতক্ষণ না তা রাষ্ট্রীয় আইন বা অন্যের ব্যাক্তি স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে। যদিও আমার কাছে স্পষ্ট নয়, এই রাষ্ট্রীয় আইন সাইভার স্পেসে কোন পদ্ধতিতে ফাংশন করে, অথবা আদৌ প্রাসঙ্গিক কিনা। অথবা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সতর্ক থেকেই প্রসঙ্গটির উল্লেখ করেছে কিনা।

যাই হোক, প্রথমে প্রতিবন্ধক ছিলো আইন। এবং 'অন্যের ব্যক্তি স্বাধীনতা লঙ্ঘন'। আলোচনার খাতিরেই ধরে নিলাম যে, এইসব প্রতিবন্ধকতা আমরা মেনে নিতে বাধ্য। সাইবার স্পেস, যার কোন বাস্তবিক টেরিটরি নেই, ওয়ার্লড ওয়াইড ওয়েব, তা রাষ্ট্রীয় আইনের অধীনে কীভাবে পড়ে, সেই বিতর্কের অবকাশসহ। সমস্যাটা আরো প্রকট হয়, যদি প্রশ্ন আসে, এখানে কি স্রেফ বাংলাদেশী ব্লগাররাই রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে, এরকম কোন বাধ্য-বাধকতা আছে? আমার জানামতে প্রতিবেশী অনেক দেশের ব্লগাররাই এখানে লেখালেখি করে থাকেন। তারা কি বাংলাদেশের আইন দ্বারা পরিচালিত হতে বাধ্য? আর সামহোয়ারইন ব্লগ কি বাংলাদেশের টেরিটোরি হিশেবে গণ্য হবে, যেখানে স্রেফ বাংলাদেশের আইন চলবে? আমি শুধু প্রশ্নগুলো টুকে রেখে রাখছি, এর যোগ্য আলোচনা আশা করি ব্লগাররা অথবা কর্তৃপক্ষ করবেন পরবর্তীতে।

একটি ক্লজ এবং ব্লগ কর্তৃপক্ষের তফসির ও তার বিবিধ প্রয়োগ

নোটিশবোর্ডের উল্লেখিত পোষ্টে, যেখানে এই মন্তব্য আসতে পারতো, একজন ব্লগারের প্রশ্নের উত্তরে কর্তৃপক্ষ জবাব দিয়েছেন: 'রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব কিংবা ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।..' প্রশ্নকর্তা ব্লগার এবং কর্তৃপক্ষ দুজনেই যথেষ্ট আবেগে ভরপুর হয়েই এই মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য দিয়েছেন, সন্দেহ নেই। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং ইতিহাস সংরক্ষণ ইত্যকার বিষয়েও তাদের আগ্রহ প্রবল। এই আগ্রহ এবং আবেগকে আমি ভাল অর্থেই নিতে চাই। কিন্তু প্রায়োগিক অর্থে তাদের এই আগ্রহের বাস্তবায়ন কোন কোন ক্ষেত্রে প্রায় অসম্ভবই বলা চলে, বরং এর অপ-প্রয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা পুরোমাত্রায় হাজির। কর্তৃপক্ষের এই জবাবটি পড়ার পর, আমি নীতিমালাগুলো আবার খুঁজে পেতে পড়ে, কর্তৃপক্ষ কোন ক্লজটির এই তফসির করেছেন তা বুঝার চেষ্টা করলাম। খুঁজে পেলাম একটি ক্লজ, তাতে লেখা: 'বাংলাদেশ অথবা যে কোন স্বীকৃত জাতি বা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইতিহাস, ধর্ম বিষয়ক সত্যকে অস্বীকার করে, বিরুদ্ধাচারণ করে, অসম্মান করে অথবা সত্যের অপলাপ বা অর্থহীন পোস্ট মুছে ফেলা হতে পারে এবং ব্লগারের ব্লগিং সুবিধা সাময়িক অথবা স্থায়ীভাবে স্থগিত কিংবা বাতিল করা হতে পারে ।' (৩ঞ.)। বলা বাহুল্য, আমার মনে পড়ে গেল, কর্তৃপক্ষের এই ক্লজের বিবিধ রকমের ভুল এবং বায়াসড প্রয়োগের ইতিহাস আছে এর আগে, যার কিঞ্চিত শিকার হয়েছিলাম বেশ কিছুদিন আগে আমিও। ''গাজায় ইজরায়েলী গণহত্যা বিষয়ে একটি মেইল এবং আমাদের যুদ্ধাপরাধ রাজনীতি''- এই শিরোনামের একটি পোষ্ট সম্পূর্ণরূপে মুছে দেওয়ার অজুহাত হিশেবে দাঁড় করিয়েছিল কর্তৃপক্ষ এই ক্লজটি, এবং আমাকে এই বলে হুমকি দিয়ে মেইল করা হয়েছিল যে, এই লেখাটি পুনর্বার ব্লগে প্রকাশ করলে আমাকে ব্লগ থেকে পুরোপুরি ব্যান করে দেয়া হবে। তার উত্তরে আমি কোথাও এরকম মন্তব্য করেছিলাম যে, একটা ব্লগ কতৃপক্ষ দেশের ইতিহাস স্বাধীনতা এইসবের এজেন্সি একটা রাজনৈতিক দলের মতো নিয়ে রাখতে আগ্রহী হলে, এবং তা সেই বিশেষ রাজনৈতিক দলের মত উপায়ে সবার উপর চাপিয়ে দেওনের চেষ্টা করলে সেটা কতটুকু সেই ব্লগের জন্য উপকার হবে তাদের ভেবে দেখা দরকার। হাই হ্যালো সামইন প্রাণের চেয়ে প্রিয় ব্লগ সামইন- এই জাতীয় পোষ্ট একটা ব্লগে যত কম হয় তত ভালো। সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা এবং একই সাথে সিরিয়াস আলোচনার মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হলে সামইনে লেখালেখির পরিবেশ থাকবে না।

আরো নির্দিষ্ট প্রশ্নে আসি: 'ইতিহাস বিকৃতি' বলতে কী বুঝাতে চায় সামহোয়ারইন? মোটা দলীয় অর্থে, আওয়ামীলীগ আর বিএনপির ইতিহাস-বিতর্কওতো বেশ কৌতুককর। দুই দলের প্রতিষ্ঠাতাকেই তারা নিজেরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক মনে করে। এই মোটা দলীয় মাপের ইতিহাস চর্চা এবং তা ব্লগারদের উপর চাপিয়ে দেওয়াই কি আপনাদের লক্ষ্য? প্রচলিত এবং পপুলার ইতিহাসের বিপরীতে আরো অনেক বৈপ্লবিক ইতিহাস-সত্য অনেকেই উদঘাটন করতে পারেন। প্রসঙ্গত: দেশ ভাগ বিষয়ে প্রচলিত আম মতের সম্পূর্ণ বিপরীত ইতিহাস-বীক্ষণ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন জয়া চ্যাটার্জি, তাঁর বিখ্যাত বই Bengal Divided গ্রন্থে। 'ইতিহাস-সত্য' প্রশ্নাতীত নয়, কারণ ইতিহাস লিখিত হয় সেসময়কার ডোমিনেন্ট ক্লাসের ছত্রছায়ায় এবং প্রভাব বলয়ে। এমনকি ইতিহাস লেখক তার ইতিহাস চেতনার ভিতর যে এজেন্সিকে বিলঙ করে, তাকেই রিপ্রেজেন্ট করে। ফলত 'ইতিহাসসত্য'কে প্রশ্ন করা যায়। আমি উপরে বলেছি: 'বিদ্যমান সমাজে যেসব ইস্যুতে ট্যাবু বা সামাজিক সাংস্কৃতিক বাধা আছে তা কোন ধরণের বাধা এড়িয়ে, কোন ধরণের অহেতুক সামাজিক ঝড় না তুলে আলোচনার বিষয় বানানো ব্লগে সহজ'। সামহোয়ারের ১ক. নীতিটিও অনেকটাই তা সমর্থন করে। কিন্তু তার পরের সাবক্লজ এবং তার বহুবিধ ব্লগীয় এবং কর্তৃপক্ষীয় তফসীর এবং মোটাদাগে তার প্রয়োগ সামহোয়ারের এই মূলনীতিকে বাধাগ্রস্ত করে।

সর্বশেষ: ব্লগ কি ক্যাম্পেইনের জায়গা?

ব্লগ কোনমতেই ক্যাম্পেইনের জায়গা নয়। এটি সপ্রাণ আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ককে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জায়গা। এই তর্ক-বিতর্কের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া ব্লগের কাজ নয়, সমাজের জরুরী বিষয়গুলোতে একটা প্রাণবন্ত বৃদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক তৈরী করা এর কাজ।

পুনশ্চ: আরো কিছু হদিস

খিস্তি ঠাটে ত্রিতাল ভৈরবের জঙ্গনামা: সামহোয়ার নিয়ে আরো কিছু ভণিতা: রিফাত হাসান

ফাহমিদুল হকের বহুলপঠিত একটি পোস্ট এবং ব্লগের লিখিয়েরা: একটি পর্যবেক্ষণ: রিফাত হাসান

নোটন নোটন পায়রাগুলি ও কয়েক চিরকুট নোট: রিফাত হাসান

বিশ্বাসীদের অন্তর্ভূক্ত হবার আমন্ত্রণ: আমি কেন গ্রহণ করতে পারছি না প্রিয় সামহোয়ারইন: রিফাত হাসান

মিডিয়া, ব্লগ ও সামহয়ারইন: পি মুন্সি

সামহোয়ার কি "একমত একমত" মার্কা ব্লগ হতে চাইছে?: সুমন রহমান

ঘোড়ার ডিম আর আদিপাপের ফ্যালাসি: রিফাত হাসানের পোস্ট গুম হওয়া প্রসঙ্গে সামহোয়ারইন ব্লগের একটি পর্যালোচনা।: তরিকুল হুদা

গাজায় গণহত্যা, আমাদের নির্বাচনী আবেগ ও যুদ্ধাপরাধ 'বিরোধী' চেতনার রাজনীতি এবঙ কন্ঠস্বর মুছে দেয়ার সন্ত্রাস: মুসতাইন জহির

সামহোয়ারইন নি:সন্দেহে 'ব্লগ'। মুশকিল হইলো 'মডারেটর'গো নিয়া। তারা প্রায়ই ভুইলা যান যে এইটা ব্লগ । তাই তারা অকারনে পোস্ট ডিলিট করেন । সাধারন বানান ব্লগারদের। : মোহাম্মদ আরজু

ব্লগাব্লগিতে বিস্কুট-দৌড় সংস্কৃতি: মানস চৌধুরী

বর্ষসেরা লেখা সমাচার: মানস চৌধুরীর পোষ্ট ''দেখে'' আমার প্রতিক্রিয়া: রিফাত হাসান

 

প্রকাশ করা হয়েছে: ছোটগল্প  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১০ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৫৩
জটিল বলেছেন: আপনি বিশিষ্ট ব্লগ চিন্তাবিদ , ভাল লাগল ...
১০ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:০৮

লেখক বলেছেন: আপনি খুব জটিল চিন্তা-ভাবনা করেন।

২. ১০ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:১২
ডিজিটাল দুষ্ট ছেলে বলেছেন: আপনি যত চিন্তা করে পোস্টটি লিখেছেন মডারেটররা যদি তার একভাগ নিয়েও মডারেশন করত তাহলে নোটিশ বোড় এ আমাদের দেখতে হত না

'লেখক এই পোস্টে কোন মন্তব্য গ্রহণ করবেন না '।

এই একটি বাক্য দ্বারা তারা প্রমান করল তাদের বিরুদ্ধে মডারেশনের যে অসচ্চতার অভিযোগ উঠেছে সেটা সত্য।
১০ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:২৫

লেখক বলেছেন: মডারেশন বিষয়ে বিস্তর অভিযোগ আছে ব্লগারদের। এবং সামহোয়ারের মত একটি বড়ো ব্লগে সেটি থাকাটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে আমার বক্তব্য হলো: যাবতীয় কর্তৃপক্ষীয় আকাঙ্ক্ষা আর রাজনীতির আলোচনার বাইরেও, এটি একটি ব্লগের এডমিনিস্ট্রেশনের যোগ্যতার বিষয় যে, তার মডারেশনে কতটা স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা সে দেখাতে পারছে। স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এইসব বিষয় ব্লগ এডমিনিস্ট্রেশনের যোগ্যতা এবং প্রফেশনালিজমের মাত্রা নির্ণয় করে। অনুরূপভাবেই মনে রাখতে হবে যে, দেশকালের আকাঙ্খা এবং সমাজের রাজনৈতিক সত্ত্বার মাত্রাটাই একটি নির্দিষ্ট স্থানের গণমাধ্যমের সংস্কৃতি ও প্রাকটিসের মূল নির্ধারক। ফলে বাইরের কোন স্বার্থ-উদ্যোগ এবং ক্ষমতা সম্পর্ক বরং এটির প্রাতিষ্ঠানিক স্পিরিটকেও ক্ষতিগ্রস্হ করবে। প্রতিষ্ঠান হিশেবে নিজের সত্ত্বা সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠার কালে এবং অস্তিত্বের প্রতিযোগিতায় সামহোয়ারকে টিকে থাকতে হলে তাকে এই বিষয়গুলোর কথা ভাবতেই হবে।

৩. ১০ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:১৪
কৌশিক বলেছেন: সামহোয়ারকে বিষয় করে নিরীক্ষাধর্মী গবেষণায় এটা নবতর সংযোজন বলা যায়। পোস্টটাতে চমৎকার কিছু এমন নিরীক্ষার আর্কাইভ হয়েছে। সোজা প্রিয়তে।
১০ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:২৭

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ কৌশিক আপনাকে। কিন্তু আপনাদের আরো বিস্তারিত অংশগ্রহণ চাই এই লেখায়।

৪. ১০ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:০৬
নোটিশবোর্ড বলেছেন: বাঁধ ভাঙার আওয়াজের মডারেশন সহ যেকোন বিষয়ে আপনাদের মতামত, পরামর্শ কিংবা অভিযোগ নিয়ে ব্লগারদের আলোচনা করার জন্য নতুন একটি গ্রুপ খোলা হয়েছে। প্রয়োজনে আমরাও সেখানে অংশগ্রহণ করব। আপনার পোস্টটি অনুগ্রহ করে সেখানে পোস্ট করুন।

গ্রুপের ঠিকানা: Click This Link
১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:৫৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। গ্রুপে নাম লেখানোর নিয়মটা আগে শিখে নিই। ওখানে পোষ্টগুলোরওতো দেখি বেহাল অবস্থা। কোন আত্মীয় স্বজন নেই। আমি গ্রুপের সদস্য হয়ে গেলে ওখানে লেখাটি পোষ্ট করার চেষ্টা করবো। কিন্তু মনে হয় আলোচনা এবং আপনাদের অংশগ্রহণ মূল পোষ্টে হওয়াটাই ভাল, যাতে আম ব্লগারগণ সেই আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারে।

৫. ১০ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:০৯
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: " 'ইতিহাস-সত্য' প্রশ্নাতীত নয়, কারণ ইতিহাস লিখিত হয় সেসময়কার ডোমিনেন্ট ক্লাসের ছত্রছায়ায় এবং প্রভাব বলয়ে। এমনকি ইতিহাস লেখক তার ইতিহাস চেতনার ভিতর যে এজেন্সিকে বিলঙ করে, তাকেই রিপ্রেজেন্ট করে। ফলত 'ইতিহাসসত্য'কে প্রশ্ন করা যায়। "

ঠিক । দূ্র্ভাগ্যজনক হলেও সত্য হলে , অনেক মিথই এদেশে ইতিহাস হিসেবে হাজির আছে ।

সাধারণভাবে কোন ঘটনা বা ইতিহাস নিয়ে দ্বিমত দেখা দেয় তখনই যখন বাস্তবে যা ঘটেছে তা অস্বীকার করে যা আসলে ঘটেনি তাকেই ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীস্বার্থে ঘটনা বা ইতিহাস বলে চাপানো হয় । বাস্তব ঘটনা হল তাই যেটি বাস্তবিকই ঘটেছে , যেটির সমর্থনে উপযুক্ত দলিল প্রমান বলবৎ আছে , যেটির পেছনে লজিক আছে , ঘটনা পরস্পরার যোগসুত্র আছে । এরূপ বস্তুগত সত্য ঘটনাবলীর ওপর দলিল প্রমানহীন , লজিক বর্জিত ঘটনাবলীক চাপিয়ে দিতে গেলে সমস্যার সৃষ্টি হওয়া অবশ্যম্ভবী ।

১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:০৩

লেখক বলেছেন: আপনার সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:০৮

লেখক বলেছেন: আবারো ধন্যবাদ।

৭. ১০ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:১৫
ফাউণ্টেন পেন বলেছেন: ভাল লাগসে। তয় আমি নতুন ব্লগার। আমার আরো বুঝন লাগবো।
১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:২১

লেখক বলেছেন: আপনি নতুন ব্লগার জেনে খুশি হলাম। সামইনের লেখালেখির জগতে স্বাগতম।

৮. ১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:৪৮
জাতেমাতাল বলেছেন: খুব গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট, সবার জন্য, তবে বিশেষ ভাবে সামহোয়্যারের মডারেটরদের জন্য।
একটা দীর্ঘ সময় পাড়ি দিয়ে আজ সামহোয়্যারের যে অবস্থান, তা কিভাবে আরো পেশাদারী ও সময়োপোযগী করতে পারেন তার নির্দেশনা এই পোষ্টে আছে।

বিষয়গুলো নিয়ে সামহোয়্যার সিরিয়াসলি ভাবতেই পারে।
১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:৩২

লেখক বলেছেন: এটিরে খুব গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট ভাবতে পেরে ভাল লাগছে। তবে কর্তৃপক্ষ এবং ব্লগারগণ যদি সিরিয়াসলি ভাবেন, তাহলেই এর একটা গুরুত্ব দাঁড়ায়। মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

৯. ১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:১০
শূন্য আরণ্যক বলেছেন: পর্যবেক্ষনে

পড়ে কমেন্ত করবো
১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:৪৪

লেখক বলেছেন: পর্যবেক্ষণ চলুক। পড়ে কমেন্ত করার জন্য অপেক্ষা করছি।

১০. ১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:৩৫
আবদুল ওয়াহিদ বলেছেন:
ভালো লাগল।
মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবঙ এর প্রয়োগ- যতই উদার করে বলার চেষ্টা করা হোক না কেন, শেষ পয্যন্ত ফাঁকি থেকে যায়।
এইখানে মানুষ মূর্ত না বিমূর্ত আকারে হাজির থাকে সেটা প্রশ্ন।
কারন এই স্বাধীনতা মূর্ত মানুষের জন্য বিশ্বাস করার কোনো কারন এই ব্লগে বা অন্য কোথাও খুজে পাই নি।

প্রিয়েতে রাখলাম।
১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:৫৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ওয়াহিদ। মত প্রকাশের স্বাধীনতার এই ফাঁকিটা বেশ, অনেকটা, স্বাধীনতার আড়ালে অধীনতা, দাসত্ব। অইটা মূলত রেনেসাঁসের ফাঁকা বুলি।

১১ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:২৮

লেখক বলেছেন: পর্যবেক্ষণ চলুক।

১২. ১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ১০:২৫
তনুজা বলেছেন: পোস্টের জন্য ধন্যবাদ

লেখক বলেছেন: মডারেশন বিষয়ে বিস্তর অভিযোগ আছে ব্লগারদের। এবং সামহোয়ারের মত একটি বড়ো ব্লগে সেটি থাকাটাই স্বাভাবিক। ------------------ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এইসব বিষয় ব্লগ এডমিনিস্ট্রেশনের যোগ্যতা এবং প্রফেশনালিজমের মাত্রা নির্ণয় করে। --------------প্রতিষ্ঠান হিশেবে নিজের সত্ত্বা সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠার কালে এবং অস্তিত্বের প্রতিযোগিতায় সামহোয়ারকে টিকে থাকতে হলে তাকে এই বিষয়গুলোর কথা ভাবতেই হবে


সহমত পোষণ করি --তবে কর্তৃপক্ষ এই বিশ্লেষণ কতটা ইতিবাচক ভাবে নেন তারাই বলতে পারবেন ।
১১ ই জুন, ২০০৯ রাত ১:০৫

লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ তনুজা। কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টিরে ইতিবাচকভাবেই নেবেন, এটুকু আশা আমরা করতেই পারি। না-কী বলেন?

১৩. ১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ১০:৪৫
সোজা কথা বলেছেন: বাংলাদেশ অথবা যে কোন স্বীকৃত জাতি বা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইতিহাস, ধর্ম বিষয়ক সত্যকে অস্বীকার করে, বিরুদ্ধাচারণ করে, অসম্মান করে অথবা সত্যের অপলাপ বা অর্থহীন পোস্ট মুছে ফেলা হতে পারে এবং ব্লগারের ব্লগিং সুবিধা সাময়িক অথবা স্থায়ীভাবে স্থগিত কিংবা বাতিল করা হতে পারে


ক্লজটাই ভুয়া, একপেশে এবং সত্যি বলতে কি কনফিউজিং

যে কোন ব্লগ কে মুছে ফেলা হতে পারে
যে কোন ব্লগ কে সাময়িক ভাবে স্হগিত করা যেতে পারে
যে কোন ব্লগ কে বাতিল করা হতে পারে

যদি সেই ব্লগে
১. স্বীকৃত জাতি বা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইতিহাস অস্বীকার করা হয়
২. ধর্ম বিষয়ক "সত্য" কে অস্বীকার করা হয়, বিরুদ্ধচারণ করা হয়, অসম্মান করা হয়, অথবা বিরুদ্ধাচারণ করা হয়
৩. সত্যের অপপ্রলাপ পোষ্ট করা হয়
৪. অর্থহীন পোষ্ট করা হয়


প্রথমত: ব্লগ কে কেন মোছা হবে? ব্লগে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকতে পারে যা কষ্টসাধ্য এবং মডারেটরদের বুদ্ধিতে অর্থহীন অথবা সত্যের অপপ্রলাপ হতে পারে । ব্লগ না মুছে ড্রাফটে ঠেলা দেয়া যুক্তি সঙ্গত একমাত্র এই পোষ্টের একাধিক প্রকাশের জন্য পোষ্ট মুছে দেয়ার যুক্তি রয়েছে।

দ্বিতীয়ত: ধর্ম সমাজ বিচ্ছিন্ন কিছু নয় এবং বিজ্ঞান প্রকৃতি এবং যুক্তিযুক্ত যে কোন পোষ্টে ধর্ম প্রাসঙ্গিক ভাবে আসতে পারে। এটা নিয়ে পোষ্ট বাতিলে হুমকি নিরপেক্ষতার উপর আঘাত

দেশ বা জাতির ইতিহাস বিদ্বেষী পোষ্টের কথাটি একমাত্র যুক্তি যুক্ত। কিন্ত স্বাধীনতা দিবসেও জামাতিদের পোষ্ট ঝুলে থাকে .. সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ নিদ্রামগ্ন থাকে বলে মনে হয়।
১১ ই জুন, ২০০৯ রাত ১:০৮

লেখক বলেছেন: ইতিহাস-সত্য বিষয়ে আমার লেখাটুকুন দ্রষ্টব্য।

১৪. ১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ১১:১২
বিডি আইডল বলেছেন: টানেলের শেষ প্রান্তের আলো বনাম আলোচনা

নোটিশবোর্ডের শেষ দুটি পোষ্টই কিছু জিনিষ জানতে চেয়েছিলাম....গ্রুপের কথাটিও সে অর্থে প্রচার করা হয় নি...দেখি গ্রুপেই আবার জানতে চাইবো

বিশ্লেষণ খুবই ভালো হয়েছে
১১ ই জুন, ২০০৯ রাত ১:১০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনার এই লেখা আমি সেই সময়ই পড়েছি।

১৫. ১১ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:৩৯
মগ্নতা বলেছেন: পর্যবেক্ষণ। ভালোইত আলোচনা চলছে।
১১ ই জুন, ২০০৯ রাত ১:১৩

লেখক বলেছেন: পর্যবেক্ষণ চলুক।

১৬. ১১ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:৪৬
সিদ্ধার্থ আনন্দ বলেছেন:
ভাল লাগসে। তয় আমি নতুন ব্লগার। আমার আরো বুঝন লাগবো।

এখনো সাধারন ব্লগার। দোয়া প্রার্থী।
১১ ই জুন, ২০০৯ রাত ১:১৪

লেখক বলেছেন: হা হা হা। ভাল মানুষের কাছে দোয়া চাইতে এলেন সিদ্ধার্থজি।

১১ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:২৩

লেখক বলেছেন: ভালো।

১৮. ১১ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:৩৯
মাসুদ জাকারিয়া বলেছেন: ব্লগ কোনমতেই ক্যাম্পেইনের জায়গা নয়। এটি সপ্রাণ আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ককে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জায়গা। এই তর্ক-বিতর্কের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া ব্লগের কাজ নয়, সমাজের জরুরী বিষয়গুলোতে একটা প্রাণবন্ত বৃদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক তৈরী করা এর কাজ।
......................
এই (ছোট) কাজটাই করবে শুধু? বুদ্ধিবৃত্তি ('র বিতর্ক) ছাড়া সমাজে আর কিছু নাই যেটা ব্লগের বিষয় হতে পারে? আপনি বুদ্ধিবৃত্তিরে যেই দাম মাইরা কতা কইতেছেন আমার ডর লাগে।
সামহয়্যাররে লাড্ডু পাইছেন বইল্লা গিল্লা খাইয়েন না। আর একটু চিবায়া খান।
১১ ই জুন, ২০০৯ রাত ১০:২৪

লেখক বলেছেন: আপনি আমার লেখার ভুল পাঠ করেছেন বন্ধু। ব্লগ ক্যাম্পেইনের জায়গা নয় বলেছি। আর ক্যাম্পেইনের পরিবর্তে বরং ক্যাম্পেইনের যে বিষয় আশয় তারে বুদ্ধিবৃত্তিক সপ্রাণ তর্ক-বিতর্ক ও মুক্ত আলোচনায় ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছি। এবং বলেছি, এই তর্ক-বিতর্কের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়াটা ব্লগের কাজ নয়। তাহলেতো ব্লগের যে স্পিরিট সেটিই নষ্ট হয়ে যাবে, যে স্পিরিটের অংশ হল বিদ্যমান সমাজে যেসব ইস্যুতে ট্যাবু বা সামাজিক সাংস্কৃতিক বাধা আছে তা কোন ধরণের বাধা এড়িয়ে, কোন ধরণের অহেতুক সামাজিক ঝড় না তুলে আলোচনার বিষয় বানানো এখানে সহজ। কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্করেই একমাত্র ব্লগীয় কাজতো বলি নাই, যে সন্দ থেকে আপনার প্রশ্ন: বুদ্ধিবৃত্তি ('র বিতর্ক) ছাড়া সমাজে আর কিছু নাই যেটা ব্লগের বিষয় হতে পারে?

এটিরে নিয়ে আরো বিশদ আলাপ হতে পারে। কারণ ব্যাপারটি গুরুত্বপূর্ণ। আর আমার সন্দেহ আপনি আমার পুরো লেখাটি পড়েন নাই। আমার ভুলও হতে পারে। কারণ যদি পড়ে থাকেন, এই বাক্যগুলির আরো তফসির পেতেন। তারপরও একটু উদাহরণ দিয়েই বলি, ব্লগে 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা', 'ইতিহাস', 'ইসলাম', 'নাস্তিকতা', 'আস্তিকতা', এইসব নিয়ে বেশ আবেগী তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। এই তৎপরতাগুলোর মূলে সাচ্চা দেশপ্রেম, ধর্মীয় আবেগ এবং কোন কোন ক্ষেত্রে রেশনাল মাইণ্ড কাজ করলেও একটি বিষয় প্রায়ই অনুপস্থিত থাকে, তা হল বিপরীত মতকে সহ্য করা, শুনা এবং জায়গা দেওয়ার মানসিকতা। কখনো কখনো, না, শুধু কখনো কখনো না, প্রায়ই দেখা যায়, সামহোয়ারইন কর্তৃপক্ষ এইসব বিষয়গুলোতে নিজেদেরকে কর্তৃপক্ষীয় ভূমিকায় জড়িয়ে ফেলে এবং বিভিন্ন ক্যাম্পেইনমূলক পোষ্ট সামনের পাতায় স্টিকী করে। কিন্তু বিপরীতে, এ সংক্রান্ত যে কোন রকম ভিন্নমতকে কর্তৃপক্ষীয় সিদ্ধান্তেই টুটি চেপে ধরা হয়। কোন এক অতীত অভিজ্ঞতায়, আমার ক্ষেত্রেও সেরকম ইতিহাস তৈরী হয়েছে, কর্তৃপক্ষের এ ধরণের তৎপরতা বিষয়ে ঠাট্টা করার কারণে। এবং এটি করতে তাদের আইন/ক্লজের অভাব হয় না।

কিন্তু আমার কথা হলো: এটি মোটেই একটি ব্লগের জন্য ভাল প্রেক্টিস নয়। বরং ভাল হতো, যদি সামহোয়ারইন কখনো নিজের অভিজ্ঞতা এবং প্রজ্ঞার ভ্রমণে তদ্দুর পথ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, প্রফেশনালি এবং এথিক্যলি, এথিক্যলি মানে হল নিজেদের ঘোষিত নীতিমালার প্রতি সৎ থেকে; তাহলে, বিষয়গুলোকে স্টিকী পোষ্ট করা হত এই ভাবে যে, যেভাবে শিরোনাম করলে ব্লগাররা নির্ভয়ে এর পক্ষে বিপক্ষে জরুরী আইনি, ইতিহাসগত, রাজনৈতিক এবং দার্শনিক বিতর্ক চালিয়ে যেতে পারতো। এবং এই ধরণের বিতর্ক ও আলোচনা ঐ বিষয়ের আইনি, ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও দার্শনিক বিচারের কাজটার জন্য কার্যকর পথ তৈরী করত।

দীর্ঘ উত্তর দেয়ার পরও আপনার শেষ বাক্যগুলাতে যে ঠাট্টা করেছেন তার একটা জবাব দেবার লোভ হচ্ছে। তাই বলি, আপনি সামহোয়াররে চিবায়া খাইতে আগ্রহ বোধ করেন, এটি আপনার ইচ্ছা। আপনি এটিরে লাড্ডু বানায়া খাবেন নাকি চিবায়া খাবেন সে ব্যাপারটিতে আমার আগ্রহ-অনাগ্রহ কোনটাই নেই।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

১৯. ১১ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:৫৫
লাকুল হক বলেছেন: একটি সহজ গণীতঃ রিফাত হাসানের খোদা = http://www.somewhereinblog.net (/rifathasanblog) ... রিফাতের দোয়া = হে সামইন কতৃপক্ষ, আর কত রকমের কেরামতি তথা নিদর্শন "আপনি" আমাদের ভন্দেশ থেইক্কা দেখাবেন?
১৩ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৪৮

লেখক বলেছেন: লাকুলের বক্তব্য বুঝি নাই। তাই উত্তর দিতে পারছি না।

২০. ১২ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:১২
আবদুল ওয়াহিদ বলেছেন:

মাসুদ জাকারিয়া'র মন্তব্য এবঙ রিফাত হাসানের জবাব দুটোই ইন্টারেস্টিং।

তর্ক বিতর্কের সীমা পরিসীমা স্বীকার না করলেও আমরা কিন্তু কথাগুলো সীমার ভিতর থেকে বলি। তারপরও আমরা মনে করি সীমাকে অতিক্রম সপ্রাণ চেষ্টা আমাদের আছে। তা নাহলে সামু নীতিমালা জগাখিচুড়ি হবেই বা কেন এবঙ কেনই বা এই কেওয়াজ।

ব্লগ যদি শুধুমাত্র বুদ্ধিবৃত্তি চর্চা তা ভাবলে ভুল হবে। কারণ এই বুদ্ধিবৃত্তি শব্দটি শ্রেণীগতভাবে এতই সুশীল যে তার ধাক্কা সামলানো আমাদের মতো আম ব্লগারদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই বুঝাপড়া নিশ্চয় আমাদের আছে। কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তি তো দরকারী জিনিস, তাহলো সুশীলিয় ফর্মের বাইরে যে তর্ক বিতর্কের ধারাবাহিকতা। এই বোধ কি সামু'র আছে,। তারা তো এই বোধ থেকে মুক্ত নয়। চিন্তার বিকাশ তর্ক বিতর্ক প্রায়শ ব্যক্তি বিশেষ বা শ্রেণী বিশেষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

ধন্যবাদ। আশা করি আরো কথা হবে।

রিফাত আওয়াজ দিয়েন।

১৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ১১:৪৩

লেখক বলেছেন: দুঃখিত ওয়াহিদ আওয়াজ দিতে দেরী হল।

সীমা এবং সীমা অতিক্রমণ নিয়ে বড়ো জটিল কথা বলেছেন। কিন্তু সামু নীতিমালা জগাখিচুড়ি হবার সাথে তারে মিলানো অনুচিত। ভদ্রলোক অতো জটিলতা বুঝেন না, সহজ কথায় ব্যবসা এবং তার পরিচালনার জন্য ঝঞ্ঝাটহীন, এবং প্রয়োজনে অনুদার মডারেশন প্রয়োগ করেন।

আর সুশীল বুদ্ধিজীবিতার বিষয়ে খুব জরুরী নোট আছে আপনার মন্তব্যে। কিন্তু এখানেও খটকা যে, আমার উত্থাপিত বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্করে ওই সুশীলতার সাথে মেলানো।

২১. ১২ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:৩৮
মগ্নতা বলেছেন: @ আবদুল ওয়াহিদ, লেখাটারে পর্যবেক্ষণ করতেসিলাম। মোটামোটি বুঝার চেষ্টাও করতেসিলাম। মাসুদ জাকারিয়ার মন্তব্যের উত্তরে রিফাত হাসানের মন্তব্যটি পড়ার পর আপনার লম্বা মন্তব্যটিতে মনে হইতাসে কিছু একটা গুবলেট পাকিয়ে গেছে। সীমা, সীমারে অতিক্রম করা, বুদ্ধিবৃত্তি, সুশীলতা- বেশ গুবলেট হয়ে গেছে। রিফাত হাসানের মন্তব্যটিতে যে বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কের কথা বলা হইসে সেটিরে আপনার এই সুশীলতার লগে মিলানোর কামটা রিফাতের লাষ্ট মন্তব্যের পর আর উচিত বইলা মনে হয় না।
১৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ১১:৪৫

লেখক বলেছেন: মগ্নতার মন্তব্যটা একটু কড়া হয়ে গেল না?

২২. ১২ ই জুন, ২০০৯ রাত ১:৩৩
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: মগ্নতা বলেছেন: @ আবদুল ওয়াহিদ, লেখাটারে পর্যবেক্ষণ করতেসিলাম। মোটামোটি বুঝার চেষ্টাও করতেসিলাম। মাসুদ জাকারিয়ার মন্তব্যের উত্তরে রিফাত হাসানের মন্তব্যটি পড়ার পর আপনার লম্বা মন্তব্যটিতে মনে হইতাসে কিছু একটা গুবলেট পাকিয়ে গেছে। সীমা, সীমারে অতিক্রম করা, বুদ্ধিবৃত্তি, সুশীলতা- বেশ গুবলেট হয়ে গেছে। রিফাত হাসানের মন্তব্যটিতে যে বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কের কথা বলা হইসে সেটিরে আপনার এই সুশীলতার লগে মিলানোর কামটা রিফাতের লাষ্ট মন্তব্যের পর আর উচিত বইলা মনে হয় না।
১৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ১১:৪৬

লেখক বলেছেন: এটা কি আপনারও মত?

২৩. ১২ ই জুন, ২০০৯ রাত ১:৫১
মনজুরুল হক বলেছেন:

ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ হাঁটিয়া চলিল....




তথাপি প্রিয়তে।
১৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ১১:৪৯

লেখক বলেছেন: বড়ো জটিল ঠাট্টা করেছেন মনজুরুল হক! তারপরও প্রিয়তে, তাই অনেক ধন্যবাদ।

২৪. ১৯ শে জুন, ২০০৯ সকাল ৯:৫৬
শূন্য আরণ্যক বলেছেন: আসলে সামহোয়্যার কে অনেকে কম্যুনিটি ব্লগ বলে অনেকে।

কম্যুনিটি ব্লগ কি বস্তু তা খায় না মাথায় দেয় সেটা একটা বিতর্কের ব্যাপার ।

ইন্ডিভিজুয়াল ব্লগের কি কালেকশন এখানে -- যেখানে কিছু টুল দেয়া আছে সহব্লগারদের সাথে ইন্টারেকশনের জন্য ।

যা হোক যেটা বলতে চাচ্ছি যে -- এই যে অশ্বডিম্ব নীতিমালা ...

এ কি এক নীতিমালা যেটার জুজু কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে দেখায় ??

মানুষের জন্য ব্লগ -- না নীতিমালার জন্য ব্লগ ?

এই সমস্ত ছাগলামী দেখতে দেখতে মনে হলো -- নিজের একটা সাইট থাকলেই হয় -- কেউ পড়লে পড়ুক ।

কি দরকার আরেকজনের জমিতে চাষ করে ? আজ পানি বন্ধ করে দিবো -- কাল বেড়া ভেংগে ফেলবো এত সব হুমকি।

২০ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

২৫. ১৯ শে জুন, ২০০৯ সকাল ১১:৩৬
অলস ছেলে বলেছেন: মন দিয়ে পড়ার মত লেখা। ধন্যবাদ।
২০ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৭

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

২৬. ১৯ শে জুন, ২০০৯ সকাল ১১:৩৬
অলস ছেলে বলেছেন: মন দিয়ে পড়ার মত লেখা। ধন্যবাদ।
২৯ শে জুন, ২০০৯ রাত ৯:৪১

লেখক বলেছেন: আবারো ধন্যবাদ।

২৭. ২৮ শে জুন, ২০০৯ রাত ১০:৪৯
মগ্নতা বলেছেন: আমি কি কথাটি ঠিক বলি নাই?
২৯ শে জুন, ২০০৯ রাত ৯:৪২

লেখক বলেছেন: না, আমিতো সেটা বলি নাই।

২৮. ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৯:২০
র হাসান বলেছেন: সুস্থ মডারেশন চালু হোক!


Travel Bangladesh information
২৯. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৯:৫০
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: এইসব নিয়ে কথা বলে যে কোন লাভ নেই তা মানুষ বোঝে বেশ দেরীতে।
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১১:১৭

লেখক বলেছেন: কথাটা অবশ্যই মোটামুটি ঠিক, ক্ষমতার কায়কারবারই সত্য।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৮৪৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমরা কী দারুণ গল্পসভা কথা সাম্রাজ্যে ছিলাম
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ