চোখে আমার তৃষ্ণা... ফুটুফুটে প্রাপ্তির জন্য সবার কাছে সামান্য প্রার্থনা
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:০৫
মনটা খুব উদাস, খুবই। অনেকক্ষণ থম মেরে বসে থেকে ভাবলাম ঝেরে ফেলি। এই ঝেরে ফেলার কাজটা আরও অনেক আগেই করার ছিলো, বুঝতে পারছিলাম না করবো কিনা।
আমি এ যাবৎ যা কিছুরই সন্তর্পনে গিয়েছি, সেই জিনিষটিই আমার থেকে দূরে সরে গেছে। কখনো হয়েছে উল্টোটা। আমার খুব প্রিয় জিনিষের কাছে থাকা হয়নি কখনো আমার। কাঁচের দেয়াল এক সবসময় একটা লাইন টেনে দিয়েছে। সেই লাইন অতিক্রম করা হয়নি আমার, আজ পর্যন্ত।
সামহোয়্যারের জন্মের পর যে একটামাত্র ইস্যুতে সবাই এক ছিলো, সে হলো প্রাপ্তি। ফুটফুটে একটা বাচ্চা। যার মুখটার দিকে একবার তাকালেই মনেহয় বেঁচে থাকি আমি, বেঁচে থাকুক সমগ্র সৃষ্টি। প্রাপ্তি দুচোখ ভরে উপভোগ করুক চারপাশের সব সৌন্দর্য আর আমি তার প্রশান্ত চোখের তারা দুটো দেখি মন ভরে।
প্রাপ্তির সঙ্গে আমার এটাচমেন্ট নেই। রাখতে চাইনি। কেনো চাইনি তা উপরে উললেখ করলাম। আমার সাহসের খুব অভাব, আমি সাহস করতে পারিনা এখানে। প্রাপ্তির মুখের হাসিটুকু যে আমার কাছে অনেক অনেক মূল্যবান।
প্রাপ্তি ফাউন্ডেশন বলে কিছু একটা হবার কথা ছিলো। কাজটা একটা জায়গায় এসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। খুব ভালো একটা উদ্যোগ নিয়ে শুরু হওয়া পথচলা কি থেমে যাবে এখানেই? প্রাপ্তির চিকিৎসা কি মাঝপথে এসে থেমে যাবে কেবল টাকার জন্য? আমাদের কাছে কি হৃদয়ের চাইতে টাকার মূল্য এখনো বেশি?
আমি ভালো উদ্যোক্তা নই, বক্তা কিংবা লেখকও নই। মনের আকুতি প্রকাশে সম্পূর্ণ অক্ষম আমি। কিন্তু এই ব্লগেই আমি দেখেছি অনেকে অনেক ভালো ভালো উদ্যোগ নিতে সক্ষম। তারা কি পারেন না আবার আরেকটা উদ্যোগ নিতে, আবার সবাইকে এক করতে, আবার সবাইকে প্রাপ্তির পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করতে?
আরতো মাত্র দেড় বছর। এই দেড়টা বছর আমাদের অনেকের খুব সামান্য একটু 'ছাড়'ই প্রাপ্তিকে দিতে পারে পূনর্জীবন, অনাবিল হাসিতে জগৎ ভরে তোলার একটু সুযোগ! একটু দেখুন না মানবতার দাবীকে হৃদয়ের দাবী দিয়ে ঝালিয়ে নেয়া যায় কিনা, একটা ফুটফুটে সুন্দর মুখে চিরঅম্লান একটা হাসি ফুটিয়ে তোলা যায় কিনা।
একটু থামুন... ভাবুন একটাবার... একটা শান্ত চেহারার ছোট্ট বাবু আপনার মুখের দিকেই তাকিয়ে আছে করুণ চোখে। তার ডাকে সাড়া দিন দয়াকরে... প্লীজ!!
প্রাপ্তির চিকিৎসার ব্যাপারে আরও জানুন এখানে Click This Link
পুরানো ব্লগার সাদিকের সেই আন্দোলন জাগানো পোস্টটি আছে এখানে Click This Link
প্রাপ্তি লিখে সামহোয়্যারে কনটেন্ট সার্চ দিলেও অনেক লেখা বের হয়ে আসবে বোধকরি।
লেখক বলেছেন:
টাকার হিসেবে অংকটা বিশাল হলেও অসম্ভব না মোটেও মা.সু ভাই। টাকাটা দরকার, চিকিৎসাটা চালিয়ে যেতে হলে। দেশে যারা আছে তারাও যেমন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কনট্রিবিউট করতে পারে, পারি আমরাও যারা বাইরে পড়ে আছি। ৫০ টা ইউরো বা ১০০ টা ডলার পাঠানো / পৌঁছানো খুব কি কষ্টের? ১০০ জন ব্লগার যদি ১০০টা করে টাকাও দেয় কতগুলো টাকা হয় সর্বমোট?
আমরা হুযুগে মেতে থাকি সর্বদা। হুযুগ কেটে গেলে পুরানো পথ আর মাড়াই না। কষ্ট লাগে যখন দেখি ভালোবাসার দামও আমরা হুযুগেই পরখ করি।
কিছু ভেড়ার চামরার সুশীলকে দেখি বইমেলায় টিকেট কেটে যাবেন নাকি টিকেট ছাড়া যাবেন, এই চিন্তায় অহর্ণিশ ক্লান্ত। আর খুব পরিচিত এক প্রাপ্তিকে ঘিরে তার পরিবারটি প্রতিটা ক্ষণ কাটায় দুঃচিন্তায়, তার চিকিৎসার সম্ভাবনার দোটানায়। 'আমার কষা হইছে' - এই জাতীয় কথাবার্তায় দারুন আমেজে ঝাপিয়ে পড়ে অনেকে। অথচ এক প্রাপ্তির জন্য কেবল 'পাশে আছি' বলে তার পরিবারের কাঁধে একটা ঝাঁকুনি দিতে কুণ্ঠা হয় আমাদের।
বড়ই ভুল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা। শালার সবাই পুরা প্রফেশনাল হয়ে যাচ্ছি। দিন দিন উন্নত মানের ছাগলে পরিণত হচ্ছি সবাই। উন্নত মানের জ্ঞানী সুশীল রামছাগল।
রুবেল শাহ বলেছেন:
ধন্যবাদ বিষয়টা আরো জনা হল---
আবু সালেহ বলেছেন:
ধূসর ভাইআমিও বলি..
একটু থামুন... ভাবুন একটাবার... একটা শান্ত চেহারার ছোট্ট বাবু আপনার মুখের দিকেই তাকিয়ে আছে করুণ চোখে। তার ডাকে সাড়া দিন দয়াকরে... প্লীজ!!
যারা ভালো উদ্যেক্তা আছে তারা যেন এই উদ্যেগটা সফল করার জন্য
এদিয়ে আসেন প্লিজ....
আমি ভালো লেখক নই, নই ভালো উদ্যেক্তাও ....তবে গতবারের ন্যায় এবারো সহায়তা করার জন্য এগিয়ে আসবো অবশ্যই....
আপনারাও আসুন...
শাওন বলেছেন:
আমার মনে হয় আরেকবার একসাথে হওয়ার সময় এসেছে ।
মানবী বলেছেন:
অনলাইন কিবোর্ড দিয়ে লিখছি তাই সংক্ষেপে ধন্যবাদ জানালাম।
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
প্রিয় ধুসর গোধূলী, ধন্যবাদ ব্যাপারটা মনে করিয়ে দেবার জন্য। এই পোস্টটা যে পরিমাণ এ্যাটেনশন পাওয়া উচিত ছিল তা পায়নি ... শিরোনামটা পাল্টে দিন ...আর একটা কথা, কেউ কি জানেন কিভাবে পে প্যালে টাকা সংগ্রহ করা যায় ... গতবছর ল্যান্ডস্লাইডের সময় সাদিক একটা এ্যাকাউন্টে টাকা তুলেছিল ... সেটা কিভাবে ... তাহলে প্রাপ্তির জন্য সবাই একসাথে সেখানে দিতে পারবে ... সরাসরি বাংলাদেশের ব্যাংক এ্যাকউন্টে পাঠাতে হলে ব্যাংকে যেতে হয় ... ব্যাংকের যা চার্জ, প্রত্যকে কন্ট্রিবিউটর আলাদা আলাদা সেটা দিলে একটা বিরাট অনক ব্যাংককেই দেয়া হয়ে যাবে ... প্লাস ব্যাংকে যেতে হয়, খোলার দিনে তাও তিনটার মধ্যে ... এসব ঝামেলার কারণেও দেয়া কঠিন ...
একটা সিস্টেম দাঁড় করানো গেলে ভালো হয়, যেখানে নেটেই ক্রেডিটকার্ড ব্যবহার করে টাকা জমা করা যাবে ... পরে সেই টাকাটা একবারে সারিয়ার দেয়া এ্যাকাউন্টে পাঠানো যাবে
লেখক বলেছেন:
পে প্যালে টাকা পাঠানো কিংবা সংগ্রহের সিসটেমটা খুব সম্ভবত সাদিকের পোস্টে আছে কোথাও। আমি নিজে এ ব্যাপারে মূর্খ বলে কিছুই জানাতে পারছিনা। তবে আশা করছি, ভালো জানেন এ ব্যাপারে কেউ সাহায্য করবেন।
শিরোনাম পাল্টে দেয়া হলো প্রেসিডেন্ট।
সারিয়া তাসনিম বলেছেন:
পে প্যালের ব্যাপারে আমিও কিছু জানিনা রে ।কারও সাথে কি সাদিকের যোগাযোগ আছে ? তাহলে সাদিকের কাছ থেকে জানা যাইতো ।
অরুপ , বিহংগ , আস্তমেয়ে , হাসান ( লন্ডন ) - ওদের কেউ ব্যাপারটা জানতে পারে ।
পোস্টটা ওদের চোখে পরেছে কিনা কে জানে ?
লেখক বলেছেন:
পে প্যালের ব্যাপারটা স্টিল ধোয়াশা লাগছে। মূর্খ হলে যা হয় আরকি!
দেখা যায় সামনের কোন মিটিং ফিটিঙে কারো কাছ থেকে জ্ঞানাহরণ করা যায় কি না।
নিলা বলেছেন:
Prapti hasbe……or omlan hasi choriye porbe charidike……sathe achi. Dhonnobad ai rokom ekta blog lekhar jonno r link tar jonno.
!গন্ডার বলেছেন:
"কিছু ভেড়ার চামরার সুশীলকে দেখি বইমেলায় টিকেট কেটে যাবেন নাকি টিকেট ছাড়া যাবেন, এই চিন্তায় অহর্ণিশ ক্লান্ত। আর খুব পরিচিত এক প্রাপ্তিকে ঘিরে তার পরিবারটি প্রতিটা ক্ষণ কাটায় দুঃচিন্তায়, তার চিকিৎসার সম্ভাবনার দোটানায়। 'আমার কষা হইছে' - এই জাতীয় কথাবার্তায় দারুন আমেজে ঝাপিয়ে পড়ে অনেকে। অথচ এক প্রাপ্তির জন্য কেবল 'পাশে আছি' বলে তার পরিবারের কাঁধে একটা ঝাঁকুনি দিতে কুণ্ঠা হয় আমাদের।"
দেশে এরম লক্ষ্ লক্ষ্ প্রাপ্তি আছে, শুধুমাত্র একজনকে নিয়ে অতি আদিক্ষেতা অতন্ত্য বিরক্তকর
লেখক বলেছেন:
আপনি সম্পূর্ণ সঠিক গন্ডার বাবু। লক্ষ লক্ষ জন প্রাপ্তির মাঝে আপনি ক'জনকে চেনেন, কিংবা কাছ থেকে দেখেছেন?
!গন্ডার বলেছেন:
অতিরিক্ত আবেগ কোন কিছুর জন্য ভালোনা, কোন এক শিশু অসুস্হ বলে বইমেলা নিয়ে আলোচনা করা যাবেনা বা বইমেলার আলোচনা বন্ধ রেখে সেই শিশুটির আলোচনাই করতে হবে এরকম কথা বলা অতি আবেগেরই প্রকাশ।
বাংলাদেশে অসংখ্য শিশূ চিকিতসা থেকে পুরোপুরি বন্চিত এটা নিশ্চয় আপনি জানেন আর তার জন্য কি আপনি ভাত খাওয়া বন্ধ করে দিবেন।
আপনার বা সেই শিশুটির প্রতি প্রতি কোনো আক্রশ থেকে নয় বরং আপনার পোস্ট ও কমেন্টে অতিরিক্ত আবেগের এই প্রকাশ ভালো লাগেনি বলেই আমার কমেন্টটি করা
ধুসর গোধূলি বলেছেন:
বইমেলার আবেগ প্রকাশ করতে আপনাকে বারণ করা হয়েছে কোথাও? খুব সাধারণ মাত্রার একটা আবেগ দিয়ে লেখা পোস্টটা, আপনি অতিরিক্ত আবেগ খুঁজে পেলে সেটা আমার ব্যর্থতা।
আর অসংখ্য চিকিৎসা বঞ্চিত শিশুর কথা আমি অস্বীকার করছি না, আমি এমন একজনের কথা বলছি যাকে সবাই চেনে এই ব্লগে, যার পাশে সবাই একবার দাঁড়িয়ে ছিলো, মাঝ পথে এসে অনেক কেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এখন।
আপনি হয়তো অসংখ্য শিশুকে চেনেন, কিন্তু আমি যে কেবল একজনকেই চিনি এবং জানি গন্ডার বাবু। কুয়ার ব্যাঙতো, কূয়ার বাইরের রূপটা দেখিনি যে!
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
কি মিয়া খবর কি? আছেন কেমন?
লেখক বলেছেন:
অলটাইম হিট এজ ইউজুয়্যাল শরৎ বাবু। ঐদিকে কেমন চলে সব?
!গন্ডার বলেছেন:
আপনার আবেগের কারনটা অনুধাবন করার চেস্টা করছি, আমার মনতব্য গুলো খুব রুঢ় মনে হলে সেগুলা দয়া করে মুছে দিন। আপনাকে ধণ্যবাদ প্রাপ্তির জন্য আপনার এই প্রচেষ্টর জন্য।
লেখক বলেছেন:
রূঢ় মনে হয় নি, খুব স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গী, আমারও হতো।
প্রচেষ্টাটুকু আমি নেইনি, যারা নিয়েছে আপনার ধন্যবাদ আশাকরি তারা পাবেন।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
শাওন বলেছেন:
গন্ডারের মত আমি যখন কম্যুনিটি মসজিদে যাই টাকার জন্য তখন একজন নেতা!'র মুখ থেকে একি কথা শুনি , দেশে লাখ লাখ প্রাপ্তি আছে । একজনের পিছনে বসে থাকার মানে কি ? জানিনা মানে কি তবে আমার মনে হয় এভাবে একটি করে প্রাপ্তি বাচাঁতে পারলেই সার্থক হওয়া যাবে ।



















যাই হোক, পরে জানতে পারলাম চিকিৎসা এখনো বাকী আছে বেশ। এ যুদ্ধটা শেষ করা দরকার। সাথে পাবেন। আওয়াজ দিয়েন সময় হলে। আছি।