somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

[গাঢ়]সমবেত এই আমরা একটু থামতে পারি কি? একটু থামুন ... প্রাপ্তি আপনাদের কি যেন জানাতে চাইছে ...[/গাঢ়]

১১ ই মে, ২০০৬ সকাল ৯:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যে ফুটফুটে বাচ্চার মুখটি ছবিতে দেখছেন তার নাম নাশিতা আফসারা প্রাপ্তি। বয়স? তিন বছরও পুরো হয় নি তার।

এর সাথে যে ছবিটা আপনাদের দেখাতে পারছি না, তা হলো প্রাপ্তির মায়ের আর বাবার হৃদয়ে কষ্টের আগুনের ছবিটা। কোথায় হাবিয়া দোজখ? তার চেয়েও ভয়াবহ কষ্টের যে আগুন জ্বলছে প্রাপ্তির মা আর বাবার বুকের ভিতরে - আমি খুবই দু:খিত সে ছবি দেখানোর ব্যবস্থা বিজ্ঞান এখনও করতে পারে নি। কিন্তু নিশ্চিত থাকুন, সেখানেও প্রজ্জ্বলিত এখন অসীম কষ্টের নরককুন্ড।

প্রতিটি সন্তান যে অপরূপ অপার্থিব আলো নিয়ে পৃথিবীতে আসে, প্রাপ্তিও সেভাবে এসেছিলো। কিন্তু এই জীবনে কখনো কখনো ব্যাখ্যাতীত আনন্দ যেমন আমাদের স্পর্শ করে যায়, তেমনি ব্যাখ্যতীত বেদনাও সময় সময় হৃদয়টাকে লন্ডভন্ড করে দিয়ে যায়। লিউকেমিয়া বা রক্তে ক্যানসার ধরা পড়েছে প্রাপ্তির, মাত্র দু' বছর বয়সেই।

স্রষ্টার অসীম করুনায়, সঠিক চিকিৎসা পেলে তার এই ব্যাধি সারানো যাবে; কারন এটা একেবারেই প্রাথমিক স্টেজের ক্যানসার। তবে তার জন্য তিন বছর বা বেশি সময় ধরে চিকিৎসা করাতে হবে।

এরকম একটা ফুলের মতো শিশুর কাছের যে মানুষগুলো তারা তাদের সাধ্যমত চেষ্টা করছে সাহায্য করার। কিন্তু তাদের সেই প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। তাদের পরিবার থেকে ভিক্ষা নয়, সবার কাছে মানবিক সাহায্যের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

আমরা এখানে প্রচুর অর্থবান, সামর্থ্যবান মানুষ আছি। কেউ বা বিদেশে থাকি। আসুন সবাই একটু থামি, মুহুর্তের জন্য একটু চিন্তা করি। প্রাপ্তিকে ঘিরে যে মানুষগুলো এই মুহুর্তে দাড়িয়ে আছে, যাদের মুখপট, হৃদয় ও জীবন থেকে সবটুকু আনন্দ এই মুহুর্তে যে কারনে একেবারে নাই হয়ে গেছে; আরেকজন মানুষ হিসেবে সেটা উপলব্ধি করার চেষ্টা করি।

প্রাপ্তি না হতে পারে আমার বোনের মেয়ে, খালাতো বোন বা মামাতো বোন। কিন্তু খুব কি দুরের এই প্রাপ্তি আমার নিজের বোনের বা ভাইয়ের মেয়ের থেকে? প্রাপ্তির বাবা বা মা আমাদের খুব কি দুরের কেউ ? মানুষ এই আমরা কি খুব পর আসলে একে অন্যের? আরেকজন মানুষের ব্যাথাগুলো উপলদ্ধি করতে কি কাগজে কলমে সম্পর্ক প্রয়োজন হয়?

আমি কি আপনাদের একটু থামতে অনুরোধ করতে পারি এবং প্রাপ্তির জন্য আপনাদের সবটুকু সমবেদনা আশা করতে পারি?

প্রথমে প্রাপ্তির জন্য আপনাদের শুভাশিষ চাই। চাই মঙ্গল কামনা, দোয়া, প্রার্থনা এবং আর্শিবাদ। চাই তার বাবা মায়ের মন থেকে কষ্ট দুর করার প্রার্থনাটুকু। যাদের নিজের সন্তান আছে তারা জানেন অর্থের অভাবে নিজের সন্তান তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছে এটা একজন পিতা বা মায়ের জন্য কি কষ্টের?

একই সাথে প্রাপ্তির জন্য সাহায্য পাঠান। অর্থ সাহায্য। আপনার আমার পাঠানো যৎসামান্য মিলেই যে পরিমান অংকটি জমবে তাতে প্রাপ্তিকে সহজেই বিদেশে চিকিৎসায় পাঠানো যাবে। শুধু আপনি নন, আপনার অফিস, আপনার বাসার সবাইকে সাহায্যের জন্য এই আবেদনটি পৌছে দিন। সাহায্যটুকু এক সাথে করে নিচের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিন যত দ্রুত সম্ভব।

মনে রাখুন যে প্রতিটি সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। সময়ে সাথে সাথে তার ছোট্ট শরীরের রক্ত কণিকাগুলো মৃতু্য বরণ করছে। তাই প্লিজ তাড়াতাড়ি করুন। একটু বিবেকবান হই আমরা এই বার। বন্ধ রাখি ব্লগের চটকদার লেখা আপাতত। একজন নিস্পাপ শিশু মারা যাচ্ছে যে এসেছিলো অনেক সম্ভাবনা নিয়ে।

মানুষ হয়ে আমাদের সীমিত ক্ষমতা দিয়ে আসুন একবার চেষ্টা করি। স্রষ্টা অসীম রহস্যময়। আসুন প্রার্থনা করি তিনি তার অসীম রহস্যময়তার মায়াজাল দিয়েই প্রাপ্তিকে ভালো করে দিক। তার মুখে হাসি ফুটুক, সে দৌড়ে বেড়াক আবার এই ঘর ঐ ঘর যা দেখে জুড়াক তার মায়ের হৃদয়, পিতার মন।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:
SARIA TASNIM

91 , WEST KAFRUL, 2ND FLOOR, MOLLAH PARA ,
TALTOLA BAZAR, DHAKA, BANGLADESH

TEL : 88 02 9139583 (Resident)
88 02 7171346 ( Office)
88 0173018293 (Mob)

Passport No . N0502047


Bank Address :

SARIA TASNIM

A/C # 4950
WEST KAFRUL BRANCH
JANATA BANK
DHAKA , BANGLADESH


প্রাপ্তিকে নিয়ে আগের পোস্টটি এখানে:
Click This Link

আপনাদের সহৃদয় সমর্থন কামনা করছি। পোস্টে মন্তব্যের মাধ্যমে আপনার পক্ষ থেকে প্রাথমিক মানসিক সাড়া আশা করছি। প্রাপ্তির পাশে যে আমরা অনেক মানুষ আছি, এটা এই মুহুর্তে তার ভেঙ্গে পড়া পরিবারের জন্য অনেক সাপোর্ট জোগাবে, যাদের জীবনে রাত দিন সব একাকার হয়ে গ্যাছে। একাকার হয়ে গ্যাছে সব।

আপনাদের মানসিক সমর্থনের পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব প্রাপ্তির কাছে আপনাদের সহানুভূতিশীল সাহায্যটি পাঠানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করুন। সবাইকে অগ্রিম কৃতজ্ঞতা।

একই সাথে প্রাপ্তির ছোট্ট কোমল শরীর আর মনটাকে যেন স্রষ্টা অসহ্য কষ্ট থেকে মুক্তি দেন তার জন্য এই হোক আমাদের সবার হৃদয় উৎসারিত প্রার্থনা।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০০৬ সকাল ১০:৫৬
১৪২টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সিলেটে এমসি কলেজে স্বামীকে বেঁধে তরুনীকে গনধর্ষণ- সাধারণ মানুষ যা ভাবছেন

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:২৩


এরা কারা? এরা সবাই ধর্ষক। এছাড়াও এদের আরও একটি বড় পরিচয় আছে। এরা হলো ছাত্রলীগের কর্মী।

১। ভাগ্যিস মেয়েটা হাজব্যান্ডের সাথে ঘুরতে গেছিল। আজ যদি ফ্রেন্ডের সাথে ঘুরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্রম সাতক্ষীরা টু বেলগাছিয়া (পর্ব-৯/প্রথম খন্ডের পঞ্চম পর্ব)

লিখেছেন পদাতিক চৌধুরি, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১১:৩৪





দুজনের শরীরের উপর ভর দিয়ে টলতে টলতে কোনোক্রমে দাদির খাটিয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ালাম। উঠোনের এক প্রান্তে দাদিকে শায়িত করা আছে।বুঝতে পারলাম দাদির দাফনের কাজটি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভুলে যাওয়া ঠিকানা

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ৮:৫০

তখন আমার অল্প বয়স, কতই বা আর হবে
মা-চাচি আর খালা-ফুপুর কোল ছেড়েছি সবে
তখন আমি তোমার মতো ছোট্ট ছিলাম কী যে
গেরাম ভরে ঘুরে বেড়াই বাবার কাঁধে চড়ে
সকালবেলা বিছনাখানি থাকতো রোজই ভিজে
ওসব... ...বাকিটুকু পড়ুন

হালচাল- ৩

লিখেছেন জাহিদ হাসান, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:৩৩

১। দেশে দুর্নীতি, খুন, ধর্ষন আর চুরি-ডাকাতির বন্যা বইয়ে যাচ্ছে। গতকাল সিলেটের এমসি কলেজে কিছু নরপশু গণধর্ষনের যে ঘটনা ঘটালো তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি। দৃষ্টান্তমূলক বিচারের জন্য আমার মাথায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগারদের মানবতাবোধ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের স্বভাব কি হারিয়ে যাচ্ছে? সবাই কি সব কিছুতে সহনশীল হয়ে যাচ্ছে?

লিখেছেন জাদিদ, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:১৩

গত কয়েকদিনে দেশে বেশ কয়েকটি ধর্ষন ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনা এতটাই পৈশাচিক ও বর্বর যে আমি ভেতরে ভেতরে প্রতি মুহুর্তে ক্ষত বিক্ষত হয়েছি ঐ নির্যাতিতদের কথা ভেবে। অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×