somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর তার চূড়ায়—একজন মানুষ।

কারিম জাহান করিম।

লোকজন তাকে বলতো—দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড।
কিন্তু যারা কাছ থেকে দেখেছে, তারা জানতো—সে ছিল এক জীবন্ত ভল্ট।
ভেতরে জমে থাকা ছিল টাকা নয়, বরং ভয়।

সংখ্যা আর ঈশ্বর

৫৬ তলার অফিসে কারিম একা বসে ছিল।
দেয়ালজুড়ে বিশাল স্ক্রিনে ভেসে উঠছিল তার সম্পদের লাইভ হিসাব—বিদেশি ব্যাংক, অফশোর অ্যাকাউন্ট, কালো সোনার স্টক, এমনকি কিছু হার্ডড্রাইভ যার অস্তিত্ব কোনো নেটওয়ার্কে নেই।

সে বিশ্বাস করতো—
যা ডিজিটালে আছে, তা চুরি করা যায়।
যা মাটির নিচে, তা চিরন্তন।


হঠাৎ স্ক্রিন ঝিলমিল করে উঠলো।
সব সংখ্যা গলে গিয়ে একটি বাক্য তৈরি করলো—

“যা জমাও, তা একদিন তোমাকেই গ্রাস করবে।”

কারিমের বুকের ভেতর প্রথমবারের মতো কাঁপন ধরলো।

সে নিরাপত্তা প্রধানকে ডাকলো।
হ্যাকিং রিপোর্ট, সার্ভার লগ—কিছুই পাওয়া গেল না।

বার্তাটার কোনো উৎস নেই।
যেন সেটা কোথাও থেকে আসেনি

নিখোঁজ মানুষ, নিঃশব্দ শহর

কারিমের ফ্যাক্টরিগুলোতে মানুষ কাজ করতো দিনে নয়, সংখ্যায়।
একজন শ্রমিক নেতা, ইমতিয়াজ, মজুরি আর নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেছিল।

তিন দিন পর সে নিখোঁজ।
এক সপ্তাহ পর নদীর ধারে একটি অচেনা দেহ।

কেস বন্ধ।
ফাইল বন্ধ।
শহর চুপ।

কিন্তু কেউ একজন চুপ থাকেনি।

আরিবা

আরিবা রহমান—অনুসন্ধানী সাংবাদিক।
সে জানতো, কারিমকে সরাসরি আঘাত করা যাবে না।
তাই সে শুরু করলো অন্যভাবে।

ইমতিয়াজের পুরনো ল্যাপটপ থেকে সে উদ্ধার করলো একটি এনক্রিপটেড ফাইল।
ফাইলের নাম—

“VAULT-56”

ভেতরে ছিল ভিডিও, ডকুমেন্ট, আর একটি ভয়ংকর নকশা।

কারিম মরুভূমির নিচে তৈরি করছে একটি ভল্ট।
সেখানে রাখা হবে—

অবৈধ সোনার বার

অফলাইন হার্ডড্রাইভ (যা কোনো ইন্টারনেটে যুক্ত নয়)

এবং এমন তথ্য, যা প্রকাশ হলে রাষ্ট্র কেঁপে উঠবে

আরিবা বুঝলো—
এই ভল্ট শুধু সম্পদের জন্য না।
এটা ছিল কারিমের আত্মার কবরস্থান

সে নীরবে একটি কাজ করলো।
ভল্টের কন্ট্রোল সিস্টেমে এমন একটি কোড ঢুকিয়ে দিল,
যা বিপদের সময় সতর্ক করবে না—
বরং দেরি করাবে

অভিশপ্ত মরুভূমি

ভল্ট নির্মাণের সময় থেকেই অদ্ভুত ঘটনা ঘটছিল।
শ্রমিকরা বলতো—রাতে বালুর নিচে শব্দ হয়।
যেন কিছু নড়ছে।

কারিম হেসে বলতো—
“লোভ না থাকলে ভয় জন্মায়।”

সে নিজে ভল্ট দেখতে গেল এক ঝড়ের রাতে।
তার বিশ্বাস ছিল—নিজের সম্পদের পাশে থাকলে সে অমর।

ক্লাইম্যাক্স: শেষ হিসাব


ভল্টের ভেতরে সোনার সিন্দুক, হার্ডড্রাইভ, দলিল—সব কিছু ঝকঝক করছিল।
কারিমের চোখে তখন উন্মাদ তৃপ্তি।

ঠিক তখনই মাটি কেঁপে উঠলো।

প্রথমে হালকা।
তারপর ভয়ংকর।

দেয়ালে ফাটল।
ছাদ থেকে বালু ঝরছে।

নিরাপত্তা দল চিৎকার করলো—
“স্যার, সময় নেই!”

কারিম তাকালো সিন্দুকগুলোর দিকে।
এক মুহূর্তের জন্য তার মাথার ভেতর দুইটা কণ্ঠ—

একটা বলছে: বাঁচো
আরেকটা বলছে: সব হারাবে

সে সিন্দুক আঁকড়ে ধরলো।

কিন্তু সে বুঝলো না—
বালু তাকে নয়,
তার সম্পদকেই কবর দিতে এসেছে।

তার আঙুলগুলো যখন শেষবারের মতো সোনায় বিঁধছিল,
ঠিক তখন তার কানে বাজলো সেই বাক্য—

“যা জমাও, তা তোমাকেই গ্রাস করবে।”

ভল্ট ধসে পড়লো।
বালু সব ঢেকে দিল।

কারিম জাহান করিম—
তার সম্পদ, তার ভয়, তার অহংকারসহ—
সবাই একসাথে দাফন হলো।

পরের দিন

সংবাদে বলা হলো—
“প্রাকৃতিক দুর্যোগ।”

কারো নাম নেই।
কোনো দেহ নেই।
কেবল একটি নিখোঁজ সাম্রাজ্য।

উত্তরাধিকার

কয়েক সপ্তাহ পর আরিবার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।
শেষ লাইনে সে লেখে—

“কারুন ভেবেছিল সম্পদ তাকে রক্ষা করবে।
ইতিহাস প্রমাণ করেছে—
সম্পদ শুধু আয়না।
সে মানুষকে বাঁচায় না,
সে মানুষকে প্রকাশ করে।”



মরুভূমিতে আজও ঝড় হলে,
বালুর নিচে ধাতব কিছু ঝলক দেয় বলে শোনা যায়।

লোকেরা বলে—
ওটা সিন্দুক না।
ওটা এক মানুষের অহংকার,
যাকে আল্লাহ মাটির নিচে নামিয়ে দিয়েছেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজব পোশাক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬


এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×