somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্বাবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ৩

০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
প্রথম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব ১
২য় পর্বে থাকা গবেষনাটির সমস্যা লিংক – পর্ব ২

৩য় পর্ব- ১.৩ গবেষণার উদ্দেশ্য (Research Objectives)

১.৩.১ প্রধান উদ্দেশ্য (General Objective)
এই গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সের ভূমিকার সঙ্গে দেশের কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্ভাবনাকে তুলনামূলকভাবে মূল্যায়ন করা এবং বিশ্লেষণ করা যে, কীভাবে একটি বহুমুখী, উৎপাদনমুখী ও টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ইতিবাচক অবদান বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনশীল খাতসমূহ আরও শক্তিশালী হয়ে জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তিকে দীর্ঘমেয়াদে অধিকতর স্থিতিশীল ও আত্মনির্ভর করে তুলতে পারে।

এই গবেষণা কোনো একটি অর্থনৈতিক খাতকে অন্যটির বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস নয়। বরং এর লক্ষ্য হলো বাস্তব তথ্য, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে নির্ণয় করা যে, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশলে রেমিট্যান্স, কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এই চারটি উপাদানের মধ্যে কী ধরনের সমন্বয় সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।

১.৩.২ সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য (Specific Objectives)
এই গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিম্নোক্ত সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যসমূহ নির্ধারণ করা হয়েছে-
(১) বাংলাদেশের রেমিট্যান্স অর্থনীতির সামগ্রিক অবদান মূল্যায়ন
বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান, প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থনৈতিক অবদান, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, জাতীয় আয়, দারিদ্র্য বিমোচন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের প্রভাব বিশ্লেষণ করা।

(২) মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর শ্রমবাজারের সুযোগ ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ
বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রধান গন্তব্য দেশসমূহ, কর্মসংস্থানের প্রকৃতি, দক্ষতার স্তর, আয়, শ্রম অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মূল্যায়ন করা।

(৩) বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের প্রকৃত অর্থনৈতিক সক্ষমতা নির্ণয়
দেশের আবাদযোগ্য জমি, বহু-ফসলি কৃষি, সেচব্যবস্থা, মিঠাপানির মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, দুগ্ধশিল্প এবং কৃষিজ উৎপাদনের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা।

(৪) কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা মূল্যায়ন
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, কোল্ড চেইন, দুগ্ধশিল্প, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, চামড়া, জৈব সার, কৃষিযন্ত্র এবং অন্যান্য কৃষিভিত্তিক শিল্পের মাধ্যমে কী পরিমাণ কর্মসংস্থান ও মূল্য সংযোজন সম্ভব, তা মূল্যায়ন করা।

(৫) বৈদেশিক শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরতা হ্রাসের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা (Feasibility) বিশ্লেষণ
দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৈদেশিক শ্রমবাজারের ওপর অতিনির্ভরতা কতখানি কমানো সম্ভব এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব কী হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করা।

(৬) কৃষিভিত্তিক রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা মূল্যায়ন
উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য, ফল, সবজি, মাছ, চিংড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং অন্যান্য কৃষিভিত্তিক রপ্তানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার, প্রতিযোগিতা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা।

(৭) আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য শিক্ষা নির্ধারণ
নেদারল্যান্ডস, ইসরায়েল, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ব্রাজিল, চীন, এবং দক্ষিণ কোরিয়াসহ কৃষিনির্ভর অর্থনৈতিক রূপান্তরে সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী নীতিগত শিক্ষা চিহ্নিত করা।

(৮) অর্থনৈতিক ব্যয়–সুবিধা (Cost–Benefit) ও তুলনামূলক সুবিধা (Comparative Advantage) বিশ্লেষণ
রেমিট্যান্সনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো এবং কৃষিভিত্তিক উৎপাদনমুখী অর্থনীতির সম্ভাব্য ব্যয়, সুবিধা, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, মূল্য সংযোজন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার তুলনামূলক মূল্যায়ন করা।

(৯) ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অর্থনৈতিক নীতির পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ
মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার, জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থনৈতিক স্বার্থের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা, যাতে অর্থনৈতিক নির্ভরতা কীভাবে পররাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে এ বিষয়ে প্রমাণভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করা যায়। একই সঙ্গে এ কথাও মূল্যায়ন করা হবে যে, রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি সাধারণত বহুমাত্রিক কৌশলগত বিবেচনার ভিত্তিতে গঠিত হয়; তাই কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তকে একক কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা কতখানি যুক্তিসঙ্গত।

(১০) টেকসই অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য নীতিগত সুপারিশ প্রণয়ন
গবেষণার ফলাফল, পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার আলোকে বাংলাদেশের জন্য এমন একটি সমন্বিত নীতিকাঠামো (Integrated Policy Framework) প্রস্তাব করা, যার মাধ্যমে
- কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের আধুনিকায়ন,
-উচ্চমূল্য সংযোজনভিত্তিক উৎপাদন বৃদ্ধি,
-দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন,
-বৈদেশিক কর্মসংস্থানের গুণগত মান বৃদ্ধি,
-কৃষিপণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণ,
-গ্রামীণ শিল্পায়ন,
-এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা
একযোগে নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।

১.৩.৩ গবেষণার প্রত্যাশিত অবদান (Expected Contribution of the Research)
এই গবেষণা থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে প্রচলিত -রেমিট্যান্স বনাম কৃষি- বিতর্ককে একটি নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করবে। গবেষণাটি দেখানোর চেষ্টা করবে যে, উন্নয়নের প্রশ্নটি কোনো একক খাতের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং উৎপাদনশীল কৃষি, আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্প, দক্ষ মানবসম্পদ, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং কৌশলগত বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সমন্বয়েই একটি অধিকতর স্থিতিশীল ও টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠতে পারে।

একই সঙ্গে এই গবেষণা নীতিনির্ধারক, গবেষক, উন্নয়ন পরিকল্পনাবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অর্থনীতি বিষয়ক গবেষকদের জন্য একটি তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণাত্মক কাঠামো প্রদান করবে, যা ভবিষ্যৎ নীতি প্রণয়ন ও গবেষনা সহায়ক হতে পারে ।

চতুর্থ পর্বে গবেষনাটির প্রশ্ন ( Research Questions) পাঠের আমন্ত্রন রইল ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

যতবার শেষ, ততবার শুরু

লিখেছেন রাজসোহান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১



তেরো বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের মা মারা যান। জীবনস্মৃতিতে তিনি সেই রাতের কথা লিখেছেন। "যে রাত্রীতে তাঁহার মৃত্যু হয় আমরা তখন ঘুমাইতে ছিলাম। তখন কত রাত্রি জানি না, একজন পুরাতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই যোদ্ধা!

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৭


এই লোকটির নাম আল আমিন। সে বিশেষ একটি দলের হয়ে জুলাই মঞ্চে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেয় মাঝেমধ্যে। এর সম্পর্কে গুরুতর একটি অভিযোগ উঠেছে, সে নাকি ৫ আগস্ট দিবাগত রাতে ময়মনসিংহের দাপুনিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি যা জানো, আমি তা জানি না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



তোসার সাথে কথা চালাচালি হয় না মেলাদিন;
বসন্তদিনে অস্ত গেলেই বেশ জমিয়ে,
আড্ডা হতো চিলেকোঠার বারান্দায়।
তোমার মতো স্মৃতিশক্তি প্রখর না হলেও
ভালোই হতো স্মৃতিচারণ।
কতো যে স্মৃতিসমষ্টি- দগদগে-... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারী প্রতিষ্ঠান বিটিভির মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছে বেসরকারী ব্যক্তি কাজি জেসিন!

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৫২




আশির দশককে বলা হয় বিটিভির নাটকের স্বর্ণযুগ । সেই সময়ে বিটিভিতে মহাপরিচালক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান,এম এ সাঈদ , জামিল চৌধুরি প্রমুখ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×