
জীবনটা আজকাল বড় অদ্ভুত নিয়মে চলছে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় এক রকম থাকে, আর সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি দুনিয়াটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। গতকাল রাত বারোটা এক মিনিট থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসতেই চারপাশটা যেন কেমন থমকে গেল। বরিশালের পেট্রোল পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখলে যে কেউ আঁতকে উঠবেন। সবার একটাই কথা—লিটারে বিশ টাকা বাড়ল কীভাবে?
সকালে একটু হেঁটে এলাম নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে। এটি তো দক্ষিণ উপকূলের মূল গেটওয়ে। বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা কিংবা বরগুনার হাজারো গাড়ি যে এখান থেকেই ছোটে। সেখানে গিয়ে দেখলাম চালক আর যাত্রীদের মুখগুলো ভার। স্বরূপকাঠি থেকে আসা একটা বাসের চালক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ভাইরে, সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে তেল ভরে গাড়ি নিয়ে এসেছি। এই বাড়তি টাকা যাত্রীদের কাছ থেকে না তুললে তো আমার পরিবার না খেয়ে মরবে! অন্যদিকে যাত্রীরা বলছেন, আমাদের তো পকেট কাটার বন্দোবস্ত পাকা করা হয়েছে।
কথা বললাম ট্রাক শ্রমিকদের সাথেও। তাদের বক্তব্যও একই সুরে বাঁধা। শাকসবজি থেকে শুরু করে উত্তরাঞ্চল থেকে আসা সমস্ত খাদ্যপণ্যের পরিবহন খরচ এখন আকাশচুম্বী হবে। এর সোজা মানে হলো, বাজারে গেলেই চাল-সবজির থলিতে আগুন লাগবে। অথচ এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা কেউ একটু ভেবে দেখল না। সবকিছুর দাম বাড়াতে কারো হাত কাঁপে না, শুধু সাধারণ মানুষের বুক থেকে দীর্ঘশ্বাস বের হতে একটুও দেরি হয় না। জানি না এই অরাজকতা কোথায় গিয়ে ঠেকবে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





