somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজব পোশাক

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন জামাকাপড় পরে রাজদরবারে যেতে না পারলে তার মনটা খুঁতখুঁত করতো। রাজা হঠাৎ শুনতে পেল, তার রাজ্যের একজন তাঁতির কথা। তাঁতিটি নাকি খুব চমৎকার কাপড় বুনতে পারে। সেই কাপড়ের সুখ্যাতি দেশে-বিদেশে। রাজা তৎক্ষণাৎ সিপাহী-পাইক পাঠিয়ে দিলেন তাঁতিটাকে দরবারে হাজির করার জন্যে।

তাঁতি কাঁপতে কাঁপতে এসে রাজাকে সেলাম জানালো। রাজা বললেন, ওহে, তুমি কি আমার জন্যে খুব মিহি সুতোয় কাপড় তৈরি করে দিতে পারবে? তাঁতি জবাব দিল, নিশ্চয়ই পারব মহারাজ। আপনি হুকুম করলেই আমি বুনতে আরম্ভ করবো। এমন সরু আর পাতলা কাপড় আমি তৈরি করতে পারি যে, বোকা লোকেরা তা দেখতেই পারবে না। রাজা খুশি হয়ে বললেন, ঠিক কথাই বলেছো বটে, বোকা লোকেরা তা তো পারবেই না। আমি তেমনি মিহি কাপড়ের কথাই তোমাকে বলছি। যদি পারো তবে অনেক সোনাদানা বখশিস দেব। আজ আগাম এক হাজার মোহর নিয়ে যাও।

রাজা এই কথা বলে খাজাঞ্চিকে ইঙ্গিত করলেন। খাজাঞ্চি কয়েক তোড়া মোহর এনে তাঁতির সামনে রাখল। তাঁতি মোহরের তোড়াগুলো নিয়ে দরবার থেকে চলে গেল। তারপর দিনের পর দিন কাটতে লাগল। এমনি করে প্রায় দু’মাস চলে গেল। রাজা আশা করে রয়েছেন। একদিন তার উজির আর নাজিরকে তাঁতির বাড়িতে পাঠালেন।

এদিকে তাঁতি সেই মোহরগুলো নিয়ে খুব আরামে মাংস-পোলাও খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। আজ হঠাৎ উজির আর নাজিরকে দূর থেকে দেখতে পেয়ে তার মুখ শুকিয়ে গেল। এতদিনে সে এক টুকরো কাপড়ও তৈরি করেনি। শুধু আমোদ আর মজা করে দিন কাটিয়েছে। তাঁতি আর একটুও দেরি করল না। তাড়াতাড়ি গিয়ে তাঁতের কাছে বসলো। এদিকে সুতো দেয়ার সময়ও আর নেই। অগত্যা সে সেই খালি মাকুটা তাঁতের মধ্যে চালিয়ে কাপড় বোনার ভান করতে লাগল।

ততক্ষণে উজির আর নাজির সেখানে এসে হাজির। তাঁতি তাড়াতাড়ি উঠে তাদের দুজনকে বসার জন্যে দুটো আসন দিল। তারপর আবার সে কাপড় বোনার ছল করে খালি মাকুটা ঠকঠক করে চালাতে লাগল। উজির আর নাজির সেদিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল, কিন্তু কোনো কাপড়-টাপড় তারা দেখতে পেল না। সে সময়ই তাদের মনে পড়ল তাঁতির কথা। রাজদরবারে সে রাজার কাছে বলেছিল, যারা বোকা তারা এ কাপড় দেখতে পায় না। সুতরাং দুজনের কেউই বোকা হতে চাইল না। তাই উজির হঠাৎ বলে উঠল, বহুৎ চমৎকার কাপড় তৈরি করছে তো তাঁতি ভায়া!

নাজির তাকে সায় দিয়ে বলল, কাপড়ের যেমন জমিন তেমন নকশা। এমন না হলে রাজামশায়ের পছন্দ হবে কেন? তবে জলদি জলদি কাপড়টা শেষ করে দাও তাঁতি ভায়া। তাঁতি একগাল হেসে জবাব দিল, আর একটুখানি বাকি আছে হুজুর। সাত দিন পরে আমি কাপড় নিয়ে রাজদরবারে হাজির হবো। তাঁতির কথা শুনে উজির আর নাজির খুশি হয়ে চলে গেল।

ঠিক সাতদিন পরে তাঁতি চলল রাজদরবারে। দরবারে পৌঁছে রাজার সামনে হাঁটু পেতে বসলো, এরপর নত হয়ে কাপড় নামিয়ে রাখার মতো ভঙ্গি করলো। রাজা সেদিকে চেয়ে খুব খুশি হয়ে চিৎকার করে উঠল, বাহ, কী সুন্দর কাপড়! এরপর একজন সিপাহীর দিকে হুকুম করলেন, একজন দরজিকে জলদি হুকুম করো। সিপাহী ছুটতে ছুটতে গিয়ে শহরের একজন খুব নামজাদা দরজিকে ডেকে আনলো। দরজি এসে হাতজোর করে দাঁড়ালো। রাজা বললেন, এই কাপড় দিয়ে খুব ভালো দুটো জামা তৈরি করে দ্যাও।

দরজি কোনো কাপড় কিন্তু দেখতে পেল না। এরপরও সে হাতজোড় করে বলল, জি মহারাজ, এখুনি তৈরি করতে আরম্ভ করছি। এই কথা বলে সে কাঁচি বের করে রাজদরবারের মধ্যেই কাপড় কাটার মতো ভঙ্গি করতে লাগল। তারপর কাটা শেষ হলে সুঁই বের করে সেলাই করার ভান করতে লাগল। সভার পাত্রমিত্র, নায়েব-গোমস্তা কেউ-ই কাপড় দেখতে পায় না, অথচ সবাই বলে, চমৎকার! চমৎকার!

সেলাই শেষ করে দরজি বলল, মহারাজ, এইবার এই জামাটা পরুন। তবে তার আগে আপনার গায়ে যে জামাটা আছে সেটা খুলে ফেলতে হবে। রাজা দেহ থেকে সব জামাকাপড় খুলে ফেললেন। দরজি শূন্য দুটা হাত তুলে রাজার শরীরে জামা পরিয়ে দেয়ার মতো অঙ্গভঙ্গি করলো। উজির-নাজির সবাই বলে উঠল, অপূর্ব! অপূর্ব! এমন চমৎকার জামা সত্যিই মহারাজকে সুন্দর মানিয়েছে। যেমন কাপড়, তেমন জামা হয়েছে। রাজা খালি গায়ে কিছুক্ষণ সভার মধ্যে পায়চারি করলেন। আপন মনে ভাবতে লাগলেন, এই আজব নতুন জামা গায়ে দিয়ে তাকে অপরূপ লাগছে! এরপর রাজা গোঁফে তা দিতে দিতে সিংহাসনে গিয়ে বসলেন।

মুল লেখা :The emperor's new clothes যার বাংলা সংস্করণ শিশুকিশোরদের জন্য লিখেছেন বন্দে আলী মিয়া ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মন বাগানে ফুটে আছে রঙবাহারী ফুল=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫



তুমি তো আর করলে না যাচাই, মন আমার মন্দ কী ভালো,
প্রেম কথনে ভরালে না মন, ভালোবেসে করলে না মনঘর আলো;
মনের শাখে শাখে ঝুলে আছে মধু মঞ্জুরী ফুল,
কী মুগ্ধতা ছড়িয়ে পাপড়ির... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

“Epstein “ বুঝতে পারেন ! কিন্তু রাজাকার,আলবদর,আলশামস আর আজকের Extension লালবদর বুঝতে পারেন না ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৮

মূলত এটি একটি ছবি ব্লগ। এক একটি ছবি একটি করে ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কস্টের অধ্যায়।

এপস্টেইন ফাইল দেখে আপনারা যারা বিচলিত, জেনে রাখুন ভয়াবহ আরেক বর্বরতা ঘটেছিলো ৭১এ এদেশেই, আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×