মুমিত: বাবা..বাবা...এ্যাই বাবা...
বাবা: জ্বি বাবাই। বলো বাবাই!!
মুমিত: তুমি কোথায় গিয়েছো!! আমি তোমাকে খুঁজি।
বাবা:তুমি আমায় খুঁজো! কেন বাবাই!!
মুমিত: ঐ যে একটা পাখি। ঐ যে সকাল বেলা। বলে 'মুমিত উঠো'।
বাবা: হুম.. কোথায় বলে বাবাই?
মুমিত: জানালায়। তুমি কোথায় গিয়েছো!! আমি কান্না করি। তুমি গিয়েছো।
বাবা: আমি অফিসে গিয়েছিলাম। অনেক কাজ।
মুমিত: তুমি আমাকে নিয়ে যাওনি। আমি কান্না করি। জেব্বা (জেব্রা) কান্না করে।
বাবা: জেব্রাটার আবার কি হলো?
মুমিত: জেব্বাটাকে মশা কামড়ে দিয়েছে।
বাবা: তাই!! বাবাই জেব্বাটা খুব ব্যাথা পেয়েছে!!
মুমিত: হুম। জেব্বাটার আম্মু ওষুধ দিয়েছে।
বাবা: তাই!!
মুমিত: জেব্বা বাবু বলে হাতি দেখবো!
বাবা: তারপর!
মুমিত: আমি তোমার বোতাম খুলে দিবো!!
বাবা: তুমি পারবেনা।
মুমিত: আমি পারিতো। ঐ যে আমি বড়। ঐ যে বাবা বলে বড়।
বাবা: ঠিক আছে বাবাই। তুমিই খুলে দাও।
মুমিত: একটা ছিলো হাতি। বড় হাতি।
বাবা: কত বড় হাতিরে সোনা?
মুমিত: এত বড় হাতি (ওর ছোটছোট দুইহাত দুইদিকে প্রসারিত করে দেখালো)
বাবা: এত বড় হাতি!! তারপর কি হলো!!
মুমিত: আর একটা ছিলো বাবু হাতি।
বাবা: বাবু হাতি!! বাবু হাতিটা কি বলে!!
মুমিত: বাবু হাতিটা বলে। ঐ যে পানি খাবো।
বাবা: তারপর, বাবাই!
মুমিত: বাবু হাতিটা হাটতে হাটতে হাটতে যায়।
বাবা: কোথায় যায়?
মুমিত: একটা নদীতে যায়!! জঙ্গলে একটা নদী আছেনা। নদীতে যায়।
বাবা: তাই!! নদীতে কি আছে বলো'তো জানটুশ?
মুমিত: ইয়িশ (ইলিশ) মাছ আছে। রুই মাছ আছে। কাতলা মাছ আছে। লাল মাছ। নীল মাছ। সবুজ মাছ। বাবু মাছ।
বাবা: এতো মাছ!!
মুমিত: বাবু মাছটা ভয় পেয়েছে।
বাবা: কেন?
মুমিত: ঐ যে বাবু হাতিটা। বাবু মাছটা। মা চলে গেছে।
বাবা: আহা-রে। তারপর কি হলো!!
মুমিত: বাবু হাতিটা বলে কি, ঐ যে আমি বাবু মাছ খাইনা।
বাবা: তারপর!!
মুমিত: বাবু মাছটা সাতার কাটতে কাটতে আম্মু গেছে।
বাবা: বাবু মাছটার আম্মু কি বললো।
মুমিত: আম্মু বলে দুষ্টম-ই করো না। বাবু মাছটা ভয়। লালটু পাগল আসবে। ওরে বাবা আমি ভয় পাই।
বাবা: এই গল্পটা তোমাকে কে বলেছে!!
মুমিত: পানি দিয়ে খেলবো!! খেলবো'তো।
বাবা: হুশশশশ... বাবাই। আম্মু শুনলে বকবে।
মুমিত: আম্মু রাগ। একটু খেলবো। খেলবো'তো। দুষ্টম-ই করবোনা।
বাবা: চলো!! তাড়াতাড়ি করে খেলে নেই!!
মুমিত: ঐ যে বলো ক-এ কলা, খ- খাই
বাবা: ক- এ কলা, খ-এ খাই
মুমিত: এতো বেশী খেতে নাই..
এই গানটা গাইতে গাইতে দুজনে পানি দিয়ে খেললাম। গোছল করলাম। তারপর ওর আবদার অনুযায়ী আমার নিজ হাতে ওকে পাউডার দিলাম, কাপড় পড়ালাম। আমার সাথে বসে অল্ল খেলো। তারপর ঘুম। এখনো ঘুমোচ্ছে। অফিসের কাজ আর ভালো লাগেনা। আহ সারাদিন যদি ওর সাথে কাটানো যেত। সপ্তাহের সাতটা দিন, মাসের ত্রিশটা দিন যদি ওর সাথে এভাবেই কাটাতে পারতাম!! আমাদের এইসব ছোটছোট চাওয়াগুলো কখনই পূরন হবেনা। এটাই সত্য, এটাই বাস্তবতা।
আড়াই বছর বয়সী পুত্রের সাথে পিতার কথোপকথন-১
Click This Link
আড়াই বছর বয়সী পুত্রের সাথে পিতার কথোপকথন-২
Click This Link
আড়াই বছর বয়সী পুত্রের সাথে পিতার কথোপকথন-৩
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১২:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


