!ইনক্রেডিবল লাড্ডু! থুক্কু পুরাই ইন্ডিয়া ২

মেইক মাই স্লিপ ডট কম, মাগার পয়সা বেশি
দিল্লী এয়ারপোর্ট মে উতারকার হামারা দিমাগ ঘুম গায়া, কিতনা সুন্দার হ্যায়


অভিজ্ঞ এক পুংটা পোলা ব্যাক-প্যাকারসগো ঠাঁই নেওনের জন্য পাহাড়গঞ্জের মেইন বাজার রোডের হোটেলের কথা কইয়া দিছিল।

এইটা বেশ ঘণবসতিপূর্ণ হোটেল জোন। আগে থেইকা যেই হোটেলগুলা নেটে সার্চ কইরা গেসিলাম, সেগুলাতে ফোন লাগাইলাম। কোনটাই কনভিন্সিং উত্তর দিতে পারলো না। অবশেষে মেক মাই ট্রিপের বুথে যাইয়া বুকিং দিলাম সাহার ডিলাক্স ইন্টারন্যাশনালে। নন এসি তিন রুম, ১১০০ রূপী কইরা একেক রুম। সাথে একটা বেড এক্সট্রা দেওনের লাইগা এক্সট্রা ২০০ রুপী। মর জ্বালা।
এরপর ৩৫০ রূপী একেকটা কইরা বুকিং করলাম দুইটা খচ্চর মাইক্রোবাস। খচ্চর এই কারণে যে এইটার সাইজ এত ছোট যে এইটারে পূর্ণাঙ্গ মাইক্রোবাস কওন যায় না আবার অন্য কোন গাড়ীর মতও এইটা না। তো শেষ পর্যন্ত উইঠা বসলাম। মধ্যরাতের দিল্লী খারাপ লাগলো না। বিশেষ কইরা এতক্ষণ পর সিগারেট খাইতে পাইরা। মধ্যরাতেও গরম লু হাওয়া আভাস দিল দিনের বেলায় ওয়েদারের কি মেনু ওয়েট করতাসে। কিন্তু তখনো কি আর আমি জানি কোন ধরণের সিস্টেমেটিক বাটপারদের মধ্যে আইসা পড়ছি। দুইদিনের মধ্যেই সেইটাও পরিষ্কার হয়ে গেছিলো।
সাহারা তো আর মিলে না

দেশে সাহারার জ্বালায় অস্থির আর এইখানে সাহারারে খু্ইজ্জা না পাইয়া অস্থির। অনেকক্ষণ ধইরা খোঁজাখুঁজির পরেও হোটেল তো আর মিলে না। নিশুতি রাতে পথের মানুষদের জিগাইয়া জাগাইয়া কোনক্রমে একটা ঠিকানার দিকে যাইতাছি। জার্নির ধকলে সবাই ক্লান্ত। এমন সময় পথ আটকাইয়া খারাইলো এলাকার রেজিস্টার্ড পাগল। আমাদের ইটা নিয়া দৌড়ানী দিতেই আমরাও চিল্লাইয়া উঠলাম। এরপর বসের একটু দয়া হইল, তিনি সইরা খারাইলেন। নানান অলিগলি খুইজ্জা হাজির হইলাম হোটেলের সামনে।
রাত তিনটা পর্যন্ত হোটেল ম্যানেজারের কাছে সবার পার্সপোর্ট আর ডিটেইল লিখাইয়া যখন বিছানায় গেলাম তখন তুমি কার কে তোমার বলে জীব কোরোনা ক্রন্দন অবস্থা।

আররে!!! মামু পুরান ঢাকায় আয়া পড়ছি তো
ঘুম ভাঙ্গাইতেই হইল মেক্সিকো এম্বেসী যাওনের লাইগা। রাতে আর কিছু পেটে পড়ে নাই। বিরাট ক্ষুদা লাগছে। গোসল সাইরা নিচে নাইমাই দেখি আররে!!! মামু পুরান ঢাকায় আইয়া পড়ছি।

গলির নাম সাংত্রাশান বাজার। হোটেলের সামনেই নাস্তা হিসাবে ছোলা বাটোরা বিক্রী হইতাছে। এলাকার লুকজন পুরা গেঞ্জাম কইরা নাস্তা কিনতাসে। গোলাব জামুনের লগে পুরি

এইটাও নাস্তা। তয় সবকিছুর লগেই দিল্লীর লুকজন বিয়াপক ঝাল মিশায়ই খায়। এইটা হইল দাবদাহের সাথে ফাইট করণের পদ্ধতি।

আমরাও প্রতি প্লেট দশ রুপী দিয়া ছোলা বাটোরা খাইলাম সেই সাথে দশ রুপীর লাস্সি। সেই লাস্সি এই ফাটা গরমে কি যে লাস্যময় তা বইলা বোঝানো কঠিন।

ঠিক এই সময় চোখের সামনে দিয়া একটা ডানা কাটা পরীরে দেখলাম রিকশায় কইরা যাইতাসে। পুবে আলোয় তারে পুরা অপ্সরা লাগতেছিল। আমার চোখের সামনে দিয়া স্লো মোশানে সে ধীরে ধীরে চইলা গেল। হাতের ক্যামেরা যেমন ছিল তেমন অনড় পইড়া রইল। পুরা ইন্ডিয়া ভ্রমণে তার মত সুন্দর আল্লার বান্দা আর চোখে পড়ল না।
ভাইসাব চানক্যপুরী যায়েঙ্গে?

গলি থেইকা বাইরাইয়া অটো (আমাগো সিএনজি) ঠিক করতে করতে দম বাইরাইয়া গেল। এলাকার লুকজন ফাল দিয়া বাসে উইঠা পড়তাসে।

কি আর করা ট্যুরিস্ট মদন হওন ছাড়া আর কোন উপায় থাকলো না। অটোতে বলে ৩ জনের বেশি উঠন যায়না।

বিরাট জরিমানা। তাইলে ডানপাশে আরেকজন বসার লাইগা রেলিং দিয়া রাখসো ক্যান? হালার রেজিষ্টার্ড দুই নম্বরী। একটাতে তিনজন আর একটাতে চারজন (একজন আমার কোলে) নিয়া অবশেষে দিন দুনিয়া পার কইরা যখন ইন্ডিয়ান মেক্সিকো এম্বেসী পৌছলাম তখন সকাল ১১টা বাজে।
মেক্সিকো যাবি? আগে পরীক্ষা দে

এম্বেসির ভিতরে ঢুইকা বইসা আছি তো আছি। ভিতরে এক মোছআলা ইন্ডিয়ান বিরাট কতৃত্ব কইরা বাইরাইতাছে। আমরা গরুর পালের মত ভদ্র হইয়া বসলাম। মনে অনেক আশা, কারণ তারা বলছিল একদিনেই ভিসা হবে। আর মেক্সিকোর ভিসা নিয়া এত ফালাফালির কি আছে। সব ধরণের কাগজপত্রই তো সাথে আছে। সবার ভিসা নিয়া কাজকারবার শেষ হওয়ার পর কাউন্টারে ডাক পড়ল। আমরা ততক্ষণে ঢুলতাসি আর মেক্সিকোর ব্রশিওর নিয়া টানাটানি করতাছি। কোন জায়গায় যাব কোথায় থাকবো ইত্যাদি ইত্যাদি।

ইন্ডিয়ান মেক্সিকান এম্বেসী
তো সেই ইন্ডিয়ান মোছওয়ালা অবশেষে সবার কাগজপত্র নিলেন। এরপর যেইটা শুরু হইল সেইটা হল তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। যে যেই পেপার প্রেজেন্ট করবে সেইটার ব্রীফ তারে বুঝাইয়া দেও। সে এক বিরাট পরীক্ষা। পুরা ছিলা কলা। সে পেপারের টাইটেল জিগ্গেস করে, কন্টেন্ট নিয়া কথা কইতে কয়। লোভে লোভে ভয়ে ভয়ে আমরা পরীক্ষা দিলাম। আমাদের পরীক্ষা যখন শেষ হইল, তখন সে বলল, “নাও কাম টু দ্যা প্র্যাকটিক্যাল থিং”। আরে মদন এতক্ষণ ধইরা কি আমরা মজা করতে ছিলাম? সাতখন্ড রামায়ণ পাঠের পর সে জানাইলো যে সিতাই আসলে রামের মা। আমাদের মেক্সিকোর ভিসা হবে না। কারণ আমাদের নাট নাম্বার নাই।
কি সে নাট কি সে বল্টু?
ইন্ডিয়ান মদন যখন জিগাইতেছিল আমরা কার সাথে যোগাযোগ কইরা এইখানে আইলাম। ক্যামনে কি করলাম। তখন আমি ফিল্ডে ঢুকলাম। আমি বললাম যে তোমাদের সাথে তিনমাস ধইরা যোগাযোগ কইরা আইজ এইখানে আইছি। হাজার টাকার ফোন খরচ কইরা জানতে চাইছি কাহিনী কি। তোমরাই কইছো এই এই লাগবো। কইছো একদিনেই কাহিনী ফিনিশ। আমার লেখা একটা মেইলেরও উত্তর দাও নাই। এখন তো আর ভং ধরলে হবে না মন্টু। তখন সে খোলাশা করল সে আমার ডিটেইল মেইল ঠিক ই পাইছিল মাগার বিশ্বাস যায় নাই। এখন আমাগো দেইখা তার বিশ্বাস হইছে, আমরা রিয়েল। তারে এই বিশ্বাস করানির লাইগা নেট খরচ দুই লক্ষ পয়তাল্লিশ হাজার টাকা মাত্র। এখন আইসা তিনি বলেন, মেক্সিকোর হোম-মিনিষ্ট্রি দিয়া ব্যুরোক্রেটিক চ্যানেলে জনপ্রতি একটি বিশেষ নাম্বার লাগবো। উহাই নাট নাম্বার। এরপর তিনি আশ্বাস দিলেন এখনও হতাশ না হওনের এবং নির্দেশ দিলেন এই দুই দিনে নাট নাম্বার জোগার করণের লাইগা।

ইন্ডিয়ার বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরোর কাহিনী এর মধ্যেই আমার কাছে বিরিশিরি নদীর মত পরিষ্কার হয়ে গেছিল। বিশ্বের যে কোন দেশের ভিসা প্রসেস মূলত ম্যানুয়াল। দুই দেশের এবং অর্ন্তবর্তী দেশের যোগাযোগ এবং ক্ষমতা প্রদর্শিত হয় এই ভিসা প্রসেসিং এ। কানকুন সম্মেলনে দেড়শ বাংলাদেশী আরামসে মেক্সিকো ঘুরে এসেছে কারো কোন সমস্যা হয় নি। এই সমস্যা দ্বিপাক্ষিক ।
এক: মহান ইন্ডিয়া এই উপমহাদেশের মেক্সিকান ভিসা দেওনের জায়গীর নিয়া বইছে।
দুই: মেক্সিকো মনে করতাছে যে তাগো ড্রাগ আর আর্মস ভরপুর রাষ্ট্রে যাইয়া আমার নানান দিকে ছুট দিতে পারি।
কিন্তু স্কলারলি আদান প্রদানে বাংলাদেশ যে অনেক আগাইয়া গেছে এইটা এই দুই পক্ষের কেউই গণ্য করতে চায় না।
কারণ:
এক: ইন্ডিয়ার সাথে বাংলাদেশ কম্পিটিশনে আইসা পড়ে। তার একার মুরুব্বীআনা থাকে না। বাংলাদেশ থেকে কেবল শ্রমিকরা (আন্তরিক শ্রদ্ধার সাথে) বাইরে যায়না। ইন্টেলেকচুয়াল শ্রমিকও বাইরে যাইতে পারে। তারা দেশের জন্য আরো সুযোগ নিয়ে আসতে পারে। বাংলাদেশরে আরো এক্সপোজার দিতে পারে। তাতে ইন্ডিয়ার ইন্টেলেকচুয়াল মার্কেটে মনোপলি থাকেনা।
দুই: চির অলস মেক্সিকো একটা সত্যিকার মানের আর্ন্তজাতিক কনফারেন্স আয়োজন করতে হয়ত চায়। কিন্তু নিজেগো দেশের ব্যুরোক্রেসী আর বাংলাদেশীদের প্রতি এথনোসেন্ট্রিক ভিউ পয়েন্টের বাইরে যাওনের জন্য যে উদ্যম তা গ্রহণ করবে না।
আলাপ যখন শেষের দিকে, ইন্ডিয়ান মোছওয়ালা যখন বিগ ব্রাদার ঢংয়ে মিষ্টি কইরা না বলার চেষ্টা করতাছে, তখন মেক্সিকোর চিফ অফ ম্যানেজমেন্ট বেডি চিক্কর দিল। আমার তখনি মনে হইল কাহিনী শেষ পর্যন্ত হ্যাপী এন্ডিং এর দিকে যাইবো না।

এই সেই বুড়ি (অরিজিনার ছবি না) যিনি শেষ পর্যন্ত আমাগোরে ভিসা দেয়া নাই। বুড্ডি খাসুট।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০১১ সকাল ৯:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



