somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

!ইনক্রেডিবল লাড্ডু! থুক্কু পুরাই ইন্ডিয়া ১

২৭ শে মে, ২০১১ সকাল ১১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই দেশের মানুষদের মধ্যে এমন কাউরে খুইজা পাওন কঠিন যার কখনোই, একবারের জন্য হইলেও লাড্ডু খাইতে মন চায় নাই। সেমি-বুইড়া পাব্লিকগো আশেপাশে দিল্লীকা লাড্ডুর কথা কইলেই দেখবেন একটা বিশেষ আলো তাগো ফেইসে খেলা করতে থাকে। আবার কেউ কেউ আছেন যাগো মুখ বিশেষ স্মৃতিতে আন্ধার হয়া যায়। আর প্লে-বয় টাইপগো সামনে তো এই কথা কওনই যায় না। তারা ফাল দিয়া, টক্কা দিয়া কইতে থাকে দিল্লীর কোন কোন দোকানের লাড্ডু কেমন। এমনকি তারা যদি কোনদিন দিল্লী নাও গিয়া থাকে তাইলেও। জীবনের অর্ধেক সময় অবশ্য তারা ইন্ডিয়ান টিভির সামনেই কাটায়া দিছে। দেশের কোন দোকানের লাড্ডু কেমন এই নিয়া তাগো বিশাল গবেষণা আগে থেকেই করা আছে য্যান। এক্কেরে ফার্স্ট হ্যান্ড। বাট আইজকা আপনাদের কাছে যেই বিষয় নিয়া হাজির হইছি সেইটা চিরাচরিত দিল্লীকা লাড্ডুর “সেই..” মিনিং এর বিষয় না। কি হইল! ইন্টারেস্ট ফিনিশ?

ইন্টারেস্টের বহুত কিছু আছে বোনডি-ভাইটি। দিল্লীকা লাড্ডু কি আর সেই লাড্ডু আছে? ইন্ডিয়া কা লাড্ডু আপনের পছন্দ না হইলেও খাইতে হবে, টিভি দেখেন না? কাপড় পড়েন না? কসমেটিক মাখেন না? চালডালআলু কিংবা ডাইল চারপাশে ঘিরে আছে। উপমহাদেশের নামই তো ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্ট। মেনে নিলাম যে এসব ইতিহাসের গল্প। কিন্তু বর্তমান! সমগ্র এশিয়ায়, আমেরিকা কেডা? তিনি হইলেন ইন্ডিয়া, তারে আপনে ক্যামনে এড়াইবেন?
যা কইতেছিলাম, বাংলাদেশের আপামর মানুষের মত বাধ্য হইয়াই আমারো যাইতে হইছিল লাড্ডু খাইতে। ভির্তে এক্টা চালুম ভুলুমও চলতে আছিল। আসলে একটা দাওয়াত পাইছিলাম, সামনের জুন মাসে। মেক্সিকোর একটা কনফারেন্সে যাওনের লাইগ্যা। ফলে দেখা গেল যতটা আপাত মর মর আমি নিজেরে দাবী করতাছি ততটা আপামর আমি আসলে না। আন্ত:সাংস্কৃতিক কনফারেন্স, বিশাল গরু ছাগলের হাট। দেশীয় গরু হিসেবে আমি সহ আরো সাতজনের কাগজ চিবানোর জন্য বাছাই করা হইছিল। এর মধ্যে দুইটা নেপালী গরু। যেহেতু এই দেশে মেক্সিকোর কোন কনসুলেট নাই, এম্বেসি নাই তাই ভিসা নিতে যাইতে হইছিল দিল্লীতে।

আগে দিল্লীতো যাই

কিন্তু দিল্লী তো অনেক দূর মসাই। এখান থেকে ইন্ডিয়ান ভিসা লিতে যেয়ে পুরো প্যাঁচ লেগে গেলো যে। সালা বাংলাদেশের ছয় জনের মধ্যে একজনকে আটকে দিল কোন কারণ ছাড়াই। আর একজনকে আটকে দিল কারণ সে একমাস আগে ইন্ডিয়া ঘুরে এসেচে। তো প্রথমজন অনেক কস্তে কনফার্ম টিকিট নিয়ে ইন্টারভিউ দিয়ে ভিসা পেলো। কিন্তু টেঁসে গেল পরের জনের ভিসা। সত্যি বলচি মাইরি ওর এখনো ভিসা হয়নিকো। সামনের ২৯শে যদি বা হয়। কিন্তু কাহিনী হচ্চে যে সালা দাদাবাবুরা তোরা একে তো দিস সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা, মাল্টিপল নিতে গেলে বিশাল হ্যাপা, জ্ঞাতিগুষ্টি, জন্মের সময় যে ডাক্তার ছিল তার জন্মদিন!! বাপের দাদার কত টাকা ছিল, ইন্ডিয়াতে কত টাকা ঢালবো কি নেই। তাহলে প্রয়োজনে আবার ঢুকতে দিস না কেন? একবার ইন্ডিয়া ঢুকে একমাস, তিনমাস না কাটালে বুঝি সান্তি হয় না? তারপর আবার রয়েচে একশ পঞ্চাশ ডলারের হ্যাপা। সালা বিশ্বের কোন দেসে আগে ডলার এর্ন্ডোস করে ভিসা ফেইস করতে হয় আমাকে তুই বোঝা দিকি। সামনে আবার নিয়ম আনচে সব ডলার স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া দিয়ে “করিয়ে” আনতে হবে। অন্য ব্যাংক দিয়ে “করালে” হপে নাকো। সালা মিষ্টি করে এমন ব্যাচা বেচবে তুই না লিয়ে যাবি কই।

ইন্ডিয়ান ভিসা, সে এক বিরাট রহস্যের জায়গা। ফেলুদা থেকে শার্লক কোন বাপের বেটার ক্ষেমতা নেই মিষ্ট্রি সলভ করে দেখায়। তো যেই বেচারার এখনো ভিসা হয়নি সে কতনা রথি মহারথিদের দিয়ে কতবার ফোনটাই না করালো; কিন্তু না! ইন্ডিয়ান দূর্গে কোন আঁচড় মাত্র কাটতে পারলো না। তাহলে সবকিছু কি একদম ঠিক মত চলছে? নিয়ম নিয়ম?? কি করে হয় বলতো দেকি!!! আমার সেই বন্ধুটি তো ভিসা পেতে যাচ্ছে (খবর পেলাম এরই মধ্যে ভিসা পেয়ে গেছে)। যাকে এম্বেসি বলেছিল সব কম্পিউটার সিস্টেমে চলে, “কোনভাবেই সিস্টম চেইঞ্জ করা চলবে না”। ওরে বিশ্বের সকল দেশের ভিসা মূলত ম্যানুয়াল। এম্বেসী চাইলে কলাগাছকেও মানুস বানিয়ে পাটিয়ে দিয়ে পারে কো।

বিশ্বের বেশকতগুলো রাষ্ট্র যেগুলোর একেবারে কনফারেন্স ভীতি রয়েচে। থাইল্যান্ড, কোরিয়া, ইন্ডিয়া এগুলোতে কনফারেন্স আয়োজন তো হয়। কিন্তু বাইরের দেশ থেকে কাউকেই আসতে দেবে না, ভিসা দেবে না, বিশাল হ্যাপা। আরে! যদি নাই আসতে দাও তাহলে ইন্টারন্যাশনাল বলা কেনো বাপু? সোজা সাপ্টা মুখের উপর বলে দাও, আমরা ইন্ডিয়ানরা কনফারেন্স বেচপো কিন্তু বাইরের লোক চাইনা, টুরিস্ট সেজে ঘুরে বেড়াও বাট আলাপ করতে দেবো না। আমরা তো সালা ইন্ডিয়াতে কনফারেন্স করতে যাচ্চি না, যাচ্চি মেক্সিকোর ভিসা আনতে। তোর এত গা জ্বলে কেনো বাপু।

বাকী যেই নেপালী গরু দুই রয়েছে, তাদের আবার কখনোই ইন্ডিয়ান ভিসা দরকার পরে না। যতবার চাও যেমন খুশী চাও ইন্ডিয়ায় ঢুকে পর। কেউ কিচ্চুটি বলবে না। কিন্তু সেই বন্ধুদের কাচেই শুনেছি, এক ইন্ডিয়ান নাকি তাদের বলেচিল নেপাল ইন্ডিয়ার কোন নর্দান স্টেট কিনা। সালা মর জ্বালা, নেপালীদের ঢুকতে বেরুতে দেয় ইন্ডিয়ার বাফার স্টেট হিসেবেই? নাকি নেপালীদের তারা অন্য দেসের বলে গণ্যই করে না? আমাদের সেই নেপালী দুই বন্ধু এখনো বিরাট খুশী; কোন ঝক্কি ছাড়াই বেশ যাওয়া আসার ব্যবস্থা। কিন্তু সেটাও তো দেকচি দু-ধারওয়ালা। কখন কোনদিকে কাটবে তার ঠিক নেই কো। নেপালী হিসেবে নিজের মান রাখি না ইন্ডিয়া রাখি?


ইন্ডিয়ান এম্বেসীর সামনে খারানীর পর থেইক্কাই খালি মনে হইতাছিল আমেরিকার ইমিগ্রেশনে ধরা খাইছি। তাও আবার যেন তেন ধরা না। এক্কেরে প্লেনের চাকার বক্সের ভিত্রে একে ৪৭ নিয়া ধরা। কিন্তু মেক্সিকো যাওনের লাড্ডু তো মুখের সামনে তখনো ঝুলতাছে। কি তার ঘ্রাণ, কি তার স্বাদ টাকিলা! টাকিলা!। কানকুন কানকুন চিয়াপাস চিয়াপাস, ডেসপারাডো। আলে আন্দ্রে তোপাস তোপা ফিলে কান্দেস মানে বো....আই আই আই; আই মি মোরে...তো তোপাস সো...বুড়িগঙ্গার পারে। থুক্কু! সালমা হায়েকের কথা মনে পইড়া যাওয়াতে কিঞ্চিত কান্নি খাইয়া গেছিলাম। যাই হোক বাংলাদেশী পাঁচজন ভিসা পাইলাম শেষতক। কিংফিশারে কইরা দিল্লী যাওনের টিকিট। মাঝখানে কোলকাতা বিরতি। ১৭ তারিখে ফ্লাইট। তয় ইন্ডিয়ান দূর্গে যাওনের সাথে সাথে আমার ভাষার যে “দাদাবাবু”, “জয় হিন্দ” পরিবর্তন তা সামনেও আইবো কিন্তুক। কি করুম সারাজীবনের টিভি চ্যানেল সিনেমার হা কইরা বইসা থাকনের একটা ফিল আছে না?

কি আরো চলবে নাকি?

১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×