কিং ফিশারে চড়িয়া মর্দ উড়িয়া চলিল
এক্সপেরিয়েন্স অফ এ লাইফটাইম।হ। দি অনলি ফাইভ স্টার ডমেস্টিক ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স এর ফ্রেঞ্চকাট মালটাকে দ্যাখলাম বয়ান দেয়া শুরু করছে, মানে প্লেন তখন আকাশে। কিছুক্ষন আগে ইয়ানা গুপ্তা “আপকা সিট কি পেটি বাআনধ লিজিয়ে” বলা শেষ করছে মাত্র। এতদিন জানতাম বিজয় মালিয়া নিজে’র হাতে এয়ার হোস্টেস পিক করে।
মাগার প্লেনের ইন্সট্রাকশনের জন্য যে সে ইয়ানা গুপ্তারে হাজির করবো এইটা এক্টা সারপ্রাইজ ছিল। সে তখনো মিষ্টি কইরা কইতাসে আমাগোরে সে নিজের ঘরের অতিথির মত ভালো পায়। সুন্দরী বেডিগো সে ট্রেনিং দিসে আমাগোরে যাতে হেভী আদর যত্ন করে। কুনো এক্টা অভিযুগ থাকলে ডাইরেক্ট তারে জানাইতে। অনেক ভালুবাসা।
বিমানে বাহিত হইবার ইতিহাস আমার এক্কেরে নতুন না। সরকারী বেসরকারী দুই ধরনের ডানাতেই উড়ছি। মাগার নিজের বাড়ীতে দাওয়াত খাওয়ানির মত খাতির যত্ন প্লেনেই দিব এই বিজনেস বয়ান কেবলমাত্র উপমহাদেশীয় ব্রেইন থেইকাই বাইরাইতে পারে। পাব্লিক যে এইটা খাইবো এইটাও কইয়া দেওন যায়।
যাউগ্গা এলাকার বন্ধুগো কাছে লোল পড়া উড়াল ললনার নানান বর্ননাও শুনছি। লাল আর সাদায় সাইজ্জা তারা যখন ফোন পুরা বন্ধ করার (মানে অফ লাইন হইলেও হইবো না); বয়ান দিতাছিলেন তখন ক্যান জানি গদগদ ভাবটা আর থাকলো না। কারণ দুনিয়াটা “ফেলো কড়ি মাখো তেলের”।
সাথের এক বন্ধু এক্কেরে জীবনের প্রথম প্লেনে উঠছে। মনে তার খাইরুন সুন্দরীর মত আশা। চকলেট নিয়া ললনারা আইবো আর সে অনেকগুলা তুইল্লা লইবো। মনের সুখে খাইবো। কিন্তু ঢাকা-কোলকাতা ফ্লাইট কান্নি খাইয়া নিচে নামতে থাকলেও চকলেট তো আসেনা। বন্ধু শুকনা মুখে ফ্রি পানি খায়। এরপর সুন্দরীরা খালি খাবারের ট্রলি নিয়া সামনে যায় আর আসে আর মিষ্টি কইরা কইতে থাকে কোনটার দাম কত, কার কোনটা দরকার।
বন্ধুর মুখ তো আন্ধার। এরপর যখন ইনফ্লাইট শপিং এর কাহিনী আইলো....বন্ধু ততক্ষণে বিরাট বিলা! পারলে ঔ হালায় পুরা প্লেনটারেই সেন্ট্রাল জেলে হান্দায়া দেয়। তার কোমল মনে এমন আঘাত দেওনের অধিকার কারও নাই। তার উর্পে এমন সাইজ্জা পাইড়া আইসা।
কিন্তু টিকিটে তো আগেই লেখন ছিল ঢাকা-কোলকাতা আঙ্গুল চুষতে হপে আর কোলকাতা-দিল্লী ডিনার পাওয়া যাবে।
কোলকাতা শহর টপ ভিউ ১
কোলকাতা শহর টপ ভিউ ২
ইন ফ্লাইট ভিউ
যাউগ্গা অনেক ফুর্তি নিয়া দমদমে নামলাম, মানে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর। আর্ন্তজাতিক টার্মিনাল থেকে এবার দেশীয় টার্মিনালে যাওনের পালা। দিল্লীর ফ্লাইট রাত ৮:৪০ এ। হাতে সময় আছে ৩ ঘন্টা। পুলাপানের অনেক হাউস তারা কোলকাতা ঘুরে দেখবে।
মাগার কিংফিশার তো আমাগো লাগেজ রাখবে না। আর একবার চেকইন করাইয়া নিলে আর বাইরাইতে পারুম না। মর জ্বালা। সবাই বাইরে খাড়াইয়া কই যামু কই যামু করতাছি, এমন সময় লুকজনের আইডিয়া বাজি শুরু হইল। চল ভিক্টোরিয়া যাই, সাইন্স মিউজিয়ামে যাই সবখানেই যাই। মাগার টাইম তো কুলায় না। পরে আমাগো নারী বন্ধুরা ফাল দিয়া নিশ্চিত করল বিগ বাজারে যাওনের।
কিন্তু সেকানে যাওয়াও তো বিরাট হ্যাপা দেকচি। হলুদ হলুদ এ্যাম্বেসেডর ট্যাক্সিগুলো যেই কে সেই ভারা হাঁকচে। দেড়শ দুশো। এমন সময় সাহায্য করতে এগিয়ে এল কিং ফিশারেরই একজন। কিন্তু কিং ফিশারের লুক হিসেবে নয় কো। সে বিক্রমপুরে দেশী মানুষ আমার “পিন্টু দা”। তো পিন্টুদা সুন্দর করে বুঝিয়ে দিল কি করে বাংলাদেশী পেলে তারা একেবারে মিষ্টি করে গলা কেটে নেয় কো। এযাত্রা বেঁচে গেলুম পিন্টুদার কল্যাণে।
৫০ রুপী করে বিগ বাজার যাওয়া। ট্যাক্সিতে সবাই মালপত্র সহ উঠতে যাব তখনি আমার সেই বন্ধু দেখলাম সবুজ প্যাকেটের চকোলেট বিতরণ করা শুরু করেছে। বিমানে চকোলেট না পাওয়ায় সে ৭ ডলার দিয়ে এয়ারপোর্টের ভেতর থেকেই চকলেট কিনে ফেলেছে। কেবলমাত্র বাঙালী ছাড়া এই জোশ কোথাও খুইজা পাওন কঠিন। নিজে ঠইকা হইলেও জিদ পূরণ কইরা ছাড়বো।
বিগ বাজার যাইতে যাইতে মনে হইল কোন একটা মফস্বল শহরের রাস্তা দিয়া যাইতাছি।
মূল কোলকাতা শহর থেকে দমদম অনেক দূরেও বটে। কোলকাতা নেমেই অঞ্জনের “মালা”, সুমনের “তোমাকে চাই” নিয়ে বন্ধুরা যখন বেশ একটু স্মৃতি কাতর তখন আমি জমিয়ে আলাপ শুরু করে দিয়েচি মমতা ব্যানার্জী কে নিয়ে। শহরের, দিদিকে নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা কেমন এই নিয়ে আলাপ হচ্চিল। এখানকার মাইনোরিটি মুসলমানদের ভোট যে তার বিজয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তা জানা গেল। তাকে নিয়ে প্রত্যাশাও অনেক। বামদের হেরে যাওয়ার এক্টা মূল কারণ ছিল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা। ফলে দিদিকে নিয়ে তাদের আশাবাদ, এবার ক্ষমতা একটু বিকেন্দ্রীভূত হবে।
বিগা বাজারে গিয়া আমি একটু হতাশই হইলাম আবার লোভও জাগলো কি কি চিপস কম পয়সায় কিনা খামু। কিন্তু আমার নারী বন্ধুরা মোটেও হতাশ হইলেন বইলা মনে হইল না। তারা মোটামুটি ঝাপাইয়া পড়লেন। কেনাকাটার প্রাথমিক উত্তেজনা শেষ কইরা মিক্সড ফ্রুটের জুস খাইতে খাইতে মনে হইতাছিল টুরিস্ট হওনটা খুব খারাপ না। বিঙ্গো ম্যাড এঙ্গেলস আর লেইসের দাম কত কম। আর দেশে আমরা কত দাম দিয়া এগুলা কিনা খাই। কিন্তু ফাল দিয়া কিনা খাই।
বিগবাজার পর্বের পর মালপত্র চেকইন করানোর পর ধরা খাইলাম ইমিগ্রেশনে কারণ সাথে সুইস নাইফটা রয়ে গেছে হ্যান্ড লাগেজে। খাকী পোশাকের অফিসার একবার আমারে নতুন কইরা হ্যান্ড লাগেজরে মূল লাগেজ বানাইয়া দেওনের অপশন দিল। কিন্তু ব্যাগে ক্যামেরা, ক্যামেরারে মূল লাগেজে দিমু কি দিমু না ভাবতাছি। এমন সময় সুন্দর কইরা বোর্ডিং কাইটা কইল সুইস নাইফ দিয়া যাইতে হইবো। কি আর করা ৫ বছরের বন্ধু সুইস নাইফটারে রাইখা দিল দমদমে।
ফাইনাল চেকআপের সময় থেইকাই আমার মনে উঁকি দেয়া শুরু করছে, আমেরিকা আইয়া পড়লাম নাকি। কারণ চেকআপের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্ভাব্য টেরোরিস্ট খুইজা বাইর করণের যে হ্যাপা সেইটা দেইখা আমার বিরক্তও লাগছিল আবার হাসিও আসতেছিল। সারা ইন্ডিয়া জুড়ে একটা সাজসাজ রব। সবাই খালি ইন্ডিয়ারে এ্যাটাক করতে চায়। ইন্ডিয়ার ভিসা ফর্মেও লেখা আছিল আমি কখনো পাকিস্তান গেসি কিনা আমার চৌদ্দগুষ্টিতে কেউ পাকিস্তানী সিটিজেন ছিল কিনা। আরে আবাল আমরা হইলাম সেই জাতি যারা ফাকিস্তানগো দ্যাশ থেইক্কা খেদাইয়া দিসি। তোগো এই ফালাফালির কারণ কি?
তখনি আমার মনে হইল, আরে ইন্ডিয়া তো আমেরিকারে নকল করতাছে। নিজেগোরে টেরোরিস্ট টার্গেট বানাইয়া আরো দূর্গ দূর্গ কাহিনী করতাছে। এইটাও রিভার্স চালাকী।
রানওয়ে ছাড়ার আগে পাশের সিটের এক ভদ্রলোকের ভাঁজ করা স্যুট বাঙ্ক থেইক্কা পইড়া গেল অন্য একজনের হ্যান্ড লাগেজ রাখতে যাইয়া। আর এইটা নিয়া পাশের ভদ্রলোক যে কুৎসিৎ ব্যবহার শুরু করল, সেইটা থেইকাই আমি বুঝলাম কোন এলাকায় যাইতাসি। দাদাবাবু সর্ম্পকে আমার তো ধারণা রয়েচে কিন্তু এ তো দেকচি দু লাইন বেসি। যাউগ্গা রাতের বেলায় কিং ফিশারের আফারা খানা দিল। সামনের স্ক্রীণে ধুমাইয়া বিভিন্ন চ্যানেলে হিন্দী সিনেমা, সিরিয়াল চলতাসে। দুইটাতে দেখলাম ইংলিশ মুভী। কমিউনিকেশনের ভাষায় এইটারে কয় ন্যারো কাস্টিং। কিন্তু যেভাবে সামনের সিটে কিং ফিশার ম্যাগাজিন এ মার্চেন্টাইজিং দেওন আছে তাতে পুরা বিজনেস প্যাকেজটা আস্তে আস্তে খোলাশ হওন শুরু হইল।
দিল্লী পৌছাইতে পৌছাইতে মধ্যরাতের কাছাকাছি হয়ে গেল।
আগামীকাল সকালেই আবার মেক্সিকোর ভিসা ফেইস করতে হবে। ইমিগ্রেশন পার করতে না করতেই সাথের এক বন্ধু জিগাইলো, “ আচ্ছা আপারা প্লেনে খালি ভারী ভারী করতাছিল ক্যান? আমাগো মালপত্র কি বেশি ভারী হয়া গেছিলো?” আমি প্রথমে বুঝতে পারি নাই সে কি বলল। এরপর আমি বুঝলাম, আপারা যে বারবার কইতেছিল “কিং ফিশার কি সাথ উড়ান ভারনে কে লিয়ে হাম আপকা আভারী হ্যায়” এইটাই আমার দোস্ত একটু অন্যভাবে বুঝছে। কিন্তু তখনো আমি বুঝতে পারি নাই, “হাম আপকা আভারী” ক্রম ক্রমে কতটা ভারী হয়া উঠবো।
দিল্লী এয়ারপোর্ট
দিল্লী এয়ারপোর্ট
দিল্লী এয়ারপোর্ট
দিল্লী এয়ারপোর্টে সহযাত্রী বন্ধুরা
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুন, ২০১১ দুপুর ১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



