somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তমনাদের বিশ্বস্ত ধর্মগুরুর বিবর্তনীয় মুখচ্ছবি

০৩ রা মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সত্যকে সবারই জানা উচিত। অতঃপর কে গ্রহণ করবে আর কে বর্জন করবে – সেটা নিজ নিজ ব্যাপার। অন্তর্জালের যুগে অনেকেই ছদ্মনামে লিখেন। অনেকেরই একাধিক নিক থাকতে পারে। স্রেফ এই কারণে কেউ আপত্তি করে বলে মনে হয় না। কিন্তু কেউ যদি জোর গলায় নিজেকে 'নাস্তিক' দাবি করে – স্বনামে তার মুরিদদের কাছে পীর-সাধু-সন্ন্যাসী সেজে থেকে – একাধিকবার গলাবাজি করে ছদ্মনামে না লিখার দাবি করে – বারংবার তাচ্ছিল্যের সুরে ইসলাম নিয়ে অনেক আগেই লেখালেখি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে – মুসলিমদেরকে কথায় কথায় নৈতিকতা ও সততার উপর ছবক দিয়ে – জন্মসূত্রে অমুসলিম হয়েও ছদ্মনামে ‘মুসলিম’ বা ‘এক্স-মুসলিম’ ভান করে —— বছরের পর বছর ধরে একের পর এক ছদ্মনামে বিশেষ একটি ধর্ম, সেই ধর্মের নবী, আর তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার আর ঘৃণা-বিদ্বেষমূলক প্রপাগাণ্ডা ছড়ায় তাহলে আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে এই পৃথিবীর কেউই মনে হয় ব্যাপারটাকে স্বাভাবিক বলবে না। বরঞ্চ সবাই তাকে চরম ভণ্ড ও মিথ্যাবাদী বলেই দোষী সাব্যস্ত করবে – এক্ষেত্রে সে আস্তিক না নাস্তিক, তা মোটেও বিবেচ্য বিষয় নয়। এমন কেউ নিজেকে 'নাস্তিক' দাবি করলেও নিরপেক্ষধর্মী নাস্তিক মহলে তাকে নাস্তিক হিসেবে গ্রহণ করা হবে কি-না – তা ভাবনার বিষয়।

যাহোক, মুক্তমনাদের অতি বিশ্বস্ত গুরুজী সম্ভবত প্রথম ধরা খায় ভিন্নমত সাইটে হঠাৎ করে ‘রুদ্র মোহাম্মদ’ ছদ্মনামে নন্দিনী হোসেনকে বিকৃত বাংলায় অশ্লীল ও কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করতে যেয়ে। তার আগে ‘রুদ্র মোহাম্মদ’ নামে ভিন্নমত সাইট বা অন্য কোথাও কাউকে লিখতে দেখা যায়নি। মিস নন্দিনীকে আক্রমণ করা হয় এজন্য যে, উনি বামপন্থী নাস্তিক হওয়ায় সেই সময় আস্তিক-নাস্তিক উভয়েরই সমালোচনা করে কিছুটা নিরপেক্ষধর্মী লেখা লিখতেন। কিন্তু মুক্তমনাদের গুরুজীর তা সহ্য হয়নি। গুরুজীর ইচ্ছা অনুযায়ী মিস নন্দিনী শুধু আস্তিকদের [এক্ষেত্রে মুসলিম] বিরুদ্ধেই লিখবেন, নাস্তিকদের বিরুদ্ধে নয়। জিয়াউদ্দিন সাহেবের লেখাতে ‘রুদ্র মোহাম্মদ’ মুখোশের আড়ালের আসল পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়াতে ‘রুদ্র মোহাম্মদ’ কিছু না বলেই অনন্তকালের জন্য অক্কা পায়! অক্কা পেতেই হবে। কেননা ‘রুদ্র মোহাম্মদ’ মুখোশের আড়ালে ছিল মুক্তমনাদের বিশ্বস্ত গুরুজী – নতুন বা অপরিচিত কেউ নয়।

মুক্তমনাদের বিশ্বস্ত গুরুজী দ্বিতীয়বার ধরা খায় আব্দুর রহমান আবিদ সাহেবের সাথে ইসলাম নিয়ে বিতর্কের এক পর্যায়ে হঠাৎ করে ‘তুষার ইমরান’ ছদ্মনামে তার নিজস্ব সাইটে আবিদ সাহেবকে ব্যক্তি আক্রমণ করতে যেয়ে। এবারও ব্যাপারটা ফাঁস হয়ে গেলে ‘তুষার ইমরান’ জীবনে একটিমাত্র ‘জ্ঞানগর্ভ’ লেখা পোস্ট দিয়ে অনন্তকালের জন্য লাপাত্তা হয়ে যায়! লাপাত্তা হতেই হবে। কারণ ‘তুষার ইমরান’ মুখোশের আড়ালেও ছিল মুক্তমনাদের বিশ্বস্ত গুরুজী – একই ব্যক্তি।

মুক্তমনাদের বিশ্বস্ত গুরুজী তৃতীয়বার ধরা খায় ‘Murtaad Munaafeq নিকে ৯/১১-কে পুঁজি করে খ্রীষ্টান পরিচালিত সাইটে কোরান ও মুসলিমদেরকে 'সন্ত্রাসী' ও 'মানবতাবিরোধী' বানিয়ে দিয়ে, মুসলিমদেরকে ইসলাম ত্যাগের আহ্বান জানাতে গিয়ে। বিস্তারিত এখানে। ‘Murtaad Munaafeq’ মুখোশের আড়ালে মুক্তমনাদের বিশ্বস্ত গুরুজীর মুখচ্ছবি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর এই নিকও অনন্তকালের জন্য অক্কা পায় – অক্কা পেতেই হবে!

এর পরও যাত্রা থেমে থাকেনি। বরঞ্চ নতুন নতুন ছদ্মনামে বিশেষ একটি ধর্ম, সেই ধর্মের নবী, আর তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার আর বিষোদগার থেকে শুরু করে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মানব জাতির ইতিহাসে এমন ভণ্ডামী ও মিথ্যাচারের নমুনা আর দ্বিতীয়টি নেই – সত্যিই নেই। তার অন্ধ পূজারীরা যে এ ব্যাপারে একেবারেই অজ্ঞ – তা কিন্তু নয়। নিদেনপক্ষে বিশিষ্ট কিছু পূজারীর অবশ্যই জানার কথা। কিন্তু কল্লা হারানোর ভয়ে কিংবা স্বর্গের লোভে তারা সত্যকে চেপে যেয়ে বালিতে মাথা গুঁজে অন্ধ পূজারী হিসেবেই থাকতে চায়। মুক্তমনাদের বিশ্বস্ত গুরুজীর কথা না হয় আলাদা – কিন্তু তার পূজারীরাও চৌদ্দশ’ বছর আগে মৃত একজন মানুষকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই ‘ভণ্ড’-সহ আরো অনেক কিছু হিসেবে বিশ্বাস করে অথচ চোখের সামনে তাদের ধর্মগুরুর চরম ভণ্ডামী আর মিথ্যাচারকে দেখতে পায় না। কী আশ্চর্য! বিজ্ঞানের নামে কিছু খৎনাধারী অগা-মগা মুরিদের মস্তক এমনভাবে ধোলাই করে অন্ধ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা সাদা আর কালোর মধ্যে পার্থক্যটুকু পর্যন্ত করতে অক্ষম। এমনকি 'আদিল' টাইপের দু-তিন জন অন্ধ মুরিদের বিশ্বাস অনুযায়ী তাদের ধর্মগুরু নাকি স্বনামে ছাড়া লিখে না! এইটা কিন্তু স্রষ্টা ছাড়া অন্য কারো পক্ষেই নিশ্চিত করে জানা সম্ভব নয়! তাহলে তার মুরিদরা জানলো কী করে! 'মুক্তমনা' নামক এক ভয়ঙ্কর ভাইরাস তার মুরিদদের মস্তিষ্ককে কীভাবে খেয়ে ফেলেছে – বুঝতেই পারছেন। অন্ধ মুরিদদের বিশ্বাস অনুযায়ী যেখানে তাদের ধর্মগুরু স্বনামে ছাড়া লিখে না – সেখানে মুরিদদের অন্ধ বিশ্বাসের সাথে প্রতারণা করে তাদের ধর্মগুরু নিজ ব্লগ-সহ একাধিক ব্লগে মুখোশের আড়ালে বিশেষ একটি ধর্ম আর তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এই লেখাতে মুক্তমনাদের বিশ্বস্ত ধর্মগুরুর মুখোশের আড়ালে সামু ব্লগে কার্যকলাপ নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হবে।

১. সামু ব্লগে ‘যুঞ্চিক্ত’ নিক খোলা হয় আজ থেকে চার বছর আগে। নিক খুলেই ‘এক্স-মুসলিম’ ভান করে “কোরান ক্যাডা লিখছে? একটি মোহমুক্ত যৌক্তিক বিশ্লেষণ” শিরোনামে পর্ব আকারে পোষ্ট দেওয়া শুরু হয়। এবারও শুরু হতে কি না হতে জিয়াউদ্দিন সাহেব ওরফে এস্কিমোর কাছে ধরা খায়। এস্কিমো সাহেব লিখেছেন, “প্রথমেই শুরু করি লেখকের শিরোনাম নির্বাচন নিয়ে, আমার জানা মতে লেখক যুক্তিভাই কোনদিন কোরানের প্রতি মোহযুক্ত ছিলেন না – সুতরাং তার মোহমুক্তি ঘটার সম্ভবনা কোনদিনই হয়নি। সুতরাং লেখক এখানে একটু চতুরতার পরিচয় দিয়েছেন। এই লেখাটি মূলত অন্য একজন নাস্তিক লেখকের অনেকগুলো লেখার একটা আঞ্চলিক ভাষায় লিখিত সারসংক্ষেপ। নীচের সূত্রের তালিকায় ঐ লেখকের নাম না থাকায় ধরে নিতে পারি উনি নিজে এই নিক নিয়ে লিখছেন – নতুবা এটা একটা চোথাবাজী হিসাবে বিবেচিত হবে। একজন লেখকের ৫/৬ বছরের লেখাকে এক করে কেন যুক্তিভাই এই পোস্টটা দিলেন? কারন একটাই – ঝড়ের দিনে আম কুড়ানোর একটা প্রচেষ্টা। দেখা যাচ্ছে – এখানে জামাত আর রাজাকারদের বিরুদ্ধে একটা প্রবল হৈ চৈ হচ্ছে – এই সুযোগে একটু ধরে আসি মুসলমানদের। যাই হোক, যারা লেখাটা পড়ে কষ্ট পেয়েছে বা উল্লসিত হয়েছেন – তাদের দুই দলের প্রতি একটা ম্যাসেজ – এটা নতুন কোন বিষয় না। গত ৫/৬ বছর যাবত ইন্টারনেটে একদল মানুষ তাদের নামধাম লুকিয়ে এই ধরনের লেখালেখি করে নিজেদের “মুরতাদ” হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। নীচে যাদের নামে আছে তাদের মধ্যে সাঈদ কামরান মির্যা, আবুল কাসেম, ইবেন ওয়ারাক এবং আলোচ্য নিকের আড়ালে থাকা লেখক আমাদের বহুল পরিচিত। এরা ৯/১১ এর পর একটা বিশেষ পরিবেশে একটা ধর্মের বিষয়ে বিশেষভাবে কাজ শুরু করেন। আলোচ্য লেখক নিজেকে নাস্তিক-মুরতাদ নামের আড়ালে বিভিন্ন ফোরামে লিখে তসলিমা নাসরিনের পক্ষে প্রচার চালান। এক সময় এরা সবাই মিলে আলী সিনা নামক একজন স্বঘোষিত এক্স-মুসলিম এবং ইসলাম বিরোধীর সাথে এক ইন্টারনেট ফোরাম তৈরী করে। পরবর্তীতে মতপার্থক্যের কারনে নিজনিজ ওয়েব সাইড তৈরী করে নিজেদের মতো ইসলাম এবং মুসলমানদের ধোলাই করে যাচ্ছেন।” (বিস্তারিত এখানে, ৬ নং মন্তব্যটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়।)

ব্যাপারটা সামু ব্লগের মডুদের গোচরে এলে ধর্মীয় অবমাননা আর বিদ্বেষ ছড়ানোর অপরাধে তার দুটি পোস্ট মুছে দিয়ে একটিনোটিশ দেয়া হয়। নোটিশটি ছিল এরকম:



‘যুঞ্চিক্ত’ নিক থেকে মোট ৪৭৮টি মন্তব্য করা হয়েছে। প্রায় সবগুলো মন্তব্য একই ধাঁচের। এস্কিমো সাহেবের কাছে ধরা খাওয়ার পর ব্লগের সব লেখা মুছে দিয়ে অফ যায় – অফ যেতেই হবে! কারণ ‘যুঞ্চিক্ত’ নিকের আড়ালে আছে মুক্তমনাদের বিশ্বস্ত গুরুজী – নতুন বা অপরিচিত কেউ নয়। জানাজানি হওয়ার পর একই সাথে স্বনামে এবং ছদ্মনামে এই ধরণের লেখা চালিয়ে যাওয়া দেবতার পক্ষেও অসম্ভব!

২. ছদ্মনামে শুধুমাত্র পুরুষ সেজে ‘এক্স-মুসলিম’ ভান করে মনে হয় কাজ হচ্ছিল না। এজন্য নারীতে বিবর্তিত হয়ে ‘মেজভাবী’ সেজে কোমরে শাড়ি পেঁচিয়ে মাঠে নামা হয়! যতদূর জানা যায় বন্যা আহমেদ বাম ঘরানার নাস্তিক হলেও একজন রুচিশীল নারী। উনি ব্যাপারটা জেনে গেলে কেমন হবে! ‘মেজভাবী’ নিকে মোট ৯টি পোস্ট এবং ২২৪টি মন্তব্য করা হয়েছে। তার সর্বশেষ পোস্ট ছিল “ইসলামের জন্ম এবং ইতিহাস বিষয়ক একটি বই” শিরোনামে – তারই এক খৎনাধারী ভৃত্যের বইকে প্রমোট করে। লেখাটি শুরু করা হয়েছে এভাবে, “বাছারা, আমরা অনেকেই আমাদের পৈত্রিক ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন করতে ভয় পাই। ভাবি, প্রশ্ন করলই বুঝি ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। আমারও অনেক ভয় লাগে, কিন্তু তারপরো হাজারটা প্রশ্ন সব সময়ই মাথায় চারা দেয়। তোমাদের ভাইয়া বলেন, প্রশ্ন না করলে নাকি কিছু শিখা যায় না। সেদিন তোমাদের ভাইয়া ইন্টারনেট থেকে আকাশ মালিকের একটা বইয়ের হদিস দিলো। বইটার নাম 'যে সত্য বলা হয়নি'। বইটা পড়ে আমার মাথায় প্রশ্নের পোকা আরো বেশি করে কিলবিল করতে শুরু করল। এটা ঠিক আমাদের নবীজী ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে অনেক ভাল ভাল কাজ করেছিলেন। সেজন্যই তো তিনি মহামানব। কিন্তু তারপরও তাঁর কিছু কিছু কাজ মেনে নিতে পারছি না। আমাদের মধ্যে কয়জন জানি যে, ইসলামকে 'শান্তির ধর্ম' বলা হলেও আমাদের মহানবী নিজেই তার জীবনকালে ৭০- ৮০টি যুদ্ধ করেছেন, এতর মধ্যে ২৯ টিতে নিজে নেতৃত্ব দিয়েছেন? অনেকগুলো যুদ্ধ মোটেই আত্মরকক্ষামুলক ছিলো না, রাতের আঁধারে উটের কাফেলায় আক্রমণ চালিয়ে ধন সম্পদ লুঠ করেছিলেন। আমাদের মধ্যে কয়জন জানি যে, বনি কুরাইজার ইহুদীদের আটশ জনকে এক রাতে হত্যা করেছিলেন তিনি, এমনকি তারা আত্মসমর্পন করার পরও?” (বিস্তারিত এখানে)

২.১ নিচের মন্তব্যগুলোতে তার মুক্তমনা ব্লগ ও নিজস্ব লেখা-সহ ছয় জন খৎনাধারী ভৃত্যের ইসলাম-বিদ্বেষী লেখাকে প্রমোট করা হয়েছে। সেই সাথে মুসলিমদের বিশ্বাসকে বিজ্ঞানের নামে হাস্যকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।











২.২ স্বনামে তার এক লেখাতে ড: আনোয়ার হোসেনকে গ্যালিলিওর সাথে তুলনা করে মুসলিমদের ইতিহাসেও যে গ্যালিলিওর মতো ঘটনা আছে তা প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। সেই লেখাকেই আবার ‘মেজভাবী’ সেজে সামু ব্লগে প্রমোট করা হয়েছে!



উপরের পোষ্টের কিছু মন্তব্য এখানে দেয়া হলো:

শেষমাত্রা বলেছেন: কোতায় আগরতলা আর কোতায় খাটের তলা। মেজবাবি, মাইয়া মানসের যে বুদ্দি কম আচে তুমার বলগে ডুকলেই বুজা যায়। শালার ভেড়ার পালে বলগ ভরিয়া গেল।

আহমাদ মুজতবা বলেছেন: কোতায় আগরতলা আর কোতায় খাটের তলা।

মদন বলেছেন: গ্যালিলিও==ড: আনোয়ার হোসেন (জিহ্বা বের করা ইমো হবে)

শেষমাত্রা বলেছেন: হ, তুমার মত যেইসব পুলারা মাইয়া সাইজা বলগ লিখে হেগোরে জন্ম দিয়াই কুনু কুনু মাইয়া নিজেরে অপমান করছে। বুজলা? শালার ভেড়ার পালে বলগ ভরিয়া গেল।

সোনাভান বলেছেন: এই পোষ্ট দ্বারা মহান গেলিলিওকে অপমান করা হইয়াছে বিধায় এক দাগানো হইল।


২.৩ নিচের দুটি মন্তব্যে কোরানকে ‘অমুসলিম বিদ্বেষী’ ও ‘অমুসলিম কিলিং মেশিন’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।





২.৪ অন্যান্য ধর্মের গার্বেজকে কৌশলে ইসলাম ও মুসলিমদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে মুসলিম ব্লগারদেরকে বিভিন্নভাবে হেয় আর বিজ্ঞান-বিরোধী প্রমাণ করা হচ্ছে-





২.৫ একজন ব্লগার তার লেখাতে সম্ভবত ইসলাম-পূর্ব জাহেলী যুগে কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়ার কথা বলেছে। লেখাটি দেখার সাথে সাথে সেই অংশের উদ্ধৃতি দিয়ে পিএইচডি-ধারী ‘মেজভাবী’র যুক্তি নিচের মন্তব্যে লাল বক্সের মধ্যে দেখুন। তার ‘যুক্তি’ হচ্ছে ইসলাম-পূর্ব যুগে যদি কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো তাহলে ইসলামের নবী বিবি খাদিজাকে কি কবর থেকে উঠিয়ে এনে বিয়ে করেছিলেন? পাঠক! এই আধুনিক যুগেই শুধুমাত্র ভারত আর চীনে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ কন্যা সন্তানকে বিভিন্নভাবে হত্যা করা হচ্ছে – যে ভয়াবহ ও অমানবিক তথ্য ‘মেজভাবী’র লেখা কিংবা তার নিজস্ব সাইটে কখনোই দেখা যায় না। তাহলে তার ‘যুক্তি’ অনুযায়ী ভারত আর চীনে তো পুরুষরা বিয়ের জন্য নারী খুঁজে পাওয়ার কথা না। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ইসলাম-পূর্ব যুগে যদি শতভাগ কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো তাহলে তো ইসলামের নবীর-ই কোনো অস্তিত্ব থাকতো না – বিয়ে করা তো পরের কথা! দিনের আলোর মতো সত্যকে অস্বীকার করা এ'রকম গোঁড়া মানসিকতার কেউ কোনোভাবেই নাস্তিক হতে পারে না। একটু কর্কশভাবে হলেও ‘ঘোড়ার ডিম’ নামে এক ব্লগার তার মোক্ষম জবাব দিয়েছেন-



২.৬ সামু ব্লগে আমি “পশ্চিমারা ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব দিচ্ছেন” শিরোনামে কিছু পোস্ট দেই। আমার সেই পোস্টের প্যারোডি করে ‘পদ্মাচরের লাঠিয়াল’ ছদ্মনিকে এক মুক্তমনা ব্লগার “পূর্বীয়রা নাসারাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব দিচ্ছেন” শিরোনামে পাল্টা পোস্ট দেওয়া শুরু করে। তার লেখাটি শুরু করা হয় এভাবে, “যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের বিশ্বে সবকিছুকে ‘ধ্রুব আদর্শ’ ধরে নিয়ে বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদের আড়ালে নাসারা ও যীসাস ক্রাইস্ট-এঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত ঘৃণা-বিদ্বেষ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে…।” আমি সাধারণত এই ধরণের লেখার কোনো জবাব দেই না। তার ব্লগে ইসলাম-বিরোধী লেখা-সহ আমার লেখাকে প্যারোডি করে আরো তিন-চারটি পোস্ট আছে যেগুলোর কোনো জবাব দেইনি কিংবা তার ব্লগে কখনো মন্তব্যও করিনি। কিন্তু এই লেখাতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে একটি ডাহা মিথ্যাচার দেখে মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল। মুসলিমরা নাকি যীসাস ক্রাইস্ট-এঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত ঘৃণা-বিদ্বেষ ও অপপ্রচার চালাচ্ছে! কী ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার! আরো কিছু মিথ্যাচারও করা হয়েছে সেখানে। ফলে কিছুটা রাগের বশে বাধ্য হয়ে কিছু মন্তব্য করি। সরোয়ার-সহ আরো কয়েকজনও সেখানে মন্তব্য করেছেন। ‘মেজভাবী’র নজরে পড়ার সাথে সাথে আমার আর সরোয়ারের উপর হামলে পড়ে কী বলা হয়েছে দেখুন-



উপরে কিছু ব্লগারের মন্তব্য থেকে ‘মেজভাবী’র নিম্ন আইকিউ এর কথা জানা যায়। ‘মেজভাবী’র আইকিউ যে সত্যি সত্যি অত্যন্ত নিম্ন মানের – তার পক্ষে অনেক প্রমাণ আছে। বানর জাতীয় লেজওয়ালা প্রাইমেটস থেকে ধীরে ধীরে বিবর্তিত হওয়া ‘মেজভাবী’র ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে এতটুকু বুদ্ধি পর্যন্ত নাই যে, হঠাৎ করে নতুন কোনো নিক থেকে একই সাথে সদালাপ, সরোয়ার, আর আমার উপর হামলে পড়ে হয়রান হওয়ার মতো লোক এই মহাবিশ্বে একজনই আছে! এর পর থেকে হয়তো সাবধান হয়ে যাওয়া হবে! মন্তব্যে বলা হয়েছে আমি নাকি স্যাটায়ার বুঝি না! কিন্তু ‘মেজভাবী’র ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক মনে হয় ‘স্যাটায়ার’ আর ‘উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যাচার’ এর মধ্যে পার্থক্য করতে অক্ষম। অথবা ‘মেজভাবী'রা হয়তো বিশেষ একটি ধর্ম বা তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যাচার করে সেটিকে ‘স্যাটায়ার’ হিসেবে চালিয়ে দিতেই অভ্যস্ত। আরো বলা হয়েছে আমি নাকি নিশাচরের মতো কেবল সদালাপের গর্তে মুখ লুকিয়ে থাকি। পাঠক! সামু ব্লগে আমার লিখার বয়স তিন বছর। একশ’র উপরে পোস্ট এবং প্রায় তিন হাজার মন্তব্য আছে সেখানে। পাশাপাশি আরো পাঁচ-ছয়টি ব্লগে মন্তব্য-সহ আমার অধিকাংশ লেখা পাওয়া যাবে। সবই স্বনামে। অথচ নিজ খোয়াড় থেকে গোমটা মুখে দিয়ে জনসম্মুখে এসে বলা হচ্ছে আমি নাকি নিশাচরের মতো কেবল সদালাপের গর্তে মুখ লুকিয়ে থাকি! এর চেয়ে বড় বিনুদুন আর কী হতে পারে!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ৭:৩১
১৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×