আমার প্রিয় পোস্ট

আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুস্পের হাসি

কীসের দিকে এগুবে শাশ্বত-জীবন নাকি মৃত্যু?

১২ ই মে, ২০১০ দুপুর ১:১১

শেয়ারঃ
0 38 0

কথা বলতে বলতে হাই উঠলো ওর। মুখটা হা করে পুরো হাইটা তুলতে পারলো না ও। `উফ' বলে দুই হাতের তালু দিয়ে মুখটা চেপে ধরে কোনমতে হাইটা সামলে নিলো ও। জিজ্ঞেস করলাম, `কোন সমস্যা হলো শাশ্বত?' কষ্টের ছাপটা এবার ওর চেহারায় স্পষ্ট হয়ে উঠলো। বললো, `ডান পাশের চোয়ালটা একদম শক্ত হয়ে গেছে ভাই। কোন কিছু চিবোতে পারি না, মুখটা বড় করে হা-ও করতে পারি না।' উত্তরটা শুনে অজানা শঙ্কায় মনটা কেঁপে উঠলো। এভাবে কি তবে একসময় কথা বলা বন্ধ হয়ে যাবে ছেলেটির?

বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাশ্বত সত্য'র কথা। আমাদের শাশ্বত'র কথা। অবশ্য এখন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ছাপিয়ে শাশ্বত হয়ে গেছে দেশের সবার। এই ব্লগের অনেকেই হয়তো চিনতে পারছেন শাশ্বতকে। ১৯৯৮ সাল থেকে মরনব্যাধি অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস ক্রমেই ক্ষয়ে ফেলছে ওর শরীরের সমস্ত হাড় আর হাড়জোড়গুলো।

শাশ্বতকে নিয়ে যারা এই ব্লগে বহুবার ভালোবাসার কান্নায় ভেসেছেন, ওর বর্তমান অবস্থা জানলে হয়তো আঁতকেই উঠবেন তারা। অন্যরাও বাদ যাবে না শঙ্কা থেকে। গতকাল (১০.০৫.২০১০) দুপুরে ওর বাসায় গিয়েছিলাম। ওর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে শত অভাবেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি কাজলার অক্ট্রয় মোড়ে বাসা ভাড়া নিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক অরুণ সত্য আর একমাত্র পুত্রসন্তানের জন্য দিন দিন দুশ্চিন্তার অন্ধকারে ডুবে যাওয়া মা শিখা সত্য। শাশ্বতর অকৃত্রিম বন্ধু রুপম বাসার দরজায় নক করতেই ভেতর থেকে শাশ্বতর গলা ভেসে উঠে-`মা, দ্যাখো তো কে যেন এসেছে?' মা কাছেপিঠে হয়তো ছিলেন না। রুপম আরেকবার কড়া নাড়তেই যেন তেঁতে উঠে শাশ্বত-`কেউ কি বাসায় নাই? কে যেনো ডাকছে এতক্ষণ ধরে?' একটু পরে ঘরের পর্দা ঠেলে হুইল চেয়ারে বসা একজোড়া পা চোখে পড়লো আমার। পদা সরতেই ওর মলিন মুখ। শাশ্বতকে ক্র্যাচ ছাড়ানোর শপথে কাজে নেমেছিলাম আমরা। সেই ওকে হুইল চেয়ারে দেখবো ভাবি নি। কড়া নাড়ার শব্দের বিছানা ছেড়ে একাই চলে এসেছে ও। পেছন পেছন ছুটে এসেছেন মা। দেরিতে দরজা খোলায় তখনো চেহারায় বিরক্তির ছাপ শাশ্বতর।

অনেক কষ্টে হুইল চেয়ার থেকে বিছানায় গেলো শাশ্বত। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, `সুজন ভাই আপনার চেহারা এত নষ্ট হয়ে গেল কেন?' আমি কোন জবাব দিলাম না। শাশ্বতকে এভাবে দেখার কোন কল্পনাই ছিল না আমার। সর্বশেষ মাস দুয়েক আগে ওকে ক্র্যাচ হাতে দেখেছিলাম। বললাম, `আমার কথা বাদ দাও, তুমি কেমন আছ?' বেশ মলিন সুরে বলল, `ভালো নেই, সুজন ভাই।' জানলাম, কয়েকমাস হলো ওর হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে গেছে। ফুলে গেছে হাঁটু। দিনরাত কোন সময়েই দুচোখ জুড়ে নেই একফোঁটা ঘুম। হিপজয়েন্টের হাড়গুলো আগের চেয়ে নড়বড়ে হয়ে গেছে। গত শনিবার (০৮.০৫.২০১০) পরীক্ষা করে দেখা গেছে ওর শরীরে রক্তের হিমোগ্লোবিসন কমে গেছে, অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে রক্তচাপও। প্রতিদিন একটি করে ইঞ্জেকশন দিতে হচ্ছে ওকে। খেতে হচ্ছে দিনে প্রায় ১৮টি ওষুধ। এছাড়া প্রতি বৃহস্পিতবার ওকে খেতে হয় একটি করে ওরাল কেমোথেরাপির ওষুধ। সব মিলিয়ে একবাক্যে বলতে পারি-একমদই ভালো নেই আমাদের শাশ্বত।

খুব অল্প কথায় লিখে ফেলা গেলো শাশ্বতর বর্তমান অবস্থা। কিন্তু ওর আর ওর পরিবারের কষ্টের বোঝা যে দিনদিন ভারি হয়ে উঠছে তা বোঝানোর মত শব্দ আমার জানা নেই। শুধু ওর মায়ের কথাটা কারে বাজছে- `বাবা আমি তোমাদের কাছে এখনো দাবি করছি আমার ছেলেকে বাঁচাও তোমরা। ও হাঁটতে না পারুক, শুধু বেঁচে থাকার মতো সুস্থ্য করে দাও, বাবা।'

আজ আবার আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি আমরা। ওর চিকিৎসা বাবদ এখনো যে ২৫ লাখ টাকা দরকার তার জন্য সহায়তা দরকার আপনাদের সবার। একটি কনসার্ট যদি আমরা করতে পারি তাহলে একটি বড় অঙ্কের টাকা হয়তো আসবো। পাশাপাশি আপনাদের সহায়তা আবার সাহস জোগাবে আমাদের, জোগাবে অর্থও। প্লিজ, আমরা হারতে চাই না।

বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে, তবু বলি। শাশ্বত সেদিন ওর মাকে বলেছে, `মা টাকা তো আর জোগাড় হলো না। আমি তো আর বাঁচবো না। মারা যাবার পর লাশটি প্রথমে আমার সাংবাদিকতা বিভাগে নিয়ে যাবে। তারপর অন্য কোথাও।' গতকাল কথাগুলো আমাকে জানাতে গিয়ে চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারেন নি মা। পারি নি আমিও। হয়তো চোখের কোন ভিজে উঠেছে আপনাদেরও।

জোর গলায় কিছু বলতে পারি নি দুখিনী মাকে। মনের ভেতর শুধু প্রশ্ন জাগে-কীসের দিকে এগুবে শাশ্বত-মৃত্যু নাকি জীবন? মনে মনে শুধু বলি-লাশ হয়ে নয়, ক্র্যাচ হাতে নয়-মতিহারের সবুজ চত্ত্বরে নিজ পায়ে দাঁড়ানো শাশ্বতকে দেখতে চাই আমরা। আসুন না সবাই মিলে আবারো এই স্বপ্ন পূরণের লড়াইয়ে নামি। আসবেন? প্লিজ...


শুরুর কথা : ২০০৮ সালের মে মাসে গণযোগাযোগ এ সাংবাদিকতা বিভাগ শাশ্বতকে বাঁচাতে শাশ্বত চিকিৎসা সহায়তা কমিটি গঠন করে। সেসসময় এই ব্লগে ওকে বাঁচানোর আহ্বান জানাই আমি। তাতে মেলে অভূতপূর্ব সাড়া। ব্লগাররা একটি ছাদের নিচে দাঁড়িয়ে জোগাতে থাকেন শাশ্বতকে বাঁচানোর অর্থ। পাশাপাশি বিভাগের শিক্ষক আর ছেলে-মেয়েরাও চষে বেড়াতে থাকে পথ-ঘাট। সবার লক্ষ্য একটাই-শাশ্বতকে বাঁচাবই।

২০০৮ সালের অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ শাশ্বত'র তহবিলে প্রায় ১৫ লাখ টাকা জমা পড়ে। এর মধ্যে সেসসময় সামহয়্যার ইন ব্লগের ব্লগারদের কর্মতৎপরতা আমাদের জোগান দিয়েছিলো ৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা।

২০০৮ সালের শেষ নাগাদ চিকিৎসার প্রথম পর্যায় শুরু করতে ভারতের ভ্যালোরে নিয়ে যাওয়া হয় শাশ্বতকে। সেখানে ওর ঝুড়ঝুরে হয়ে যাওয়া হাড়গুলোকে অপারেশনের জন্য কিছুটা সবল করতে দেয়া হয় ৪টি ইঞ্জেকশন (ইনফ্লিক্সিম্যাব রিকম্বিন্যান্ট) সহ আরো কিছু চিকিৎসা। বেশ সফলতার সঙ্গেই প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করে ২০০৯ সালের শুরুতে দেশে আনা হয় শাশ্বতকে। ভ্যালোরের চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, ২০০৯ সালের নভেম্বরের মধ্যেই শাশ্বতর নষ্ট হয়ে যাওয়া দুটে হিপ জয়েন্ট বদলানোর অপারেশন অবশ্যই করাতে হবে। কিন্তু এরপর আর তেমন একটা এগুতে পারি নি আমরা।

ওর নষ্ট হয়ে যাওয়া দুটো হিপ জয়েন্ট আর হাঁটুর জয়েন্ট বদলানোসহ তখন (২০০৯ সালের শুরুতে) ওর চিকিৎসার পরবর্তী খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২৫ লাখে। আর ওর প্রথম পর্যায়ের চিকিৎসা শেষে ওর সহায়ত তহবিলে তখন আর ২ লাখ টাকার বেশি নেই। আবারো মাঠে নামি আমরা। টার্গেট নিই কনসার্ট করার একাধিকবার উদ্যেগ নিলেও বারবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অনির্ধারিত ছুটির ফাঁদে পড়লেই আমরা সফল হই না। এরইমাঝে ওর বেঁচে থাকার তাগিদে আরো প্রায় দেড়লাখ টাকা খরচ করে ভারত থেকে ওর জন্য বোনিস্টা (প‌্যারাথাইরয়েড হরমোন) নামের ইঞ্জেকশন আনা হয়েছে। আজ (১১.০৫২০১০) জানা গেলো ওর চিকিৎসা তহবিলে আর মাত্র ৫০ হাজার টাকা রয়েছে।

সহায়তা পাঠনোর ঠিকানা:
১.
শাশ্বত চিকিৎসা সহায়তা
অ্যাকাউন্ট নম্বর: ৩৪২৬০৪৯৮, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, রাজশাহী।

২.
Saswota Chikitsa_Sohayota' AC no: 135-101-33705, Swift Code: DBBL BD DH 100, Dutch-Bangla Bank Lomited.


শাশ্বতকে নিয়ে যারা আরো জানতে চান, জানতে চান কত ভালোবেসেছিল এই ব্লগ সপ্রতিভ ছেলেটিকে- তাদের জন্য আমার ১৫ টি পোস্টের লিঙ্ক দিলাম নিচে-

প্রথম লেখা :
Click This Link

দ্বিতীয় লেখা :
Click This Link

তৃতীয় লেখা :
Click This Link

চতুর্থ লেখা :
Click This Link

পঞ্চম লেখা :
Click This Link

ষষ্ঠ লেখা :
Click This Link

সপ্তম লেখা :
Click This Link

অষ্টম লেখা :
Click This Link

নবম লেখা :
Click This Link

দশম লেখা :
Click This Link

একাদশ লেখা :
Click This Link

দ্বাদশ লেখা :
Click This Link

ত্রয়োদশ লেখা :
Click This Link

চতুর্দশ লেখা :
Click This Link

পঞ্চদশ লেখা :
Click This Link

ব্লগ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ সবার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কিছু সময় পোস্টটি স্টিকি করা যায় কি না-দয়া করে বিবেচনা করবেন।
বি.দ্র. পোস্টে ব্যবহৃত শাশ্বত'র ছবিটি পুরনো।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ১২ ই মে, ২০১০ দুপুর ১:১৮
ফাহাদ চৌধুরী বলেছেন: শাশ্বত সেদিন ওর মাকে বলেছে, `মা টাকা তো আর জোগাড় হলো না। আমি তো আর বাঁচবো না। মারা যাবার পর লাশটি প্রথমে আমার সাংবাদিকতা বিভাগে নিয়ে যাবে। তারপর অন্য কোথাও।' গতকাল কথাগুলো আমাকে জানাতে গিয়ে চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারেন নি মা। পারি নি আমিও।

স্টিকি করা হোক!!
৩. ১২ ই মে, ২০১০ দুপুর ১:২২
রােশদ সুলতান তপু বলেছেন: মডারেটরদের কাছে অনুরোধ- পোস্টটাকে দয়া করে স্টিকি করা হোক।
৪. ১২ ই মে, ২০১০ দুপুর ১:৩৬
প্রভা বলেছেন: ও হাঁটতে না পারুক, শুধু বেঁচে থাকার মতো সুস্থ্য করে দাও, বাবা।'[/si

শাশ্বতর জন্য আবার আমাদের জেগে ওঠা দরকার। তার আগে দরকার এই পোস্ট স্টিকি করা। প্লিজ, অনুরোধ করছি দ্রুত পোস্টটি স্টিকি করার। প্লিজ মডারেটরবৃন্দ, প্লিজ। এটা জরুরি।
৬. ১২ ই মে, ২০১০ দুপুর ১:৪৯
রাজিবুল ইসলাম বলেছেন: নামের মতই শ্বাশত বেচে থাকুক স্থুস্থ হয়ে।

পোষ্টটি স্কিকি করা হোক।
১৩ ই মে, ২০১০ দুপুর ১:০৯

লেখক বলেছেন: মাননীয় মডারেটরবৃন্দ,কোন প্রকৃতিতে পড়লে পোস্টটি স্টিকি করা যাবে-জানালে কৃতজ্ঞ থাকতাম।

৮. ১৩ ই মে, ২০১০ রাত ৯:০২
আমিও মানুষ বলেছেন: মডারেটরদের কাছে বিনীত অনুরোধ পোস্টটাকে দয়া করে স্টিকি করুন...
৯. ১৪ ই মে, ২০১০ রাত ৮:১৩
মেহেরুল হাসান সুজন বলেছেন: আমাদেরও অনুরোধ পোস্টটি স্টিকি করা হোক।
১৬ ই মে, ২০১০ দুপুর ১২:১৪

লেখক বলেছেন: দৃষ্টি আকর্ষণ :মাননীয় মডারেটরবৃন্দ

১০. ১৬ ই মে, ২০১০ রাত ৯:০৯
~স্বপ্নজয়~ বলেছেন: পোস্টটি দয়া করে স্টিকি করুন...
১১. ১৭ ই মে, ২০১০ রাত ১:৪৪
লুকার বলেছেন:
দুঃখজনক।
আচ্ছা একটা কথা বলেন তো! সামুর চেকটা প্রথমে শ্বাসতের বাবার কাছেই দেয়া হয়, পরে আবার নিয়ে রাবির সেই টিচারকে দেয়া হয়, কারণ তিনি সব তদারকি করেন। আর তার একাউন্টে ১৫ লাখের মত জমা হইছিল, সেখান থেকে শ্বাসতকে ৫লাখ দিছেন। বাকিটা হাপিস। আর ঐ শিক্ষক নাকি শিবির/ জামাতের লোক। এগুলা সেদিন শুনলাম, আপনাদের কি ধারণা?
০৬ ই জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৮

লেখক বলেছেন: আমার কাছ এই ব্লগে অপরিচিত লুকার,
আপনার কর্ণকুহরে এই তথ্য প্রবেশ করা হচ্ছে যে, শাশ্বতর জন্য সহায়তার যে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিলো এবং এখনো হচ্ছে তা যে অ্যাকাউন্টে জমা হয়, সেটি `সেই টিচারে'র (আপনার ভাষ্যমতে) অ্যাকাউন্ট নয়। শাশ্বত চিকিৎসা সহায়তা'র নামে বিভাগের খোলা অ্যাকাউন্ট সেটি। আর অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করতে হলে বিভাগীয় তিন সদস্যের একটি কমিটি আছে তাদের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়।
আর আপনাকে অভিনন্দন জানাতে হয়, এই ব্লগে নিচে কমেন্টকারী কয়েকজন মহানুভব মানুষের কথার সুর ধরে এতো বড় মিথ্যা বলার সাহস করেছেন, সেজন্য। আপনি বলেছেন, আমাদের শিক্ষক ১৫ লাখ টাকার মধ্যে ৫ লাখ টাকা দিয়ে বাকিটা হাপিস করেছেন। এমন সুড়সুড়ি তোলা তথ্যের কোন উৎস আপনি দেখাতে পারেন নি। আপনার মন্তব্যের শেষাংশ থেকে বোঝা যায়, এগুলো আপনার ধারণা। আর আমরা ধারণায় কোন সেনসেটিভ ইস্যু নিয়ে কথা বলতে অভ্যস্থ নই। প্রথম ধাপে শাশ্বতর জন্য যে ১৩ লাখ টাকা ডলারে ক্রিশ্চিয়ান হাসপাতাল ভেলোরে পাঠানো হয়েছিল তার প্রমাণপত্র হাজির করা হলো। দয়া করে দেখে নিয়ে নিজেকে সংশোধন করে নিবেন আশা করছি। আর আমাদের সেই শিক্ষক জামাত-শিবির কি না আপনার সেই `নাকি'র জবাব একটু পরে দিচ্ছি।

১২. ১৯ শে মে, ২০১০ রাত ৮:৩৫
ক্যামেরাম্যান বলেছেন: সূজন, শ্বাশ্বত সত্যের ব্যাপারে আমাদের সবারই সহানুভূতি আছে। আমরা সবাই চাই শ্বাশ্বত আবার সুস্থ্য হয়ে উঠুক। তবে আমাদের এই সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে অন্য কেউ লাভবান হোক এটা কোনক্রমেই চাই না।

আ. আল মামুন কত টাকা সংগ্রহ করেছিলো এবং কতটাকা শ্বাশ্বত সত্য এর চিকিৎসা কাজে ব্যয় করা হয়েছে সেগুলোর দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপনা করে আবার পোষ্ট দেন, আমরা সবাই সাহায্য করতে এগিয়ে আসবো।

আ. আল মামুন সম্পর্কে অনেক কথাই শোনা যাচ্ছে এখন। উপরের কমেন্টে একজন কিছু বলেছে। এগুলো মিথ্যা এটা প্রমাণের দায় আপনাদেরই।
১৩. ১৯ শে মে, ২০১০ রাত ৯:০৩
কালপুরুষ বলেছেন: আমার জানা মতে শাশ্বত'র ফান্ডে প্রায় ১৭ লাখ টাকার মতো জমা হয়েছিল। প্রথমে ১৫ লাখ টাকার মতো পরবর্তীতে ঢাকায় নাটক ও কনসার্ট করে আরো দু'লাখ টাকা ওঠে। আমরা কতিপয় ব্লগার ঢাকা থেকে রাজশাহী গিয়েছিলাম ব্লগারদের সংগ্রিহীত টাকাটা শাশ্বত'র হাতে তুলে দিতে। আমরা একটা চেক শাশ্বত'র হাতে দিয়ে এসেছিলাম সকালের দিকে। পরে শুনলাম আমাদের মধ্যেই দু'জন মহান ব্যক্তি সেই চেকের পরিবর্তে অন্য একটি চেক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাতপন্থী শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুনের হাতে দিয়েছেন তার এক্যাউন্টে জমা দেবার জন্য শাশ্বত'র চিকিৎসার জন্য। কিন্তু আমরা পরবর্তীতে আরো খোঁজ খবর নিয়ে বিশ্বস্ত সূত্রে জেনেছি শাশ্বত'র পেছনে মাত্র ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে এবং বাকি টাকা মামুন সাহেব এখনো শাশ্বত কিংবা শাশ্বত'র বাবাকে বুঝিয়ে দেয়নি। সেই টাকার আদৌ কোন হিসাব মামুন সাহেব দেননি। শুনেছি তিনি নাকি এখন জেলে বন্দী।

অথচ আপনি সেই মামুন সাহেবের এ্যাকাউন্টের সূত্র ধরেই আবারো সাহায্য চাইছেন শাশ্বত'র জন্য। ব্লগাররা অবশ্যই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে তবে সেটা শাশ্বত'র জন্য- কোন চোর বাটপারের জন্য নয়। আপনি মামুন সাহেবের কাছ থেকে কিংবা তার এ্যাকাউন্টে খোঁজ নিন শাশ্বত'র জন্য তোলা বাকি প্রায় ১০ লাখ টাকা মামুন সাহেবের এ্যাকাউন্টে আছে নাকি অন্য কোথায় গেল!

কিছু মনে করবেন না, আমি ক'দিন আগেই রাজশাহী ঘুরে এলাম এবং মামুন সাহেস সম্পর্কে অনেক কথাই শুনলাম। তিনি শিবির পন্থী এবং শাশ্বত হিন্দু। তিনি নিজেকে শিবিরপন্থী নন সেটা প্রমাণ করতেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শাশ্বতকে বেছে নিয়েছিলেন।

কিছু মনে করবেন না- শাশ্বত'র সাহায্যের ব্যাপারে জড়িয়ে অনেক গালমন্দ খেয়েছি আর যারা গালমন্দ করেছেন তারা আজ পর্দার আড়ালে লুকিয়ে আছেন। অনেক কষ্ট থেকেই কথাগুলো বললাম। শাশ্বত'র সেই শুভাকাঙ্খীদের আবারো দেখতে চাই- তারা কি করছেন।
১৪. ০৬ ই জুন, ২০১০ রাত ৮:৩৫
মেহেরুল হাসান সুজন বলেছেন: টেকনিক্যাল সমস্যার জন্য প্রমাণপত্রগুলো আপলোড করা গেলো্ না। আগামীকাল তা অবশ্যই করা হবে। অপেক্ষা...
১৬. ০৭ ই জুন, ২০১০ সকাল ৯:৪৯
আনিসুজ্জামান উজ্জল বলেছেন: হিসাবটা এখানেই আছে। চাইলে দেখে নিতে পারেন।
১৮. ০৭ ই জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০১
অন্যঘরে অন্যস্বর বলেছেন: জনাব কালপুরুষ, আপনি তথ্যগুলো কোত্থেকে শুনেছেন? আপনার শোনা তথ্যগুলো ভুল এবং মনে হচ্ছে উদ্দেশ্যমূলকও বটে। মামুন জামাত-শিবিরপন্থী কোনকালেই ছিলো না। অন্তত আমরা যারা ওর সহপাঠী ছিলাম, তারা নিশ্চিত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মামুন আর সেলিম রেজা নিউটনসহ আর কিছু শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে সাম্যবাদী চিন্তা ও চর্চা কেন্দ্র নিয়ে কাজ করছে। আপনি রাজশাহীতে গিয়ে কার কাছ থেকে কী শুনলেন বুঝলাম না! আর আপনি যে লিখেছেন, মামুন এখনো জেলে আছে, সেটাও সত্য নয়। মামুন আগস্ট বিক্ষোভের ঘটনায় জেলে যায়। সেই সময়ই অন্য সব শিক্ষকের সঙ্গেই সে ছাড়াও পায়। আমাদের দেশের প্রগতিশীল মানুষগুলোর তো তা ভালোই জানার কথা! আপনি জানলেন না কেন বুঝলাম না। মামুন এখন জেলে নয়, আমার জানা মতে, পিএইচডি করতে গেছে। নিশ্চিত না হয়ে শোনা কথার ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের অপপ্রচার ঠিক নয়।
১৯. ০৮ ই জুন, ২০১০ সকাল ১১:৪৮
আনিসুজ্জামান উজ্জল বলেছেন: কাল শাশ্বত ফোন করেছিলো। বলল,‌‌' ভাই, আমার কাছে সমস্ত খরচের কাগজপত্র আছে। এমনকি রিকশা, টেম্পু, ট্রেনের টিকেট, ট্যাক্সি-সব খরচের কাগজ আছে। চাইলে সেগুলোও দিয়ে দেয়া যাবে। কিন্তু যে মানুষটিকে নিয়ে এখানে নোংরামো হচ্ছে তাকে নিস্কৃতি দেন।

কারোর প্রয়োজন থাকলে বলতে পারেন। আমরা সেটাও দেবার চেষ্টা করবো। এটুকু লিখতাম না, কাল শাশ্বত অনুরোধ করায় লিখতে হলো।
১২ ই জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৫

লেখক বলেছেন: জিজ্ঞাসুর দল কোতি গো? হারিয়ে গেলছে না কি?

 

মোট সময় লেগেছে ১.০২০১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
মেহেরুল হাসান সুজন। Man Of Bogra। জন্ম ১৩ ডিসেম্বর। মৃত্যু খুব কাছে। ই-মেইল- sujonmc@gmail.com. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ