ব্যাপার কি! ব্যাপার হলো ক্লোজ আপ এর তারকাদের মধ্যে একজন ..নাম পূর্ণচন্দ্র সে ওখানকার ছাত্র।
কি যে ভালো লাগলো। মনে হলো আহারে আরো একটু দেখাতো যদি।
সেই স্কুল..........জীবনের আট টি বছর।
ওয়ান থেকে এইট পর্যন্ত।
আমাদের স্কুলের নাম প্রথমে ছিলো মিশন স্কুল.....।পরে লালমনিরহাট চার্চ অব গড উচ্চ বিদ্যালয় রাখা হয়......।এই নাম এর কারনে অনেক ছাত্র ছাত্রী হারাতে হয়েছিলো । অনেকের ধারনা ছিলো এখানে পড়লে ছেলে মেয়ে খ্রীষ্টান হয়ে যেতে পারে।
এই স্কুলে ছোটবেলায় শুধু বাইবেল পড়ানো হতো.......।
খুব মনে পড়ে ছোটবেলায় শেখা দুইটা লাইন.........
"সদা প্রভূ আমার পালক।
তোমার অভাব হইবে না।"..............বুড়ি দিদি মনি এইটা পড়িয়েছিলেন।
কি করে ভুলি। উনি শিখিয়েছিলেন গুরুজনে করো নতি। দিদিমনিকে মনোরমা দিদিমনিও বলা হতো। বড় হয়ে জেনেছিলাম উনার ছেলের নাম ছিলো মনা। মনার মা থেকে মনোরমা। উনার আসল নামটা আসলে কি ছিলো কেনো যেনো জানা হয়নি। কি দারুন মনোলোভা চেহারা,কি দারুণ হাসি। পৃথিবীতে কত মানুষ তো দেখলাম।এমন সুন্দর স্বর্গীয় হাসি খুব কম দেখেছি।
ক্লাস টু থেকেই আমার খুব কাছের একটা মানুষ হয়ে যান একজন যিনি হলেন অনু দিদিমনি......যাকে আমি অনুদি ডাকতাম। এই দিদিমনিকে আমি আমার জীবনে ধ্রুব তারার মত জেনেছি। অনুদির হাতের লেখা,অনুদির কথাবলা.....শাড়ীপড়া সব কিছুতেই এমন মায়াবী ব্যাপার ছিলো।
অনুদির বাবা আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন ,যাকে মুক্তিযুদ্ধের সময় মেরে ফেলা হয়। অনুদি তখন সম্ভবত কেবল কলেজে ভর্তি হয়েছেন। এর পর যুদ্ধ শেষে পরিবারের হাল ধরতে শিক্ষকতা শুরু করেন উনি। অনেক গুলো ছোট ভাই বোনের দ্বায়িত্ব ছিলো উনার উপর। উনি ক্লাস ফোর পর্যন্ত আমায় পড়িয়েছিলেন। অনুদির কাছে কত বই পড়তে শেখা। আমাদের বাসায় অনেক বই ছিলো। আমি অনুদিকে বই পড়তে দিতাম। বুঝে না বুঝে আমি তখন কেবল পড়তাম.......।একবার অন্ধ সুরকার নামে একটা বই পড়ে আমি অনুদিকে বললাম। উনি পড়ে তো অবাক। আমি কি করে এত কঠিন বইটা পড়লাম।
সেই বয়সে আমার খুব বড় হতে ইচ্ছে করতো। অনুদির মত সুতি শাড়ী পড়ে । পিঠে দোলানো বেনী। অনুদি আমার জীবনে দেখা সরলতার দারুণ প্রতিচ্ছবি। আমি কেমন করে যেনো সর্বান্তকরণে অনুদির মত হতে চাইতাম।
অনুদির যখন বিয়ে হয় আমি তখন অন্য স্কুলে পড়ি..... অনুদি ঢাকায় চলে যান।
আমি যখন ঢাকায় থাকি মাঝে মাঝে দেখা হতো। সেই সময় একদিন বাসার পিছনে রানুকাতে গেছি কি যেনো কিনতে.........আমি তখন হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের ডক্টরস্ কোয়ার্টার এ থাকি।ভাই ভাবীর সাথে। হঠাৎ ভাবলাম অনুদির সাথে দেখা করে যাই......।
প্রভাতী বিদ্যা নিকেতন এ গেলাম......দারোয়ান দেখিয়ে দিলো ক্লাস। আমার প্রিয় অনুদি পড়াচ্ছেন। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা মন দিয়ে শুনছে। হঠাৎ আমাকে দেখতে পেলেন। একটু পর বের হয়ে আসলেন। কেমন আছি ,কেমন চলছে কুশলাদির পর বললেন আসো একটা জিনিস দেখাই। পিছে পিছে পাশের রুমে গেলাম।
একটা মেয়েকে দেখিয়ে বললো দেখো এই মেয়েটা একদম তোমার মত। তাকালাম। খুব অবাক লাগলো। কে জানে কপালের কাছে একটু মিল থাকলে থাকতেও পারে......
কি ভালো যে লাগলো আমার।
আমার যেমন করে অনুদিকে মনে পড়ে ।অনুদিও আমাকে মনে করেন। নাহলে অন্য একটা মেয়ের দিকে তাকিয়ে আমার কথা মনে হবে কেনো....। এর পর বেশ ক'বছর ঢাকাতে থাকলেও অনুদির সাথে দেখা তেমন হয়নি কেনো যেনো। মাঝে মাঝে উনার খবর পাই.......প্রার্থণা করি ভালো থাকুক আমার প্রিয় অনুদি।
আমার নির্মল ছেলেবেলায় যেমন করে মিশন স্কুল জুড়ে আছে।
আরো আছেন বুড়ি দিদিমনি, হেড স্যার রবীন দাস,আছেন মন্টু বি এস সি স্যার,সুরেন স্যার ,অনীতা দিদিমনি,মৌলভী স্যার এবং সর্বোপরি আমার ছেলেবেলার বন্ধুরা .......।
স্মৃতি জুড়ে আছে স্কুলের মাঠের সেই বিশাল বট গাছটা। আছে লাল কৃষ্ণচূড়া.......। আছে স্কুলের গেটের সেই বাদাম ওয়ালা। যে বড় হয়ে যাবার পর ও দেখা হলে আমাকে ডাকতো খুকী।
সবার কথা লিখবো সময় করে । রবীন স্যার এর কথা লিখতেই হবে ,যার দু'চোখ দিয়ে আমরা পৃথিবী দেখা শুরু করেছিলাম। একবার আফ্রিকা ঘুরে এসে স্যার এমন করে গল্প করেছিলেন আর ছবি দেখিয়েছিলেন .....।অনেকদিন মনে হতো আফ্রিকা গেছিলাম।
চলবে........।
ছবি সুত্র:
(সাইফুর এর ব্লগ থেকে নিয়েছিলাম কৃষ্ণচূড়ার ছবিটা.... ধন্যবাদ কাছিম)
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



