১.
ধর্ম নিরপেক্ষতা আসলে কি? সকল ধর্ম এমনকি ধর্মহীনতার ব্যাপারেও উন্নাসিক কিম্বা শ্রদ্ধাশীল থাকা? আমি জোর দিয়া কইলাম ব্যক্তি ধর্ম নিরপেক্ষ হইতে পারে আর তিনি হইলেন - ব্যাপারটা কি এইরম? কৌশিকের দেওয়া যুক্তির পর আমি এইরমই আউলাইলাম...যেই কারনে কোন চিন্তাই আর সংগঠিত অবয়বে আমার মস্তিষ্কের নিউরনে ধরা পরেনা! নিজের ধর্মে আন্তরিক হইয়াও যদি আমি অন্য মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই তাইলেই ধর্ম নিরপেক্ষ!? যদি নিজের ধর্মে অন্য মতাদর্শের প্রতি ভিন্ন আচরনের আহ্বান থাকে তাইলে? তখনো কি আমি শ্রদ্ধাশীলই থাকুম? নাকি তখন আমি নিজের ধর্মের প্রতি যথাযথ আচরন করুম? নাকি নিজের ধর্মের ঐ আহ্বান মানবতার দোহাইয়ে ভায়োলেট করুম? কৌশিক চিন্তার ইতিহাস যদি আপনের মতোন সরল কইরা পাঠ করবার পারতাম তাইলে আসলেই ভালো হইতো...পৃথিবী আর সভ্যতা খালি আজকের এই জায়গায় আইতোনা। মানুষের ইতিহাসে একটাই মতাদর্শ থাকতো - ইন্ডিভিজ্যুয়ালিজম!
২.
চীনপন্থীরা ক্যান চীনপন্থি এইটা মনে হয় আপনের জাননের দরকার আছে কৌশিক...আন্তর্জাতিক সম্পর্কের রাজনীতি আসলে এতো সরলীকৃত আয়োজনে চলে না। চীনাপন্থী এই অভিধার আড়ালেই রইছে তাগো অবস্থান। সেইসময়ের সোভিয়েত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যেমন সহযোগিতামূলক শক্তি আবার চেকোস্লোভাকিয়াতে তারা ট্যাংক-কামান নিয়া ঢুকতেছে ইনভেইড করনের প্রচেষ্টায়। সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ কি সাধে কওয়া হয় ঐটারে! চীনাপন্থীরা ঠিক সিদ্ধান্ত নিছে কি নেয় নাই...তারা - সত্য সকল সময়েই পরিবর্তনের সম্ভাবণা নিয়াই বিরাজ করে - এই ধারণায় তারা বিশ্বাসী হইতে পারে কি পারে নাই, এইটা বিবেচনার আগে দেখতে হইবো তারা আসলে ঐ সময় বাংলাদেশ বিষয়ে কি ভাবছিলো? নাইলে তারা ক্যান পাকি বাহিনীর লগেও যুদ্ধে জড়াইছিলো? কিম্বা যারা মস্কোপন্থী ছিলো বা ক্ল্যাসিক্যাল মার্ক্সিজমের সমর্থক ছিলো তারা ক্যান মুক্তিযুদ্ধ করছিলো? মস্কোআলারাও তো এই দেশরে আধা পুঁজিবাদ-আধা সামন্তীয় কাঠামোয় দেখতো...তাইলে ক্যান তারা এই দেশী বুর্জোয়াগো সমর্থনে গিয়া মুক্তিযুদ্ধ করে নাই! কারণটা আমরা আওয়ামি বুর্জোয়াগো উত্থানেই টের পাই। যারা তখনো স্বজনপ্রীতি করছে...ঘুষ খাইয়া তদ্বির করছে তারা এখনো তাই করে...তারপরও তারা এই দেশীয় বুর্জোয়াই, শত্রু অন্ততঃ একটা কমলোতো! যেই কারনে হয়তো চীনা অবস্থান ভুল ছিলো, কিন্তু এখন যে এতো আওয়ামি আর ভারত বিরোধীতা সেই ভুলের সঠিকতা আনতে পারেনাই বইলাই আমাগো কাধে সওয়ার হইয়া আছে!
৩.
আমার প্রায়শঃই নিজের উপর হতাশ হইয়া পরনের বাই চাপে...কারন মানুষ আমার টেক্সটে বিভ্রান্ত হয় প্রায়শঃই। কারন কৌশিক যা কইলেন আমি তাই কইতে চাইছি, কিন্তু কৌশিক কইলেন এমন ভাবে য্যান আমি কইছিলাম মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ডুইবা গেলো সেই পঁচা গলা লোকের সাথে। আমি যেই কারনে প্রসঙ্গটা তুলচিলাম সেই চিলো গাইলাইতে হইলে এই ব্যাটাগোও গাইলাইতে হইবো...যেমনে চ্যুৎমারানি-চোদনা ক'ন একজন ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের সমর্থকরে, অমনেই।
৪.
কৌশিক, রাষ্ট্র নিজেই রাষ্ট্রদ্রোহী হয় আপনের এই যুক্তির ফ্যালাসীতে। কারন রাষ্ট্রের দায়িত্ব এই দেশের মানুষরে সঠিক ইতিহাসপাঠে উদ্যোগী করনে। কিন্তু এই দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো নিজের নামসই না দিয়া টিপসই দ্যায়, তারা ইতিহাস জাননের চাইতে খরা-বন্যা-মরক নিয়া ভাবিত হয় অনেক বেশী। সেই দেশের মানুষরে কইতেছেন ইতিহাস ঠিকমতো না জানলে রাষ্ট্রদ্রোহী! নিজের চাইরপাশের মধ্যবিত্তিয় সুযোগরে বিবেচনা কইরা আসলে একটা রাষ্ট্রসম্পর্কীত ইনফারেন্সে যাওনটা ঠিক না। যখন দেশের প্রসঙ্গ নিয়া কথা কইবেন তখন আপনের ভাবতে হইবো দেশটায় আপনি আমি অনেক নগন্য অংশ...অধিকাংশ মানুষই এখনো নিরক্ষর, চিকিৎসা সুবিধা বঞ্চিত হইয়া মারা যায়, একবেলা আধপেটা খায়, একটা বড় অংশই এখনো ভাসমান, থাকনের জায়গা নির্দিষ্ট থাকেনা তাগো...
৫.
ঘৃণা প্রকাশ করতে গিয়া মঞ্চ তৈরী হইছে বহুত! কিন্তু পাল্টানের উদ্যোগ খুব বেশি ছিলো না। তাই বইলাই আইজকা দেশে গো.আ.-নিজামী-কামরুজ্জামানরা শুল্কমুক্ত গাড়িতে চড়ে...
৬.
কৌশিকের লিখা পোস্টের প্রেক্ষিতে লিখা, বূঝতে পারা যায় নিশ্চয়?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



