আমি ফাইজলামিটাই করতে চাই...রিফাত হাসান সমীপেষূ
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:২৬
আমি ফাইজলামিটাই করতে চাই, কারন আমিও লালনের দার্শনিক অবস্থান তেমন একটা বুঝি না। রিফাত হাসান যদিও ফাইজলামির সীমানা নির্ধারণ কইরা দিয়া গেছেন তবু আমি ধৃষ্টতা দেখাইতে কোন কসূর আমি করতেছি না আপাততঃ। লালনের প্রতি আমার অনেক আগ্রহ না থাকলেও কওমি মৌলভীগো ইতিহাস নিয়া বরং খানিকটা আগ্রহ তৈরী হয় তার কথায়, তার লেখনীতে।
তিনি তার আলোচনা শুরু করেন এইভাবে:
শিক্ষিত মধ্যবিত্ত্ব, যারা বেশীরভাগ সময়ই জরুরী মুহূর্তে কোন রেডিক্যাল অবস্থান নিতে পারে না হরেক সুবিধাবাদিতার কারণে, তাদের একটা আক্রোশ অবশ্যই আছে অশিক্ষিত মৌলভিদের প্রতি, যারা জরুরী অবস্থায় কথা বলে, প্রতিবাদ করে, ভাঙ্গে, পৌত্তলিক সমাজের দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য আইকনগুলো। যারা কোন সুবিধাভোগি নয়, যারা এইসবকে প্রত্যাখ্যান করেছে, উদ্ধত, জঙলি এবং অসভ্য উপায়ে, সভ্য মানুষের ভাষায়।
তিনি খুব ভালো মধ্যবিত্ত চিনছেন বুঝন যায়, তাগো সুবিধাবাদীতায় তার চরম অনাগ্রহ আছে টের পাওন যায়। শিক্ষিত মধ্যবিত্তগো আক্রোশটাও তিনি স্পন্দনে আঁচ করবার পারেন...আর তার মধ্য দিয়া তিনি রূপকল্প তৈরী করেন কওমী মৌলানাগো যারা নাকি জরুরী অবস্থায় কথা কয়, চিল্লায়! মৌলানাগো চরিত্র নিয়া তিনি আলোচনা করতে গিয়া আইকন বিরোধী চরিত্রটারেও তুইলা আনতে চান। তাৎক্ষণিকতায় হয়তো ডিটেইল দিতে তিনি অপারগ হ'ন যেইটা পরে কখনো দিতে পারবেন যখন হুজুগ থাকবো না। আইকন কইতে তিনি আসলে কি বুঝেন!? আমি যদি মুহাম্মদরে গালি দেই তাইলে কওমীরা কি করবো? তখনো তারা আইকন বিরোধী থাকবো? আইকন কি কেবল মূর্তি পূজায় থাকে!? কওমীরা কখন জরুরী অবস্থার বিরুদ্ধে কথা কয়? চাইলের দাম যখন বাড়ে, যখন দেদারসে অনৈতিক-নৈতিক গ্রেফতার বাণিজ্য চলে, অর্থনীতি যখন দুরাবস্থার চরমে পৌছায়, তখন কওমীরা কি কয়? কেবল ধর্মের আইকনেই তাগো আপত্তি...তাগো নিজেগো আইকন ভাইঙ্গা যখন প্রতিদ্বন্দ্বী আইকন খাঁড়ায় তখনি তারা উদ্যত হয়, সেইটা কখনো অসভ্য হয়...কখনো অনেক বেশী সুশীলও হয়...আমেরিকান দূতের নারীমূখও তারা দর্শন করে খোলাচোখেই হেফাজত ছাড়া...
রিফাত হাসান সত্য কথা ক'ন পুঁজির আইকন বিষয়ক বাণিজ্যিক টেন্ডেন্সী নিয়া...কিন্তু যেই সিদ্ধান্তে তিনি পৌছান সেইটা হইলো এই:
এখানে একটি ব্যাপার স্মর্তব্য, ফ্যাশন কোম্পানি যখন চে'কে নিয়ে ব্যবসা করে, আর রোমান্টিক একটিভিস্টরা অই পোশাক পরে ঘুমের মধ্যে বিপ্লব সাধন করে, তখন অই দৃশ্য দেখে আমার বোধোদয় ঘটে যে, চে কেন ছবি তোলাটাকে এত অপছন্দ করেছেন সব সময়। একই ব্যাপার, লালনের মূর্তি নিয়ে আমাদের কান্নাকাটি দেখেও। এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতো রীতিমতো হাজ্বীদেরকে আত্মশুদ্ধির জন্য মনের মূর্তি সরানোর পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু ঘটনা হলো তিনি এই ব্যাপারটির প্রতি নিজের পৌত্তলিক বিরাগটারে সরায়ে ফেলতে পারেন নাই। যদি পারতেন, তাহলে, এর সংস্লিষ্ট আরো কিছু বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা পেতাম, যেগুলি দরকারি।
অধ্যাপকের বিরাগটা যে পৌত্তলিক সেইটা তিনি কেমনে ধইরা ফেলেন!? ঐ অধ্যাপক ভদ্রলোকও যদি ক'ন তিনি তাৎক্ষণিক বক্তব্য'ই দিছেন, আর তাই সেইখানে অন্য আলোকপাত নাই, তখন তিনি কি কইবেন?
রিফাত হাসান জ্ঞানগর্ভ উপস্থাপণরীতি জানেন, আর তাই তিনি বলেন
মৌলভিদের মূর্তিবিরোধিতার মোকাবেলায় অইটার ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে ফ্যানাটিসিজম দিয়ে আলাপ সারা আর ফাজলামো করা একই কথা। কারণ এই আলোচনাটির সাথে দার্শনিক, ধর্মতাত্ত্বিক এবং ঐতিহাসিক আলোচনাটি জড়িত। আনকন্ডিশন, নিরাকারকে আকার প্রদান, ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিজত্বের ধারণা, পৃথিবীতে ধর্মের বিবর্তনের যে ইতিহাস, এইসব ব্যাপারগুলিতে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ এবং স্ট্যাণ্ডপয়েন্ট আলোচনায় আনতে হবে।
নিরাকারের আকার থাকলোই কি আর না থাকলোই বা, কি আসে যায়? যার সবসময়েই আকার থাকে তারে মৌলভীরা কি করে? ইসলাম সেই ব্যাপারে কি কয়?ধর্মের বিবর্তনের ইতিহাসে মানলাম ইসলাম অনেক উদারতা দেখাইছে...মানুষরে আকারের পূজা থেইকা নিরাকারের পূজা করাইছে...সমাজে বৈষম্য কিছুটা কমাইতে সচেষ্ট হইছে...কিন্তু তার মানে কি তারা নিজেগো মতবাদ চাপাইয়া দেওনের অধিকার পাইছে সকলের উপর? নন্দনতত্ত্বের বিষয়ে বিধিনিষেধ তৈরী করনের সামর্থ্য অর্জণ করছে?
রিফাত হাসানের উপসংহার অনেক একাডেমিয় ভাষায় তৈরী হয়...কিন্তু আমি তার বিসর্গেও কিছু উপলব্ধ করবার পারি না।
মৌলভিদের প্রতিবাদের উত্তরে প্রতিক্রিয়াশীল মধ্যবিত্তিয় অবস্থান ও অবস্থান-সঞ্জাত ভাষাকে মোকাবেলা করার ও এই সকল অবস্থান উৎপত্তির মনন কাঠামো বোঝার একটি চমৎকার ও কার্যকর বুদ্ধিবৃত্তিয় অবস্থান তৈরী হয়েছে আজকের উপরোক্ত ঘটনার আলোকে, যা কিনা একই সাথে আমাদের রাষ্ট্রের বর্তমান সংকটের মূল বিন্দুসমূহের একটি গুচ্ছকেও নির্দেশ করে বলে আমার মনে হয়।
মৌলভীগোটা তার কাছে হয় প্রতিবাদ আর মধ্যবিত্তগো চেতনাটা হয় প্রতিক্রিয়াশীলতা...এই বিষয়টা তার কাছ থেইকা আরো ডিটেইলে যাই...নাইলে ধর্মের আইকন নিয়াও যেই ব্যবসা চলে এই দেশে তার ধান্দায় রিফাত হাসানের মতোন আমারো চোখ আন্ধা হইয়া যাওনের সম্ভাবনা জারী করে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রাজনীতি ;
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: রিফাত সাহেবরে উদ্দেশ্য কইরা আমার পূর্বতন পোস্টের জবাবও পাই নাই...সম্ভবতঃ তিনি আমার পাল্টা বক্তব্যরে তার জবাব দেওনের যোগ্যতা সম্পন্ন মনে করেন নাই...দেখা যাক উনি কি ক'ন...
দিশাহারা ওমর সোলাইমান বলেছেন:
হুমম।
লেখক বলেছেন: হুমম...
হাসিব মাহমুদ বলেছেন:
উনার কাছে আমি কিছু আবেদন করছিলাম । আমরা কিভাবে আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাবো সেই টিউটোরিয়াল চায়া । আশা করি উনি আমার অনুরোধ রাখবেন ।
@ বিমা - উনি আপাতত যারা উনারে সাপোর্ট করছে তাগোরে রিপ্লাই দিসেন । (কি বুইজ্জা করছে সেইটা মালুম হয় নাই, এইখানে স্মর্তব্য উনি আমারে না বুঝার দলের লুক মনে করেন ও আমি সেইটা সেইখানে স্বীকার গেছি) । পরে হয়তো আম্গো দিকে একটু নজর দেবেন ।
লেখক বলেছেন: উনার তাৎক্ষণিক জবাবে অনেক তাড়াহুড়া ছিলো সেইটা বুঝন যায়...আর এক্টিভিজম নিয়াতো তার তুমুল সমালোচনামূলক আগ্রহ টের পাইছি আগেই...তাই সকল ধরণের ক্রিয়া আর প্রতিক্রিয়া বিষয়ক বক্তব্য উনার কাছে প্রত্যাশা করি।
দস্যু বনহুর বলেছেন:
..নাইলে ধর্মের আইকন নিয়াও যেই ব্যবসা চলে এই দেশে তার ধান্দায় রিফাত হাসানের মতোন আমারো চোখ আন্ধা হইয়া যাওনের সম্ভাবনা জারী করে।হ।
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
মতলববাজ মজহরের চ্যালা।
কৌশিক বলেছেন:
নয়াদীগন্তীও বুদ্ধিজীবি ও আমগো এক্স জার্মান ভাষাশিক্ষাবিদের টকশো দেখবার চাই
হাসিব মাহমুদ বলেছেন:
আমার প্রশ্নটা ছিলো এইজায়গায় যে উনি যে প্রতিক্রিয়াশীল মধ্যবিত্তের প্রতিবাদের ধরনটার কথা বলতেছেন সেই প্রতিক্রিয়াশীলতা উনি গত কাল ব্লগে কোন কোন পোস্টে পাইছেন সেইটা । নিশ্চয়ই উনি সেইখানে এতো বেশী আপত্তি পাইছেন যেইটার কারনে মধ্যবিত্তের ঐ অনুভুতির প্রকাশগুলোরে ঢালাও ভাবে "প্রতিক্রিয়াশীল" বলতে পারছেন । আমি কোন কারনে উনি যেই পয়েন্টগুলা দেইখা উনার সিদ্ধান্তে আইছেন সেইটা মিস করছি বৈলা সেইগুলা উনার কাছে বিস্তারিত, পোস্টের রেফারেন্সসহ পয়েন্ট বাই পয়েন্ট বুঝতে চাইছি ।
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
আমি রিফাত হাসানের পোস্ট পড়ে আসল পয়েন্টা বুঝতে পারি নাই ।তারপর কমেন্টের ঘর দেখে বুঝলাম হাসিবও বুঝতে পারেন নাই ।
এখন আপনার পোস্ট পড়ে বুঝলাম , আপনিও বুঝতে পারেন নাই ।
সর্বনাশ ! লেখাটা তাহলে জবর হয়েছিল ।
শরৎ পোস্ট দিয়ে শখ জানিয়েছিলেন যে মূর্তি ভাঙা নিয়ে ফরহাদ মজহারের লেখা তিনি পড়তে চান , রিফাতের লেখা পড়ার পরে সেই সাধ আমার কিছুটা মিটিছে ঘোলে ।
লেখক বলেছেন: লেখাটা জব্বর হইছে কি না জানি না, তয় অন্যরম হইছিলো এইটা বুঝছি...মোল্লাগো নিয়া যে উনি ফাইজলামি করছেন এইটা বুঝছি। মোল্লাগো বিরুদ্ধে কিছু কইলে একটা গোষ্ঠী তার প্রতিবাদে উইঠা পইরা লাগে...কিন্তু তালেবানগো পোলাপাইন যে পপি চাষ আর ঈশ্বর বিশ্বাস ছাড়া আর কিছু শিখনের সুযোগ পায় নাই সেইসব নিয়া তাগো কোন বক্তব্য নাই...যেহেতু ঈমান আছে তাই আর কিছু লাগবো না। বাকীটা ব্যখ্যা করনের লেইগা জ্ঞানী ব্যক্তিরাতো আছেন ই...যারা ওরিয়েন্টালিজম কপচাইবো, যারা মধ্যবিত্তগো গালি দিবো, যারা আবার অ্যাক্টিভিস্ট হইবো...
কোন ধূসর এলাকায় থাকতে পারবো না কেউ?
রাশেদ বলেছেন:
ধন্যবাদ। এই পোস্টটা খেয়াল করি নাই।
লেখক বলেছেন: আপনারেও ধন্যবাদ...
নাভদ বলেছেন:
মৌলভীগোটা তার কাছে হয় প্রতিবাদ আর মধ্যবিত্তগো চেতনাটা হয় প্রতিক্রিয়াশীলতা.
=====================================
এটাই মূল চেতনা অনেকের কাছে..
লেখক বলেছেন: এই চেতনার ব্যখ্যা দাবী করি রিফাত সাহেবের কাছে...
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
সত্যি সত্যিই আমি রিফাত হাসানের লেখাটা বুঝতে চেষ্টা করছি অনেক্ষন থেকে । কিন্তু টিউবলাইট আর জ্বলে না । দেখা যাক , জ্ঞানী ব্যক্তিরা যদি একটু সদয় হয়ে পয়েন্টগুলো ক্লিয়ার করেন , তাহলে হয়তো আমরা মূর্খরা , যারা ফাজলামো করতে অভ্যস্ত , তাদের বোধী লাভ হলেও হতে পারে ।
লেখক বলেছেন: ইসলাম পন্থী শিক্ষিত মধ্যবিত্তরাও কি ভাবে সেইটাও জানতে চাই রিফাত সাহেবের কাছে...ফজলে এলাহীরটা জানি...বাকীগোটাও জানতে চাই...
লেখক বলেছেন: মাহিরাহি সাহেব একবার পইড়া গেছেন দেখতে পাইলাম...তারে তার মন্তব্য জানাইবার অনুরোধ জানাই...
লেখক বলেছেন: লিংকটা পোস্টেই দিয়া দিলাম...আর ইটালিকে প্রায় পুরা পোস্টটাই আছে এই পোস্টে...
আলোচনার মধ্য দিয়া রিফাত সাবের সাথে নিরাকার আর আকারগত আইকন নিয়া আলোচনা করনের খায়েশ ছিলো...
বিগব্যাং বলেছেন:
http://www.youtube.com/watch?v=yFm-5KHjW8Mধর্মান্ধ নুর...লালন ভাস্কর্য ভাঙ্গার মূল উদ্যোক্তা...
লেখক বলেছেন: হুমম...
জেন সাধু বলেছেন:
উত্তম।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ...
লেখক বলেছেন: এখনো পাই নাই বস, দেখি কাইলকা ফোন কইরা...
রাজর্ষী বলেছেন:
রিফাত হাসান এর সমস্যা হল সে যা বলতে চায় তা বলতে পারেনা, তাই ঘুরিয়ে বলে। তবে, ভাস্কর্যকে মুর্তি আর পৌত্তলিকতার সাথে তুলনা করে সে বুঝিয়েছে তার চিন্তাধারা।
লেখক বলেছেন: রিফাত হাসান বলতে পারেন না, নাকি আমরা তার কথা বুঝতে পারি না সেই dillema তে আছি...
মরিয়ম বলেছেন:
প্রতিক্রিয়াশীলতার নানা উদাহরণ/ঘটনা লক্ষ্য করলে পরে এটির গ্রহণযোগ্য অর্থটি দাঁড় করানো যায় মনে হয়েছে এর কেবলমাত্র সীমিত ও শিক্ষিত শব্দার্থ বাদ দিয়ে। এদেশে সংগঠিত নানান ঘটনাবলী যেগুলো বারংবার প্রতিক্রিয়াশীল প্রণোদনা হিসেবে চিহ্নিত- এর থেকে যে সহজ অর্থটি তৈরী হয়- যে গ্রহণযোগ্য মতটি প্রতিষ্ঠিত, তা হচ্ছে ঘটনার বিবেচনা বিহীন প্রতিক্রিয়া; যা কিনা প্রদর্শীত নাহয়ে পারে না। এছাড়া অন্য যে বিষয়টি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে তৈরী হয়ে আছে সেটি হচ্ছে এরূপ প্রতিক্রিয়ার কোন সাধারণ বক্তব্য বা মূলভাব নাথাকা।
বর্তমান লেখাটি এ দুটি অর্থেই প্রতিক্রিয়াশীল। লেখাটি একটি প্রতিক্রিয়াশীল লেখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এর বাক্য ও বক্তব্যে। বাক্য ’এই ফাজলামোটিই করতে চাই’- মানে- যে, যা-ই, যেভাবে বলুক আমি এভাবেই চলি, এভাবেই করি, এভাবেই অভ্যস্থ; আমাকে এর থেকে টলাতে পারবেনা কেউ-ই -এমন গোড়াঁ বক্তব্য দিয়ে শুরু করে (এমন ভাবে শুরুর মধ্যে যে গাম্ভীর্য প্রদর্শীত তা বলে যে ভেতরে ততোধিক বক্তব্য আছে) বক্ত্যহীন কিছু প্রশ্ন তুলবার প্রয়োজন হলে সেটি উক্ত সমীপেষু ব্লগেই সম্ভব ছিল; এতে এমন রক্ষণশীর জাতপাত মনোভঙ্গী প্রকাশিত যা এড়ানো গেলে নান্দিনিক প্রতিক্রিয়াশীলতার উর্দ্ধে উঠে গাঠুনিক আলোচনা সম্ভব হতো।
লালন শাহ'র গান গুলোর মধ্যে রাসুল (সাঃ) এর প্রতি যতটুকুন শ্রদ্ধা প্রদর্শীত আছে লেখাটিতে তার সচেতন স্খলন মূলতঃ প্রতিক্রিয়াশীলতা-ই; বলবার নান্দনিক ভাষাভঙ্গী সত্ত্বেও।
মন সহজে কি সই হবা
চিরদিন ইচ্ছা মনে আল্ ডিঙ্গায়ে ঘাস খাবা
......তবু দেখি গেলনা তোর তেঁড়া চলন বদ লোভা, তুমি
লেখক বলেছেন: হুমম...
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন:
১। বস ! দুর্দান্ত লিখেছেন .২. "আলোচনার মধ্য দিয়া রিফাত সাবের সাথে নিরাকার আর আকারগত আইকন নিয়া আলোচনা করনের খায়েশ ছিলো... "
আমাদেরও আশা ছিল তর্কটা জমে উঠুক
কিন্তু ব্লগার রিফাতের অনাগ্রহে সে আশায় গুড়েবালি
লেখক বলেছেন: কি আর করা যায় কন...
কথামালা বলেছেন:
ভাস্কর মোল্লা' বর্ণহীন সারাম । মোল্লায় মোল্লায় দোস্ত পাতাইছেন দেখি !
বুঝলাম ধর্মকে দার্শনিক ভাবে কিংবা সেকুলার মননে বুঝবার জ্ঞান আপনার এখনো হয়নাই । আপনার বা আপনাদের ভাষায় অশিক্ষিত মোল্লাদের ধর্ম সর্ম্পকে যা বুঝ একই বুঝ আপনারও । পার্থক্য শুধু আপনি বিশ্বাস করেন না মোল্লারা বিশ্বাস করেন ।
লেখক বলেছেন: আমি একটা আচরনরে কখনোই মাইনা নিতে পারি না যে আমার লগে মতাদর্শিক ভিন্নতা আছে মানে কেউ অশিক্ষিত হইয়া যায়...মোল্লাগো ব্যাপারেও আমার এর চাইতে আলাদা কোন উপলব্ধি নাই। ধর্ম বিষয় আমার অনাগ্রহ আছে...ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে আমার অনীহা আছে...কিন্তু ধর্মতাত্ত্বিক বা ধর্ম অনুসরণকারীগো লগে আমার ততোক্ষণ কোন বিরোধ থাকে না যতোক্ষণ তারা আমার উপর কোনকিছু চাপাইতে না চায়...যতোক্ণ আমার চিন্তার স্বাধীনতা বাধাপ্রাপ্ত না হয়।
সুতরাং মোল্লাগো লগে আমার মিল খুঁজনের যেই চেষ্টা করলেন সেইটা আসলে বিশাল পার্থক্য, কারন বিশ্বাসের কারনেই তারা মনে করে, তাগো মতাদর্শ অন্যের উপর চাপাইতে হইবো...আর আমি মনে করি চিন্তার স্বাধীনতার মধ্য দিয়াই মুক্তির দুয়ার খুলে। বিশ্বাসহীনতাই আমারে সেই পথ দেখায়...বিশ্বাস এই খানে আটকাইয়া যাওয়ার নামান্তর।
সেক্যূলার তত্ত্ব বিষয়টা আমার কাছে একটা রাজনৈতিক আচরনই মনে হয়। যেই রাজনীতির মধ্যে আমি পাল্টাইয়া যাওনের সম্ভাবনা দেখি...যেমন চাইরপাশে যতো সেক্যূলার মুসলমান দেখি তাগো মধ্যে আমি পোটেনশিয়াল ফ্যানাটিসিজমও দেখি। দেখি আমার উপর ট্যাগ চাপাইয়া দেওনের সম্ভাবনাও...যেইটা আপনে নিজেও করনের চেষ্টা করলেন...
যুক্তির সন্তরন যদি আপনের কাছে মোল্লাগো চরিত্রের লগে মিল মনে হয় তাইলে আমার আপনের সিদ্ধান্ত ধর্মীয় গুরুগো আচরনের অনুসরণ ছাড়া আর কিছু মনে হয় না।
ভালো থাইকেন...
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















এইখানে জবাব দেয় কিনা দেখার অপেক্ষায় থাকলাম