আজকে দিনটা সুন্দর কাটলো। অনেকদিন পর কোন বন্ধুর (বান্ধবী আসলে কিন্তু বন্ধু শব্দটি বলতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি ) সাথে দিন কাটানো হলো। চীন দেশীয় সেই বন্ধুর নাম চেন, বেইজিং এর মেয়ে।
সকালে চেন বাসায় আসলো, ওর জন্য আলাদা করে রাখা ছিল লাড্ডু, কালোজাম আর শনপাপড়ি। নিমিষেই লাড্ডুটা শেষ করে ফেলল। শনপাপড়ির কাপটি বাসায় খাবে বলে ব্যাগে ভরলো। দুপুরে দু'জন খেলাম চায়না স্টার বুফেতে। খাওয়াটা দারুণ ছিল। বেশীরভাগ কাস্টমারই সাদা আমেরিকান। এইদেশে চীনা খাবারের দোকান ছোট বড় সব শহরেই চোখে পড়ে - এতটাই জনপ্রিয়।
খাওয়া শেষে দু'জন বাস স্টপে অপেক্ষা করছি, বাস আসতে কিছু দেরী তাই একটু দূরে ছায়াতে দাঁড়িয়ে হাহা-হিহি, মানে গল্প শুরু। মেয়েরা গল্প শুরু করলে যা হয় আর কি, হঠাৎ দেখি আমাদের সামনে দিয়ে বাস হুশ্ করে চলে গেল। আমাদের চেহারা হলো দেখার মত। কি আর করা। ঠিক করলাম আরও আধা ঘন্টা না দাঁড়িয়ে থেকে হাঁটা শুরু করে দেই। মাথায় দুপুরের সূর্য নিয়ে, সুখ দুঃখের গল্প করতে করতে দু'জন প্রায় আধা ঘন্টা রোদ-ভাজা হয়ে পৌঁছলাম মলে। পা মনে হচ্ছিল সীসার মত ভারী - অনেকদিন পর এত হাঁটা হলো। টুকটাক কেনাকাটা করে দু'জন মিলে ভাগাভাগি করে ডেয়রী কুইনের একটা সানডে খেলাম।
দেশের বন্ধুদের কথা মনে পড়ছিল। কত্তদিন পর কোন বন্ধুর সাথে এত সুন্দর সময় কাটালাম। স্কুল, ইউনিভার্সিটি, পাশের বাড়ীর বন্ধুদের কথা মনে পড়লো। জন্মদিন, বন্ধু দিবস অথবা এমনিতেই চলে যেতাম পিৎজা হাট, হেলভেশিয়া, ডমিনাসে। কখনো চটপটি, ফুচকা খেতে অথবা কখনো এমনিতেই ঘুরতাম, কেনাকাটা করতাম রাপা প্লাজা, নিউ মার্কেট অথবা পিঙ্ক সিটিতে।
ছোটবেলার বন্ধুরা আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কেউ ঢাকায়, কেউ অস্ট্রেলিয়ায়, কেউবা ইংল্যান্ডে। কার সাথে কবে আবার দেখা হবে জানিনা। আদৌ কখনও দেখা হবে কিনা তাও জানিনা। মধুর কিছু স্মৃতিই শুধু আছে সাথে। পথ চলতে জানি হবে নতুন নতুন বন্ধু কিন্তু ছোটবেলার সেই বন্ধুদের জন্য সবসময়ই রাখা থাকবে মনের কোনে বিশেষ একটি স্থান। ক্লান্ত দিনের শেষে অথবা জীবনের কাঠগড়ায় ঠোকর খেলে সবার আগে মনে পড়ে তাদের কথা। বন্ধুত্ব তেমনই এক সম্পর্ক...।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




