শুভ্রসাদার বদলে মিনেসোটাতে এবার খয়েরি বড়দিন উদ্যাপিত হলো। তুষারে ঢাকা বড়দিন হলো না বলে অনেকের মন খারাপ যদিও। কোনো বিচিত্র কারণে এবার এখানে তুষারের দেখা নেই। আমি নিজে খুশি কারণ দিনের পর দিন তুষারপাত ভাল লাগেনা। যাই হোক, এখানে বড়দিনে ধর্মীয় আচারের চাইতে ফানটাই বেশি মনে হয়। বেশিরভাগ মানুষ ব্যস্ত ক্রিসমাস গাছ, কেনাকাটা, উপহার, খাওয়া-দাওয়া আর স্যান্টা ক্লসকে নিয়ে।
আমার এক নাইজেরিয়ান বন্ধু আছে, সে পেশায় একজন ক্যাথলিক ধর্মযাজক। সে একবার আমাকে বলছিল, আমেরিকাতে বড়দিনটা অনেকের কাছে একটি মজা করবার উপলক্ষ। অনেক মানুষ আছে যারা গীর্জামুখো পর্যন্ত হন না এই বিশেষ দিনে অথচ বাসা-বাড়ি সাজিয়ে, রান্না-বান্না করে তুলকালাম কান্ড করেন এই দিনকে ঘিরে। নাইজেরিয়াতে বা অন্যান্য দেশে অনেক ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালিত হয় এই বিশেষ দিনটি।
সপ্তাহ খানেক আগে মলে গেলেই দেখতাম ছোট বাচ্চদের বড় লাইন কিছু একটা ঘিরে। কি ব্যপার? তারা মলের স্যান্টা ক্লসের সাথে ছবি তুলতে চায়। স্যান্টা এই দেশের শিশুদের জীবনের বড় একটি অংশ জুড়ে আছে।
বড়দিনটা কোনভাবে কাটিয়ে আবারও সবাই কেনাকাটায় নেমে পড়ে। ২৬শে
ডিসেম্বরে দোকানপাটে বড় ধরণের সেল থাকে। আমরা মলে গিয়ে দেখলাম পার্কিং এর কোন জায়গা নেই। বাংলাদেশে ঈদের পরদিন এই দৃশ্য কখনও দেখা যাবে কিনা জানিনা।
এখানে ভিন্ন ধর্মালম্বীরাও ঘটা করে বড়দিন পালন করেন। ক্রিসমাস গাছ, উপহার, টার্কি অথবা স্টেক থাকে রাতের খাবার হিসেবে। অনেক বাঙালী আবার দেখি এটিকে বাড়াবাড়ি হিসেবে দেখেন - তাদের কাছে বড়দিন আর দশটা দিনের মতই। বড়দিন পালন করুক কি না করুক, পরদিন কেনাকাটা করতে বের হয় না এমন মানুষ কমই দেখেছি। বিশেষ করে খুব কম মেয়েই সেদিন শপিং মল থেকে দূরে থাকতে পারে।
এবার খয়েরি বড়দিন হয়েছে, তার মানে ঠান্ডা ছিল কম। মানুষের ঢল তাই বোধহয় একটু বেশিই চোখে পড়েছিল মলে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৩:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



