আমার প্রিয় পোস্ট

কর্ণেল তাহের আজো প্রাসঙ্গিক ১: কর্ণেল তাহেরের পিপলস আর্মি - মন্তব্য

০৬ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:২০

শেয়ারঃ
0 0 0

একটি লেখার উপর আমার মন্তব্য নিয়ে এই লেখা। মনে হল বিষয়গুলোতে হয়ত অনেকের আগ্রহ থাকতে পারে

মূল লেখাঃ Click This Link

আমার জ্ঞান খুবই সীমিত। তার পরও দু’একটা কথা বলি। সহনশীলতার সাথে শোনার জন্য অনুরোধ।

"ক্রাচের কর্ণেল"- বইটি পরা হয়নি, পরার ইচ্ছা রইলো। তবে আমার পড়া বইগুলোর থেকে জানি, তাহেরকে অবসরে পাঠানো হয়, পঙ্গুত্বের অজুহাতে। পরে তিনি জাসদের গোপন রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পরেন। ৭ই নভেম্বরের তথাকথিত সিপাহী-জনতা বিপ্লব এর অন্যতম স্থপতি তিনি, যে বিদ্রোহ প্রথমে অহিংস থাকলেও পরে রক্তাক্ত হয়ে পরে, সৈন্যদের হাতে মারা পরে ১৩ জন অফিসার (ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে বিডিআর এর ঘটনায়। ঘটনার মাত্র ৯ ঘন্টা আগে আমি এ সংক্রান্ত একটি বই পড়তে পড়তে ভাবছিলাম, এও সম্ভব!! হাতেকলমে প্রমান পেয়ে গেলাম!!)

এই বিদ্রোহের ফলে জিয়া বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেলেও প্রায় সাথে সাথে কার্যত বন্দী হন তাহেরের অনুসারীদের হাতে, তারা তাদের বেশকিছু দাবী অস্ত্রের মুখে আদায় করে নেয়, বাকী গুলোও আদায়ের জন্য দুজনের মধ্যে ক্ষমতার রশি টানাটানি চলতে থাকে। তাহের চাইছিলেন জিয়াকে ব্যাবহার করতে, আর জিয়া তাহেরকে ব্যবহার করে মুক্তি পেয়ে ক্ষমতা নিরংকুশ করতে চাইছিলেন। প্রথমে তাহেরের অবস্থান ভাল থাকলেও সময়ের সাথে জিয়া সেনাবাহিনীতে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। এরপর তিনি আর দেরী করেননি। কঠোর হস্তে সমস্ত বিরোধীদের নির্মূল করার পদক্ষেপ নেন।
কর্নেল তাহেরের প্রতি আমার শ্রদ্ধা, তার বেশীরভাগ দাবী বাস্তবসম্মত, এবং বিবেচনার দাবী রাখে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে উনার পদ্ধতি ভুল ছিল এবং তৎকালীন পরিস্থিতিতে তা জাতীয় জীবনে এক বিপর্যয় ডেকে আনে। ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় জিয়ার কাছে তার পরাজয় ছিল একরকম অবধারিত, এবং এর পরিনামে তাকে জীবন দিয়ে তার মূল্য পরিশোধ করতে হয়।

এ লেখার উদ্দেশ্য কর্নেল তাহের বা জিয়া কারো সন্মানহানী নয়। আমাদের জাতীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা তারা, তাদের আদর্শ ভিন্ন ছিল, আরো পৃথক ছিল সেটা বাস্তবায়নের পদ্ধতি। ভুল ভ্রান্তি সম্ভবত দুজনেরই ছিল, দুজনেই মানুষ। “দানব আর মহাপুরুষের বিচার তাই ইতিহাসের হাতে ছেড়ে দেয়াই ভাল”।

ঘটনার বেলায় আমি নিজস্ব মতবাদের চাইতে সমসাময়িক মানুষদের লেখার উপর বেশি নির্ভর করেছি। এ লেখার মূল তথ্য এ বইটি থেকে নেয়া – তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা – লেঃ কর্ণেল(অব) এম এ হামিদ, পি এস সি।

সুন্দর একটি লেখার জন্য ধন্যবাদ এবং +।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

০৭ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:১২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

০৭ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৪৭

লেখক বলেছেন: সময় করে পড়ার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।

৩. ১২ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:৪১
মর্তুজা আশীষ আহমেদ বলেছেন: আমি যতদূর জানি কর্ণেল তাহের সেনাবাহিনীর কতিপয় আফিসারদের(জিয়া এবং খালেদ মোশাররফ) ক্ষমতা নিয়ে কাড়াকাড়ি থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্যই ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের শুরু করেছিলেন। আর খালেদ মোশাররফের লোভ ছিল আর্মি চীফের পদের জন্য। পুরো দেশের সর্বময় ক্ষমতা দখলের কোনো উদ্দেশ্য তারও ছিল না। যে কারণে ৭ নভেম্বরের আগে রক্তপাতহীন টেলিফোন যুদ্ধ সংঘটিত হয়। কিন্তু খালেদ মোশাররফ পুরো ব্যাপারটি নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় "মহান মুক্তিযুদ্ধের চরম চৌকস কমান্ডার" কে বাজেভাবে প্রাণ দিতে হয়। তার রাজনৈতিক অদুরদর্শিতা এবং তার ভাই রাশেদ মোশাররফ ও মায়ের নির্বোধ মিছিল এক্ষেত্রে প্রভাবকের ভূমিকা রেখেছিল।
১২ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:৫৩

লেখক বলেছেন: কর্নেল তাহের সম্পর্কে আমি আগে অনেক উচ্চ ধারণা পোষণ করতাম। তবে ইদানিং সব ‘কামড়াকামড়ি’ দেখে আমার আর সে ধারণা নাই। উনার আদর্শ বাস্তবায়ন করতে যে রক্তাত্ব পথ বেছে নিয়েছিলেন (জিয়া রাজি না হবার পর) তাতে তার যে পরিণতি অবশ্যম্ভাবী ছিল তাই হয়েছে। আমি সব জানি না, তাই এক কথায় শেষ করতে চাই, “দানব আর মহাপুরুষের বিচার তাই ইতিহাসের হাতে ছেড়ে দেয়াই ভাল”

 

মোট সময় লেগেছে ১.১১১৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি তন্ময়।বুয়েট থেকে কম্পিউটার সাইন্স এন্ড এঞ্জিনিয়ারিং এ পাশ করে এখন সুদূর প্রবাসে।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই