আমার প্রিয় পোস্ট

অজানারে চিনতে ছুটছি অবিরাম...

সরকার কাঁপানো সেই কর্মকর্তারা এখন যেমন...

০৯ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:১৯

শেয়ার করুন:                   Facebook

অল্পদর্শী
বিগত জোট সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দাপুটে বেশিরভাগ কর্মকর্তাই এখন আর খবরে নেই। প্রশাসন দাপিয়ে বেড়ানো ওইসব কর্মকর্তার অধিকাংশই এখন পলাতক। আবার কেউ কারাগারে। দু’একজন সুযোগের প্রতীক্ষায় নীরবে সময় কাটাচ্ছেন।
জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপির দুর্দিনে ওইসব কর্মকর্তাদের ক্ষমতার কথা আজ ঘুরে-ফিরে আলোচনা হচ্ছে। তবে বিএনপির পাশে দেখা যাচ্ছে মাত্র দু’একজনকেই।
খালেদা জিয়া সরকারের দুইবারে পূর্ণ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ছিলেন ড. কামালউদ্দিন সিদ্দিকী। দ্বিতীয় দফায় মুখ্য সচিব নিয়োগের সময় বিএনপির একটি অংশ তার বিরোধিতা করেছিল। তারা বলেছিল, খালেদা জিয়ার দুঃসময়ে কামাল সিদ্দিকীকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ঘটেছেও ঠিক তাই। জোট সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের মাত্র কয়েকদিন আগেই তিনি বিদেশে পাড়ি জমান।
জানা গেছে, কামাল সিদ্দিকী এখন অস্ট্রেলিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। আগের বিএনপি সরকারের পতনের সময়েও কামাল সিদ্দিকী বিদেশে চলে গিয়েছিলেন বলে অনেকে তার দ্বিতীয় দফা নিয়োগে অসন্তুষ্ট ছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া এবং হাওয়া ভবনের কাছে আর কোনো বিশ্বস্ত নাম না থাকায় শেষ পর্যন্ত তাকেই মুখ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। শুধু তাই নয়, এ সময় মোট চারবার তার চাকরির চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ বাড়ানো হয়। নাইকো দুর্নীতি মামলার আসামি কামাল সিদ্দিকী প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও এখন সেটেল করেছেন অস্ট্রেলিয়ায়। তবে ভারত ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় তার যাতায়াত আছে। অবশ্য এসব দেশে বসবাসকারী বিএনপি নেতাদের পারতপক্ষে এড়িয়ে চলেন কামাল সিদ্দিকী। জানা গেছে, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের একটি প্রকল্পের সঙ্গেও জড়িত রয়েছেন ড. কামাল সিদ্দিকী।
মুখ্য সচিবের পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদটি হলো প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব। বিগত সরকারের সময় প্রথম দফায় এ পদে ছিলেন বহুল আলোচিত অতিরিক্ত সচিব নুরুল ইসলাম। একটি বেনামি দরখাস্তের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তারেক রহমান ও আবদুল মান্নান ভূঁইয়াসহ কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়ে তিনি প্রথমবার আলোচনায় আসেন। পরে ওই ঘটনার সূত্র ধরে তাকে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তী সময় মামলা করে আদালতের নির্দেশে তিনি চাকরি ফেরত পেলেও বয়স শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে নিয়মিত অবসরে যেতে হয়। জোট সরকারের বিদায়ের পর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি জাতীয় দৈনিকে সাক্ষাৎকার দিয়ে দ্বিতীয় দফায় তিনি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে খালেদা জিয়া সম্পর্কে জবানবন্দি দিয়েও তিনি আলোচিত হন।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাবেক এ ভারপ্রাপ্ত সচিব বর্তমানে একটি এনজিওর সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার স্ত্রীর রয়েছে বুটিকের ব্যবসা। সরকারের প্রভাবশালী দু’একজনের সঙ্গে তার সুসম্পর্কের কথাও শোনা যায়।
দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রীর সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলাম নাইকো দুর্নীতি মামলায় এখন কারাগারে। জোট সরকারের বিদায়ের পর বাতিল হওয়া নির্বাচনে তিনি ঝিনাইদহের একটি আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
সাবেক জ্বালানি সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে নিয়োগ পাওয়ার পরপরই বেশ ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন। সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেনসহ কয়েকজন প্রতিমন্ত্রীর মন্ত্রিত্ব খোয়া যাওয়ার নেপথ্যে খন্দকার শহীদের ভূমিকা ছিল বলে অনেকে মনে করতেন। অভিযোগ আছে, আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং শামসুল ইসলামের মতো সিনিয়র মন্ত্রীদের সচিব বদল করতেন তিনি সংশ্লিষ্ট ওই মন্ত্রীদের না জানিয়েই। সচিব বদলের ঘটনা নিয়ে জোট সরকারের মধ্যে কয়েকবার বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। মান্নান ভূঁইয়াসহ দু’একজন মন্ত্রীর সচিব বদলের পর তাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আর যোগ দিতে দেয়া হয়নি। সরকারের শেষ দিনগুলোতে ড. কামাল সিদ্দিকী, হারিছ চৌধুরী এবং শামসুল আলমের সঙ্গে খন্দকার শহীদের সম্পর্ক ভালো ছিল না। ফলে এসবের বিরূপ প্রভাব পড়েছিল প্রশাসনে।
সূত্র জানায়, নাইকো মামলায় গ্রেপ্তারের আগে একটি হাসপাতালে চাকরি করতেন খন্দকার শহীদ। বর্তমানে তার পরিবার আর্থিক কষ্টে রয়েছে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে।
এ দুই সচিব ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আরো দুই দাপুটে কর্মকর্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ও মোসাদ্দেক আলী ফালু। সরকারের প্রথম দিকে ফালুকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢুকতে দেননি হারিছ চৌধুরী। তাদের মধ্যে বৈরী সম্পর্কে অনেকদিনের। পরে ফালু রাজনৈতিক সচিব-২ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কাজে-কর্মে কিছুটা ভারসাম্যের সৃষ্টি হয়। ফালুর নিয়োগের আগে প্রশাসনে নিয়োগ-বদলি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎসহ সবকিছুতে হারিছ চৌধুরীর একচেটিয়া প্রভাব ছিল। ২০০৫ সালে ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে ফালুকে মনোনয়নে সহায়তা করে কৌশলে ফালুকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাইরে বের করে দেন হারিছ চৌধুরী। উদ্দেশ্য ছিল, ফালুকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে রাখা।
জানা গেছে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ দু’একজন শুভাকাক্সক্ষী এ সম্পর্কে ফালুকে আগাম সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু ফালু শোনেননি। তার বিশ্বাস ছিল, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় হারিছ চৌধুরী তার সঙ্গে শত্রুতা করে বেশি দূর এগোতে পারবে না। কিন্তু হাওয়া ভবনকে কাজে লাগিয়ে হারিছ এ কাজে সফল হয়েছিলেন। উপনির্বাচনে ফালু জয়ী হলেও তাকে আর স্বপদে ফিরতে দেননি হারিছ চৌধুরী।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ঢোকার পাস দেয়ার জন্য ওই সময় উপ-প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলসহ প্রেস উইংয়ের আরো কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন হারিছ চৌধুরী। এক পর্যায়ে হারিছ চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেটে ফালুর প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেন। বাধ্য হয়ে এক সময় হাল ছেড়ে দেন ফালু। প্রধানমন্ত্রী নিজে চাইলেও হাওয়া ভবনের বিরোধিতার কারণে ফালুকে দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ঢুকতে দেয়া হয়নি। সরকারের শেষ এক বছরে সংসদ সদস্য এবং গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত নিজের মিডিয়া নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে ফালুকে। আর হারিছ চৌধুরী এ সুযোগে একচেটিয়াভাবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন।
শোনা যায়, ৬০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় নিজের নাম না দেখে বন্ধুদের কাছে অনেক কান্নাকাটি করেছিলেন হারিছ চৌধুরী। কিন্তু তখনো রাজনৈতিক সচিবের দাপট সম্পর্কে তার ধারণা ছিল না! প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ঢুকে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান বুঝতে পেরে ক্ষমতার দম্ভে কিছুটা ভারসাম্যহীন হয়ে যান হারিছ চৌধুরী। এক সময় সিনিয়র মন্ত্রীদের দু’একজনের সঙ্গে তিনি অশোভন আচরণও শুরু করেন। অন্যদিকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ছোট মন্ত্রীদের প্রায়ই তিনি কাবু করে ফেলতেন। অনেকের মতে, অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং দুর্নীতিবাজ বলে পরিচিত দু’একজনকে তিনি ‘ব্ল্যাকমেইল’ করতেও ছাড়তেন না। খালেদা জিয়াকে তার ক্যান্টনমেন্টের বাসায় পৌঁছে দিয়ে ফিরে এসে রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অফিস করতেন হারিছ চৌধুরী। আর তার কাছে ওই সময় তদবির করতে যেতেন আমলা, ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ, এমনকি দুর্বল গোছের ওইসব প্রতিমন্ত্রীদের কেউ কেউ। অনেকের ধারণা, এ পথেই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে হারিছ চৌধুরী এখন মালয়েশিয়ার টুইন-টাওয়ারে ব্যবসা করতে পারছেন। যুক্তরাষ্ট্রে তার রয়েছে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট।
সূত্র মতে, ওয়ান-ইলেভেনের কিছুদিন পর তিনি ভারত হয়ে দেশ ছাড়েন। এরপর তিনি তার মামার বাড়ি আসামে ছিলেন কিছু সময়। দু’একজন তাকে লন্ডনেও দেখেছেন। কিন্তু কোথাও তার ট্রেস পাওয়া যাচ্ছে না। সম্প্রতি দুর্নীতি মামলায় তার ১৩ বছরের কারাদ- হয়েছে।
জানা গেছে, হারিছ চৌধুরীর স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে আগে থেকেই অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী। সরকারের বিদায়ের পর তিনি বিদেশে যাবেন এটা মোটামুটি নিশ্চিত ছিল এবং সবকিছুর ব্যবস্থা সেভাবেই করে রেখেছিলেন। বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মতে, খালেদা জিয়ার প্রথম ‘গ্লোরি’ (সুখ্যাতি) নষ্ট করেছেন হারিছ চৌধুরী। হাওয়া ভবনের দাপটে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে নিয়োগ পেলেও শেষদিকে হাওয়া ভবনের সঙ্গেও তার বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং সরকারের শেষ এক বছর তিনি প্রায় ক্ষমতাহীন ছিলেন। পাশাপাশি দলেও ছিলেন অপাংক্তেয়।
চার সচিবের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আরো তিন ক্ষমতাশালী কর্মকর্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পিএস-২ সাইফুল ইসলাম ডিউক, এপিএস-১ শামসুল আলম এবং এপিএস-২ আবদুল মতিন। তাদের মধ্যে শামসুল আলম এবং মতিন জোট সরকারের শেষেরদিকে প্রমোশন পেয়ে উপসচিব হলেও বর্তমানে তারা ওএসডি। তাদের তিনজনের বিরুদ্ধেই দুদকের মামলা রয়েছে। ফলে তারা পলাতক। বিদেশে বিএনপির অনেক সাবেক মন্ত্রী ও নেতার খোঁজ পাওয়া গেলেও এসব কর্মকর্তার কোনো হদিস মিলছে না। পুলিশ সম্প্রতি শামসুল আলমের বাসায় তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলেও তাকে পায়নি।
অন্যদিকে খালেদা জিয়ার বড় বোনের ছেলে ডিউকও বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন বলে জানা যায়। নৌবাহিনীর অফিসার পদ থেকে পদত্যাগ করে খালেদা জিয়ার পিএস হয়েছিলেন ডিউক। আত্মীয় হিসেবে এ কার্যালয়ে তার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।
’৯১ পরবর্তী বিএনপি সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার এবং বিরোধী দলের নেতা থাকাকালে খালেদা জিয়ার এপিএস থাকার সুবাদে মোট ১৫ বছর খালেদা জিয়ার স্টাফ ছিলেন শামসুল আলম। দীর্ঘদিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করার রেফারেন্স দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করতেন। পলিসি মেকিংয়ে না হলেও প্রশাসনের নিয়োগ-বদলিতে তার হস্তক্ষেপ ছিল বলে জোট সরকারের সময়ে প্রশাসনে ব্যাপকভাবে আলোচনা হতো। তার স্ত্রী খোদেজা বেগমও ছিলেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-২ এবং বর্তমানে তিনিও পলাতক।
আবদুল মতিনকে বলা হতো ‘ডেভেলপমেন্ট মিনিস্টার’। রাস্তা-ঘাট ও স্কুল-কলেজসহ প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নের ভার ছিল তার ওপর। এ কারণে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের তার রুমে গিয়ে বসে থাকতে হতো। ফলে প্রশাসনে; বিশেষ করে মন্ত্রীদের দপ্তরে তার কদর ছিল সবচেয়ে বেশি।
পিএস ও এপিএসদের পরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আলোচিত তিন কর্মকর্তা ছিলেন প্রটোকল অফিসার ফরিদুল ইসলাম, অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার ডা. ফিরোজ মাহমুদ ইকবাল এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আশিক ইসলাম। হাওয়া ভবনের প্রভাবে তারা তিনজনই নিয়োগ পেয়েছিলেন। আশিক ও ফিরোজ পলাতক থাকলেও ফরিদুল ইসলাম চাকরিতে বহাল আছেন। নিজেকে তিনি তারেক রহমানের বন্ধু বলে পরিচয় দিতেন। অভিযোগ আছে, ডাক্তার হওয়ার সুবাদে সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়োগ-বদলিতে তার হস্তক্ষেপ ছিল। দুদকের মামলায় সম্প্রতি ডা. ফিরোজের সাত বছর কারাদ- হয়েছে।
সাবেক ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম জগলুর ভাই হিসেবে প্রটোকল অফিসার পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন ফরিদুল ইসলাম। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচনে টাঙ্গাইলের ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে তিনি আলোচিত হয়েছিলেন। অভিযোগ আছে, তারা তিনজনই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রেস উইংয়ের রুম দখল করে নিজেদের অফিস রুম সাজিয়েছেন।
হাওয়া ভবনের মুখপাত্র বলে পরিচিত আশিক ইসলাম বিগত জোট সরকারের সময়ের একটি আলোচিত নাম। হাওয়া ভবনের নাম ভাঙিয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় দাপিয়ে বেড়ানো আশিক বর্তমানে লস এঞ্জেলেসে দুটি পেট্রোল পাম্পের মালিক। ওয়ান-ইলেভেনের পর তিনি পালিয়ে আমেরিকায় চলে যান। অভিযোগ আছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের অত্যন্ত কনিষ্ঠ কর্মকর্তা হলেও সিনিয়রদের কাউকেই তোয়াক্কা করতেন না আশিক। এমনকি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব তাজুল ইসলামকেও তিনি কোনো মূল্য দিতেন না। ছুটি নেয়া বা কাজকর্মের ব্যাপারে তাজুলের মতামতের মূল্য ছিল খুবই কম। তাছাড়া ‘ভাইয়ার (তারেক রহমান) কাজে ব্যস্ত’ বলে সবাইকে তটস্থ রাখতেন আশিক।
আশিক ইসলামের আরেকটি কৃতিত্ব হলো, সিনিয়র সাংবাদিকদের দূরে রেখে তুলনামূলক তরুণদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা; যাতে তাদের দিয়ে ইচ্ছামতো তারেক রহমানের কাভারেজ করানো যায়। তারেক রহমানের উপস্থিতিতে যেসব কর্মসূচিতে সাইফুর রহমান, মান্নান ভূঁইয়া বা ড. খন্দকার মোশাররফের মতো সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকতেনÑ সেখানে বলা হতো নিউজের শিরোনাম করতে হবে তারেক রহমানকে দিয়ে। অনেক সময় চাপের মধ্যে এসব কাজ করা হতো। যেসব সাংবাদিক আশিকের কথা শুনতে চাইতেন না, তারা তারেক রহমানের অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ ছিলেন। আর এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে সিনিয়র সাংবাদিকদের মধ্যে তারেক রহমান সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়। বিতর্কিত হয়ে পড়েন তারেক রহমান।
দাপিয়ে বেড়ানো এবং আলোচিত এসব কর্মকর্তা ছাড়াও জোট সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, প্রেস সচিব তাজুল ইসলাম, উপ-প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল ও আবদুল মান্নান, সহকারী প্রেস সচিব মুশফিকুল ফজল ও মহিউদ্দিন খান মোহন।
মহিউদ্দিন খান মোহনের তেমন কোনো বদনাম শোনা যায়নি। বর্তমানে তিনি খালেদাপন্থী বিএনপির মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর। ঢাকাতেই আছেন মোহন এবং বিএনপিতে বেশ সক্রিয়। আর মুশফিকুল ফজল এখন লন্ডনে। তার পরিবারের সদস্যরা অনেক আগ থেকেই লন্ডনে বসবাস করেন। আশিকের সঙ্গে তাদের কারোরই সম্পর্ক ভালো ছিল না।
খালেদা জিয়ার বেশিরভাগ বক্তব্য লেখার দায়িত্ব ছিল মারুফ কামাল খান সোহেলের ওপর। কাউকে প্রভাবিত করে নিজের আখের গোছাতে না পারলেও এখনো খালেদা জিয়ার পক্ষে কাজ করছেন তিনি। জানা গেছে, মারুফ কামাল খান সোহেলের সঙ্গে প্রথমদিকে তারেক রহমানের সুসম্পর্ক থাকলেও পরেরদিকে কৌশলে আশিক ইসলাম তাকে হাওয়া ভবন থেকে সরিয়ে দেন।
উপ-প্রেস সচিব আবদুল মান্নানকে নিয়ে কোনো বিতর্ক শোনা যায়নি। তবে ওই পদে থাকাকালে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ডিজি পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি এবং এখনো তিনি ওই পদেই বহাল আছেন।
রাজনৈতিক কারণে আলোচিত হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রায় সাড়ে চার বছর ক্ষমতাহীন ছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। হারিছ চৌধুরী এবং হাওয়া ভবন কেন্দ্রিক ক্ষমতার বলয় তাকে খালেদা জিয়ার কাছেই ঘেঁষতে দেননি। অনেকের মতে, তাকে সবাই ভয় পেতেন বলেই ক্ষমতার কেন্দ্রের বাইরে রাখা হতো। সরকারের বিপদের সময় সহকর্মী অনেককে তিনি রসিকতা করে বলতেন, ‘তোমরা আমাকে সাড়ে চার বছর বারান্দায় বসিয়ে রেখেছো। সুতরাং আমার কিছুই করার নেই।’
জানা গেছে, নুরুল ইসলামকে সচিবের পদ থেকে বরখাস্তের বিরোধিতা করেছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। অবশ্য শেষের ছয় মাস; বিশেষ করে রাজনৈতিক সঙ্কটের সময়ে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়। অনেকের মতে, মান্নান ভূঁইয়া এবং আবদুল জলিলের সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার নেপথ্যে তার ভূমিকা রয়েছে। খালেদা জিয়াকেও তিনি কঠোর অবস্থানে নিয়ে যান বলে কেউ কেউ মনে করেন। বিরোধী দলে থাকতে সাকা চৌধুরী হওয়া ভবনের ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। হাওয়া ভবনের বিরাগভাজন হওয়ায় তাকে এবং আনোয়ার জাহিদকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
স্বভাবের দিক দিয়ে শান্ত প্রকৃতির হলেও একটি রাজনৈতিক সরকার প্রধানের প্রেস সচিব হিসাবে তাজুল ইসলামের নিয়োগ নিয়ে বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের মধ্যে সব সময়ই আলোচনা-সমালোচনা ছিল। বলা হতো, তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা তাজুল ইসলামের সঙ্গে দেশের অধিকাংশ পত্রিকা বা মিডিয়ার শীর্ষ সাংবাদিকদের পরিচয় নেই। ফলে কীভাবে তিনি মিডিয়া সামাল দেবেন তা নিয়েই প্রশ্ন ছিল। কিন্তু বিএনপিপন্থী সাংবাদিকরা জানার অনেক আগেই ড. কামাল সিদ্দিকীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব পদে নিয়োগ পেয়ে যান তাজুল ইসলাম। অভিযোগ আছে, স্ত্রীকে বিটিভির ডিজি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার নেপথ্যে তাজুল ইসলামের ভূমিকা ছিল।
জোট সরকারের ক্ষমতার শেষ বছরে কিছুদিন ধরে বিটিভির ডিজির পদ খালি ছিল। একদিন সকালে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে তদবির করে বলেন, ‘ম্যাডাম বিটিভিতে কাউকে নিয়োগ দিতে হয়।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওহ আপনি জানেন না? ওখানে তো আজই একজনকে নিয়োগ দেয়া হলো!
তথ্যমন্ত্রী তখনই জানতে পারেন, তাজুল ইসলামের স্ত্রী ফেরদৌস আরাকে বিটিভির ডিজি পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে!

 

 

  • ৫ টি মন্তব্য
  • ১০৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৪৩
comment by: এস্কিমো বলেছেন: অনেক কিছু জানলাম। ধন্যবাদ।
২. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৪৪
comment by: আহমদ মোতেয়দ বলেছেন: ভাল পোস্ট। ধন্যবাদ।
৩. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৪৮
comment by: সোনার বাংলা বলেছেন:

বিশাল পুষ্ট....... ভালো লিখছেন+

তবে যত গুলার নাম পোষ্টের মধ্যে আছে সব গুলাই শুয়োরের বাচ্চা,

হারিচ আর ড. কামালউদ্দিন সিদ্দিকী হইলো বহুত বড় মাদারী। সব শুয়োরের বাচ্চারা লুটপাট কইরা এখন বিদেশে পইরা আছে.......

কিছু দিন পরে আবার এরা নতুন রুপে ফিরা আইবো....

৪. ১০ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:০৪
comment by: লুকার বলেছেন: গু নিয়া ঘাটাঘাটি!
৫. ১০ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:৫৪
comment by: সাজিদ শাহরিয়ার বলেছেন: এইসব জানোয়ারদের ফাঁসীতে ঝুলানো উচিত।

 



 


পর্যবেক্ষক
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ১৫১৭