somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাহবুবুল আজাদ
কেমন জানি খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী,ভালবাসি বই পড়তে,তার চেয়েও বেশি ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে,আর কবিতা সে তো টানে আমায় অদৃশ্য সূতোয়।ঘুরেছি পৃথিবীর বহু দেশ, তবুও মন ভরেনি, আবার ও বের হব কোন একদিন পৃথিবীর পথে প্রান্তরে, আর হব আমার লেখা লেখির ফেরিওয়ালা।

প্রতিদিনকার ঘরে ফেরার গল্প

১৬ ই অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একঃ
শ্যামলী নেমে লেগুনা তে উঠেছি আদাবর পার হতেই যাত্রী শেষ ভেতরে মাত্র চারজন এরপর একটু একটু করে তিনজন উঠল, কেউই ভেতরে বসে না, সবাই পেছনের এক জায়গায় আসন্ন সংকট চিন্তা করে আমি বললাম ভাই এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে একটু পর টেকঅফ করার মত অবস্থা হবে,
কেন কেন?
বললাম লেগুনার ইতিহাস তাই বলে, দেখা যাবে মোহাম্মদপুরের বদলে অন্য কোথাও চলে গেছি। তাহারা কথা মানিয়া ভেতরে তাহাদের পশ্চাৎদেশ আসনের সাথে স্থাপন করিল। আপাতত টেকঅফ করার কোন অপশন নেই। যাক নিশ্চিন্ত হওয়া গেল।

দুইঃ
একটু পরে দেখলাম আশে পাশের যাত্রী আর বাইরের ও কিছু মানুষের দৃষ্টি একযোগে ঘুরে গেল, ঘটনা কি?
আমিও তাদের দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকালাম যা ভেবেছি তাই এক মহারুপসী খোলা চুলে রিক্সায় যাচ্ছে। এবার তার দিকে না তাকিয়ে যাত্রীদের দেখা শুরু করলাম, মনে হচ্ছে ঘাড় লক হয়ে গেছে সবার। রাস্তায় এই সৌন্দর্য না দেখে আশেপাশের মানুষের চোখ মুখ দেখলে ব্যাপক বিনোদন পাওয়া যায়। দু চার জনের দৃষ্টি তো তিনশ ষাট ডিগ্রী ঘুরে গিয়েছে।
এবার আবার একটু চিন্তায় পড়লাম, ভাবছি ড্রাইভারের কি অবস্থা সে ও যদি তিনশ ষাট ডিগ্রী ঘুরে যায় তাহলে শেষ, একটু কষ্ট করে দেখলাম তার অবস্থা, মাশাহআল্লাহ বেচারার অবস্থা ভালই আছে সৌন্দর্যকর্ষ টানে কোন প্রতিক্রিয়া নেই তার। যাক আবারো নিশ্চিন্ত হওয়া গেল।

তিনঃ
একটু পরে উঠলেন এক খালা, আমার পাশে বসলেন, এবার শুরু হল আরেক সমস্যা, উনি মোটামুটি দুজনের জায়গা নিয়ে নিলেন, কিছু করার নেই উনার খাবারের রুচি মনে হয় অতি মাত্রায় ভাল। ড্রাইভার ব্রেক করলেই উনি যে ঠেলা দিলেন আমি সহ বাকি চারজনের আসন পরিবর্তন হয়ে গেল একযোগে।
খালা বললেন বাবা ব্যাথা পাইছ?
আমি বললাম নাহ কি যে বলেন খালাম্মা।
আরে খালাম্মা বলতেছ, আজকাল তো কেউ বলেনা, অনেকদিন পরে শুনলাম তোমার মুখে, আজকাল তো বাসার কামের মাইয়াডা ও আন্টি কইয়া ডাকে। যাত্রা পথে আমার কখনই মানুষের আলগা কথা শুনতে ভাল লাগেনা। আপাতত কিছু করার নেই,
আমার খালাম্মা ডাকে উনি যারপরনাই আপ্লুত,
অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছে উনার সে কাহিনী শুরু করলেন, তাতে নে গেলাম।

চারঃ
লেগুনার হেল্পার বয়স কত হবে সাত আটের বেশিনা, জিজ্ঞেস করলাম এভাবে যে ঝুলে ঝুলে আসো ভয় লাগেনা,
নাহ পরথম পরথম লাগত, এহন লাগেনা।
পড়ালেখা করনা কেন?
বাপে কইছে লাগব না, রোজ রোজ টাহা নিয়ে দেয়া লাগে, নইলে মারে।
আচ্ছা, তোমার কি পড়তে ইচ্ছা করে,
জানিনা , তয় মনে হয় ভালই অইত পড়তে পারলে।
পাশ দিয়ে যাওয়া একটা প্রাইভেট কারের দিকে এক করুণ চোখে তাকায়। এ চোখে হয়ত কিছু স্বপ্ন আছে, যার কোন রাস্তা সে জানেনা, বোঝেনা জীবনের কি মানে। শুধু জানে দিন শেষে কয়টা টাকা ঘরে নিয়ে ফিরতে হবে। আমরা কোন দিক দিয়ে প্রকৃত উন্নত হয়ে গেছি জানি না।
আজকে যদি এইসব যানবাহনের ছোট ছোট শিশুরা আপনাকে প্রশ্ন করে স্বপ্ন কাকে বলে? আমাকে একটা স্বপ্ন দেখাবেন? কি করবেন?
পারবেন কি?
প্রতিদিন আক্ষেপের ঝুলিতে অনেক আক্ষেপ জমা হয়। অনেক কিছু না পারার দলে লোকের সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে, পরিবর্তনের স্লোগানে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত, কিন্তু দিন শেষে আমরা ঘরের ফেরার পথে ঠিকই ঝাঁকি খেতে খেতে আসি খানা খন্দে ভরা রাস্তার অসুখে।


সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ১:২৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"জয় চেরনোবগ"

লিখেছেন উদাসী স্বপ্ন, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৩:৫৯


ইউরোপের অনেক রেস্টুরেন্টের বারে ফানবোর্ডে লেখা থাকে "ড্রিংক বিয়ার সেভ ওয়াটার"। এই লেখাটা প্রথমবার দেখে বেশ হাসি আসলেও বারটেন্ডার যখন বললো আফ্রিকার অনেক দেশে বিশুদ্ধ পানির দাম বীয়ারের চেয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভৌতিক কাহিনী - জ্বীন সাধনা [প্রথম পর্ব]

লিখেছেন নীল আকাশ, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:১৩



ভর দুপুরবেলা। রিক্সা থেকে নেমেই তাড়াহুড়া করে কুরিয়ার সাভির্সের একটা দোকানে ঢুকল রুমি। ছোট কাগজে লেখা একটা গোপন নাম্বার দেখাতেই দোকানদার ওর হাতে একটা মাঝারি সাইজের প্যাকেট তুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

» প্রকৃতির ছবি, দেশের ছবি (ক্যানন ক্যামেরায় তোলা)-২

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৪

বিভিন্ন সময়ে তোলা ক্যানন ক্যামেরার ছবি। আশাকরি ভালো লাগবে আপনাদের ।



হীম পড়েছে তো হয়েছেটা কী-টক খেতে কী মানা
পকেট থেকে বের করো তো পয়সা দু'আনা,
কিপটে মানুষ ফাঁকি বাজি-কত কিছু জানো
যেমন করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিরল কাঁটার বাতাস

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:৪০


আমার গাড়িতে একটা লাশ। আমি গাড়িটা চালিয়ে যাচ্ছি। হ্যাঁ, আমিই বহন করে নিয়ে যাচ্ছি লাশটাকে। লাশটা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে না। একজন মানুষ যখন মারা যায়, তার রক্ত, বীর্য, ঘাম,... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই বৈশাখে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:১০




বৈশাখ মাস।
দুপুরে ভাত খেতে বসে দেখি, সুরভি রুই মাছ রান্না করেছে পটল দিয়ে। আমার প্রচন্ড রাগ লাগল। রুই মাছ কেউ পটল দিয়ে রান্না করে?
সুরভি হাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×