somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক নষ্ট ও নীচের হীনমণ্যতার নিদর্শন

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৩:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




নোংরা ও নীচ শ্রেনীর লোকরা কোনদিক দিয়েই যোগ্য বা সফল হতে পারে না।এই আক্রোশে তারা সবসময় সফল ব্যাক্তিদের ছোটো করে আনন্দ পায়।

এরকম বহু নীচদের ষ্ট্যামফার্ডে চলচ্চিত্র নিয়ে পড়ার সময় পেয়েছিলাম, এমএ ’র ছাত্র হওয়ার পরও যাদের আচরণ ছিলো রাস্তার টোকাইয়ের মতো।

এদের মধ্যে গ্রাম আর শহরের নীচ স্তর থেকে আসারা যেমন ছিলো,তেমনই ছিলো জীবনে চলচ্চিত্র বানানো দূরে থাক, কোনদিন ৫ সেকেন্ডের একটা ভিডিওচিত্রও না বানিয়ে ধীমান দাস গুপ্তের বই পড়ে নিজেকে চলচ্চিত্র বিষয়ে ‘‘ মহাপন্ডিত সমালোচক ’’ ভাবা এক চরম বেয়াদব, যে শিক্ষকদের সম্বোধন করতো অশিক্ষিত,বর্বর,আর ‘‘শালা’’ বলে।

কামালউদ্দিন নামে এরকম আরেক নীচকে দেখা যাচ্ছে ,যে ষ্ট্যালিনের পায়ের ধূলার যোগ্য হতে না পারলেও তাকে সবচেয়ে নিকৃষ্টভাবে হেয় করা জন্য মঞ্চনাটক বানিয়েছে। কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই ষ্ট্যালিনকে লম্পট,চরিত্রহীন দেখিয়ে নিজেকে ইতর প্রমাণিত করে তার প্রভূদের খুশী করেছে।এমনকি পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লবী, প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা লেনিনকেও অপমাণ করা হয়েছে এই নাটকে।

ষ্ট্যালিন সেই ব্যাক্তি যিনি ক্ষমতা নেয়ার মাত্র বিশ বছরের মধ্যে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে শুধু পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পরাশক্তিতে পরিণত করেন নি,দেশ থেকে দারিদ্র,বেকারত্ব,অশিক্ষা নির্মূল আর পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুনর্বাসনের মাধ্যমে পতিতাবৃত্তি উচ্ছেদ করে নজীরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির চূড়ান্ত উন্নয়ন আর মহাশূণ্যে প্রথমবারের মতো কুকুরও পাঠানো হয়েছিলো তারই আমলে। তাদের মহাকাশ কর্মসূচী এ্যামেরিকার চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলো। তারাই প্রথম মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ আর নারী-পুরুষ পাঠায়।

লেনিনের অকাল মৃত্যুর পর শক্তিশালী পূজিবাদী রাষ্ট্রগুলির বিরুদ্ধে একা লড়াই করে তিনিই সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে রক্ষা করেছিলেন।

১৯৪২ সালে অনাক্রমণ চুক্তি ভঙ্গ করে প্রাং সাড়ে তিন লাখ সৈন্য আর পৃথিবীর সর্বাধুনিক অস্ত্র নিয়ে জার্মানী সোভিয়েট ইউনিয়নকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করলে তার একক নেতৃত্বেই লাল ফৌজ হিটলারের ভয়ংকর নাৎসী বাহিনীকে পরাজিত করে মানবসভ্যতাকে রক্ষা করেছিলো। যেটা না করলে শুধু জার্মানরা ছাড়া ইউরোপ-এ্যামেরিকা,এশিয়া আর আফ্রিকার সবদেশের মানুষের অবস্থা হতো হিটলারের বন্দীশিবিরের গ্যাস-চেম্বারে নিহত ইহুদীদের মতো।

বিশ্বযুদ্ধের পর চার্চিল নাৎসীদের কোন বিচার ছাড়াই গুলি করে হত্যা করতে চেয়েছিলো।কিন্ত ষ্ট্যালিনের বাধার কারণেই তাদের প্রত্যেককে ন্যুরেমবার্গ আদালতে বিচার করা হয়,যে বিচার কোথাও নাৎসী অপরাধী পাওয়া গেলে এখনো চলছে।

হিটলার,মুসোলিনী,ফ্রংকো,মবুতু,মার্কোস,ইয়াহিয়া,এরশাদের মতো দুর্নীতিবাজ,খুনী,বিদেশে টাকা পাচারকারী স্বৈরশাসক বা পৃথিবীর দেশে দেশে হত্যা, ‍লুটপাট চালানো এ্যামেরিকার সন্ত্রাসী রাষ্ট্রপতিদের পরিবর্তে এই কামালউদ্দিন কি হীন উদ্দেশ্য এই নাটক বানিয়েছে, তা সচেতন কারোই অজানা না।

মঞ্চ আর টিভিতে অভিনয়-পরিচালনা-টিভি চ্যানেলের মালিকানার আড়ালে লুকিয়ে থাকা লম্পট,নারী ব্যাবসায়ী আর পতিতা সর্দারনীদের নিয়েও সে নাটক বানায় না। কারণ এরা প্রত্যেকেই তারই গোত্রের।

তাই সে পূজিবাদীদের পা চেটে উচ্ছিষ্ট লাভের বিনিময়ে ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একজন ব্যাক্তির চরিত্র হনন করছে, মধ্যযুগে জন্ম নিলে যে নিজেকে প্রেরিত পূরুষ বলে দাবী করতে পারতেন।

ষ্ট্যালিন একজন মানুষ ছিলেন এবং সেজন্যই অনেক ভুল করেছেন। আমি নিজেও তার ১৯৩৯ সালে জার্মানীর সাথে চুক্তির মাধ্যমে লিথুনিয়া-লাটভিয়া আর এস্তোনিয়ার স্বাধীনতা হরণ করে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন অন্তর্ভূক্ত করার এবং ১৯৪০-এ বিশাল ও শক্তিশালী দেশ হয়ে ক্ষুদ্র কিন্ত দেশ্রপ্রমিক সাহসীদের দেশ ফিনল্যান্ড আক্রমণের বিরোধী।

কিন্ত দেশ-বিদেশের স্বৈরশাসকদের মতো তিনি দুর্নীতি-লুটপাট-লাম্পট্য-বিদেশে টাকা পাচার আর সবরকম অপরাধীদের প্রশয় দেয়ার মাধ্যমে দেশকে ধ্বংস করেন নি।তাহলে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন বা তারই উত্তরসূরী রাশিয়া বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এবং সামরিক দিক দিয়ে এখন পর্যন্ত পৃথিবীর শীর্ষে থাকতো না।

তার আমলে গণহত্যা বা মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে পশ্চিাদের ষড়যন্ত্রের কারণে বাস্তবের চেয়ে মিথ্যাচারই চালানো হয় বেশী।

তিনি যা কিছু করেছিলেন,দেশের স্বার্থ বিবেচনা করেছিলেন।

পৃথিবীর ইতিহাসে শেষ পর্যন্ত লেনিন-ষ্ট্যালিনদের নামটাই সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে আর নর্দমাতেই পড়ে থাকবে এইসব কামালরা।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৪
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লেখক হুমায়ূন আহমেদের একজন বাংলা পাঠকের বুক রিভিউ ও একটি কাউন্টার পোষ্ট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১২ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৫:২৪



বুক রিভিউ - দেবী : হুমায়ূন আহমেদ - ব্লগার পদাতিক চৌধুরি

মন্তব্য নং ১৬. ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
পদাতিক চৌধুরি ভাই,
সমালোচনা করা যাবে? কট্টর সমালোচনা হয়ে যাবে - লোড নিতে পারবেন তো। যদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিন্তাধারা: একটি আধুনিক রুপকথা

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১২ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:২৮



পূর্বকথা: এই লেখাটার মূল লেখক ব্লগার সাহিনুর। আমি শুধু নিজের মতো করে আবার লিখেছি। কেন? এই লেখাটা, চিন্তাধারা মন্তব্যসহ পড়লেই বুঝতে পারবেন। এটা লিখতে গিয়ে একটা ব্যাপার বেশ বুঝতে পারলাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অরাজনৈতিক অসাহিত্য

লিখেছেন মুবিন খান, ১২ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:২৪


আজকে সাহিত্য নিয়ে কয়টা কথা বলি। আমাদের এক রসসিক্ত বন্ধু একটা উচ্চমার্গীয় কাব্য লিখে ফেলল। সে কবিতা আমার মাথার ওপর দিয়ে গেল। কবিতার কিছুই বুঝলাম না, কিন্তু ভালো লেগে গেল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাশের অভিশাপ....!!!

লিখেছেন কিরমানী লিটন, ১২ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৩৩

( ব্রাক্ষনবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মন্দবাগ নামক স্থানে দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত- আহত সকল হতভাগা মানুষদের স্মরণে এই কবিতা)


মৃত্যু যেথা মুড়কি- মোয়া
সংখ্যা দিয়ে গুণী,
সকাল দুপুর নিয়ম করে
আহাজারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্প 'আশান্বিতা'

লিখেছেন শাহিদা খানম তানিয়া, ১২ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৫৫


চৈতালীর বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর। কোন সন্তান হয়নি। বরের সঙ্গে ওর সম্পর্ক অনেক বেশি ভালো। সে চৈতালীকে অনেক ভালোবাসে। যদিও বাচ্চা না হওয়ার শূন্যতাটি চৈতালীরই বেশি। ওর বর কিষান যথেষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×