অফিস থেকে বের হতেই মহিলার সাথে মতিঝিলের রাজপথে চোখাচোখি হয়ে গেল। প্রথম দর্শনেই ত্রিশোর্ধ মহিলাকে বেশ ভালোই লাগলো। সুন্দর শরীরের গঠন। পরের দিন আবার দেখা। ব্যাপার কী? কাকতালীয়ভাবে দেখা হয়ে গেল।
হয়তো আমার এবং তার অফিস প্রায় একই স্থানে হবে বলে মনো হলো। এবার কিন্তু মহিলা চোখাচোখি হতেই ফিক করে একফালি হাসি বাঁকা চাঁদের মতো গড়িয়ে দিল, তার এগাল থেকে ওগাল পর্যন্ত। আমিও নিরুপায় নিছক ভদ্রতার বশে মিছকি হাসি দিলাম। কী বুঝলো তিনি ! তার আগেই অফিস ছুটির পর মানুষের ঢল ঠেলে বাসে উঠলাম।
পরদিন অফিস ছুটির পর কেন যেন মনে মনে মহিলাকে খুঁজতে থাকলাম। ঐতো দেখা যাচ্ছে। তিনিও মানুষের ঢল ঠেলে জোর কদমে বাসের দিকে এগিয়ে আসছে। কাছে আসতেই এবার আমিই প্রথম ঠোঁটের কোণে একটু হাসির রেশ টেনে আনলাম। ইচ্ছা করলো জানতে কোন অফিসে তিনি জব করেন।
কিন্তু একি! মহিলা কাছে খানিকটা এগিয়ে এসেই মুখে ভেংচি কেটে পাশ ফিরে চলে গেলেন। সাথে সাথে একটি আধা চলন্ত বাসে ঠেলে উঠে চেপে বসলেন।
চরম আশ্চর্য হলাম। আগের দু’দিনের সাথে তুলনা করে আজকের দিনের বিকেলটা কেমন যেন ধূসর মনে হলো। ফিকে ফিকে, বিস্বাদ লাগলো। ফিরে আমিও বাসের দিকে ধেয়ে যেতেই পাশ ফিরে দেখি, আমাদের অফিসের সুফিয়া আপা বাসের অপেক্ষায় আমার পাশেই দাঁড়িয়ে। আমি এবার বুঝলাম আসল রহস্য।
সুফিয়া আপা দেখতে সুশ্রী নয়। তাই বুঝি ভদ্রমহিলা আপাকে আমার অর্ধেক ভেবে পুরোটা না বুঝেই এ কাণ্ড করলেন!
চলন্ত একটি বাস ধেয়ে আসছে আমাকে এটাতে উঠতেই হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


