somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যাপিত জীবনের কথকতা - ৭

২৬ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৯:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১ . অনেকদিন পর আমার ব্যাক্তিগত চিন্তা ভাবনা নিয়ে এই পর্বটি লিখতে শুরু করলাম , এমন এক সময় লেখাটি লিখছি যখন সমস্ত পৃথিবী করোনা ভাইরাস এর আগ্রাসী থাবায় বিপর্যস্ত পর্যুদস্ত , এই মহামারীর কালে এটাও প্রায় ভুলে বসেছিলাম আজ স্বাধীনতা দিবস , অন্য সময় হলে ঢাকা শহরের পরিস্থিতি আজ থাকতো ভিন্ন , রাস্তা ঘাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড় , স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান , শোভাযাত্রা সবই থাকতো , আজ কিছুই নেই। ঠিক ৪৯ বছর আগে ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চের এই দিনে ঢাকা শহরের অবস্থার সাথে কাকতালীয় ভাবে আজকের সিচুয়েশন ব্যাপকভাবে মিলে যায় । সেদিন পাকিস্তানী সামরিক জনতার জারি করা কারফিউ ছিল সারাদেশে , ২৫ শে মার্চের ভয়াল কালরাতের পর হতভম্ব , কিংকর্তব্যবিমূড় ঢাকা শহরের বাসিন্দারা ছিল ঘর বন্দি , তখন শত্রু ছিল , চিহ্নিত , প্রকাশ্য । আর আজ প্রায় ঊনপঞ্চাশ বছর পর এসে এই ২৬ শে মার্চ জাতি তথা সারা পৃথিবী আরেকটা শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ছে , এই শত্রু অদৃশ্য , দেখা যায়না । এক অঘোষিত কারফিউ চলছে সারাদেশে , মানবজাতির সুস্থ , স্বাভাবিক দিনগুলো আবার কবে ফিরে আসবে কে জানে !!!!!!

২. দেরিতে হলেও চীন থেকে করোনা সনাক্তের কিট ও পিপিই সরঞ্জাম দেশে এসে পৌঁছেছে , এটা একটা ভালো দিক , সরকারকে এখন প্রবল উদ্যমে ব্যাপক আকারে করোনা সনাক্তকরনের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বার বার বলা হচ্ছে , পরীক্ষা , পরীক্ষা এবং পরীক্ষা , এ ছাড়া করোনার ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সুযোগ খুব কম । ব্যাপক মাত্রায় পরীক্ষার মাদ্ধমে করোনা রোগী সনাক্ত এবং তাদের আইসোলেশন পাঠানোই সম্ভাব্য করোনা ঝুঁকি মোকাবেলায় কার্যকর হতে পারে , আইইডিসিআর কতগুলো চেকপয়েন্ট এর উপর ভিত্তি করে করোনা পরীক্ষা করছে , যার অন্যতম হচ্ছে রোগী বিদেশ থেকে আগত কোনো ব্যাক্তি অথবা কোনো আত্মীয় এর সংস্পর্শে গিয়েছে কিনা , কিন্তু আশংকার বিষয় হচ্ছে , ইদানিং এমন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে যার সম্ভাব্য কারণ অজানা । অর্থ্যাৎ সে প্রবাসফেরত কোনো ব্যাক্তি কিংবা আত্মীয় এর সংস্পর্শে যায়নি , এটি কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত বহন করে , এখন থেকেই এর গতি রোধ করে দিতে হবে , করোনা সনাক্তকরণ একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার অর্থাৎ কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা সময় লাগে করোনা সনাক্তকরণে । এই সনাক্তকরণ পদ্ধতি একটি molecular diagnostics । সাধারণত কনভেনশনাল মেথডে RT-PCR করে করোনা রোগী সনাক্তকরণ করতে হয় , আইইডিসিআর এ RT-PCR কতটা আছে জানিনা , তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় , জাহাঙ্গীরনগর সহ সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ , জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে RT-PCR সুবিধা আছে । এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ ন্যাশনাল ডিএনএ সিকোয়েন্সিং ল্যাব , সাভারে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োটেকনোলজি , এবং পরমাণু শক্তি কমিশনেও আন্তর্জাতিক মানের মলিকুলার বায়োলজি ল্যাব আছে , এছাড়াও সিআইডির নিজস্ব ফরেনসিক ক্রাইম ল্যাব এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের আওতায় প্রতিটা বিভাগীয় শহরের সম্ভবত মেডিকেল কলেজগুলোতে RT-PCR সুবিধা সম্বলিত ল্যাব তৈরী করা হয়েছে । এসব ল্যাব গুলোকে জরুরি ভিত্তিতে করোনা সনাক্তের কাজে লাগাতে হবে । করোনা সনাক্তের কিট SARS-COV-2 এখন বাণিজ্যিক আকারে পাওয়া যাচ্ছে , সরকারকে এখন ব্যাপক আকারে নিজের খরচেই কিট কেনার ব্যবস্থা করতে হবে ,সম্ভবত আন্তর্জাতিক কুরিয়ার FedEx, DHL এখনো সচল আছে, সরকারকে এই মাধ্যমের সহযোগিতা নিতে হবে । আসলে বাজেট ও পর্যাপ্ত গবেষণার অভাবে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ইনস্ট্রুমেন্ট অকেজো হয়ে পরে থাকে , অথবা হয়তো অকেজো হয়ে গেছে !!!! এই সুযোগে এগুলোকে সচল করতে হবে , আমাদের দেশে রোগনির্ণয় এ এখনো ব্যাপক আকারে মলিকুলার বায়োটেকনোলজির ব্যবহার শুরু হয়নি , আমাদেরকে এক্ষেত্রে আপডেট হতে হবে ।

৩ . সমগ্র বিশ্ব ব্যাপী করোনা ভাইরাসের সাথে জীবাণুঅস্ত্রের সংশ্লিষ্টতা জোরেশোরেই আলোচনা হচ্ছে । এক্ষেত্রে প্রথম অভিযোগ তোলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল । তাদের দাবি চীনের উহানে অবস্থিত উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি এর একটি গবেষণাগারে কোরোনাভাইরাস প্রথম তৈরী করা হয় এবং এটি উহান হয়ে পরে যুক্তরাষ্ট্র তথা সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া হয় । লক্ষ্য ছিল সমগ্র পৃথিবীর বাণিজ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে প্রবল পরাক্রমে চীনের করায়ত্তে নিয়ে আসা । অন্য দিকে চীন এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে কোরোনাভাইরাসের এই প্রকোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে । তাদের দাবি গত নভেম্বর কি ডিসেম্বরে উহানে একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের লক্ষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি সামরিক প্রতিনিধিদল এসেছিলো , তখনি করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়া হয় , এই দাবি আবার ইরান সমর্থন করেছে । অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করেছে ব্রেক্সিট পরবর্তী ইউরোপের বাণিজ্য ব্যাবস্থাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাজ্যের তত্ত্বাবধানে এই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে , যথারীতি যুক্তরাজ্য তা অস্বীকার করেছে । আসলে এই সব দাবি শুধু প্রতিযোগিতায় লিপ্ত এক দেশ আরেক দেশকে ঘায়েল করা করা আর কিছুই নয় , এসব দাবির কোনোটি আসলে গ্রহণযোগ্য নয় ।
বিশ্বখ্যাত ল্যানসেট জার্নাল এবং নেচার মেডিসিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে চীনের উহানে অবস্থিত একটা বন্যপ্রাণী বিক্রির বাজার থেকে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পরে , মূলত বাদুড় ও প্যাঙ্গোলিন থেকে এই ভাইরাস মানুষের দেশে প্রবেশ করে । চীন এ বাদুড় ও প্যাঙ্গোলিনের মাংস খুবই জনপ্রিয় , সেখান থেকেই এই ভাইরাস ছড়ায় । প্রশ্ন হচ্ছে বাদুড়ের শরীরে করোনার উৎপত্তি কিভাবে হল ??? এই বিষয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন , বিস্তারিত আলাদা লেখায় আলোচনা করবো ।

৪ . অর্জনের নেশায় চারপাশের সবার মাঝে কিছু একটা হয়ে দেখানোর তাড়নায়, আমরা নিজের সুস্থতা, পরিবার এর মানুষ গুলো, তাদের অবদান গুলো কে অবহেলা করতে থাকি, দুনিয়া এত আকর্ষণীয় লাগে যে ভুলে যাই যে আমি আসলে কোথায় যাচ্ছি, আমার ঠিকানা কী, আর পথের মাঝে আমি চারপাশ এর হাতছানি তে এত বেশি মুগ্ধ হয়ে বেসামাল হয়ে যাই যে পথ থেকে আলাদা হয়ে যাই, আর তারপর সময় থাকে না, বাহনও পাইনা, ঠিকানাতেও পৌঁছাতে পারি না...হতাশা পেয়ে বসে। ..আজকের এই কঠিন সময় গুলো আমাদের এই কথাই শিখিয়ে দিতে আসছে।..বলছে এই সময় নীরব চিৎকারে - "হে মানুষ, তোমার জন্ম কেন হয়েছে? তোমার চূড়ান্ত ঠিকানা কোথায়? তুমি কী জানো তোমার জন্ম কত দিনের জন্য? তাহলে কী নিয়ে এখনো পরে আছো? ঠিকানায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছ তো?" সময়ের এই কথা গুলো শুনতে কী পাই আমরা?
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৯:৪২
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্যরচনাঃ ক্যামেরা ফেস

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৫৯


খুব ছোট বেলায় আমাদের শহরে স্টার স্টুডিও নামে ছবি তোলার একটা দোকান ছিল। সেটা পঞ্চাশের দশকের কথা। সে সময় সম্ভবত সেটিই ছিল এই শহরের একমাত্র ছবি তোলার দোকান। আধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবাসন ব্যাবসায় অশনি সংকেত

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১১ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:২২




জুলাইয়ের শুরুতে একটি বিজ্ঞাপন দেখা গেল একটি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের । তারা ৫০ পারসেনট কমে ফ্লাট বিক্রি করছে । মুখ চেপে হাসলাম এত দুঃখের মাঝেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

রৌপ্যময় নভোনীল

লিখেছেন স্বর্ণবন্ধন, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৯


একটা অদ্ভুত বৃত্তে পাক খাচ্ছে আত্মা মন,
বিশ্বকর্মার হাতুড়ির অগ্ন্যুৎপাতে গড়া ভাস্কর্যের মতো গাড়-
হাড় চামড়ার আবরণ; গোল হয়ে নৃত্যরত সারসের সাথে-
গান গায়; সারসীরা মরেছে বিবর্তনে,
জলাভুমি জলে নীল মার্বেলে সবুজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

""--- ভাগ্য বটে ---

লিখেছেন ফয়াদ খান, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৪

" ভাগ্য বটে "
আরে! সে কী ভাগ্য আমার
এ যে দেখি মন্ত্রিমশায় !!
তা বলুন দেখি আছেন কেমন
চলছে কেমন ধানায় পানায় ?
কিসের ভয়ে এতো জড়োসড়ো
লুকিয়ে আজি ঘরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ‘অন্তরবাসিনী’ উপন্যাসের নায়িকাকে একদিন দেখতে গেলাম

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:৪২

যে মেয়েকে নিয়ে ‘অন্তরবাসিনী’ উপন্যাসটি লিখেছিলাম, তার নাম ভুলে গেছি। এ গল্প শেষ করার আগে তার নাম মনে পড়বে কিনা জানি না। গল্পের খাতিরে ওর নাম ‘অ’ ধরে নিচ্ছি।
বইটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×