somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আমি রানা
বাস্তব এবং সাধারন মানুষ আমার লিখার জীবন। এখানে রানা নামের একজন অতি সাধারন ব্যক্তির দৈনিক জীবন এবং তার দৃষ্টিতে সমাজের বর্তমান অবস্থা এবং এর প্রভাব তার নিজের ভাষায় প্রকাশ করা হবে।

রুপার গল্প ।

২৬ শে এপ্রিল, ২০২১ রাত ১২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবি: নেট।
আমার এ ছন্নছাড়া ভবগুরে জীবনে রুপা বিশেষ একটি নাম, অন্য সবার কল্পনার জগতে কিংবা গল্পের নায়িকা রুপা থাকে কিন্তু আমার বাস্তব জীবনে অন্যদের গল্পের মত নায়িকা হিসেবে রুপা রয়েছে । আমার জীবন কিংবা কর্ম আজ পর্যন্ত কাউকে বোঝাতে পারলাম না। কেউ আসলে আমার মত করে বুঝতেও চেষ্টা করেনা। আমারো কাউকে বোঝাবার তাড়া নেই। যে যেভাবে আমাকে ব্যাখা করে তাতেই আমি খুশি, তাদের ব্যাখার মতো তাদের সাথে চলতে চেষ্টা করি। কিন্তু কিছু মানুষের সাথে প্রকৃত এবং নিতান্ত আমি থাকতে পছন্দ করি। তাদের সংখ্যা হাতে গোনা দুই একজন। আর এ দুই একজনের মধ্যে রুপা অন্যতম।
সেদিন বড় গাছটার নীচে শুয়ে ছিলাম। অনেক বড় গাছ। শত শত পাখির সংসার রয়েছে এ গাছে। পাখিরা প্রতিবেশিদের সাথে গল্প আর ঝগড়ায় মেতে থাকে সারা দিন।এখানে শুয়ে রয়েছি কারন একটু পরেই রুপা আসবে দেখা করতে। গত তিন দিন রুপার সাথে দেখা হয়নি। ব্যস্তার ওজুহাতে কথাও বলিনি তেমন একটা। তাই আজ মেজর জেনারেল এর নির্দেশ, দেখা না করলে আমার খবর আছে। মার্সাল আইনে জরিমানা হবে। এ জরিমানা সম্পর্কে আমি সম্পূর্ন অবগত। রুপাকে পুরো একটা দিন সময় দিতে হবে । কিন্তু আমার পক্ষে তা সম্ভব নয়, আবার জরিমানা হয়ে গেলে রুপার জেদের কারনে শাস্তি মেনে নিতেই হবে। তাই শাস্তির ভয়ে আগেই দেখা করতে চলে আসলাম।
শুয়ে থেকে গাছের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। আর ভাবছি কত সুন্দর করে এ গাছটা আমাকে বিশালতার শিক্ষা দিচ্ছে। তার ডাল-পালাকে সে পাখিদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তার শরীরের ছাল-বাকলে হাজার হাজার পরজীবি গাছেরা ঘন সবুজ হয়ে বেচেঁ রয়েছে। কোটি কোটি পোকা মাকর আর কাঠবিড়ালির দলও তাকে নির্ভর করে সংসার পেতে বসেছে। আচ্ছা পাখিরা কিংবা কাঠবিড়ালিও কি মানুষের মত ভালোবাসা করে কিংবা বিয়ে করে? আর গাছটাও কি তাদের কাছ থেকে থাকতে দেওয়ার বিনিময়ে কিছু নেয়??
শুয়ে থেকে হঠাৎ করেই চোখে ঘুম চলে আসলো। তন্দ্রায় পৌছে গিয়েছি। “এই ওঠ”বলেই রুপা আমাকে ডাক দিল। রুপার কন্ঠ শুনে দ্রুতই উঠে বসলাম। রাগে রুপার চোখ লাল হয়ে রয়েছে। আমি তারাতারি তার বসার জায়গাটা ফুঁ দিয়ে পরিষ্কার করে দিয়েছি। দাড়িঁয়ে থেকেই রুপা জিজ্ঞাসা করলো “কি সমস্যা তোর?”। আমি দাঁত কেলিয়ে একটা হাসি দিয়ে বললাম-” আমার কোন সমস্যা নাই, আমি সম্পূর্ন ওকে আছি।” আমার দাঁত কেলানো হাসি দেখে রুপারও হাসি পেয়ে গেলো। কিন্তু তা সে আরাল করে রেখেছে। রুপা আমার পাশে বসলো।
রুপার চোখ এখনো লাল হয়ে আছে। আমি জানি তা রাগে লাল হয়নি, রুপা পুরোটা পথ কান্না করতে করতে এসেছে তাই তার চোখ লাল হয়ে আছে।
- কিছু বলবে রুপা ?
- চুপ থাক । তুই একদম কথা বলবি না। ( আমি চুপ…)
- একটা সিগারেট হবে? তুমি আসবেত তাই আমি সিগারেট কিনি নি।
- হ্যাঁ আমি তোর সিগারেটের লিজ নিয়েছি, যখনি আসবো তোর জন্য সিগারেট নিয়ে আসবো।
আমি অপরাধীর মতন মাথা নুয়িয়ে রেখেছি। রুপা তার ব্যাগ থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে আমার হাতে দেয়। আমিও তা নিয়ে খুলে একটা সিগারেট বের করি। প্যাকেটে দুরকমের সিগারেট রয়েছে পাচঁটি করে।পাচঁটি আমার আর পাচঁটি রুপার। আমি একটি সেগারেট ধরালাম।
- আচ্ছা তুমিকি মানুষ হবে না? রুপা প্রশ্ন করলো।
- কি বলছ এসব তুমি? জানো? এ মানুষ হয়ে জন্ম নেওয়ার জন্য আমাকে তিড়াশি লক্ষ নিরানব্বয় হাজার নয়শত নিরানব্বয় বার জন্ম নিতে হয়েছে নানা কীট, পশু আর প্রাণী হিসেবে। তারপর চূড়াশি লক্ষ বারে মানুষ হয়ে এ দুনিয়াই এসেছি। তারপরও বলছো আমি মানুষ না??
- “ধূ…..র” বিরক্তি নিয়ে বললো রুপা “আমি কি তা বলছি তোমাকে? আমি বলছি আর দশজন মানুষের মত হবে কখন?”
- আমার হাত পা কি বদলে গেছে?
- কথা ঘোরাবার চেষ্টা করবানা রানা, আমি কি বলছি তা তুমি ভালো করে বুঝতে পারছো।
- ”রুপা আমি ভালো আছি “ শান্ত গলায় বললাম আমি।
- কিন্তু রানা এটাতো জীবন না?
- তাহলে জীবন কী?
- জীবন হলো আর দশজনের মতো করে থাকা।পড়ালিখা করেছ একটা চাকরী কর। আর চাকরী না করলে ব্যবসা করো। আমার কথাও একটু ভাবো। তোমার সাথে সাথে আমারো বয়স বাড়ছে। বাসায় যে প্রতিদিন যুদ্ধ করতে হয় তা ভালো করেই জানো। প্লিজ আমাকে নিয়ে যাও আমি আর পারছিনা।
- রুপা আমি তোমাকে নিয়ে এখনো ভাবছিনা।
- তাহলে কি ভাবছো?
- আমি আমাকে আর আমার জীবন নিয়ে ভাবছি।
- কি?
- জীবনটাকে আরো কত সুন্দর আর সহজ করা যায়।
- তুমি কি হুমায়ুন আহমেদের হিমু?? জীবনের অন্যরকম ব্যাখা চাও।
- নাহ, আমি রানা। ঐটা কাল্পনিক আর আমি বাস্তব।
- আমিত দেখছি তুমি হিমুর চেয়ে বেশি কাল্পনিক। রানা এ জীবন উপন্যাসে মানায় বাস্তব জীবনে এসব চলে না।
- তুমি যেটাকে বাস্তব মনে করছো ওটা আসলে বাস্তব না। জীবনের মানে খুঁজে পাওয়াটা আসল বাস্তব।
- টাকার প্রয়োজন ও আছে।
- টাকার চেয়ে ভালো থাকাটা বেশি প্রয়োজন। টাকা যেকোন ভাবে উপার্জন করা যায়। কিন্তু শান্তি আর সুখটা যেকোন ভাবে উপার্জন করা যায় না। অর্জন করতে হয়।
- তহলে করো । আর যা করার তারাতারি করো। প্লিজ আমাকে নিয়ে যাও।
আমি জানি, একজন নারীকে বোঝাবার কিংবা বোঝার ইতিহাস আজ পর্যন্ত নেই। আমিও তাকে বোঝাতে পারবো না। হয়তবা সে চায় আমার সাথে থাকতে। হয়তবা চায় তার পরিবার থেকে পালাতে। হয়তবা অন্য কিছু। আজ বলছে আমার সাথে থাকতে চলতে সব পারবে। কিন্তু কাল যদি আমি মানুষটাকেই সহ্য করতে না পারে? আমার জীবন কিংবা কর্ম ভালো না লাগে? যদিও সে যতেষ্ঠ চেষ্টা করে আমাকে বোঝার। মাঝে মাঝে মনে হয় সে পারবে। বিন্তু সে ত নারী মায়াবতী। আমি যদি তার মায়ার ছলনায় পরে, আমার কর্ম থেকে সরে যাই। নানা অজানা প্রশ্ন আমার মনের মাঝে উকি দিতে শুরু করলো। তাই সব সময়ের মতো তাকে উত্তর দিলাম-
-ঠিক আছে আমি তাড়াতাড়ি করছি।
- রুপা আমার কাধেঁ মাথা রেখে “ জানো আমি প্রতিদিন কল্পনা করি তোমার আর আমার একটা সাজানো জীবন। ছোট্ট একটা ঘর শুধু তুমি আর আমি। ” দুবছর পর একটা বেবী(লাজুক হাসি দিয়ে)। কোন ঝামেলা ছাড়া জীবন।
রুপা তার স্বামী সংসার জীবন গোছানোর স্বপ্নে বিভোর আর আমি ভাবছি কবে ঘর থেকে বের হয়ে পড়বো। আমার স্বপ্নের বাংলাদেশ ভ্রমনে। রুপাকে বলবো না, কারন মেয়েটা আমাকে যেতে দিবেনা। আর দিলেও হয়তবা শেষ মূহুর্তে নিজের ব্যাগ নিয়ে এসে পড়বে। আর বাধ্য হয়ে তাকে নিয়ে যেতে হবে। মেয়েটার এসব কাজ মাঝে মাঝে বিরক্ত লাগে। কিন্তু তার ভালোবাসাটা আমি অনুভব করতে পারি। অস্বীকার করতে পারি না।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০২১ রাত ১২:৫৭
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম পরে, আগে আল্লাহ্‌কে মনে রাখো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৭

প্রিয় শাইয়্যান,
পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌কে তুমি যখন সবার আগে স্থান দিবে, তখন কি হবে জানো? আল্লাহ্‌ও তোমাকে সবার আগে স্থান দিবেন। আল্লাহ্‌ যদি তোমার সহায় হোন, তোমার আর চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। আমার অবশ্য এই দুই ব্যপারেই দ্বিমত... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×