somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্বাসরুদ্ধকর দিনগুলি - ৩

১৯ শে আগস্ট, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রভাবশালীদের দখলের বিষয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে আমার ওপর নেমে আসা চারটি সাজানো মামলার দুর্যোগে এলাকা ছাড়া হয়ে ঢাকায় পত্রিকা অফিসে ঠাঁই হয়। বেশ ভালোই সময় কাটছিল। সকাল থেকে বেশিরভাগ সময় কাটতো মামলার জামিনের জন্য বিভিন্ন কাগজপত্র সংগ্রহ করে। বিকেল চারটায় যথারীতি কাজে লেগে যেতাম নিউজ ডেস্কে। এভাবে দিন দশেক চলার পরই ঘনিয়ে এলা ঈদ। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিক। ঈদের আগের রাতে বন্ধু ফকরুল ইসলামের নারায়ণগঞ্জ সানারপাড়ের বাসা থেকে চলে এলাম ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের একটি মেসবাড়িতে। ঈদ ঘনিয়ে আসায় হোটেলে থাকতে ভালো লাগছিল না। ঈদের আগের দিন আবার ফকরুলের বাসায়ও মন বসেনি। তাই খোঁড়া অযুহাত দেখিয়ে ওই মেসবাড়িতে আসা। এলাকার কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে থাকতো। ঈদে তারা সবাই বাড়ি চলে গেছে।
সন্ধ্যায় ওয়ারেছ ভাই (এমএ ওয়ারেছ, ইনচার্জ, বিশাল বাংলা, প্রথম আলো) ফোন করে বললেন, সকালে যেন অবশ্যই তাঁর পান্থপথের বাসায় যাই। রাতে কোনো কিছু খেতে ইচ্ছে করছিল না। রাত প্রায় দেড়টা পর্যন্ত বাসার ভেতরে পায়চারি করে কাটে। এরপর শুয়ে পড়লাম। কখন ঘুমিয়েছি জানি না।
ঈদের দিন সকালে মুঠোফোনে রিং বাজছিল। ঘুম-ঘুম চোখে রিসিভ করলাম। আবদুল হক সাহেব ফোন করেছেন। এসআই আবদুল হক। আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা চারটি মামলার একটির তদন্ত কর্মকর্তা তিনি। হক সাহেব ঈদের শুভেচ্ছা জনালেন। পাশাপাশি মামলা পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন। তিনি জানালেন এলাকার আমার কয়েকজন সাংবাদিক বন্ধুর কর্মকাণ্ড, যাঁরা প্রভাবশালী সেই দখলবাজ নেতার পকেটে ঢুকে ’চুক-চুক’ করছিলেন।
হক সাহেবের সঙ্গে কথা শেষ হতে না হতেই ওয়ারেছ ভাই ফোন করলেন। তিনি জনতে চাইলেন ঈদের নামাজ কোথায় পড়ব। বললাম নামাজ পড়ব না। তিনি বললেন, ’তা হলে এখনই চলে আসুন, আমি বাসার সামনে আছি।’
বাসায় ফোন করে মাকে চাইলাম। মা কোনো কথা বলতে পারছিলেন না। ফোন ধরে মা ফুপিয়ে-ফুপিয়ে কাঁদছিলেন। আমার চোখ ভিজে গেল। তবে মা-কে বুঝতে না দিয়ে বললাম, চিন্তা করবেন না। আমরা ভালো আছি মা। ঈদের পরেই চলে আসবো। সব ঝামেলা শেষ হয়ে যাচ্ছে। আব্বা-মা’র সঙ্গে কথা শেষ করে চুপচাপ বসে রইলাম। ছোট ভাই এলিট (সাইমুন রহমান এলিট, আমার দেশ প্রতিনিধি, আমার আপন ছোট বাই। এলিটও আমার সঙ্গে তিনটি মামলার আসামী) চুপ করে বসে ঘরের মেঝের দিকে তাকিয়ে ছিল। ওর চোখ থেকে দরদর করে পানি পড়ছিল। বাইরেও বৃষ্টি শুরু হল। আস্তে আস্তে বৃষ্টির তোড় বেড়ে চলছে। মনে মনে বলছি, বেড়ে যাক বৃষ্টি। ঝড় শুরু হলে মন্দ হয় না। কোথাও না নেমে ঘরে বসে সময়টা পার করে দেওয়া যাবে। এরই মধ্যে আবার ফেন করলেন ওয়ারেছ ভাই। বললেন শাহআলম সনি চলে আসছেন। আপনারা তাড়াতাড়ি আসুন। ওয়ারেছ ভাইকে ফেরাবো এমন শক্তি আমার নেই। এলিটকে বললাম চল, যাই। ঘরে তালা দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। তখনও বৃষ্টি চলছিল। ইলশেগুড়ি বৃষ্টিতে ভিজেই পায়ে হেটে চললাম পান্থ পথের দিকে। তখনও চোখের কোণ বেয়ে অশ্রু ঝরছিল আমাদের। তবে চোখের জলে বৃষ্টির জলে একাকার হয়ে যাওয়ায় অন্য কেউই হয়তো দেখেনি সে অশ্রু।

বিঃদ্রঃ কাল ঈদ। তাই ওই সময়কার ঈদের আগের ও পরের দিনগুলোর কথা আগে লিখলাম। পরে আবার পেছনের কথা লিখবো আশা করি।

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:০১
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×