বাসের জানালার কাঁচগলে দেখা আকাশটাকে তখন অনেক মায়াময় লাগছিল, পকেটের 'Canon''টাকে বার বারই খুলে খুলে ছবি নিচ্ছিলাম গতিতে থেকেই; যেন পাল্লা দিয়ে। বিধিবাম হলো যেই না পৌঁছুলাম আল-কাছীম শহরে, সিগনালে বাস ড্রাইভার লাগিয়ে দিল আরেকটি প্রাইভেটের সাথে, তারপর কি আর অপেক্ষার শেষ আছে? প্রথমে সিগনালে, তারপর স্থানীয় ট্রাফিক অফিসের অবস্থানে, তারপর বাস কোম্পানীর ওয়ার্কশপে, তারপর স্থানীয় বাসষ্ট্যান্ডে অবশেষে বাস এবং ড্রাইভার পরিবর্তন করে সে-ই আসরের ঘন্টাপূর্ব থেকে অপেক্ষমান যাত্রীরা যখন পুনরায় যাত্রা করলাম রিয়াদের পথে, তখন মসজিদে মসজিদে উচ্চকিত ধ্বনি তুলছিল মাগরিবের সুমধুর আযান। রিয়াদের প্রায় তিন কি সাড়ে তিনশ' কিলোমিটার বাকী পথে পড়ে একটি অনেক উঁচু চড়াই, চারপাশ দেখতে তখন অনিন্দ সুন্দর, প্রায় পর্বত পাড়ী দিয়ে তৈরী করা হয়েছে এ পথ যা হাজার কিলোমিটারের আর কোথাও দেখা যায় না। অন্ধকারে শুধু আলোর খেলাই দেখতে পেলাম যাবার বেলা। অবশেষে পৌঁছুলাম যখন, তখন রাত প্রায় এক টা; অপেক্ষিত বন্ধুদের সাথে বুক মিলিয়ে দীর্ঘ পনর ঘন্টার সফরের ক্লান্তি মুছতে লুকিয়ে গেলাম দ্রুতই চাদরের আড়ালে।
নিজের লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি আরো কয়েকটি দ্বীন সংশ্লিষ্ট ইচ্ছেকে লালন করেছিলাম মনের কোণে; রিয়াদে অবস্থানরত বাংলাদেশী বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্বদের কয়েকজনের সাথে সাক্ষাত, বিভিন্ন দাওয়াত ও প্রচার সংস্থাগুলোর অফিসে অফিসে ছুটোছুটি এবং বিশেষ করে ইসলাম হাউজ -এর ওয়েবসাইটে কিছুটা সময় দিয়েছি যাতে স্বদেশী-স্বভাষীরা দ্বীনের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও উপকৃত হতে পারেন। ওদের সাথেও হলো একটা দারুন আন্তরিক হৃদ্যতা। তবে মোটের উপর ইসলামের জন্য যারা কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে অধিকাংশকেই দেখেছি শুধুই একটা চাকুরী করছেন তারা; দ্বীনের দা'য়ীর অনুভূতির ততটা প্রতিফলন দেখতে পাইনি যতটা বাইরে থেকে আমরা অনুভব করি কিংবা একই সাথে জীবিকা এবং আল্লাহ্র দ্বীনের খেদমতের মত অসামান্য পাওয়ার নিরন্তর আকাংখা পোষণ করে থাকি। তবে মুহসিনীনদের (দাতা) সুবিশাল প্রজেক্ট এবং সেসবে ব্যয়ের অংক দেখে হৃদয়টা যেন হিমালয়ের মত সুবিশাল হয়ে উঠেছিল। আমি সর্বদাই প্রার্থনা করি, যেন তাদের এ দান আল্লাহ্ কবূল করেন, তাতে বরকত দেন এবং এসব প্রজেক্টে কর্মরতদেরকে দ্বীনের খেদমতের অনুভূতি অর্জনের তৌফিক দান করেন।
পনর দিনে গড়ে উঠা এক বন্ধুকেও এর মাঝে বিদায় জানালাম স্বদেশের পথে; এছাড়া স্কুল দিনের বন্ধুদের সাথে প্রায়ই চলতো নৈশঃভোজের আয়োজন আর আড্ডা। আমার অবস্থানের প্রেক্ষিতে ওরা যা কিছু কষ্ট সব হাসিমুখে অতি আন্তরিকতায় গ্রহণ করে নিয়েছে এবং তাদের ভালবাসা প্রদর্শন করেছে আমার প্রতি; তাদের জন্য অনেক দো'আ। বিগত অবসরকে কি আর লেখনীর আঁচড়ে ব্যস্ত করে তুলতে পারবো? কিইবা প্রয়োজন আছে তার, প্রতিপালকের সমীপে এ কৃতজ্ঞতাই তো যথেষ্ট যে, তিনি যা দিয়েছেন লক্ষ্যে, ভাবনায়, অর্জনে, খেদমতে আর আন্তরিক প্রশান্তি ও শারিরিক সুস্থতায়; তার জন্য অগণন প্রশংসা শুধুমাত্র তাঁর।
১৮.০১.২০০৭, মদীনা মুনওয়ারা, সৌদি আরব।
(((সমাপ্ত)))
ছবিঃ অদক্ষতায় গতির ভেতর তোলা একান্ত আপনার।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৫:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


