somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

= মরু সফর-৩

১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৫:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কতক অসাধু এবং দুর্নীতিবাজ পৃথিবীর সকল জনপদেই বিদ্যমান থাকে, তেমনি এক অসাধুতার শিকার হয়েই পাড়ি জমাতে হয়েছিল দীর্ঘ হাজার কিলোমিটারের দূরত্বোপারের রিয়াদ শহরে। অনেকদিন পর দীর্ঘপথ ভ্রমণে বের হলাম, সকাল দশটা নাগাদ চলতে শুরু করেছিল স্থানীয় সেপ্টকোঃ বাসটি। ভ্রমণ পথে নিতান্ত দুর্বল না হয়ে পড়লে কখনোই আমি ঘুমোই না; ধাবমান প্রকৃতিকে দেখার মত আনন্দ কি সত্যিই ঘুমের মাঝে থাকে? তাই বরাবরই সীট পছন্দ করে থাকি জানালার পাশে, ঊষর মরু প্রান্তরের এখানে ওখানে হিজল বা এ জাতীয় বিক্ষিপ্ত গাছালীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে, কোথাও জনপদ ঘেঁষা খোরমা খেজুর বাগান, কিন্তু বালিয়াড়ি পেরিয়ে ছোট ছোট টিলাগুলো অথবা মাঝারী মাপের পাহাড় কিংবা সুউচ্চ পর্বত মালা দেখতে দেখতে কেবলি মনে পড়ে যায় পরম প্রিয় প্রভুর সে বাণী- ((পাহাড়গুলোকে করেছি পেরেকের মত)) [সূরা আন্-নাবাঃ ৭]; যাতে নিরন্তর গতিবান পৃথিবী তোমাদের নিয়ে দুলে না উঠে, যাতে তোমাদের আবাসস্থল ভাঙ্গনের কবল থেকে নিরাপদ থাকে। সেদিনের মদীনা নিকটবর্তী প্রকৃতি-বায়ু ছিল আকাশময় মরু ঝড়ে ঘোলাটে, তবে আল-কাছীমের নিকটবর্তী হতেই প্রকৃতি পটে পরিচ্ছন্ন ভাবটা আসতে শুরু করলো।

বাসের জানালার কাঁচগলে দেখা আকাশটাকে তখন অনেক মায়াময় লাগছিল, পকেটের 'Canon''টাকে বার বারই খুলে খুলে ছবি নিচ্ছিলাম গতিতে থেকেই; যেন পাল্লা দিয়ে। বিধিবাম হলো যেই না পৌঁছুলাম আল-কাছীম শহরে, সিগনালে বাস ড্রাইভার লাগিয়ে দিল আরেকটি প্রাইভেটের সাথে, তারপর কি আর অপেক্ষার শেষ আছে? প্রথমে সিগনালে, তারপর স্থানীয় ট্রাফিক অফিসের অবস্থানে, তারপর বাস কোম্পানীর ওয়ার্কশপে, তারপর স্থানীয় বাসষ্ট্যান্ডে অবশেষে বাস এবং ড্রাইভার পরিবর্তন করে সে-ই আসরের ঘন্টাপূর্ব থেকে অপেক্ষমান যাত্রীরা যখন পুনরায় যাত্রা করলাম রিয়াদের পথে, তখন মসজিদে মসজিদে উচ্চকিত ধ্বনি তুলছিল মাগরিবের সুমধুর আযান। রিয়াদের প্রায় তিন কি সাড়ে তিনশ' কিলোমিটার বাকী পথে পড়ে একটি অনেক উঁচু চড়াই, চারপাশ দেখতে তখন অনিন্দ সুন্দর, প্রায় পর্বত পাড়ী দিয়ে তৈরী করা হয়েছে এ পথ যা হাজার কিলোমিটারের আর কোথাও দেখা যায় না। অন্ধকারে শুধু আলোর খেলাই দেখতে পেলাম যাবার বেলা। অবশেষে পৌঁছুলাম যখন, তখন রাত প্রায় এক টা; অপেক্ষিত বন্ধুদের সাথে বুক মিলিয়ে দীর্ঘ পনর ঘন্টার সফরের ক্লান্তি মুছতে লুকিয়ে গেলাম দ্রুতই চাদরের আড়ালে।

নিজের লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি আরো কয়েকটি দ্বীন সংশ্লিষ্ট ইচ্ছেকে লালন করেছিলাম মনের কোণে; রিয়াদে অবস্থানরত বাংলাদেশী বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্বদের কয়েকজনের সাথে সাক্ষাত, বিভিন্ন দাওয়াত ও প্রচার সংস্থাগুলোর অফিসে অফিসে ছুটোছুটি এবং বিশেষ করে ইসলাম হাউজ -এর ওয়েবসাইটে কিছুটা সময় দিয়েছি যাতে স্বদেশী-স্বভাষীরা দ্বীনের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও উপকৃত হতে পারেন। ওদের সাথেও হলো একটা দারুন আন্তরিক হৃদ্যতা। তবে মোটের উপর ইসলামের জন্য যারা কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে অধিকাংশকেই দেখেছি শুধুই একটা চাকুরী করছেন তারা; দ্বীনের দা'য়ীর অনুভূতির ততটা প্রতিফলন দেখতে পাইনি যতটা বাইরে থেকে আমরা অনুভব করি কিংবা একই সাথে জীবিকা এবং আল্লাহ্র দ্বীনের খেদমতের মত অসামান্য পাওয়ার নিরন্তর আকাংখা পোষণ করে থাকি। তবে মুহসিনীনদের (দাতা) সুবিশাল প্রজেক্ট এবং সেসবে ব্যয়ের অংক দেখে হৃদয়টা যেন হিমালয়ের মত সুবিশাল হয়ে উঠেছিল। আমি সর্বদাই প্রার্থনা করি, যেন তাদের এ দান আল্লাহ্ কবূল করেন, তাতে বরকত দেন এবং এসব প্রজেক্টে কর্মরতদেরকে দ্বীনের খেদমতের অনুভূতি অর্জনের তৌফিক দান করেন।

পনর দিনে গড়ে উঠা এক বন্ধুকেও এর মাঝে বিদায় জানালাম স্বদেশের পথে; এছাড়া স্কুল দিনের বন্ধুদের সাথে প্রায়ই চলতো নৈশঃভোজের আয়োজন আর আড্ডা। আমার অবস্থানের প্রেক্ষিতে ওরা যা কিছু কষ্ট সব হাসিমুখে অতি আন্তরিকতায় গ্রহণ করে নিয়েছে এবং তাদের ভালবাসা প্রদর্শন করেছে আমার প্রতি; তাদের জন্য অনেক দো'আ। বিগত অবসরকে কি আর লেখনীর আঁচড়ে ব্যস্ত করে তুলতে পারবো? কিইবা প্রয়োজন আছে তার, প্রতিপালকের সমীপে এ কৃতজ্ঞতাই তো যথেষ্ট যে, তিনি যা দিয়েছেন লক্ষ্যে, ভাবনায়, অর্জনে, খেদমতে আর আন্তরিক প্রশান্তি ও শারিরিক সুস্থতায়; তার জন্য অগণন প্রশংসা শুধুমাত্র তাঁর।

১৮.০১.২০০৭, মদীনা মুনওয়ারা, সৌদি আরব।
(((সমাপ্ত)))

ছবিঃ অদক্ষতায় গতির ভেতর তোলা একান্ত আপনার।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৫:২০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিয়া আচরণে অতিষ্ট হয়ে হযরত আলী (রা.) ও তাঁর শিয়ার বিপক্ষের সত্য প্রকাশ করতে হয়

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা মে, ২০২৬ ভোর ৬:৩১



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামীলীগ ও তার রাজনীতির চারটি ভিত্তি, অচিরে পঞ্চম ভিত্তি তৈরি হবে।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৩


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯০

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৯



আমাদের ছোট্র বাংলাদেশে অনেক কিছু ঘটে।
সেই বিষয় গুলো পত্রিকায় আসে না। ফেসবুকেও আসে না। অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষ মাতামাতি করে না। কিন্তু তুচ্ছ বিষয় গুলো আমার ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

সনদ জালিয়াতি

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫২


গতকাল দুটো সংবাদ চোখে পড়লো যার মূল কথা সনদ জালিয়াতি ! একটা খবরে জানা যায় ৪ জন ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে জাল জন্ম মৃত্যু সনদ দেয়ার জন্য, আরেকটি খবরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেলের বৃষ্টি

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


বিকেলের শেষে হঠাৎ বৃষ্টি নামলে
জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলে চুপ,
তোমার ওমন ঘন মেঘের মতো চুলে
জমে ছিল আকাশের গন্ধ,
কদমফুলের মতো বিষণ্ন তার রূপ।

আমি তখন পথহারা এক নগর বাউল,
বুকের ভেতর কেবল ধোঁয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×