123--321
1234--4321
এভাবে চলে পিছনের টান গুলোর কার্যক্রম।আমার বাবার জন্ম অজপাড়া গায়ে।বিদ্যুৎ গিয়েছে বছর ছয়েক।এখন ও প্রধান বাহন পা,তার পর ই স্থান দখল করেছে নৌকা।মফস্বলের কোন এক ছোট বাসায় আমার যখন জন্ম হয়, তখনও সে তার আবাস থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারেনি।তাই শিকরের টানে বার বার ফিরে গিয়েছে সেখানে।সেখানেই তো সব তার।তার সে টান হে প্রতিস্থাপিত করতে চেয়েছে আমাদের মাঝে।প্রতি বছর দুই ঈদ বাদ দিলেও আম কাঠলের বন্ধে আমরা সব গ্রামের বাড়ি।সে আম কাঠালের বন্ধ বললেও আমরা কিন্তু সামার ভেকেশনই বলতাম।ইংলিশ মিডিয়ামে পড়তাম যে!!!!!20-22 বছরের অভ্যাসে একটা ভালবাসা জন্মেছিল হয়তো।কিন্তু সে টান কি খুব প্রথিত ছিল নিজের মাঝে??
সেই ছোট শহর ছেড়ে যখন বড় শহরে আসি,সে টান কি অনুভব করেছি কখনও?না তেমন করে না।কারন মাঝে চলে এসেছে আরেকজন,আমার জন্ম শহর।সেখানে আমার পরিবার।ধীরে ধীরে সেই আমার শহর হয়ে যায়।তবু ভুলে যেতে পারি না সেই মেঠো পথ।জোছনায় ফকফকা উঠান।কোসা নৌকা বেয়ে দূরে কোথাও চলে যাওয়া।রাত বিরাতে উদ্দেশ্য বিহীন হাটা।ধান কাটার সময় ক্ষেতে খাবার নিয়ে গিয়ে ,নিজেও খেতে বসে পড়া।না কোন শহুরেপনা ছিল না সে আচরনে।শুধু কথার টান ছিল না।ঠিক বুঝে যেত বাইরে থেকে এসেছে।তাদের নিজস্ব শব্দ ভান্ডার আমি ব্যব হার করিনি,যদিও তা উন্মোক্ত ছিল সর্বদা।
নতুন শহরে নিজেকে এতোটা জড়িয়ে ফেলেছি নিজেকে,সে টান টা অনুভব করার সময় কখন ও পাওয়া যায় নি।বিস্তৃত হয়েছে শহর আকাশ পানে,আমরাও উপরের দিকে দেখতে শিখেছি।কাউকে দেখতে হলে ঘাড় বাকিয়ে উপরে তাকাতে হয়।মানুষের কাছে পৌছতে লিফট লাগে।সে দিন পিছনে ফেলে এসেছি,যেখানে খড়ের গাদায় শুয়ে আকাশ দেখা যায়,সামনে তাকালে মানুষের চোখ বরাবর তাকানো যায়।তবু এই শহর কে ই আপন লাগে।এখানে নিজের মানুষ তৈরী হয়,করতে হয়।আপন জন তৈরি করতে হয়।এটাকেই কেমন আপন লাগে।এই জ্যামে আটকানো রাস্তা,ধুলা বালি ,কিচির মিচির শব্দ,ছিনতাই,মিছিল মিটিং,চা,সিগরেটের ধুয়া,সব ই নিজের মনে হয়।
তবু দিন যায়,জীবন কে দেখতে শিখি নিজের মতো করে।নিজের মতো করে বুঝতে শিখার এক পর্যায়ে একদিন সেই গ্রমের মানুষ, সেই মফস্বলের মানুষ আর এই শহরের মানুষের চোখের জলে ভিজে যাওয়া পথে হেটে হেটে পৌছে যাই এয়ারপোর্ট এ।ছোট শহরটায় গেলও সেই গ্রমে যাইনি আমি আসার আগে। তারা এসেছিল আমাকে দেখতে।আমি কি সেই মেয়েটা নেই.....আমি কি নামী দামী কেউ? বা জনপ্রতিনিধি? যে নির্বাচনের আগে সবার বাড়িবাড়ি যায়,কিন্তু পাশ করার পর মানুষ তার বাড়ি গিয়ে শুভাশিষ জানিয়ে আসে!!!!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


