somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আচুউক্কা পক্ষীর ছাও!!!!!

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সকাল ১০:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এইতো দু’দিন আগেই মাননীয় মডারেটর “কাল্পনিক_ভালোবাসা” ব্লগারদের কপিরাইটিং স্কিল দেখতে চাইলেন। গ্যাসের চুলোর বদলে কাঠের চুলোয় মজার রান্নার লোভ দেখিয়ে ব্লগারদের আমন্ত্রন জানালেন কিছু লেখার জন্যে।
“কাল্পনিক_ভালোবাসা”র সেই পোস্টের মন্তব্যে লিখেছিলুম – “নিজেকে নিয়ে কিম্বা বিশ্বের তাবৎ বিষয় নিয়ে ভাবার জন্যে আপনার একখানা মন আছে। সে ভাবনাকে প্রকাশের জন্যে আপনার একখানা মুখ আছে। আর শক্তিশালী যেটা আছে সেটা আপনার লেখার হাত।
আপনার এসব ভাবনা প্রকাশের জন্যে আপনার যদি চুলকানী ওঠে তবে ধারনা করি, সম্ভাব্য সকল উপায়ে আপনি চুলকোতে চাইবেন। লেখাই হলো সে চুলকানীর সেরা অস্ত্র। আর ব্লগ হলো আপনার লেখার সেই শ্লেটখানি।“
অবশ্য “কাল্পনিক_ভালোবাসা”র এই “চুলকানী” শব্দটিতে আপত্তি আছে।

অথচ লেখার চুলকানী বাড়াতে “রাজীব নুর” বাংলা একাডেমী সহ অনেককে তো বলেই বসলেন, বছরান্তে সেরা ব্লগারকে পুরস্কৃত করতে। ভাবতে পারেন বাংলা একাডেমীর পুরস্কার! এ সুযোগ হাতছাড়া করবে কোন পাগলে?
“গেঁয়ো ভূত” আবার আমাদের চমৎকার সুন্দর সব চিন্তা-ভাবনা গুলো বাংলা ভাষার সেরা ডিজিটাল মাধ্যমে একদম বিনা খরচে প্রকাশ করতে চাইলে, পরামর্শ দিলেন ব্লগে লিখতে।
তাহলে তো লিখতেই হয়! কিন্তু লিখতে গিয়ে লতা মুঙ্গেশকরের একখানা গান মনে পড়লো। উনি গেয়েছেন – “কি লিখি তোমায়….”
থেমে গেলুম। আসলেই তো! কি লিখি ?
লেখা তো অনেক কিছু নিয়েই লেখা যায়। এখনকার গরম টপিক, হিরো আলমের অদম্য কাহিনী নিয়ে লেখা যায়! লেখা যায়, খেলা হওয়া নিয়ে! উন্নয়নের কথাও লেখা যায়! লেখা যায় ঋন খেলাপী আর টাকা পাচারকারীদের নিয়ে, এমনকি দ্রব্যমূল্যের উল্লম্ফন নিয়ে আম পাবলিকের জান লবেজান হওয়ার কথা নিয়েও।এসব নিয়ে তো সবাই-ই কমবেশী এখানে সেখানে লিখছেনই! আমি এসব নিয়ে নতুন আর কি লিখবো ? ব্লগে লেখা কী অতো সহজ? ব্লগ তো আর ফেসবুক নয় যে দু’লাইন লিখে দিলুম – “সাজুগুজু করার জন্যে এইমাত্র বাসা থেকে পার্লারে রওয়ানা দিয়েছি।আসছি একটু পরে!” তাতেই লাইক আর লাইক।
কিম্বা অন্যের খানাপিনার পুরোনো কোন্ ছবি দিয়ে লিখে দিলুম “হাই ফ্রেন্ডস! বনানীর অমুক রেস্তোরায় খেতে এসেছি!” এখানেও লাইক আর লাইক।

ব্লগে লিখতে হয় ভেবেচিন্তে। জানতে হয় অনেক কিছু।

তাই ভেবেচিন্তে দেখলুম, “অন্নপূর্ণা মিষ্টান্ন ভান্ডার” নিয়ে কিছু লেখা যায় কিনা! দেবী দূর্গার মতো দশ হাত দিয়ে মিষ্টান্ন ভান্ডার থেকে আম পাবলিককে মিষ্টি বিতরন করার গল্প। নতুবা “উন্মোচনে-উল্লম্ফনে- উচ্চাসনে প্রত্যাশিত নিম্নপতন” নিয়েও লেখা যায়। কিন্তু ব্লগার “সোনাগাজী” প্রায়ই বলেন, সমাজ – রাজনীতি- দেশ নিয়ে সমসাময়িক ভাবনা-চিন্তার কথা লিখতে যা মানুষের উপকারে আসবে। আমি ঐসব নিয়ে লিখলে কি মানুষের বা দেশ ও দশের কোনও উপকারে আসবে? মানুষ কেবল তাতে রম্য খুঁজে পেয়ে হাসতেই পারবেন। অবশ্য “হাসি” নাকি একটি ধন্বন্তরী ঔষধ যার দমকে শরীরের হরমোনগুলি সুসমন্বিত হয় এবং শরীর-মন তাজা হয়ে ওঠে। আমার লেখাতে এটুকু উপকারই মাত্র হতে পারে দেশের, থুড়ি……. ব্লগারদের!

ব্লগার “সাড়ে চুয়াত্তর” সকল শ্রেনীর ব্লগারদের বলেছেন, দু’মাস ঘন ঘন পোস্ট দিতে যাতে পাঠকরা মৌমাছির মতো সে মধুতে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন। তাই কিছু একটা লেখা লিখতেই পারা যায়! তাই লিখতে বসলুম।
অথচ আমার লেখার হাত যে তালা মারা। সেই গত বছরে শেষ লেখাটি লিখেছিলুম, আর লেখা হয়নি। অথচ ব্লগার “কাজী ফাতেমা ছবি” বলেছেন – তালা খুলতে।
চাবি দিয়ে তালা খুলতেই “আচুউক্কা পক্ষীর ছাও” বা “ আচমকা পাখির ছানা”র মতো আসল লেখাটিই আচমকা উড়ে গেলো কোন ফাঁকে …………… :(

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সকাল ১০:২২
৩৩টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের সাধারণ ছাত্ররা একা একা আন্দোলন করার মতো দক্ষ নয়।

লিখেছেন সোনাগাজী, ১৮ ই জুলাই, ২০২৪ রাত ২:৫০



পাকিস্তান আমলে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন আইয়ুব খানের বিপক্ষে কয়েকটি শক্ত আন্দোলন করেছিলো; তখন এই ২ দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ছিলো ও উভয় দলই তাদের মুল রাজনৈতিক দল ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাউকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে দেওয়া হবে না

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৮ ই জুলাই, ২০২৪ রাত ২:৫৮



ছাত্রদের কোটা আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার কোন সুযোগ নেই, বিম্পি-জামাত ঝড়ে আমার কুড়াতে খুবই উস্তাদ। শ্বান্তিপূর্ণ একটি আন্দোলনে সাধারণ ছাত্রদের উস্কানী দিয়ে, সোশ্যাল নেটওয়ার্কে গুজব ছড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় দেশবাসী কর্মস্থলে আসুন। আজ প্রকৃত দেশপ্রেমিক ছাত্রলীগরা আপনাদের নিরাপত্তা দিবে।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ১৮ ই জুলাই, ২০২৪ সকাল ১০:৪৭



যারা চাকুরী ব্যাবসা বাণিজ্য করেন তাদের সাথে কোটা আন্দোলন কারীদের কোন বিরোধ নেই। আমাদের সকল শিল্পী, মুক্তমনা ব্লগাররা কোটা সংষ্কার এর পক্ষে।আমাদের পরিবারের সদস্যরাও কোটা আন্দোলনে রাজপথে নামছে। উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচিত আর অনির্বাচিত সরকারের মধ্যে পার্থক্য।

লিখেছেন জাদিদ, ১৮ ই জুলাই, ২০২৪ দুপুর ২:১৭

অনেকেই জিজ্ঞেস করেন যে নির্বাচিত আর অনির্বাচিত সরকারের মধ্যে পার্থক্য কি?

একটি নির্বাচিত সরকার জনগণের মতের মূল্যায়ন করেন, সম্মান করেন এবং সেইভাবেই কাজ করার চেষ্টা করে। আর একটি অনির্বাচিত, অগণতান্ত্রিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাথার উপর থেকে বাড়ির চাল উড়ে গেলে কেবল সহানুভূতিতে কোন কাজ হয় না

লিখেছেন করুণাধারা, ১৮ ই জুলাই, ২০২৪ দুপুর ২:৩৮



আবু সাঈদের স্বজনদের কান্না।


আমি ভাবছিলাম আবু সাঈদের পরিবারের কথা। তাদের স্বপ্ন ছিল পরিবারের একমাত্র শিক্ষিত ছেলেটি এক সময় চাকরি করবে, পরিবারের অভাব দূর করবে। সেই স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×