somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক জীবন

২৭ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গাছটার সাথে বন্ধুত্ব অনেক দিনের। কি ভীষন বর্ষনের সন্ধা, কি তপ্ত রোদেলা দুপুরবেলা, অথবা ফাল্গুনের পড়ন্ত বিকেলবেলায় জীবনটা যখন ভীষন ক্লান্ত, অথবা কোথাও কথা বলার কেউ থাকত না, গাছটার আঙিনায় বসে শুরু হোতো কথা বলা। সে যেন এক সময়জ্ঞান তুচ্ছ করে শুরু হোতো কথা বলা।

অভিযোগ, অনুনয়, আকাংখা একের পর বলেই যেত হোসেন। তীব্র ক্ষোভে, অথবা প্রচণ্ড আক্ষেপে কখনো আচড়ে দিয়েছে গাছটার শরীর, নখ দিয়ে খুটখুট করে কখনো বাকল তুলে ফেলেছে, উত্তরে কিচ্ছু বলেনি গাছটা শুধু আঘাতের জায়গা থেকে কশ বেরিয়ে এসেছে, হাল্কা লাল রংয়ের।খুব মন খারাপের দিনে জড়িয়ে ধরে থেকেছে, তার উত্তরেও কিছু বলতে পারেনি গাছটা।

পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লেখা চিঠি গুলি যখন নিরব থেকে একমনে দেয়াশলাই এর কাঠি জালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে, সার্টিফিকেট গুলি ছিড়ে ছিড়ে ওই আগুনে ফেলেছে, আগুনের আচে পুড়েছে শরীরের খানিক জায়গা শুধু অনুভব করে গিয়েছে আধপাগল এই মানুষটার অনুভূতি গুলি। গাছ টা ভাবে মানুষের আসলে দিন শেষে কথা বলার কাউকে প্রয়োজন হয়। এই মানুষ টার নেই, কেউ ই নেই। এই যে এত এত মানুষ তাও কি কেউ ই নেই? প্রশ্ন আসলে ও কিছুই বলতে পারে না।

এই তো কিছুদিন আগে, ভাজ না খোলা এক শাড়ি নিয়ে পুড়িয়ে দিল, হয়ত অনেকদিন ধরে আলমারিতে পড়ে ছিল, রং নষ্ট হয়ে গিয়েছে, মানুষ টা ঐদিন কোন কথাই বলে নি, শীতল চোখে ওই পুড়ে যাওয়া দেখছিল। এক মানুষ হারিয়ে ফেলার অনুভূতি কেমন খুব জানতে ইচ্ছে করছিল গাছটার। খুব ইচ্ছে করছিল কিছু বলতে, কিন্তু গাছ তো। মরে যাওয়া গাছ। একটা পাতাও নেই যে পাতায় পাতায় ভাষা বানিয়ে হোসেন কে কিছু বলবে।খুব কথা বলতে ইচ্ছে হয়। মানুষটাকে খুব বলতে ইচ্ছে হয়। মানুষ টা ভয় পাবে না তো?

মরে যাওয়া গাছটায় হঠাৎ ই একটু একটু করে প্রান ফিরে আসে, একটু সবুজ দেখা যায়, দুটি তিনটি পাতা আসতে থাকে। গাছটা অপেক্ষায় থাকে তীব্র যৌবনের।

তার ও অনেক কিছু বলার আছে। এক জীবনে অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:৩২
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্যরচনা : ইয়ে

লিখেছেন গেছো দাদা, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১:১৪

এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক সহজাত হাসি দিয়ে বললেন - আজ্ঞে আমার ইয়েতে একটু সমস্যা আছে!!
বাঙ্গালী এখনো এঁটো আর যৌনতা নিয়ে পুরোপুরি সাবলীল হয় নি। তবু বিশদে জানতে জিজ্ঞেস করলাম -... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাপান ভ্রমণের শতবর্ষ পর নীলসাধু জাপান পৌঁছলেন

লিখেছেন নীলসাধু, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:৪২











কিছুক্ষণ আগে আমার প্রকাশিতব্য বই নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছি। এই বইমেলায় আমি ব্লগে কম আসছি। তাই ভাবলাম স্ট্যাটাস নিয়েই সহ ব্লগারদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমলা শ্রেণীকে গাড়ি, বাড়ি, মোটা বেতনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে জনগণকে আরো কঠিন অবস্থার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে

লিখেছেন সাখাওয়াত হোসেন বাবন, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:১৯

সঞ্চয় পত্রের সুদের হার কমানোর অর্থ হচ্ছে, মানুষকে সঞ্চয়ে নিরুৎসাহিত করে সঞ্চয়পত্র কেনা টাকাগুলোকে বাজারে নিয়ে আসা । ইতিমধ্যে নানা অকার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষকে সঞ্চয়পত্র কেনা থেকে নিরুৎসাহিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্বীনের ক্ষমতা- ২

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৩৬



খিলগাঁও, বাগিচা এলাকায় আমরা আড্ডা দিতাম।
বাগিচা মসজিদের ঠিক উলটো পাশেই চুন্নুর চায়ের দোকান। এই চায়ের দোকানে একসময় রোজ আড্ডা দিতাম, আমরা চার পাচজন বন্ধু মিলে। বিকাল থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেগম জিয়াকে ছেড়ে দেয়ার কথা উঠলে, মনটা খারাপ হয়ে যায়

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:১৮



বেগম জিয়ার বয়স বেশী হয়েছে, এই বয়সে আত্মীয়স্বজন থেকে দুরে, জেলে বাস করা সহজ নয়, এটা বুঝতে কারো কষ্ট হওয়ার কথা নয়; এবং সেটার সমাধানও আছে; উনাকে উনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×