অভিকর্ষ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানী ব্যবহার ব্যতিরেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন শাহিদ হোসাইন। এই তরুণ উদ্ভাবক তার প্রযুক্তিটির নাম দিয়েছেন “হেকমত”। শব্দটির অর্থ বিজ্ঞান, কৌশল, প্রযুক্তি প্রভৃতি। আসলে এই প্রযুক্তির ইংরেজি নামের সংক্ষিপ্ত রুপ “হেকমত” যা এর প্রচলিত অর্তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পুরো নামটি হলো – “Heavy Circular Moving Objects Triggering Energy Conversion Technology.”
গত 07-12-2014ইং তারিখে একটি খবরে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ওই উদ্ভাবনকারী জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার আবিষ্কৃত প্রযুক্তি উপস্থাপন করছেন। পাশেই রয়েছে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী প্রফেসর এম শমসের আলী। রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে 80 কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্লান্টও স্থাপন করা হয়েছে এবং তা থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে নিয়মিত। এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহারের প্রয়োজনে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
উদ্ভাবক দাবি করেছেন, আলোচিত প্রযুক্তিটি বিশ্বে একেবারেই নতুন। ইতিঃপূর্বে পানির গতিশক্তি বিংবা কোনো জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। তবে পৃ্থিবী নামক গ্রহের অভিকর্ষ শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এবং কোনো ধরনের জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদনের দৃষ্টান্ত এটাই প্রথম। এভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হলে ইউনিট প্রতি খরচ হবে মাত্র 75 পয়সা। 100 মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ডিজেল চালিত প্লান্ট স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বছরে সাড়ে 12শ’ কোটি টাকা ব্যয় হয়ে থাকে অথচ নতুন প্রযুক্তিটির ব্যবহার করা হলে খরচ পড়বে মাত্র 18কোটি টাকা।
উদ্ভাবক শাহিদ 2007 সালে এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন বলে জানানো হয়। দুই বছর ধরে এই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছেন বলে জানান তিনি। প্লান্ট বড় হলে একই পদ্ধতিতে 5000 মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে বলে মতামত প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে প্রধানত দারিদ্র্য-দুর্ণীতি-দুর্যোগের জনপদ হিসেবে এতোদিন পরিচিত ছিল। তবে ইদানিং মেধা, প্রতিভা ও পরিশ্রম মিলে এ দেশের মানুষের কৃতিত্ব ও সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচিত হতে থাকায় আমাদের দেশের ইমেজ বহিরবিশ্বে বদলাতে শুরু করেছে বলে প্রতিয়মান। এই ধারায় অতি সাম্প্রতিক একটি গরুত্বপূর্ণ সংযোজন হচ্ছে, জ্বালানি ছাড়ই বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি আবিষ্কার।
এর উদ্ভাবক যিনি, অনুকূল পরিবেশে বিকশিত হয়ে তার মেধা ও প্রতিভা ভবিষ্যতে অনেক অবদান রাখতে পারে। তিনি যে তথ্য দিয়েছেন, এতে দেখা যায় 100 মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ প্লান্টে এক বছর উৎপাদনের জন্য ডিজেল প্লান্টে যে খরচ পড়বে, নতুন এই প্রযুক্তি দ্বারা উৎপাদন হলে খরচ হবে সে তুলনায় মাত্র 66 ভাগের 1 ভাগের মতো। এই পরিসংখ্যান প্রথমে অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য লাগতে পারে! তাই প্রয়োজনে আরো বেশি গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অভিমত প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়।
আমাদের দেশ যে প্রভূত সম্ভাবনাময়, এরই আগে আরো কয়েকটি নজিরই এর প্রমান। বগুড়ার এক ব্যাক্ত পানি ব্যবহার করে স্থলে এবং আকাশে উড়তে সক্ষম গাড়ি চালানো উদ্ভাবন করেছেন এবং সেটি জ্যামে পড়লে, দাঁড়িয়ে থাকা যায়গা থেকে আকাশে উড়ার ক্ষমতাও ছিলো বলে উদ্ভাবক দাবী করেছেন। এর পরবর্তীতে আমেরিকা আবিষ্কার করলো উড়ন্তোগাড়ী কিন্তু সেটা পেট্রোল দিয়ে তারপরেও আমাদের পানি দিয়ে চালিত গাড়ির তুলনায় গতিবেগ ছিলো অনেক কম!
তারপর নারায়নগঞ্জের এক যুবক আবিষ্কার করলেন হেলিকপ্টার কিন্তু তারপর আর তাদের নিয়ে তেমন কোনো ফলাও করে সংবাদ প্রচার করা হয়না বলেই হয়তো আমরা সেসব সম্ভাবনাময় ব্যক্তিদের ব্যপারে তেমন কোনো ধারণা নিতে পারি না। এর পর দেখেছি উত্তর বঙ্গের আরেক উদ্ভাবক আবিষ্কার করেছেন প্রায় 20টির অধিক যন্ত্র। তার মধ্যে ছিলো – ধান মাড়ায় যন্ত্র, নচিমন-করিমন, হিউম্যান হলার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
পর্যায়ক্রমে উল্লেখ করার মতো আরেকটি হলো, গত কয়েকদিন আগে বাতাসের সাহায্যে মোটরবাইক চালানো প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেন হফেজ নুরুজ্জামান। হবিগঞ্জের এই প্রতিভাবান তরুণ সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু মৃত্যু সংবাদটি মিড়িয়ায় প্রত্যাশিত গুরুত্ব পায়নি! একজন গুণী ব্যক্তি নাম ঠিক মনে নেই, বলছিলেন- যে দেশে গুণীর কদর নেই; সে দেশে গুণী জম্মায়না!!! কথাটি এই দেশের চিন্তক ব্যক্তিরা একটু চিন্তা করে দেখা উচিত বলে মনে করি।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, গবেষণা ও উদ্বাবনের এই ধারা অব্যাহত থাকুক এবং আরো জোরদার হোক। এ জন্য সবার সহায়তা ছাড়াও উদ্ভাবিত প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অবশ্যই সরকারের পর্যাপ্ত সহযোগিতা জরুরী। আর আমরা তা করতে ব্যর্থ হলে কিংবা এসব ব্যাপারে গাফিলতি করলে, প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে অনেক উদ্ভাবনই কারো কাজে লাগবেনা কিংবা সেই উদ্ভাবকগনেরা হতাশ হয়ে অকালে ঝরে যাবে বলে মনে করি।
যা আমরা অচিরেই প্রত্যক্ষ করেছি। হবিগঞ্জের যে জিনিয়াস যুবক, বাতাস চালিত বাইক উদ্ভাবন করলেন সেই তিনিই তার কিছুদিন পরে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু একি! মৃত্যু সংবাদটিও মিড়িয়ায় প্রত্যাশিত গুরুত্ব পায়নি। আমি মনে করি, প্রতিটি প্রযুক্তিই দেশ তথা দেশের মানুষের কাজে লাগানো জন্য সরকারের আরো বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


