অন্তরালের অনেক খবর-ই আমরা রাখি না।
কেন রাখি না? সেটাও জানি না। জানি না, তাই মানি না। সহজ হিসেব। চোখের সামনে যা দেখছি তাই মানছি। সত্য বলে ধরে নিচ্ছি। এত গভীরে গিয়ে ভাবার কি আছে !
বোধ? আশ্চর্য্য! সেটা আবার কি জিনিস ! হাস্যকর না!
আমাদের ইচ্ছে করছে তাই আনন্দ করছি। হৈ-হুল্লোড় করছি। উল্লাস করছি। লাইফটাকে আমাদের মত করে এনজয় করছি। এ নিয়ে এত মাথাব্যথা কেন?
আমাদের কাছে আনন্দটাই মূখ্য। লাইফটাকে এনজয় করাটাই মূল কথা । সেটা যেভাবেই হোক, যেমন করেই হোক। সমস্যা নাই। সেটা পাপে হোক, পূন্যে হোক; ন্যায়ে হোক, অন্যায়ে হোক; হোক তা বিজাতীয় কালচারেই - এসব দিয়ে আমরা কি করব? এসব ভেবে-টেবেই বা লাভ কি? অতসব ভেবে কি আর আনন্দ হয়? লাইফটাকে এনজয় করা যায়? এসব ভেবে সময় নষ্ট করার মানে হয় কোনো? যত্তসব লো-ক্লাস সেন্টিমেন্টাল থিংক !
তাই আমরা আনন্দ করি। উল্লাস করি। লাইফটাকে এনজয় করি।
সাগর-রুনিদের হত্যা করে তাই উল্লাস করি!
তনু'র মত মেয়েদের স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করে উল্লাস করি!
রাস্তা থেকে মেয়েদের তুলে নিয়ে মাইক্রোতে ফিল্মিস্টাইলে ধর্ষণ করে উল্লাস করি!
ফয়সল আরেফিন দীপন'দেরকে হত্যা করে উল্লাস করি!
ন্যায় বিচার চাইতে গেলে উল্টো ঐ লোকটাকে অপরাধী বানিয়ে উল্লাস করি!
নিজেদের পকেট ভারি করতে যুবকদের হাতে নেশার পুড়িয়া ধরিয়ে দিয়ে উল্লাস করি!
প্রশ্নপত্র ফাঁস করে একটা প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়ে উল্লাস করি!
ছোট-ছোট বাচ্চাদের শৈশব কেড়ে নিয়ে উল্লাস করি!
যৌতুকের জন্য নিজের বউকে আগুনে পুড়িয়ে উল্লাস করি!
স্বামীর অজান্তে পরপুরুষের সাথে পরকীয়া করে উল্লাস করি!
জোর করে অন্যের সম্পত্তি নিজের করে উল্লাস করি!
অসহায়ের মুখের অন্ন কেড়ে নিয়ে উল্লাস করি!
স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করলে তার কন্ঠস্বর রুদ্ধ করে উল্লাস করি!
সম্পর্কের জালে ফেলে মেয়েটির মুখে এসিড ছুঁড়ে দিয়ে উল্লাস করি!
আমাদের আনন্দের শেষ নেই। আমাদের উল্লাসের শেষ নেই। আমরা সুযোগ পেলেই আনন্দে মেতে উঠি। আমরা সুযোগ পেলেই উল্লাসে মেতে উঠি। লাইফটাকে এনজয় করি। তাই থার্টিফাস্ট নাইট নিয়েও আমরা আনন্দে মাতি, উল্লসিত হই। এনজয় করি !
এই আনন্দ করতে গিয়ে, এভাবে লাইফটাকে এনজয় করতে গিয়ে আমরা কি করি?
বেশি কিছু না।
বাপের জমানো অবৈধ টাকাগুলো নষ্ট করি।
কারো স্বপ্ন মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে কুক্ষিগত করে রাখা পুঁজি দিয়ে, যতটা নগ্নভাবেই হোক, নিজেদের প্রকাশ করি!
কারো-কারো চোখের শান্তির ঘুমটুকু কেড়ে নিই!
শব্দদূষণে চারদিকটা মাতিয়ে রাখি!
কারো হার্টবিটটা বাড়িয়ে দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিই!
বাজি ধরে আতশবাজি করি!
বিকট চিৎকার করে জানান দেই আমরা লাইফটাকে কিভাবে এনজয় করছি!
রাতভর নাইটক্লাবে পর-নারী এবং পর-পুরুষের সাথে ঢলাঢলি করি!
বারে বসে পেগের পর পেগ মদ খাই !
এমনিভাবেই আমরা নতুন বছরকে স্বাগত জানাই ! এমনিকরেই আমরা আমাদের লাইফটাকে এনজয় করি। এতে, এত ভাল-মন্দের পার্থক্য দেখলে চলে? থার্টিফার্স্টের ইতিহাস জেনেই বা করবোটা কি? কোন দেব-দেবী কখন কি করে গেছে, কিসের জন্য এই থার্টিফার্স্ট এল, ওসব আমার এবং আমাদের জীবনবোধ, মূল্যবোধ এবং কালচারের সাথে যায় কিনা - অতসব ভাবলে জীবন চলে?
এভাবেই আমরা দিনযাপন করছি। এমন ভাবনাগুলোই এখন আমাদের সঙ্গী-সাথী। কোনো কিছু নিয়ে আমাদের ভেবে দেখার সময় নেই! এর গভীরে গিয়ে বিষয়টা জানার আগ্রহ নেই! চোখের সামনে যা দেখছি তাই মেনে নিচ্ছি। মিডিয়া আমাদের যা দেখাচ্ছে, যা শুনাচ্ছে তাই সত্য বলে ধরে নিচ্ছি। অন্যেরা যা করছে আমিও তাই করছি। একবারও নিজেকে প্রশ্ন করছি না- 'ও বা ওরা করছে বলেই আমাকে কেন করতে হবে? ও, ওরা বা ওটা কি ভুল হতে পারে না?'
নিজেদের বিবেক, মূল্যবোধ, মনুষত্ব্যবোধ খুইয়ে বসে আছি অনেক আগেই। ফলে একটা অসুস্থ সমাজে যা হবার তাই হচ্ছে। যা ঘটার তাই ঘটছে। আজ এটাই কঠিন সত্য !
নোট: লেখাটি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



