somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিবেক-বর্জিত সমাজ এবং আমরা !

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অন্তরালের অনেক খবর-ই আমরা রাখি না।

কেন রাখি না? সেটাও জানি না। জানি না, তাই মানি না। সহজ হিসেব। চোখের সামনে যা দেখছি তাই মানছি। সত্য বলে ধরে নিচ্ছি। এত গভীরে গিয়ে ভাবার কি আছে !

বোধ? আশ্চর্য্য! সেটা আবার কি জিনিস ! হাস্যকর না!

আমাদের ইচ্ছে করছে তাই আনন্দ করছি। হৈ-হুল্লোড় করছি। উল্লাস করছি। লাইফটাকে আমাদের মত করে এনজয় করছি। এ নিয়ে এত মাথাব্যথা কেন?

আমাদের কাছে আনন্দটাই মূখ্য। লাইফটাকে এনজয় করাটাই মূল কথা । সেটা যেভাবেই হোক, যেমন করেই হোক। সমস্যা নাই। সেটা পাপে হোক, পূন্যে হোক; ন্যায়ে হোক, অন্যায়ে হোক; হোক তা বিজাতীয় কালচারেই - এসব দিয়ে আমরা কি করব? এসব ভেবে-টেবেই বা লাভ কি? অতসব ভেবে কি আর আনন্দ হয়? লাইফটাকে এনজয় করা যায়? এসব ভেবে সময় নষ্ট করার মানে হয় কোনো? যত্তসব লো-ক্লাস সেন্টিমেন্টাল থিংক !

তাই আমরা আনন্দ করি। উল্লাস করি। লাইফটাকে এনজয় করি।

সাগর-রুনিদের হত্যা করে তাই উল্লাস করি!
তনু'র মত মেয়েদের স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করে উল্লাস করি!
রাস্তা থেকে মেয়েদের তুলে নিয়ে মাইক্রোতে ফিল্মিস্টাইলে ধর্ষণ করে উল্লাস করি!
ফয়সল আরেফিন দীপন'দেরকে হত্যা করে উল্লাস করি!
ন্যায় বিচার চাইতে গেলে উল্টো ঐ লোকটাকে অপরাধী বানিয়ে উল্লাস করি!
নিজেদের পকেট ভারি করতে যুবকদের হাতে নেশার পুড়িয়া ধরিয়ে দিয়ে উল্লাস করি!
প্রশ্নপত্র ফাঁস করে একটা প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়ে উল্লাস করি!
ছোট-ছোট বাচ্চাদের শৈশব কেড়ে নিয়ে উল্লাস করি!
যৌতুকের জন্য নিজের বউকে আগুনে পুড়িয়ে উল্লাস করি!
স্বামীর অজান্তে পরপুরুষের সাথে পরকীয়া করে উল্লাস করি!
জোর করে অন্যের সম্পত্তি নিজের করে উল্লাস করি!
অসহায়ের মুখের অন্ন কেড়ে নিয়ে উল্লাস করি!
স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করলে তার কন্ঠস্বর রুদ্ধ করে উল্লাস করি!
সম্পর্কের জালে ফেলে মেয়েটির মুখে এসিড ছুঁড়ে দিয়ে উল্লাস করি!

আমাদের আনন্দের শেষ নেই। আমাদের উল্লাসের শেষ নেই। আমরা সুযোগ পেলেই আনন্দে মেতে উঠি। আমরা সুযোগ পেলেই উল্লাসে মেতে উঠি। লাইফটাকে এনজয় করি। তাই থার্টিফাস্ট নাইট নিয়েও আমরা আনন্দে মাতি, উল্লসিত হই। এনজয় করি !

এই আনন্দ করতে গিয়ে, এভাবে লাইফটাকে এনজয় করতে গিয়ে আমরা কি করি?
বেশি কিছু না।
বাপের জমানো অবৈধ টাকাগুলো নষ্ট করি।
কারো স্বপ্ন মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে কুক্ষিগত করে রাখা পুঁজি দিয়ে, যতটা নগ্নভাবেই হোক, নিজেদের প্রকাশ করি!
কারো-কারো চোখের শান্তির ঘুমটুকু কেড়ে নিই!
শব্দদূষণে চারদিকটা মাতিয়ে রাখি!
কারো হার্টবিটটা বাড়িয়ে দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিই!
বাজি ধরে আতশবাজি করি!
বিকট চিৎকার করে জানান দেই আমরা লাইফটাকে কিভাবে এনজয় করছি!
রাতভর নাইটক্লাবে পর-নারী এবং পর-পুরুষের সাথে ঢলাঢলি করি!
বারে বসে পেগের পর পেগ মদ খাই !

এমনিভাবেই আমরা নতুন বছরকে স্বাগত জানাই ! এমনিকরেই আমরা আমাদের লাইফটাকে এনজয় করি। এতে, এত ভাল-মন্দের পার্থক্য দেখলে চলে? থার্টিফার্স্টের ইতিহাস জেনেই বা করবোটা কি? কোন দেব-দেবী কখন কি করে গেছে, কিসের জন্য এই থার্টিফার্স্ট এল, ওসব আমার এবং আমাদের জীবনবোধ, মূল্যবোধ এবং কালচারের সাথে যায় কিনা - অতসব ভাবলে জীবন চলে?

এভাবেই আমরা দিনযাপন করছি। এমন ভাবনাগুলোই এখন আমাদের সঙ্গী-সাথী। কোনো কিছু নিয়ে আমাদের ভেবে দেখার সময় নেই! এর গভীরে গিয়ে বিষয়টা জানার আগ্রহ নেই! চোখের সামনে যা দেখছি তাই মেনে নিচ্ছি। মিডিয়া আমাদের যা দেখাচ্ছে, যা শুনাচ্ছে তাই সত্য বলে ধরে নিচ্ছি। অন্যেরা যা করছে আমিও তাই করছি। একবারও নিজেকে প্রশ্ন করছি না- 'ও বা ওরা করছে বলেই আমাকে কেন করতে হবে? ও, ওরা বা ওটা কি ভুল হতে পারে না?'

নিজেদের বিবেক, মূল্যবোধ, মনুষত্ব্যবোধ খুইয়ে বসে আছি অনেক আগেই। ফলে একটা অসুস্থ সমাজে যা হবার তাই হচ্ছে। যা ঘটার তাই ঘটছে। আজ এটাই কঠিন সত্য !

নোট: লেখাটি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১০
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×