
সিলভার লেকে আপনাকে স্বাগতম
গালফ অভ থাইল্যান্ডের কোল ঘেষে গড়ে ওঠা নগরী পাতায়া। সমুদ্র পারের আলো ঝলমলে এই নগরীটি সারা বছর জুড়েই লক্ষ লক্ষ পর্যটকের পদভারে মুখরিত থাকে। তবে তাদের বেশিরভাগেরই লক্ষ্য থাকে সেখানকার বিনোদন কেন্দ্রগুলো সেই সাথে অদুরের প্রবাল দ্বীপ। অবশ্য প্রথম বার আমরাও গিয়েছিলাম সেই অনিন্দ্য সুন্দর প্রবালের দ্বীপে। কিন্ত এবার সেই নীল সায়র পাড়ি দিয়ে ঝিনুক খুজতে যাইনি, গিয়েছিলাম জনপ্রিয় এক দ্রাক্ষাকুঞ্জ ভ্রমনে নাম তার সিলভার লেক। যা নির্মিত হয়েছে ইতালীয় স্থাপত্যের অনুকরনে। সেই ঘুরে আসা রূপালী হ্রদের কিছু ছবি নিয়েই আজ আমার ছবি ব্লগ যা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

সড়কের পাশেই প্রধান প্রবেশ পথ দিয়ে ঢুকে এগিয়ে যাচ্ছি সামনের দিকে, দূরে দেখা যাচ্ছে সারি সারি সবুজ লতানো তাবু

কাছে আসতেই দেখি সেগুলো বসার জায়গা, পাশেই গাড়ী পার্কিং

গাড়ী থেকে নেমে আরেকটু এগুতেই ছোট্ট গেট। সেটা পেরুতেই দেখলাম বা দিকে ছোট ছোট টবে সাজানো বিভিন্ন সব্জী ও নানা জাতের কাঁচামরিচ গাছ বিক্রীর জন্য সাজিয়ে রাখা। প্রতিটি টব ৫০ বাথ

এর একদিকে টিকিট ঘর যেখান থেকে মাথা পিছু ২৫০ বাথের টিকিট বিক্রী করছে। এই টিকিটেই তাদের পরিচালিত ট্রাম ৩০ থেকে ৪০ মিনিটে আপনাকে পুরো চত্বরটি ঘুরিয়ে আনবে। আরেকদিকে দোকান যেখানে লাইনে দাঁড়ানো ক্রেতাদের কাছে বিক্রী হচ্ছে সেখানে উৎপাদিত অত্যন্ত উচ্চমানের আঙ্গুর রস, আঙ্গুর দিয়ে তৈরী কুকিজ, তাজা ও শুকনো আঙ্গুর এবং অবশ্যই সেখানে উৎপাদিত ওয়াইন।

নীচে দেখা যাচ্ছে ট্রাম দাঁড়িয়ে আছে, সেটাতে চড়েই আমাদের যেতে হবে ঘুরে দেখার জন্য।

সেদিন দুপুরের পর থেকেই মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, ফলে সেদেশের কুখ্যাত খরতাপ আমাদের আনন্দময় ভ্রমনকে দুর্বিষহ করে তোলেনি। অদুরে বুদ্ধের ছবি আকা টিলা সামনে আঙ্গুরের বাগান, শুরু হলো আমাদের পথ চলা

২০০২ সনে মিষ্টার সুরাছাই ও তার স্ত্রী মিলে সবুজ বুদ্ধ পাহাড় আর রূপালী হ্রদের কোল ঘেষে গড়ে তোলেন অপুর্ব দৃষ্টি নন্দন এই আঙ্গুর বাগান ও ওয়াইন তৈরীর কারখানা

যেতে যেতে চলন্ত ট্রাম থেকে সব্জী মাচার ছবি তুললাম, একটু ঝাপসা লাগছে মনে হচ্ছে

মাচায় ঝুলে আছে দীর্ঘকায় চিচিংগা, ঝিঙ্গা, করল্লা আর লাউকেই চিনলাম

ইতালীয় ডিজাইনে উইন্ড মিল

উইন্ড মিল এর সামনে বাগান

আরেকটু সামনে যেতেই চোখে পড়লো সারি সারি গ্রীন হাউস। ট্রাম থেমে গেলো দশ মিনিটের জন্য। গ্রীন হাউসের ভেতরে ঢুকতেই নজরে এলো থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা সবুজ আঙ্গুর।দূর থেকে দেখে মনে হলো সেগুলো তখনো পরিপক্ক হয়নি।

কাছে এগিয়ে গেলাম, নাহ এখনো কাঁচা, চুরি করে খাওয়া যাবে না, একেই বলে আঙ্গুর ফল টক

এগুলো পেকেই কি অমন গাঢ় গোলাপী টুসটুসে আঙ্গুর হবে কি যা আমরা টিকিট ঘরের পাশের দোকান থেকে কিনে খেলাম !!

হাতের বা দিকে এই ছোট্ট জলাশয়টি রেখে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি গোল্ডেন বুদ্ধার স্বর্নালী ছবি আকা পাহাড়ের দিকে এক ছোট বাগানে।

ফুলেল সাইকেল

ছোট একটি জলাশয়ের পাশে বাগান

হাতের বায়ে পাহাড় যার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে মেঘের দল

আমরা বাগান ছেড়ে এ পথ দিয়ে চলেছি অজানা গন্তব্যে

বিস্তৃত সবুজ ঘাসের কার্পেটে লাল ফুলের মেলা

আস্তে আস্তে থেমে গেলো ট্রাম আর আমরা নেমে আসলাম সেই অপরূপ সৌন্দর্য্যময় এক ভুবনে। বিরাট করে শ্বাস নিয়ে ঢুকে পড়লাম দ্রাক্ষা সুধা তৈরীর কারখানায়
সব শেষে তারা দর্শকদের হাতে তুলে দিচ্ছে কমপ্লিমেন্টারী হিসেবে তাদের উৎপাদিত বহু মুল্যবান লাল ও সাদা ওয়াইনের গ্লাস।
এই আঙ্গুর রসে মজেই কি পার্সী সুফি কবি ওমর খৈয়াম লিখেছিলেনঃ-
দ্রাক্ষা-মধু নয় কি বধু সৃষ্টি বিধাতার
নিন্দা করে আঙ্গুর রসের স্পর্ধা এত কার ?
যেহেতু এই ব্যপারে খৈয়ামের মত আগ্রহী নই তাই বাইরের ছবি তুলতেই ব্যস্ত ছিলাম আমরা। ফলে সেখানকার ভেতরের ছবি তুলতে পারিনি। মনে হলো অসম্ভব সুন্দর সেই দৃশ্য রেখে পানশালার অন্ধকারে বসে থাকাও অপরাধ।

সেই ভবনের সামনে অনেকগুলো তোরন। আর এমনি এক তোরনের দুপাশে দুই রোমান সৈন্যের ভাস্কর্য্য। যেন তাদের সুরার দেবতা ব্যকাসের বাসগৃহ পাহারা দিচ্ছে

দোতালার অলিন্দ থেকে তোলা

ইতালীয় ভাস্কর্য্যের আদলে তৈরী এই ভবনে হোটেলও রয়েছে যদি কেউ থাকতে চায়

সবুজ লতায় ছেয়ে গেছে ওয়াইন এর পিপা মজুদ করার ঘর

উপর থেকে তাকিয়ে দেখি আমাদের নিয়ে আসা ট্রামটা চলে গেছে । তারাতাড়ি ওয়াকিটকিতে জানিয়ে দিল আমরা অপেক্ষায় এখানে। এক মিনিটেই চলে আসলো বাহন

বের হয়ে আসছি দেখি এই চত্বরে অনেকেই ছবি তুলছে । আমিও সেই সুযোগে

এমনি এক থোকা আঙ্গুর খেতে খেতে দু ঘন্টার পথ পাড়ি দিয়ে ফিরে আসলাম রাতের ব্যংককে
বিদায় বলার আগে পাতায়া সৈকতে দুপুরের দুটো ছবি

খাবারের অপেক্ষায় থেকে থেকে সমুদ্রের বুকে পুরনো নৌকার দোল খাওয়া দেখছি

খোলা আকাশের নীচে সামুদ্রিক খাবার দিয়ে দুপুরের খানা পিনা
সব ছবি আমার মোবাইল ফোনে তোলা, শুধু লাল আঙ্গুরের থোপাটি নেট থেকে নেয়া ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




