somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের কাশ্মীর ভ্রমণঃ অনিশ্চয়তার দোলাচলে যে যাত্রার শুরু- ৩

১৪ ই জুন, ২০১৯ সকাল ১১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাহসের সীমা আছে, কিন্তু অন্তঃস্থ্য যে আলো আমাকে পথ দেখায়, তার ব্যাপ্তির কোন সীমা নেই, তা আমি জানি। সে আলো অনন্ত, অসীম! সে আলোয় আমি অনেকটা দূর পথ দেখতে পাচ্ছিলাম। গাড়ী জ্যাম ঠেলে ধীর গতিতে এগিয়ে চলছিল, আর প্রত্যেকটা সিগন্যাল পয়েন্টে লাল বাতিতে আটকা পড়ছিল। প্রথমবারে বিমানবন্দরের কাছাকাছি এসে আমাদের গাড়ীটা মাত্র একটা সিগন্যাল পয়েন্টে আটকা পড়েছিল। সিগন্যালে যতই লালবাতি দেখাক, তার পরেও দূরে কোথায় যেন একটা সবুজ বাতির ইশারা আমি দেখতে পাচ্ছিলাম। গাড়ীতে পিন পতন নিস্তব্ধতা, ড্রাইভারও শেষ কথা বলে দিয়ে চুপ হয়ে গিয়েছে- না মুমকিন! আমি মনে মনে সম্ভাব্য সকল পসিবিলিটিজ নিয়ে হিসেব কষতে থাকলাম। অবশেষে দুটো সহজ সমীকরণে পৌঁছাতে পারলাম। এক, যদি সাথে সাথে সেই হলুদ জার্সি পরা ছেলেটাকে সামনে পাওয়া যায়, যার সম্ভাবনা খুবই কম, তবে ব্যাগটা খুঁজে পাওয়া সহজতর এবং দ্রুততর হবে। সেটার সম্ভাবনা শতকরা ২৫%। আর যদি ব্যাগটা সিকিউরিটির লোকজন নিয়ে গিয়ে থাকে, এবং সেটা তখনও জমা না দিয়ে থাকে, তবে তাদের সাথে দেন দরবার করে ব্যাগটা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা ১০% এর বেশী নয়। আর সিকিউরিটির লোকজন যদি ব্যাগটা ওদের আন-এ্যাকোম্পানীড লাগেজ কোয়ারেনটাইনে জমা দিয়ে থাকে, তবে কিছুতেই দুই দিনের আগে সে ব্যাগ ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়। বোম্ব ডিসপোজাল টীম ক্লীয়ারেন্স দিলেই তবে সেটা ছাড়া পাবে। ব্যাগটাকে কোয়ারেনটাইনে জমা দেবার সম্ভাবনা বেশী ছিল, কারণ সেটা তালাবদ্ধ ছিল। এসব হিসেব করতে করতে আমি কাশ্মীরের কথা ভুলে আগামী চার পাঁচটা দিন কোথায় কী করবো, তা নিয়ে ভাবা শুরু করলাম।

ঘড়ির দিকে তাকাতে ইচ্ছে করছিল না, কারো মুখের দিকেও না। ইচ্ছে করছিলো সেই সবুজ বাতির ইশারাটাকে আবার খুঁজে বেড়াতে। তবে সহজে তার নাগাল পাচ্ছিলাম না। এভাবেই এক সময় আবারও সেই টার্মিনাল-২ এর সাইন পোস্ট চোখে পড়লো। তখনো অনেকটা পথ বাকী, অন্ততঃ আরো দুটো ক্রসিং। রাস্তা পার হচ্ছিলাম আর মনে মনে স্মরণ করছিলাম এর আগের বারে পার হবার সময় পথের কোন অংশটা কেমন ছিল। দূর থেকে খুঁজে ফিরছিলাম একটি হলুদ জার্সি পরা ফর্সা মুখ। গাড়ী টার্মিনাল-২ এ ঢুকছে, আর আমি উন্মুখ হয়ে তাকিয়ে আছি একটি কালো ব্যাগের নয়, একটি ফর্সা মুখের সন্ধানে। কেন যেন মনে হচ্ছিল, ঐ মুখটাকে পাওয়া গেলে ব্যাগটাকেও পাওয়া যাবে, নতুবা অসম্ভব।

আগেরবার চার নম্বর গেইটে ছেলেটিকে পেয়েছিলাম। এবারে দুই নম্বর গেইটের কাছেই ওকে দেখতে পেয়ে ড্রাইভারকে আচমকা গাড়ী থামাবার নির্দেশ দিলাম। দেখি ছেলেটা টার্মিনালের ভেতরে প্রবেশের জন্য অগ্রসর হচ্ছে। আমি তারস্বরে চিৎকার করে তাকে ডাকলাম। সে পেছন ফিরে তাকিয়ে আমাকে দেখে কাছে এসে বললো, ‘স্যার, আপকা ব্যাগ আভি সিকিউরিটি লোগো মে লে গিয়া’। সে একজনকে দেখিয়ে বললো, তার কাছে গিয়ে অনুরোধ করে দেখতে, ব্যাগটা তখনো জমা না হলে পাওয়া যেতেও পারে। আমি তাই করলাম। লোকটা হাজারো প্রশ্ন শুরু করলো। কোথায় যাচ্ছি, কেন এসেছি, ব্যাগের ভেতরে কি কি ছিল, ইত্যাদি ইত্যাদি। যেহেতু আমার ব্যাগ আমিই গোছাই, আমি পুঙ্খানুপুঙ্খ বয়ান করলাম ব্যাগের ভেতরে কি কি আছে। শুধু আমি যখন তার প্রশ্নের উত্তরে এক পর্যায়ে বলছিলাম যে ‘সাইড পকেটমে মেডিক্যাল ডকুমেন্টস কা ফটোকপি হ্যায়’, তখন সে বোধহয় ‘ফটোকপি’ কথাটা বুঝতে পারেনি। সে আবার জিজ্ঞেস করলো, ‘কোই ডকুমেন্টস কা যেরক্স থা?’ আমি বুঝতে পারলাম যে সে সহজ কথা ‘ফটোকপি’ বুঝতে অক্ষম, কিন্তু কঠিন কথা ‘যেরক্স’ বুঝতে পারঙ্গম। যে দেশে যেই বুলি! আমি সাথে সাথে বলে উঠলাম, হাঁ হাঁ, যরুর থা। তখন সে আমার পাসপোর্ট দেখতে চাইলো। পাসপোর্ট বের করে দেখালাম, সে তার সেলফোনে একটি ছবি তুলে ওয়াকি টকিতে কাকে যেন কি বললো। আমাকে অপেক্ষা করতে বলে সে টার্মিনালের ভেতরে প্রবেশ করলো। এতক্ষণ ধরে সে নিরন্তর জেরা করে যাওয়াতেও খারাপ লাগেনি, কারণ সে প্রশ্ন করে যাচ্ছিল, আমি উত্তর দিয়ে যাচ্ছিলাম এবারে সে ভেতরে চলে যাওয়াতে আরেক নিরন্তর অপেক্ষার পালা শুরু হলো। এদিকে ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলেছে টিক, টিক, টিক!!! প্রতিটি চলমান মুহূর্ত বুকের মাঝে কিক করে যাচ্ছিল, তবুও মনের মাঝে একটা আশার বাণী বলে চলেছিল, ব্যাগটা আমি পেয়ে যাব ঠিক, ঠিক, ঠিক!

চলবে....

ঢাকা
১১ মে ২০১৯
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১৯ সকাল ১১:৪০
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সরকারের উচিত রোহিংগা ক্যাম্পগুলোকে 'এনজিও-মুক্ত' করা

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৪১



এনজিওগুলো ১১ লাখ রোহিংগা পালনকে 'পুরোপুরি রমরমা ব্যবসা' হিসেবে প্রতিষ্টিত করেছে, এরা এই ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখার জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করছে, এরা কৌশলে রোহিংগাদের ফিরে যাবার ব্যাপারে ভীত... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে জানালায় বসে ভ্যান গগ স্টারি নাইট এঁকেছিল-

লিখেছেন সোনালী ডানার চিল, ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:২০

কেউ যখন প্রজনন অঙ্গ দিয়ে সৌজন্যতা দেখায়
আমি তখন ষ্টারি নাইট শুনি আইবাডে আর
দু’টো শামুকের বিবর্তন পিরিয়ডের কেসহিষ্ট্রিতে নিমগ্ন
রই; যদিও পতাকার অন্যনাম এখানে অন্তর্বাস।
কিম্ভূত অগ্নি দাহ করে আমাজান- ব্রাত্যের লাশ ঠ্যালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বনাশা পরকীয়া; অনৈতিক এই ফিতনা থেকে মুক্তির উপায় কি?

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৪ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১০:১৬



সর্বনাশা পরকীয়া; অনৈতিক এই ফিতনা থেকে মুক্তির উপায় কি?

পরকীয়া আসলে কি?
ইদানিংকালে সংবাদপত্রের পাতাগুলোর অনেকটা অংশ জুড়ে থাকে পরকীয়া বিষয়ক নানান দু:সংবাদ। গনমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদে পরকীয়া সম্পর্কে প্রায় প্রতিনিয়ত: বিভিন্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

খামারের জন্য ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি বিষয়ক (ESF ও অন্যান্য):

লিখেছেন ching, ২৪ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১০:৫৯



খামারের জন্য ঋণ প্রাপ্তির উপায়/নিয়ম-কানুন না জানার ফলে ঋণ গ্রহণে ভীতি, ব্যাংক সম্পর্কে অনেকেরই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। অনেকেই হয়তো ঋণের জন্য কোন দিন ব্যাংকের ধারে কাছেও যায়নি। যখনই কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্যরচনাঃ মোবাইল-ম্যানিয়া

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ২৪ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:১৯

ল্যান্ডফোনে কথা বলা সবার জন্য সহজলভ্য ছিলনা বলে একযুগ আগে আমাদের দেশে যখন মোবাইল ফোন এলো, তখন ধনী গরিব নির্বিশেষে সবাই এই যন্ত্রটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। আমার মনে আছে, ২০০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×