somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজকের (১৫ মার্চ ২০২৩) দিনলিপিঃ ছবি ব্লগ

১৬ ই মার্চ, ২০২৩ রাত ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত কয়েকদিন ধরে আমাদের এলাকার তাপমাত্রা থাকছে সর্বোচ্চ ৩২ আর সর্বনিম্ন ২২ ডিগ্রী (সেলসিয়াস) এর মধ্যে। মোটামুটি সহনীয় তাপমাত্রা বলা যায়। আজকের দিনের জন্য আগাম বার্তাও ছিল একই। সকালে খোলা জানালা দিয়ে আরামদায়ক একটা হাল্কা বায়ুপ্রবাহ গায়ে এসে লাগছিল। বেশ আরাম অনুভব করছিলাম। খানিক পরে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ালাম। দেখলাম, পীচ ঢালা পথটা ভেজা ভেজা। বুঝলাম, ভোর রাতের পরে আকাশটা ঝিরিঝিরি ঝরেছে। পূব-আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি, হাল্কা রঙিন মেঘাচ্ছন্ন আকাশে চলছে সূর্যের লাজুক উঁকিঝুকি । মিনিট পাঁচেক পরেই মেঘ সরে গেলে সূয্যিমামা হেসে উঠলেন। কয়েকটি পাখি ইতস্ততঃ ওড়াউড়ি করছিল। একটা কোকিলও কুউউ কুউউ করে ডাকছিল, কিন্তু যখনই আমি তার বিরহী তান রেকর্ড করার জন্য ভিডিও করা শুরু করি, তখনই সে হতচ্ছাড়া কোকিলটা তার গান বন্ধ করে দেয়। কয়েকবার চেষ্টার পর দুটো মাত্র ডাক ধারণ করতে পারলাম। যেই না ভিডিও ধারণ বন্ধ করলাম, অমনি আবার শুরু হলো তার ক্রমাগত একটানা কুহুতান। আমি জানি আমি যদি আবার চেষ্টা করতাম, অমনি সে আবার চুপ হয়ে যেত। আমাদের মাঝে চাক্ষুষ কোন যোগাযোগ না থাকলেও এ কথা আমি পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে নির্দ্বিধায় বলতে পারি।

দুপুরে তাপমাত্রা বাড়লেও মৃদুমন্দ বাতাস বইছিল, ফলে গরম সেরকম অনুভূত হয় নি। যোহরের নামাযের পর মাসজিদের পার্শ্বস্থ পুকুরের চারপাশে খানিকক্ষণ হেঁটে বেড়ালাম। বাতাসের ফলে জলের বুকে সৃষ্ট মৃদুহিল্লোল কিছু “ripples of life” এর কথা মনে করিয়ে দিল। জীবনের রিখটার স্কেলে বড় বড় কম্পনগুলোর আনন্দ বা বেদনার আতিশয্য মানুষকে শারীরিকভাবেও কম্পমান করে তোলে। মানুষ হয় ভীত-সন্ত্রস্ত, নয় বিমূঢ়-বিহ্বল হয়। কিন্তু মৃদু হিল্লোল দ্বারা সৃষ্ট তিরতির করে মানুষের মনে বয়ে যাওয়া অনুভূতিগুলো মানুষকে শান্ত করে, ভাবতে শেখায়, সৌম্যভাব দান করে।

ছোটবেলায় ‘তাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে’ থাকার সেই বিখ্যাত ছড়া-কবিতা পড়েছি। কিন্তু তালগাছের মত নারকেল গাছও যে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে, সেটা অনেক সময় আমরা খেয়াল করি না। সাধারণতঃ তাল গাছ সোজা হয়েই দাঁড়িয়ে থাকে, কিন্তু নারকেল গাছকে প্রায়ই বাঁকা হয়েও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আসরের নামাযের পর হাঁটার পথে সেরকমই একটা বাঁকা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সুন্দর নারকেল গাছের প্রতি দৃষ্টি আকৃষ্ট হলো। গাছটির নীচে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে পুনরায় হাঁটা শুরু করলাম। ফেরার পথে গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে অস্ত যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া কমলা আলোর সূর্যটাকে দেখে মনটা কেমন করে উঠলো। এ সময়টা আমাকে থিতু হতে বলে, তাকিয়ে চারিদিক দেখতে বলে। কিছুক্ষণ পর শুরু হবে পাখিদের নীড়ে ফেরা। প্রথমে কিছুক্ষণ সরব কলতান, তারপরে একেবারে নিশ্চুপ হয়ে যাওয়া। একটা বাড়ির সামনে রাস্তার উপর শুয়ে থাকা একটা কুকুরকে দেখতে পেলাম। ওর সাথে আমার সখ্য নেই, আবার আমরা একেবারে অপরিচিতও নই। মাঝে মাঝেই পথ চলতে ওর সাথে আমার দেখা হয়, তাই ও আমাকে কিছুটা চেনে। আমার পদশব্দ শুনে তন্দ্রারত কুকুরটি কোন মতে চোখ খুলে আমাকে দেখে নিয়ে পুনরায় আয়েসে চোখ বুঁজলো। ও কোন পোষা কুকুর নয়। যেখানে আদর পায় সেখানেই শুয়ে থেকে পাহারা দেয়।

এশার নামাযের পর আবার সেই পুকুরপারে এক চক্কর দিলাম। বয়স্ক লোক, মহিলা ও শিশুদের জন্য পুকুর পাড়ে রক্ষিত একটি বেঞ্চে বসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলাম। উদ্দেশ্য বিশ্রাম নেয়া যতটা না, তার চেয়ে বেশি ছিল রাতের পুকুরের এবং পুকুর পারের দুই একটি ছবি তোলা, আর ‘টেক অফ’ করা উড্ডীয়মান প্লেনেরও দুই একটা ছবি তোলা। স্থলে মটর যান ও ধাবমান ট্রেনের শব্দ, গগনে ছোট বড় প্লেনের আসা যাওয়ার। শব্দদূষণ তো কিছুটা হয় বটেই, তবে আমার এ শব্দসাগরে ডুবে থাকতে মন্দ লাগে না। অন্যান্য সময় বেশ বড় বড় প্লেন ওড়ে, কিন্তু আজ কেবল তিনটে ক্ষুদ্র আকারের প্লেন উড়ে গেল। বড়গুলোর ওড়া শুরু হবে মধ্যরাতের দিকে, যা আমি সাধারণতঃ ব্যালকনি কিংবা শয়নকক্ষ থেকে দেখে থাকি। শেষের ছোট প্লেনটি উড়েও ঠিক আমার মাথার উপর এলো না, খানিক বাঁক নিয়ে দূর থেকেই আরও দূরে চলে গেল। কাঙ্খিত এবং প্রতীক্ষিতদের এভাবেই দূর থেকে দেখা দিয়ে দূরে চলে যাওয়াই যেন প্রকৃতির নিয়ম।


ঢাকা
১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
শব্দ সংখ্যাঃ ৫৭২


"পূব-আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি, হাল্কা রঙিন মেঘাচ্ছন্ন আকাশে চলছে সূর্যের লাজুক উঁকিঝুকি"।
ছবি তোলার সময়ঃ সকাল ০৭ঃ৩৮, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
ডিভাইসঃ আই-১৩


"মিনিট পাঁচেক পরেই মেঘ সরে গেলে সূয্যিমামা হেসে উঠলেন"।
ছবি তোলার সময়ঃ সকাল ০৭ঃ৪৪, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
ডিভাইসঃ আই-১৩


"বাতাসের ফলে জলের বুকে সৃষ্ট মৃদুহিল্লোল কিছু “ripples of life” এর কথা মনে করিয়ে দিল।"
ছবি তোলার সময়ঃ দুপুর ০১ঃ৪২, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
ডিভাইসঃ আই-১৩


"একটা বাঁকা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সুন্দর নারকেল গাছের প্রতি দৃষ্টি আকৃষ্ট হলো। গাছটির নীচে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে পুনরায় হাঁটা শুরু করলাম"।
ছবি তোলার সময়ঃ বিকেল ০৫ঃ০৭, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
ডিভাইসঃ আই-১৩


"একটা বাঁকা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সুন্দর নারকেল গাছের প্রতি দৃষ্টি আকৃষ্ট হলো। গাছটির নীচে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে পুনরায় হাঁটা শুরু করলাম"।
ছবি তোলার সময়ঃ বিকেল ০৫ঃ১৯, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
ডিভাইসঃ আই-১৩


"ওর সাথে আমার সখ্য নেই, আবার আমরা একেবারে অপরিচিতও নই। মাঝে মাঝেই পথ চলতে ওর সাথে আমার দেখা হয়, তাই ও আমাকে কিছুটা চেনে। আমার পদশব্দ শুনে তন্দ্রারত কুকুরটি কোন মতে চোখ খুলে আমাকে দেখে নিয়ে পুনরায় আয়েসে চোখ বুঁজলো। ও কোন পোষা কুকুর নয়। যেখানে আদর পায় সেখানেই শুয়ে থেকে পাহারা দেয়"।
ছবি তোলার সময়ঃ বিকেল ০৫ঃ১৩, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
ডিভাইসঃ আই-১৩


"ফেরার পথে গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে অস্ত যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া কমলা আলোর সূর্যটাকে দেখে মনটা কেমন করে উঠলো। এ সময়টা আমাকে থিতু হয়ে চারিদিক তাকিয়ে দেখতে বলে"।
ছবি তোলার সময়ঃ বিকেল ০৫ঃ১৩, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
ডিভাইসঃ আই-১৩


"কিছুক্ষণ পর শুরু হবে পাখিদের নীড়ে ফেরা। প্রথমে কিছুক্ষণ সরব কলতান, তারপরে একেবারে নিশ্চুপ হয়ে যাওয়া।"।
ছবি তোলার সময়ঃ বিকেল ০৫ঃ১৮, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
ডিভাইসঃ আই-১৩


"উদ্দেশ্য বিশ্রাম নেয়া যতটা না, তার চেয়ে বেশি ছিল রাতের পুকুরের এবং পুকুর পারের দুই একটি ছবি তোলা"।
ছবি তোলার সময়ঃ রাত ০৮ঃ৩৪, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
ডিভাইসঃ আই-১৩


"উদ্দেশ্য বিশ্রাম নেয়া যতটা না, তার চেয়ে বেশি ছিল রাতের পুকুরের এবং পুকুর পারের দুই একটি ছবি তোলা"।
ছবি তোলার সময়ঃ রাত ০৮ঃ৩৬, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
ডিভাইসঃ আই-১৩

(চারটা ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপও ধারণ করেছি। কিন্তু ভিডিও ক্লিপ কিভাবে আপলোড করতে হয়, তা এখনও শিখিনি বলে সেগুলো আপলোড করতে পারলাম না। এজন্য দুঃখিত)
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০২৩ সকাল ১০:৪২
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×