--কি হলো কথা বলছো না যে ???
--কোন কথা মাথায় আসতেছে না ।
--আগের মতই আছো তাহলে ।
--হুম ।
--ঐ ঝুপড়িতে বসে কি করতেছিলা???
--সিগারেট খাচ্ছিলাম ।
--খুব তো বলতা ছেড়ে দিবা ???
--কমিয়ে দিছিলাম,এখন বেড়ে গেছে।
--চোখের নীচে কালি ক্যানো??
--ঘুম হয় নাই ঠিক মত।
--ঐ কবিতা গুলো এখন আর লেখো না???
--না ।
--ক্যানো দেয়ার মানুষ আর পাওনি বলে???
--হুম ।
--আগের মত তো আর ফোন দাও না ।
--ফোনে ব্যালেন্স থাকে না ।
--তখন বুঝি অনেক ব্যালেন্স থাকতো ??
--হুম ।
--রংচটা চশমাটা এখনো পর ক্যানো???
--এমনিই।
--আমার ছোয়া লেগে আছে বলে???
-- ...........................
--হাতের একগাদা ব্যান্ডগুলো পর না ???
--না
--আমি নিষেধ করেছিলাম বলে???
-- .............................
--এখনো ভালোবাসো আমায়???
-- .............................
--তুমি কি কখনো বুঝবে না ব্যাপারগুলো???
--বুঝবো ।
--কবে ???
--যেদিন আমার ভালোবাসার মৃত্যু হবে ।
--সেটা কবে ???
--যেদিন আমার মৃত্যু হবে।
--তুমি পাগল ই রয়ে গেলে।
--আমি বরং যাই,ভালো থেকো ।
সুমনা চলে যায় । আবীর নিষ্পলক তাকিয়ে ওর চলে যাওয়া দেখে।কত সহজেই সাত বছরের সম্পর্ক কে বন্ধুত্ব বা আবেগ বলে মানুষ ভুলে যায় । আবীরের চোখ ঝাপসা হয়ে আসে । মুহূর্তে সে নিজেকে সামলে নেয় । দোষটা তো তারই । সে তো কখনো বলে নি ভালোবাসার কথা । কিন্তু সব কথা কি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে , কিছুটা তো বুঝে নেওয়ার ও ব্যাপার থাকে । নাকি ও বুঝেও না বোঝার ভান করল । সন্ধ্যার এক পশলা হিমেল হাওয়া আবীরের কানে কানে বলে যায় , ভালোবাসার মানুষটিকে দোষ দিতে নেই । সে একান্তই ভালোবাসার ।
আবীর সংবিৎ ফিরে পায় । সাতপাচ ভাবতে ভাবতে সে কফিশপ থেকে বেরিয়ে আসে । একটা সিগারেট ধরিয়ে দিকভ্রান্তের মত হাটা শুরু করে । সে হেটে যায় শহরের শেষ ষ্টেশন টি ধরে , রেলের চাকায় পিষ্ট করার ব্যর্থ চেষ্টা চালায় তার সব কাল্পনিক স্বপ্ন গুলোকে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



