somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মেহেদী হাসান নিলয়
আমি একজন খুব সাধারন মানুষ। তথাকথিত সুশীল এবং স্মার্ট নই। আমি জানি না কিভাবে বাইক রেস খেলে, নিয়মিত ঠোঁটে সিগেরেট জ্বালিয়ে, ৮-১০ টা গার্লফ্রেন্ড নিয়ে স্মার্টনেস বজিয়ে রাখা যায়। আমি সাদাসিধে ও ধার্মিক মানুষদেরকে ভালোবাসি এবং তাঁদেরকে বন্ধু বানাতে চেষ্টা করি।

”ভালোবাসা দিবস” VS ”বাঙালি-লেবু চিপার গল্প”

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১০:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একঃ
১৪ ই ফেব্রুয়ারি সকাল বেলা। সব প্রেমিক-প্রেমিকাদের মত আকিবের মনে আজ প্রচন্ড উত্তেজনা। সেই উত্তেজনা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে শরীরে। সাত সকালেই ঘুম ভেংগে দেখেছে, শরীরের কিছু একটা বিশ্বাসঘাতকতা করে ইতিমধ্যেই তার লুঙ্গিকে তাবু বানিয়ে ফেলেছে। কারন, গত রাতে কথা হয়েছিল গার্লফ্রেন্ড তমা’র সাথে.... সে আশ্বাস দিয়েছে- জানু! আজকে কিন্তু হবে....! (কি হবে, তা জানতে সামনে আগান..)

দুইঃ
তমা’র সাথে দেখা হবে সেই বিকেল বেলা- ’ক্লোজ আপ’ পার্কে। ভাবতে শুরু করলো আকিব... কত মধুর স্মৃতি জমে আছে পার্কের প্রতিটি ঘন ঝোপে, প্রতিটি গাছের নিচে। এই ‘ক্লোজ আপ’ পার্ক থেকেই তো তাদের কাছে আসার গল্প, ছোঁয়াছুঁয়ির গল্প শুরু। তমা কথা দিয়েছে, আজকে সন্ধ্যায় লিটনের খালি ফ্ল্যাটে তাদের আরো কাছে আসার গল্প রচিত হবে। বয়ফ্রেন্ড হলো হাজব্যান্ডের মত- এসব কথা তমা’র মত আধুনিকা মেয়েরা অনেক আগে থেকেই জানে। তমার এই উন্নত মানসিকতা দেখে আকিবের বুক (পড়ুন অন্যকিছু) গর্বে ফুলে উঠলো।

তিনঃ

কিন্তু সকাল বেলাটা কিভাবে কাটানো যায়? ও হ্যাঁ! ডিপার্টমেন্টের ‘যাষ্ট ফ্রেন্ড’ অনু’র সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ভালোবাসাটা ব্যয় না করলেই নয়। আকিব এক তোড়া ফুল নিয়ে ’যাষ্টফ্রেন্ড’ অনু’র বাসায় গেল। দৌড়ে এসে আকিবকে জড়িয়ে ধরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালো অনু, তারপর ”কেমন আছিস দোস্ত”- বলে তার গালটাও একটু টেনে দিল। ব্যাপার নাহ! আকিবের কাছে বরং আদুরে ছোঁয়াটা বেশ ভালোই লাগলো, মনে পড়ে গেল গার্লফ্রেন্ড তমা’র সাথে ঝোপের আড়ালে সেই ছোঁয়াছুঁয়ি ও কিসিমিসি (বুঝে পড়ুন) বিনিময়ের কথা।
(ব্যাকগ্রাউন্ড সং হবেঃ ☉▶ সেদিন কত সুন্দর দিন কাটাইছিলাম.... ভার্সিটির ছেলেরা... আর কিউত কিউত মেয়েরা... একসাথে বেড়াইছিলাম আর ইশক ইশক খেলেছিলাম।)

চারঃ
বিকেল বেলা ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে পার্কে দু’জনের রসালো মহব্বত বিনিময়ের পর, আকিব এখন সিএনজিতে করে তমাকে নিয়ে লিটনের ফ্ল্যাটের দিকে ছুটছে। দু’জনেরই অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না, আজকে যে হবে.....! তমাকে লিটনের ফ্ল্যাটে রেখে আকিব ফার্মেসিতে গেল- স্ট্রবেরী ফ্লেভারের বেলুন কিনতে (বিজ্ঞাপন দেখে দেখে সব ফ্লেভার এখন নাকি বাচ্চাদেরও মুখস্ত হয়ে গেছে!)। এসব ব্যাপারে সে সাংঘাতিক সতর্ক। এটা তার চতুর্থ শিকার। তারপর সে লিটনের ফ্ল্যাটে ফিরে আসলো। তারপর..... যা ঘটার তাই ঘটলো...। পবিত্র(!) ভালোবাসার পবিত্র(!) বিনিময়ের মাধ্যমে তাদের ভালোবাসার ষোলকষা পূর্ণ হলো।
(ব্যাকগ্রাউন্ড সং হবেঃ ☉▶ নিশিতে যাইও ফুলবনে রে ভোমরা। নিশিতে যাইও লিটনের ফ্ল্যাটে। জ্বালায়ে ক্যামেরার বাতি, আমি ভিডিও করবো সারা-রাতি গো।)

পরিশিষ্টঃ
এক বছর পর...। আকিব আর তমা’র মাঝে এখন আর কোন সম্পর্ক নেই। ক’দিন আগেই আকিব তমাকে বিয়ে করতে চূড়ান্ত অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তমা বিয়ের জন্যে চাপ দেয়ায়, আকিব ”লিটনের ফ্ল্যাটে তাদের পবিত্র ভালোবাসা বিনিময়ের ভিডিও” ইউটিউবে ছেড়ে দিয়েছে। ফেসবুক ও ইউটিউবের কল্যানে, ছোকরা থেকে বুড়ো, সবার হাতে হাতে এখন এক ঐতিহাসিক(!) লিংকঃ ”ফাঁস হয়ে গেল আকিব-তমার ভিডিও”। তমা’র পৃথিবীটা এখন অন্ধকার, সেই সাথে আকিবেরও। আকিবের বিরুদ্ধে সে আইসিটি আইনে মামলা করেছে, হয়তো আকিবের শাস্তি হবে (যদিও দু’জনেই যেনার দায়ে অপরাধী)। কিন্তু, তমা যা হারিয়েছে, যে সম্মান তারা দু’জনেই হারিয়েছে, তার কোন ক্ষতিপূরণ কখনো হবে কি?

[লেখকের স্বীকারোক্তিঃ অনেকক্ষন ধরে কচলিয়ে কচলিয়ে এই বাঙালি লেবু-জাতিকে চিপলাম, কিন্তু দুঃখের বিষয়ঃ এই লেবু-জাতির রস পুরোপুরি বের হবে না (সবার লালসা দুর হবে না)। বিবাহপূর্ব অবৈধ প্রেম ও বয়ফেন্ড-গার্লফ্রেন্ড সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী এই বাঙালি জাতির অনেকেই শত সাবধান বাণী ও ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা জানা সত্ত্বেও, ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস পালনে বের হবে, পার্কে গিয়ে নোংরামী করবে ও লিটনের ফ্ল্যাটে গিয়ে খাঁট কাঁপাবে। আসলে বাঙালি জাতির একেকটা এতটাই লেবু হয়েছে যে, এদের রস শুধু লিটনের ফ্ল্যাটে গেলেই বের হয়! - Kamal Uddin Mehed (মেহেদী হাসান নিলয়)]
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১০:৪২
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ২২ সালে লিখেছিলাম: যে শঙ্কা ছিলো তা আজকের বাস্তবতা

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



আমাদের কওমি জননী সত্যি কি অসাম্প্রদায়িক? হলে কতোটা? প্রশ্ন থাকলো সবার কাছে। তেতুল হুজুর মাওলানা শফি খুব ভক্তিভরে তাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলেন। এমনি এমনি তো আর নয়। অত্যন্ত মহব্বত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×